Saturday, November 25, 2017

jibon juddho - blog in bengali


জীবনযুদ্ধ নামে একটা কথা আছে যেটা বেশ ফালতু। অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে যে এই জীবনযুদ্ধের অর্থ কি। দেখা যায় যে অর্থ খুঁজে পাই বা না পাই, ধার্মিক, নাস্তিক, সেকুলার হিউম্যানিস্ট নির্বিশেষে প্রায় সবারই ঐ নাকে মুখে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়তে হয় পেটে কিছু দেয়ার জন্য। পরে একসময় ব্যস্ততার কারণে ঐ অর্থ খোঁজাটা চাঙ্গে ওঠে, এমন কি কেউ এই প্রশ্ন করলে সেটা আদিখ্যেতা বা বাতুলতাই মনে হয়। অর্থাৎ, আমরা জীবনযুদ্ধ কেন করছি, এটা না বুঝেই যুদ্ধ করতে থাকি, এবং একজন আরেকজনকে উপদেশ দেই যে কিভাবে এই যুদ্ধ করতে হবে, যদিও কেন এই যুদ্ধ করছি সেটা নিজেই জানিনা। এটাকেই কি লালন বলেছে কানার হাটবাজার? "নিজে কানা, পথ চেনেনা, পরকে ডাকে বারংবার।" মানে ঐযে ইসলামের দাওয়াত জাতীয় ব্যাপারগুলা, অথবা নাস্তিকের ঈশ্বরহীনতা। এরা কেউই কি জীবনযুদ্ধের অর্থ ধরতে পেরেছে? অর্থটা বুঝতে হলে আসলে কি করা উচিৎ?

এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হল ধ্যান বা মেডিটেশন। বুদ্ধ, মোহাম্মদ, প্রমুখ এরা ধ্যান করতেন। নামাজ, যোগাসন, কি গং, থাই চি, কুণ্ডলিনী, ইত্যাদি বিষয়ে আমরা কিছু কিছু জানি যে এটা দিয়ে অদৃশ্যমান এনার্জি বা প্রাণশক্তি যেটার আধুনিক নাম অরগন, ওটাকে ব্যবহার করে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি বা "কম্পন" বাড়ানো যায়। এই ফ্রিকোয়েন্সি শব্দটা মোটামুটি ঠিক হলেও এটাকে স্পিরিচুয়ালিটি বা অন্য কোন শব্দ দিয়ে আরও ভালভাবে বুঝানো হয়ত সম্ভব। এসেনশিয়ালি, একজনের ফ্রিকোয়েন্সি যত বাড়বে, তত সে প্রাইম সোর্স বা "মূল সুত্রের" কাছাকাছি গেছে বা যাচ্ছে এরকম ভাবা হয়। তথাকথিত স্পিরিচুয়ালিস্টরা মনে করে যে জগতের সব প্রাণীই সোর্স থেকে এসে আবার সোর্সে ফিরে যায়। এটাকে বলে লাইফ জার্নি। জন্মান্তর বা রিইনকারনেশনের মাধ্যমে আমরা সবাই প্রাইমারি এলিমেন্ট (মাটি, পানি, বায়ু, আগুন) থেকে শুরু করে গাছ, পোকা, জীব, মানুষ ইত্যাদিতে ইভল্ভ করি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। এই আইডিয়াটাকে এক রকমের হাইপোথিসিস ভাবতে পারেন যতক্ষণ পর্যন্ত এর প্রমাণ না পাচ্ছেন, তবে বলা হয় যে এর প্রমাণ আমরা সবাই আমাদের ডিএনের মধ্যে ধারণ করি। এই কথা আপনার বিশ্বাস না করলেও চলবে।

আমার নিজের সামান্য পড়াশুনার ভিত্তিতে যে ধারণাটা তৈরি হয়েছে তা হল যে মানুষের আত্মা বা সউল একটা খুব উন্নত মানের এনারজেটিক স্টেট বা বিইং যেটা "ঈশ্বরের আদলে তৈরি", সো টু স্পিক, অর্থাৎ সমুদ্র আর একগ্লাস পানির যে তফাৎ সোর্স আর আমাদেরও তাই। সমুদ্রে সুনামি হতে পারে যেটা একগ্লাস পানির পক্ষে সম্ভব না, কিন্তু তৃষ্ণা মিটানোর জন্য সে যথেষ্ট। আর সোর্সের তৃষ্ণা মিটানোই যেন আমাদের কাজ। এখন আপনি ভাবতে পারেন, যে সোর্সের তৃষ্ণা পাবেই বা কেন? সে তো ঈশ্বর। হ্যাঁ, এটা বোঝা তো অত কঠিন না যে সোর্সের আসলে কিছুই প্রয়োজন থাকার কথা না। ঠিক যেমন, আমাদেরও তো আসলে কিছুই প্রয়োজন নাই। আমাদের দুইটা টাকার সোর্স হয়ে গেলে, খাওয়া থাকা চিকিৎসা ইত্যাদির চিন্তা না থাকলে তো সেই ব্যক্তির সারাদিন শুয়ে বসে কাটানোর কথা। কিন্তু তা কি দেখা যায়? মানুষের অসীম তৃষ্ণা। হয়ত এই তৃষ্ণার সোর্সও সোর্স নিজেই, কে জানে?

