Friday, December 23, 2016

paknami vs jagoron - blog in bengali

নিকেতনে রাস্তার মাঝখানে খুঁটি গেড়ে পুলিশের রাস্তা দখল

পাকনামি ভারসাস জাগরণ

আমাদের কাছে শিখে যারা দুইদিনের বৈরাগী হইসে, এরা যখন আবার ঘুইরা আমাদের পাছায় কামড়ানোর চেষ্টা করে অ্যাজ ইফ তারা সাডেনলি আমগো চেয়ে বেশি পণ্ডিত হয়া গেছে, তখন চরম বিরক্ত লাগে। আমরা পণ্ডিত মণ্ডিত কিছুই না। আমরা স্বাভাবিক চিন্তার মানুষ যারা ড্রেকোদের ৬,০০০ বছরের পুরানো গ্লোবাল মাইন্ডফাকটা থেকে বাইর হওয়ার চেষ্টা করতেছি। এটা কোন সহজ কাম না, যারা জাইগা উঠসে তারা ভালই জানে। যারা বেশি পাকনামি করে, এগুলা আসলে বালডাও বুজে নাই। আফটার অল, ব্যাপারটা পরিস্কারভাবে কনফার্মড হইতে আমার কয়শো বই, আর কয় হাজার ব্লগ, ভিডিও, সেমিনার, ওয়েবিনার, কনফারেন্স, ইন্টারভিউ, এক্সপেরিয়েন্সার, অ্যাবডাক্টি, কন্টাক্টি, রিগ্রেশন হিপ্নোসিস, ইত্যাদি গো থ্রু করা লাগসে, সেটা আমি ছাড়াও আমার দুই একজন ক্লোজ ফ্রেন্ড খুব ভাল জানে। উই লেফট নো স্টোন্স আন্টারন্ড। ফেসবুকের প্রাইভেট ম্যাসেজে আমি প্রচুর গাইড্যান্স পাইসি এবং এখনও পাই। কয়েকশো গ্রুপে আমাকে আমার বন্ধুরা মেম্বার বানাইসে যেগুলার অস্তিত্ব সম্পর্কেই আমি জানতাম না। এইসব গ্রুপ থেকে অজস্র তথ্য পাইসি। তার থেকে ইম্পরট্যান্ট হল, এইসব গ্রুপে মুখ খুললেই অনেকে এসে ট্রোলিং করে, কিন্তু অনেকে আবার ভুলগুলা ঠিকও করে দেয়। আল্টিমেটলি একটা বিশাল এনরিচমেন্ট হয় আর চিন্তায় ম্যাচুরিটি আসে। এই প্রসেসগুলার মধ্যে দিয়ে যারা যায় নাই, পাকনামিগুলা তারাই বেশি করে।

১০ বছর আগের আমি আর আজকের আমির চিন্তার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। এর কারণ উপরে বর্ণিত প্রসেস, যেটা না ঘটলে কিন্তু আমিও ঠিক আগের মতই একজন মাইন্ডফাকড পাকনা বলদ থাকতাম আর নিজেকে একজন সর্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে করতাম যেটা আশেপাশের অনেককেই করতে দেখি। পিটি।

আমার এখন চাকরি/ব্যবসা বা ঘরের কাজ তেমন কিছুই করতে হয়না, তারপরও প্রতিদিন যে কোন একটা কাজে মনোযোগ দিতে গেলে কি পরিমাণ ইন্টাররাপশনের মধ্যে পড়তে হয় সেটা ভালমত খেয়াল করার পর বুঝতে পারলাম যে কেন পৃথিবীর ৯৯% মানুষ বেসিক্যালি ছাগল, কারণ তারা ছাগলের ঘোরা রোগের মতন সারাজীবন এই দাসত্বের মেট্রিক্সের মধ্যে চরকির মত ঘুরতে ঘুরতে মারা যায়। এদের প্রত্যেকের সিচুয়েশন হলঃ আইলাম আর গেলাম, পাইলাম আর খাইলাম ভবে, দেখলাম শুনলাম, কিছুই বুঝলাম না। এটা ৯৯% এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর বাকি যে ১% নিজেকে “সেলিব্রিটি” স্ট্যাটাসে উঠাইতে পারসে, এদের মধ্যে ৯৯% ও ছাগল কারণ এরা বেসিক্যালি অন্য ৯৯% এর মেট্রিক্স মেন্টালিটিকে কেটার করে, ইমোশনাল সুড়সুড়ি দিয়ে ফেম অ্যান্ড ফরচুন কামায় যেটার আসলে তেমন কোন রিয়াল ভ্যালু নাই। কারণ এরা বেসিক থোড় বড়ি খাঁড়া মাইন্ডফাকটাকেই রিকশাতে জরি আর ঝালর লাগায়া “অন্যরকম বেবিট্যাক্সি” বানায়া মাল কামায়া পাগল হয়ে যায়। আর বাকি ৯৯% এদেরকে মাথায় নিয়ে নাচতে নাচতে, কোন একদিন আমি না পারলে আমার ছেলে এইরকম ছেলেরবিটি হইতে পারবে এই আশা বুকে নিয়ে দাসত্ব করতে করতে জীবনপাত করে।