এখন আমি এভাবে ভাবতে পারি যে আমি যদি সোর্স হতাম, তাহলে কি করতাম? অজস্র জগত রচনা করতাম যার একেকটা একেক রকম। কোনটা লাল, কোনটা নীল। এই জগতগুলার একটা নাম হচ্ছে লোগোস বা মন্ডল, যাকে ইংলিশে বলে মান্ডালা। এই মন্ডলগুলা ফ্র্যাক্টাল হতে পারে যে কয়েকটা মণ্ডল মিলে একটা বড় মণ্ডল হয়। আবার কয়েকটা বড় মণ্ডল মিলে তৈরি হতে পারে আরও বড় মণ্ডল। এগুলাকে বলা হয় সুপার লোগোস, সাব লোগোস, বা সাব সাব লোগোস, ইত্যাদি। একেকটা মন্ডলকে একেকটা ডাইমেনশন বা ডেনসিটিও বলা যেতে পারে। এই প্রতিটা শব্দই আসলে মেটাফর বা উপমা একটা বিষয়কে বোঝানোর জন্য। এখানে মূল পয়েন্টটা হচ্ছে যে আমাদের পৃথিবী বা সৌরজগৎ হল অজস্র লোগোসের মধ্যে একটা, আর আমাদের রিইনকারনেশন এই লোগোসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে। অর্থাৎ আমরাই অন্য গ্রহ বা সৌরজগতের প্রাণী হিসাবে জন্মাতে পারি এবং সম্ভবত লক্ষ লক্ষ জীবন পার করেই আজকে আমাদের এইখানে অবস্থান।

পৃথিবী গোল না চ্যাপ্টা এই নিয়ে একটা সস্তা বিতর্ক ইন্টারনেটে চলছে যেটা আসলে মানুষের প্যারাডাইম শিফটের একটা সিন্ড্রোম বা লক্ষণ। এই ডিবেটের আসল কারণ হল মানুষের ঐ উপলব্ধি যে আমরা নিজেদেরকে এত আধুনিক ভাবি, অথচ পৃথিবী গোল কি চ্যাপ্টা না চারকোণা, সেটা আসলে জানিনা। এতদিন আপনারা অন্ধ বিশ্বাসে ধরে নিয়েছেন যে পৃথিবী গোল। এর কারণ আপনাদের কখনও মনে হয়নি যে বিজ্ঞান কখনও মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করে। আপনারা ভেবেছেন, যে বর্তমান প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান যেটুকু সাক্ষ্য প্রমাণ দিতে পারে, তার ভিত্তিতেই তো আগাতে হবে। নাহলে তো কোন অগ্রগতি সম্ভব না। যুক্তি ঠিক আছে, কিন্তু আপনারা যে সরল বিশ্বাসে বিজ্ঞানের উপর ভরসা করেছেন, সেটা ভুল। জীবন এতটা সরল নয়। এই উপলব্ধিটা আসাও একটা অগ্রগতি, যখন আমাদের ভুল আমরা বুঝতে পারব বা পারছি যে আসলে ধর্ম আর বিজ্ঞানকে আমরা এক করে ফেলেছি। দুইটাই আমাদের অন্ধবিশ্বাসের উপর চলছে, এবং কোনটাই আমরা যা ভেবেছি তা নয়। এর অর্থ দাঁড়ায় যে আমাদের আস্তিক এবং নাস্তিক (যারা নিজেদের বিজ্ঞানভিত্তিক মনে করে) দুই পক্ষই একই ফাঁদে ধরা পড়েছে। এরা দুই দলই ধোঁকার শিকার। এটা যখন আপামর জনতা বুঝে ফেলবে, তখনই একটা বিরাট প্যারাডাইম শিফট হবে যেটা খুব অচিরেই ঘটবে বলে আমরা অনেকেই আশা করছি।

ধর্ম আর বিজ্ঞান যে আমাদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে এটা বোঝা কিন্তু অত সহজ না, কারণ অন্ধ বিশ্বাস খুব শক্তিশালী একটা জিনিষ যেটা আমাদের আস্তিক এবং নাস্তিক দুই পক্ষই খুব শক্তভাবে আঁকড়ে থাকে। একজন ছোট বাচ্চা হিসাবে আপনার প্রিয় একজন ব্যক্তি যখন আপনাকে ধর্মের হাতে খড়ি দিয়েছে, তখন দিনের পর দিন তাদের আচার আচরণ দেখে দেখে আপনি সেগুলা অনুকরণ করা শিখেছেন। আস্তে আস্তে ঐ কৃষ্টিটা আপনার ভিতরে গেঁথে গেছে। আপনি সরল মনে মেনে নিয়েছেন যে আপনাকে যা শিখানো হয়েছে বা হচ্ছে সেগুলা সবই ঠিক এবং সত্যি। কেউ আপনাকে বলেনি যে আসলে এগুলা সবই অন্ধবিশ্বাসের ভিত্তিতে করা হচ্ছে। এগুলা আপনি চাইলে মানতেও পারেন, আবার নাও মানতে পারেন, এভাবে খোলাখুলিভাবে আপনাকে কেউ আসলে বুঝায়নি। পরে দেখা যায় যে কিছু মানুষ বড় হয়ে এই পুরা পদ্ধতিটার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে নাস্তিক হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যে এই নাস্তিকের আচার আচরণ চিন্তা ভাবনা প্রায় সবই আস্তিকের মতই রয়ে যায়, শুধু সে ধর্ম বিষয়ক কিছু বাহ্যিক রিচুয়াল বাদ দিয়ে নিজেকে ধর্ম থেকে মুক্ত মনে করতে থাকে। কিন্তু এটা বাদে তার সব চিন্তা ভাবনা ঠিক আস্তিকের মতই রয়ে যায় এবং সে যতই চেষ্টা করুক না কেন আস্তিকের বিপরীতে যেতে, তার কর্মকাণ্ড কিন্তু আস্তিক থেকে ভিন্ন হয় না। কোন প্যারাডাইম শিফট তার ভিতরে ঘটেনা। সে শুধু টুপি দাঁড়ি পাঞ্জাবি বাদ দিয়ে এখন সুট বুট হাফপ্যান্ট পরে ঘোরে। সে এখন মদ খায় এবং ব্যাভিচারি করে নিজেকে মুক্তমনা ভাবতে থাকে যেটা আসলে অনেক ধার্মিকও করে থাকে।

একজন আস্তিকের নাস্তিক হয়ে যাওয়া এক দিক দিয়ে অগ্রগতি হলেও আরেক দিক দিয়ে পশ্চাৎগতি। এর কারণ হল যে ধর্মের বিভিন্ন কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে গেলেও সে ধর্মের সাথে সাথে ঈশ্বরকেও বাদ দিয়ে দেয় যে কারণে সে সোর্স থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সোর্স এটাতে মাইন্ড করেনা, কারণ এতে সোর্সের কিছু যায় আসেনা। ধরেন, এরকম মানুষ আছে যে তার বউ ছেলেমেয়েকে নিজের হাতে খুন করেছে। এতে কি সোর্স মাইন্ড করবে? তাকে শাস্তি দিবে? আপনার বা আমার মনে হতে পারে যে সেটা করাই তো স্বাভাবিক। এই লোকের দোযখে যাওয়া উচিৎ। কিন্তু এই পুরা কনসেপ্টটাই খুব কিন্ডারগার্টেন। জীবন আসলে এত সরল নয়। এর কারণ হল যে মনে করেন আপনি একটা হিংস্র ভিডিও গেম খেলেন যেটার ভিতরে আপনি অনেক মারামারি করেন এবং আপনার প্রতিপক্ষদের মেরে ফেলেন। এই খুন করার জন্য কি আপনার জেল হওয়া উচিৎ? আপনি হয়তো বলবেন যে না, এটাতো একটা খেলা। কারও কোন ক্ষতি এখানে হয়নি। এখন আমি যদি আপনাকে বলি যে ঠিক একইভাবে আমাদের পৃথিবীটাও একটা খেলার জায়গা বা একটা ভার্চুয়াল স্কুল। কেউ আসলে এখানে সত্যি সত্যি মারা যায়না, আত্মার কোন মরণ নাই। সেক্ষেত্রে তো শাস্তির প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। আপনি যদি আমার কথাটা মেনে নিতে পারেন তাহলে এখানে ভেবে দেখার বিষয় আছে বৈকি।

তো প্যারাডাইম শিফট ব্যাপারটাই হল চিন্তা এবং বিশ্বাসভিত্তিক। যদি পৃথিবীর মানুষ আজকে বুঝতে পারে যে নিকোলাই তেসলা নামে একজন জিনিয়াস প্রায় সোয়াশো বছর আগে বুঝতে পেরেছিলেন যে আমাদের ইউনিভার্সটা ইলেক্ট্রিকাল এবং পৃথিবী একটা জায়ান্ট ক্যাপাসিটার যেটা থেকে খুব সহজে তারবিহীন বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব যেটা দিয়ে বাড়ি গাড়ি প্লেন ইত্যাদি সবকিছু জ্বালানী ছাড়াই চলবে, এবং সেটা উনি একটা টাওয়ার বানিয়ে জেপিমরগান প্রমুখ ব্যাংকার, যারা উনার রিসার্চের পৃষ্ঠপোষণ করেছিলেন তাদের সবাইকে ডেমন্সট্রেট করে দেখানোর পর যা ঘটলো সেটা শুনে আপনাদের আক্কেল গুড়ুম হয়ে যাওয়ার কথা। জেপিমরগান তেলেবেগুন জ্বলে উঠল কারণ এই প্রযুক্তি দিয়ে তো জনগণকে চুষে ছিবড়া করে মুনাফা বের করা সম্ভব না। কাজেই জেপিমরগান যেটা করল, সে তার স্পন্সর সব ফেরত নিয়ে, ঐ টাওয়ারটা ধ্বংস করার পরেও তেসলা যাতে অন্য কারও স্পন্সর নিয়ে এই প্রযুক্তি জনগণের হাতে দিতে না পারে, তার এমনই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করলো যে সোয়াশো বছর পরেও অনেকেই জানেনা যে তেসলা নামে আদৌ কেউ ছিল। আমরা আস্তে আস্তে আমার লেখার মূল বিষয়ের কাছে পৌঁছাচ্ছি যে জীবন যুদ্ধের পিছনে রহস্যটা কি।

এখন হয়ত আমরা আস্তে আস্তে আমাদের জীবনযুদ্ধের আংশিক রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারবো। আমার বর্তমান সাময়িক বিশ্বাসপ্রণালী বা বিলিফ সিস্টেম অনুযায়ী ব্যাপারটা এরকম হতে পারে যে প্রত্যেকটা মানুষের একটা মাল্টিডিমেনশনাল সত্ত্বা আছে যেটার একটা নিচু ফ্রিকোয়েন্সির অস্তিত্ব হল এই মানব দেহ যেটা নিয়ে আমাদের এই ত্রিমাতৃক জীবন। কিন্তু এটা ছাড়াও আমাদের আরও সত্ত্বা আছে যেটার মধ্যে একটা হল আমাদের হাইয়ার সেলফ যে সত্ত্বা হাই ফ্রিকোয়েন্সি ডিমেনশনে বিচরণ করে। একটা হাইয়ার সেলফের এক বা একাধিক অবতার সত্ত্বা থাকতে পারে যার মধ্যে এক বা একাধিক সত্ত্বা মানুষ হতে পারে যারা সবাই হয়তো একই গ্রহে বা লোগোসে নাও হতে পারে। যাহোক, আমাদের জন্য মুখ্য বিষয় হল যে আমরা উচ্চতর ডাইমেনশন থেকে অবতরণ করে এই স্থুল দেহে বিচরণ করি বলে এই শরীরকে বলা হয় অবতার। এই অবতার শরীরের একটা বিশেষত্ব হল যে এর পাঁচটা ইন্দ্রিয় বা সেন্স আছে যেটা দিয়ে আমাদের সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয়। আমরা যখন একজন নাস্তিকের মত আচরণ করি, তখন আমরা এই পাঁচটা সেন্সের ভিতরে বসবাস করি এবং আমাদের ষষ্ঠ বা সিক্সথ সেন্সটাকে ব্যবহার করিনা। আমাদের প্যারাডাইম তখন এরকম হয় যে আমরা "বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি" ছাড়া আর কিছুই বিশ্বাস করিনা। কিন্তু একটু আগেই আমরা পড়েছি যে নিকোলাই তেসলার অসাধারণ প্রযুক্তি জেপিমরগানের মত ব্যাংকার চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে শুধুমাত্র মুনাফা লাভের জন্য। অর্থাৎ প্রকৃত বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি এবং প্রযুক্তি যেটা দিয়ে আমাদের জীবন যুদ্ধটা জীবন খেলায় পরিণত হতে পারত, সেটা তো হলনা। এই ব্যাপারে নাস্তিকদের কোন বক্তব্য দিতে দেখিনা।

প্রশ্ন উঠতে পারে যে শুধু একজন ব্যক্তিই ঐ প্রযুক্তি রপ্ত করতে পারল, আর কেউ পারলো না কেন? এর উত্তর হলঃ কে বলেছে পারেনি? তেসলার প্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা বিভিন্ন ডাইমেনশনে, লোগোসে, গ্যালাক্সিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের বেশ কিছু নাম আছে, যেমন ইলুমিনাতি, কাবাল, ব্লাডলাইন, হাইব্রিড, নেফিলিম, ফ্রিমেসন, শ্যাডো গভঃ, ডিপ স্টেট, ইত্যাদি। এখানে একটা মজার বিষয় হচ্ছে যে টাইম-স্পেস হল একই ফেনমেননের দুইটা রূপ যেমন একটা পয়সার দুইটা সাইড থাকে।  স্পেস ট্রাভেল করলে টাইম ট্রাভেলও করা হয়, এবং ভাইস ভারসা। অর্থাৎ আমেরিকার সিক্রেট স্পেস প্রোগ্রাম যে শুধু স্পেস ট্রাভেল করতে পারে তা নয়, এরা টাইম ট্রাভেলও করতে পারে। আর অ্যামেরিকায় ডারপা নামে একটা এজেন্সি আছে যারা সুপার অ্যাডভান্সড টেকনোলোজি বানায়, যার উদাহরণ হল সারন লারজ হেড্রন কোলাইডার। এটা দিয়ে টাইমলাইন জাম্প করে একটা প্যারালেল রিয়ালিটি থেকে আরেকটাতে যাওয়া যায়। এই কেপাবিলিটি থাকার মজা হচ্ছে যে ধরেন আপনার একটা ব্যবসা আছে যেটা বেশি ভাল যাচ্ছে না। তখন আপনি চাইলে টাইমলাইন জাম্প করে আরেকটা প্যারালেল টাইমলাইনে চলে যেতে পারবেন যেখানে আপনার খুব রমরমা ব্যবসা হচ্ছে। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও, এই প্রযুক্তি অলরেডি ব্যবহার করছে আমাদের সিক্রেট গভর্নমেন্ট।

উপরের কথাগুলার সত্যতা যাচাই করা যথেষ্ট সহজ কারণ অল্টারনেটিভ মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এগুলা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। বর্তমান প্যারাডাইমের একটা প্রধান সূত্র হচ্ছে অকাল্ট বা গোপন গতিবিধি ও শিক্ষা সম্পর্কে জানা। প্রায় ১০,০০০ বছর আগে পৃথিবীতে একটা প্লাবন হয়েছিল যেটাকে আমরা আমাদের সভ্যতার টেন্টেটিভ বিগিনিং হিসাবে ধরে নেই, যদিও মানবতার আসল ইতিহাস প্রায় হাজার বিলিয়ন বছরের পুরানো। এগুলা সবই নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব তবে সেটা কিভাবে তা বুঝতে সময় লাগবে। আপাতত শুধু মাথায় রাখেন যে পৃথিবী গোপনীয়তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, ঠিক যেভাবে জেপিমরগান নিকোলাই তেসলার অসাধারণ উদ্ভাবন গোপন করে ফেলেছিল এবং আজ পর্যন্ত সেই গোপনীয়তা বিরাজমান। এটা কিভাবে সম্ভব? এর উত্তরটা যেদিন আমরা সবাই বুঝতে পারব সেইদিনই প্যারাডাইম শিফট হয়ে আমাদের কালেক্টিভ কনশাসনেস একটা উচ্চতর ডাইমেনশন বা ডেনসিটিতে উঠে যাবে।

পৃথিবীতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নামে একটা ভাইরাস আছে। এর কাজ হল আমাদের এভলুশনকে যতটা সম্ভব ঠেকায়ে রাখা এবং ধীর গতি করে দেয়া, এমন কি আমরা যদি যথেষ্ট পরিমাণ ক্যালাস এবং কেয়ারলেস হয়ে যাই, তাহলে এই ভাইরাস শুধু যে আমাদেরকে ওর স্লেভ বানাতে পারবে, তাইই নয়, এটা আমাদেরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলবে। কিন্তু অন্য সব কিছুর মতই এর অস্তিত্ব কোন কাকতালীয় ব্যাপার নয়, এটাও এই আর্থ স্কুল সিস্টেমেরই একটা অংশ। এই স্কুলের ছাত্র ছাত্রী হিসাবে আমাদের এই ভাইরাসকে পরাজিত করে সাক্সেসফুল গ্র্যাজুয়েট হতে পারা খুব জরুরি একটা ব্যাপার কারণ আর্থ স্কুলের সাথে আরও অনেক লোগোস কানেক্টেড এবং ডিপেন্ডেন্ট বা নির্ভরশীল। এই মুহূর্তে আমরা আমাদের কনশাসনেসের একটা মিলিয়ন বছরব্যাপী যুদ্ধের খুব ক্রিটিকাল একটা স্টেজে আছি যে সময়ে আমাদের পাশ-ফেলের এস্পার ওস্পার কিছু একটা হবে। এটাকে বলে "এন্ড টাইমস"। অনেকগুলা ডিমেনশন, লোগোস, স্টার সিস্টেম, গ্যালাক্সি আমাদের প্যারাডাইম শিফটের মাধ্যমে এফেক্টেড হবে এবং আমরা ফেল করলে চেইন রিয়্যাকশনের কারণে ওরা আরও লো ফ্রিকোয়েন্সিতে নেমে যাবে। অর্থাৎ আমাদের এই গেমের স্টেকস খুবই হাই।

এখানে মূল সমস্যা একটাইঃ সেটার নাম হল মগজ ধোলাই। আপনি হয়তো বলবেন, এটা আবার কি? হঠাত এটা কোত্থেকে আসলো? বিষয় হল যে ঐ জেপিমরগানের আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিকে গোপন রেখে, আমাদের সিক্রেট গভর্নমেন্ট যে বিভিন্ন স্টার সিস্টেম, ডিপ স্পেস, ডাইমেনশন, টাইম ট্রাভেল, প্যারালাল টাইমলাইন জাম্প, ইত্যাদি করে যাচ্ছে সেটাকে আমাদের থেকে লুকায়ে রাখছে কিভাবে? এর উত্তর হল মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে। এই মগজ ধোলাই দেয়ার মূল পদ্ধতিগুলা বলে দিলেই আপনি বুঝতে পারবেন পুরা ব্যাপারটা। ওরা মূলত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মিডিয়া, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অ্যাস্ট্রনমি (নাসা), সায়েন্টিফিক জার্নাল, ইত্যাদি জ্ঞান লাভের মূল জায়গাগুলাকে ইনফিল্ট্রেট, সেন্সর, আর কন্ট্রোল করে। ওরা খুব যত্নের সাথে আয়রন হ্যান্ড দিয়ে টাকা পয়সার লোভ দেখায়ে বা স্রেফ মিথ্যা, ধোঁকা, গুম, খুন, লোপাট, ইত্যাদি যে কোন ন্যাক্কারজনক উপায়ে ওদের গোপনীয়তা এবং মগজধোলাই মেইন্টেইন করে। আপনারা কার্ল সেগানের নাম জানেন। উদাহরণ স্বরূপ উনার কথা বলা যায় যে উনি খুব পপুলার একজন ব্যক্তি ছিলেন যাকে সবাই খুব সম্মান করে, কিন্তু এই ব্যক্তিও ব্ল্যাকমেইলের কারণে স্পেস সংক্রান্ত অজস্র সত্য গোপন করতে বাধ্য হয়েছেন যার মধ্যে অন্যতম হল পৃথিবীর সাথে অন্যান্য গ্রহবাসীদের যোগাযোগ এবং কর্মকাণ্ড যেটা কমপক্ষে ৭০/৮০ বছর ধরে চলছে যেটা সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এটাই হল মগজ ধোলাই। এটা এত শক্তিশালী একটা প্রোগ্রাম যে অজস্র তথ্য প্রমাণ দেয়ার পরও পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এখনও মেনে নিতে পারেনা যে অন্য গ্রহের মানুষ বলে কিছু আছে বা থাকলেও তারা কখনও পৃথিবীতে আসে। অথচ মজার ব্যাপার হল যে এরা যে শুধু আছে তাইই নয়, এরা আমাদের সরকারগুলাকে নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এরা আমাদের সিক্রেট গভঃ বা ডিপ স্টেটকেও নিয়ন্ত্রণ করে। এদের একটা অল এনকম্পাসিং এজেন্ডা আছে যেটা আপনি আমেরিকা ইউরোপের আকাশভরা কেমট্রেইলের দাগ দেখলেই বুঝতে পারবেন। মেইনস্ট্রীম কেমট্রেইলকে বলে জিওএঞ্জিনিয়ারিং যেটা একটা ব্রেইনওয়াশ।

আপনি যদি আমার কথাগুলা সিরিয়াসলি কনসিডার করেন তাহলে হয়তো জীবনযুদ্ধ ব্যাপারটা সম্পর্কে ধারণা একটু হলেও বদলাতে পারে। এবং এই পরিবর্তন আসাটা খুব ক্রিটিকাল কারণ ঐযে উপরে বলেছি যে আমরা একটা মিলিয়ন বছরব্যাপী কসমিক যুদ্ধের খুব ক্রিটিকাল স্টেজে আছি। এই যুদ্ধের মেইন প্রাইজ হল মানবতার কনশাসনেস কারণ এটা কন্ট্রোল করতে পারলে পুরা পৃথিবী কন্ট্রোল করা যায়, আর পৃথিবী কন্ট্রোলে রাখতে পারলে আমাদের সাথে কানেক্টেড এবং ডিপেন্ডেন্ট অন্যসব লোগোস বা স্টার সিস্টেমকেও ম্যানিপুলেট বা কন্ট্রোল করা যাবে। এই কারণে আমাদের "শত্রুপক্ষ" যারপরনাই চেষ্টা করে যাচ্ছে মানবতার প্যারাডাইম শিফটটাকে থামানোর বা যতটা সম্ভব দেরি করানোর। বলা হয় যে এটাতে সফল হলে আগামী ২৬,০০০ বছর (এটাকে বলে প্রেসিশনাল সাইকেল) ওরা মানবতাকে আগের মতই মাইন্ড কন্ট্রোলড স্লেভ হিসাবে এক্সপ্লয়েট করতে পারবে এবং আমাদের পরবর্তী জেনারেশনের অবস্থা আরও করুণ হবে। ওদের জীবনযুদ্ধ হবে আমাদের থেকে শতগুণ কঠিন।

এতখন যা লিখলাম, এর সত্যমিথ্যা যাচাই করা আসলে বেশ কঠিন। একজন ধার্মিক বা নাস্তিক এর একটা বর্ণও বিশ্বাস না করতে পারে, এবং সেটা হওয়াটাই এক্সপেক্টেড কারণ সবাইকে সারা জীবন যা বুঝানো হয়েছে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে তার সাথে এগুলা মেলেনা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে যে এইসব কথার সত্যতার প্রমাণ কি? এর শর্ট উত্তর হচ্ছে প্রমাণ নাই। এটাকে অন ফেইথ নিতে হবে, ইনিশিয়ালি। আর এটা বললেই তখন আস্তিক নাস্তিক দুইজনই একসাথে সিঙ্ক্রোনাইজডভাবে লাফ দিয়ে উঠে বলেঃ হারেরেরেরেরে! তো এখন মিডিয়াম সাইজের উত্তরটা হচ্ছে যে যাদের ফ্রিকোয়েন্সি মোটামুটি হাই, বা যারা কোন ট্রমা, অসুস্থতা, বা অন্য কোন কারণে মগজ ধোলাই থেকে কিছুটা হলেও বের হতে পেরেছে, এরা এই কথাগুলা ইন্টুইটিভ্লি সত্যি হিসাবে বুঝতে পারে। অনেকে আছে যারা জন্ম থেকেই জানে যে তারা কে, কোত্থেকে এসেছে, এবং পৃথিবীতে তাদের কাজ কি। আমরা যারা মগজ ধোলাই খাওয়া, তারা এই আসল ব্যাপারগুলা ভুলে গিয়ে এক ধরণের ইগোর ফাঁদে পড়ে যাই যখন আমাদের কাছে মনে হয় যে এই বায়োলজিকাল বডিটাই আমি। খেয়ে পরে ভালভাবে বাঁচতে হলে প্রচুর টাকা পয়সার প্রয়োজন, কাজেই টাকা পয়সা ইনকামে মনোযোগ দিলেই আমাদের জীবন যুদ্ধ সবচেয়ে কম কষ্টকর হবে এরকম ভেবে নিয়ে সবাই আর্ট, সায়েন্স, চাকরি, ব্যবসা, কিছু একটা নিয়ে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে টাকা কামাতে কামাতে এবং বিল আর ট্যাক্স দিতে দিতে একদিন মারা যাই এই কথা ভাবতে ভাবতে যে জীবন তো একটাই। আশাকরি মরণের পরে স্বর্গেই যাব, নরকে নয়।

টাকা পয়সার সাথে মগজধোলাইয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠতা কারণ যে ব্যক্তি টাকা পয়সা কামানোতে মনোনিবেশ করেছে, তাকে কব্জায় আনা হয়ে গেছে। কারণ এই ব্যক্তি তার হাইয়ার সেলফের মিশনের কথা ভুলে গেছে। সে এখন একটা পশুর মত দেহ সর্বস্ব যার প্রধান চিন্তা তিনটাঃ ১) খাওয়া (সারভাইভাল), ২) সেক্স বা যৌনতা (বংশ বিস্তার), এবং ৩) বিনোদন (অর্থহীন জীবনে কিছু আনন্দ আনা)। দেখবেন যে আমাদের অ্যাডভারসারি এই তিনটার মধ্যে আমাদেরকে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে, কারণ এটা করতে পারলে আর্থের ফ্রিকোয়েন্সি লো করে রাখা যায়। যে যত বেশি টাকার জন্য পরিশ্রম করে, সে তত বেশি প্রডাক্টিভ দাস হয়। পুরা পৃথিবীটা একটা দাসে ভরা প্ল্যানটেশন হিসাবে খুবই লুক্রেটিভ একটা রাজত্ব, আর ঠিক সেটাই মেইন্টেইন করে আমাদের কাবাল।

এই বিষয়গুলা জানার পর, যদি ধরেও নেই যে এগুলা সব সত্যি, সেক্ষেত্রে আমাদের করনীয় কি? গতকাল যা করেছি, আজকেও তাইই করবো, সব সময় যা করেছি, তাই না? সেক্ষেত্রে প্যারাডাইম শিফট বা আমাদের ভাইব্রেশন হাই হওয়ার কোন উপায় নাই। বরং আস্তে আস্তে আরও লো হতে থাকবে কারণ আমাদের শত্রুপক্ষ তাদের এজেন্ডা প্রতিদিন একটু একটু করে আগাচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, সেলফোন, পারসোনাল কম্পিউটার, ইত্যাদি জনগণের হাতে দেয়ার পিছনে আল্টেরিয়র মোটিভ হল ট্রান্সহিউম্যানাইজেশন আর সারভেইল্যান্স। খেয়াল করেন যে বাংলাদেশে আর কোন আন্দোলন হয়না এবং আওয়ামী লীগ পুরাপুরি স্বৈরাচার হয়ে গেছে। এর কারণ হল ডিপ স্টেট কাবাল সব দেশে আস্তে আস্তে স্বৈরাচারী শাসন বসাচ্ছে কারণ স্বৈরাচারের সাথে জনগণের কোন যোগাযোগ থাকে না। যে স্বৈরাচার ক্ষমতায় আছে প্রয়োজনে তাকে বদলে ফেলা ডিপ স্টেটের জন্য পানির মত সহজ। এতদিন এরা মানুষকে গণতন্ত্রের ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাচ্ছিল, কিন্তু প্রযুক্তির কারণে এখন আর সেটার প্রয়োজন নাই। কারণ ইন্টারনেটের উপর আমাদের ডিপেন্ডেন্সির কারণে এখন ডিজিটালি সবাইকে নজরে রাখা যায় এবং তাদের গতিবিধি বুঝে ফেলা যায়। কাজেই একটা রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণ কার্যক্ষমতাহীন করে ফেলা একদম সহজ, যার উদাহরণ আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। ইন ফ্যাক্ট, আমাদের কথাগুলা যদি গুরুত্ব সহকারে খেয়াল করেন এবং মাথায় রেজিস্টার করেন, দেখবেন এইসব কথার প্রমাণ আপনার চোখের সামনেই বিদ্যমান ছিল, কিন্তু শুধুমাত্র মগজ ধোলাইয়ের কারণে আপনি এতদিন এই অমোঘ সত্যগুলা দেখতে পাচ্ছিলেন না। তখন খুব আশ্চর্য লাগতে পারে যে কিভাবে এটা সম্ভব?

মেইনস্ট্রিমে যারা খুব বুদ্ধিমান, তারা এখন ব্যাংকিং ফ্রডের বিষয়টা জেনে গেছে এবং ফিয়াট ব্যাংকিং সিস্টেম কলাপ্স করতে পারে এরকম একটা নতুন মগজধোলাই বাজারে চালু করা হয়েছে যেটার রিয়্যাকশন স্বরূপ অনেকেই ব্লক চেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে খুব মেতে গেছে যে এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবেঃ এক হল যে স্টক মার্কেটের মত দ্রুত বড়লোক হওয়ার সুযোগ, আর দুই, ব্যাংকিং সেক্টরের ফিয়াট কারেন্সির মনোপলি ভেঙ্গে দেয়া। কিন্তু আমি মনে করি এই পুরা হুজুগটাই একটা সাজানো সাইঅপ কারণ আমাদের অ্যাডভারসারি যেটা চায় সেটা হল ডিজিটাল কারেন্সি। এটা করতে পারলে ওদের নিউ ওয়ার্ল্ড স্লেভারি সিস্টেমটার ১৬ কলা পূর্ণ হবে কারণ তখন পুরা পৃথিবীর মানুষ ডিজিটাল স্লেভে পরিণত হবে যেটা থেকে বের হয়ে আসার কোন অপশন থাকবে না। মানুষের পালানোর কোন উপায় থাকবে না। কাজেই তখন আর কেউ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন গড়ে তোলার মত সুযোগ পাবে না কারণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে প্রতিটা দাসের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পৃথিবীকে এই পজিশনে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে খুব দ্রুত। আমাদের এই মুহূর্তে যা করনীয়, তা হল দ্রুত সবাই সচেতন হয়ে উঠে এই প্রক্রিয়াটাকে থামানো। এটা আমরা পারব কিনা সেটা নির্ভর করছে আপনাদের চিন্তা এবং কর্মের উপর।

Tuesday, May 9, 2017

bhulbhulaiya - a homemade music video



YouTube version - slightly lower resolution

amar desh na (song)

sorkar amader valobase na (song)

reptilian tiktiki (song)

gossha - bangla poem



গোস্বা

যারা মুসলিম তারা গোস্বা করল
আমি বলেছি, আল্লা হল
আল ইয়াহ ওয়েহ, আনুনাকি রেপ্টিলিয়ান
কিন্তু নাস্তিকরা ক্ষেপলো তখনই
যখন মিডিয়াকে বললাম মগজ ধোলাই
ইসলামী জঙ্গীকে বললাম র-সিয়াইএ-মসাদের সাইঅপ
ফলস ফ্ল্যাগ -- এর মানে হল একজন সেজে আরেকজন যখন কাম সারে
এ শুনলে বাঙালি এমন ক্ষেপে যায় -- পারলে মারে আরকি!
কি আর বলব
হিন্দুরাও অল্প ক্ষেপলো
যখন বললাম ওদের ক্যাস্ট সিস্টেম ড্রেকোদের গ্রহ থেকে আমদানী করা
বাম পন্থী কম্যুনিস্টরা রেগে গেল
বলশেভিক রেভলুশনকে বলেছি রথসচাইল্ডদের সাজানো
আমেরিকা-ইংল্যান্ডের বড় বড় কোম্পানি
বিশ্বযুদ্ধে দুই পক্ষকেই দিল বিরাট সাহায্য
বিনিময়ে প্রকাণ্ড প্রফিট
বিম্পি ক্ষেপলো ওদের বোকাদল বলায়
প্রথম আলো, যুগান্তর, টাইম, নিউজউইক পড়ুয়ারা
প্রচন্ড ক্ষেপলো যখন বললাম যে মেইনস্ট্রিম যারা ফলো করে
এল্ডারস অভ জায়ন ওদের নাকি গয়িম বলে!
লুলু বলে
র‍্যান্ডি মগ্যান্স ওদের বলে স্লো-ফ্লেক
আর আমি বলি ললিপপ
সেকুলাররা ক্ষিপ্ত হল কারণ ওরা ওই ধর্ম ছাড়া
কোন টপিক খুঁজে পায় না।
তাই ঘুরে ঘুরে বারবার ওই একই পচানি।
আর এতে একটা ফেবু সেলেব্রিটি ভাব চলে আসে
আর সেই প্রসঙ্গে ফেবু "কলামিস্ট" টাইপরা চেতলো আমার উপর
হিং টিং ছট আর থোড় বড়ি খাড়া
আর কত চলবে এই কচকচানি
তার চেয়ে বরং আম্লিক কর
দেশ জাতির পুটু মেরে টু পাইস কামা
নিজের পরিবারকে লাক্সারিতে রাখ
সোওয়াব হবে
মালয়েশিয়া, ক্যানাডা, বা অস্ট্রেলিয়ায় মুভ করা ভাল।
দেশে টাকা রাখা সেফ না।
কোলকাতাওয়ালাদেরও দিলাম রাগিয়ে
ওদের ওই বিজেপি আর দাঙ্গা ছাড়া আছে মমতা, মোদী, আর চাড্ডি
সবাইকে বললাম, আরে দাদারা, তিন সেকেন্ডের জন্য পকপকানি থামান
মস্তিষ্ক প্রক্ষালন ব্যাপারটা একটু বোঝার চেষ্টা করেন।
ড্রেকো, গ্রে, জেটা, এরা মিলে আমাদের ভোদাই বানায়ে রেখেছে
একটু পড়াশুনা করে দেখেন।
আরে কে শোনে কার কথা?
পুরাণ পাগলে ভাত পায়না আইছে নতুন পাগল!
কি আর করা
মিথ্যা প্রলাপের বিশাল খড়ের গাদায়
আমার সত্য
সুঁই হয়ে হারিয়ে গেল।
এখন কেউ আর আমাকে ভালবাসেনা।

Friday, March 24, 2017

aguntuk - bangla song - neel akash




সাদামাটা চেহারা তার
সাদা কালো চোখ
আয়নাফ্রেমে আটকে গেছে
কে সেই আগুন্তুক?

বোলো না তার সঙ্গে কথা
শুনো না তার গান
যদি পার দুমড়ে দিও তার
সাজানো বাগান

শুনেছি সে সন্ধ্যারাতে
একা বসে একতারাতে
বাজায় মনের সুখ!
আয়নাফ্রেমে আটকে গেছে
কে সেই আগুন্তুক?

দেয় না ধরা পাইনা ছোঁয়া
নিরব চেয়ে রয়
ডাক দিলে সে মেলবে পাখা
এতইখানি ভয়
বিপদ নাকি ডাইনে বাঁয়ে
শুনেছি এক ফুলের ঘায়ে
ভেঙেছে তার বুক?
আয়নাফ্রেমে আটকে গেছে
কে সেই আগুন্তুক?

আমার ঘরেই বসত করে
দেয় না পরিচয়
চোখে চোখে তাকিয়ে থাকে
কি জানি সে কয়
বিলাস করে গায়ে বাতাসে
শুনেছি সে ভালবাসে
কয়েকজনার মুখ
আয়নাফ্রেমে আটকে গেছে
কে সেই আগুন্তুক?

--- নীল আকাশ