উদাহরণ স্বরূপ হিন্দি ফিল্ম। হিন্দি ফিল্ম যারা দেখে এদের আর কিছু হওয়ার নাই। বড়জোর এরা ঐ উপরের থোড় বড়ি খাঁড়া লেভেলের অন্যরকম বেবিট্যাক্সি টাইপ সেলেরবিটি হতে পারবে অথবা নিজের ছেলেকে ডাক্তার-এঞ্জিনিয়ার বানাবে। হিন্দি গান, উর্দু গাজাল খুবই উচ্চমার্গের বটে, ছ্যাঁক খাইলে এটা খুব ভাল বোঝা যায়। বস্তাপচা হিন্দিফিল্ম না দেখলে অনেকেরই সারাদিন দাসত্ব করার পর ঐ ভুয়া, খুব টল, সুন্দরি নায়িকা, ফাইটার নায়ক, এই টাইপের রূপকথার রাজ্যে ২/৩ ঘণ্টা না কাটালে ঘুম ধরেনা। পরের দিন অফিসে বা আড্ডায় আগের দিনের ঐ ফ্যান্টাসি মুভিটা নিয়েই আলাপ হয়। এর মধ্যে যদি আমির খানের মত একটু সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেসের সুড়সুড়ি ঢুকানো যায় তো খব্বর আছে – অস্কার মস্কার নোবেল ইত্যাদি নিয়ে টানাটানি।

বারবার কেন যে সিনিকাল হয়ে যাই বুঝিনা। পেটের গু পরিষ্কার হলনা। আমার ড্রেকো পড়ে নিপুর মুখ দিয়ে হঠাত আপসে ওর নিজের অজান্তেই বের হয়ে গেলঃ রুড এবং ভালগার। আমি তো হাঁ করে ওর দিকে তাকায়ে আছি। কি বলল এটা? পরে চিন্তা করে দেখলাম যে রুড পার্টটা ঠিক আছে, তবে ভালগার পার্টটা ওর নিজের প্রজেকশন। যে কোনদিন কোন সত্য উচ্চারিত হতে শোনেনি, তার কাছে কিন্তু সত্যই মনে হবে ভালগার, কুৎসিত। নিপু জানে ও সত্য বলতে পারেনা। ও জানে ওর সত্য কর্ম করার বলজ নাই। তার বদলে ও কবিতা লেখে। ঐ শব্দচয়নের মাধ্যমে নিজের দাসত্ব, কাপুরুষতা, আর মিথ্যা জীবনকে রিলিজ দিতে চেষ্টা করে। তবের নিপুর ভাল দিক হল, ও যে ভণ্ড এবং ভীতু এটা সে জানে। তাই ওর ইচ্ছা একদিন সব ভণ্ডামির দায়িত্ব পালন শেষ হলে ও একদিন একটা পাহাড়ে যাবে। সেখানে ও কয়েকদিন থাকবে। আর ঠিক এই জন্যই ও আমাদের কাছে প্রিয়।

আপনি একজন মগজধোলাই খাওয়া গর্দভ মেট্রিক্সের দাস – এই কথাটা কতটা পোলাইটলি বলা যায়?

অনেকেই আমাকে তথ্যপ্রমাণ সহ একটা সিরিয়াস বই লিখতে বলে কিন্তু এনার্জি পাইনা। পাইতাম যদি পুলিটজার পাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, কিন্তু এই ব্যাপারগুলা আর আসে না। অনেক পরিশ্রম করে, গাধার খাটনি খেটে একটা পিঠ চাপড়ানি পেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলব – কি জানি, হয়ত সেটাই বেশি মিনিংফুল হত। কিন্তু আমার খুব একটা ইচ্ছা করেনা।

তার বদলে এভাবেই বলি যে আমাদের ইতিহাস, ধর্ম, নাস্তিকতা, সেকুলার, বাম রাজনীতি, হুমায়ুন আহমেদ, জাকির নায়েক, রাজনীতি, কালচার, শিক্ষা, হিন্দি ফিল্ম, হলিউড, টেলিভিশন, মিডিয়া, প্রথম আলো, পুলিশ, মিলিটারি, ব্যাংক, স্টক মার্কেট, ব্যবসা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ফার্মা, হসপিটাল, চিকিৎসা শাস্ত্র, মিউজিক, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি যা আছে, সব মিথ্যা, সব ভুয়া। ফেসবুকে যে পাকনা পাকনা আতেলেকচুয়াল লেখা আপনারা লাইক মারেন, এগুলা ভুয়া। আমাদের সুশীল, নাস্তিক, সেকুলার, পণ্ডিত, এক্সপার্ট, সব ভুয়া। এরা প্রত্যেকে একটা মিথ্যার মিয়াজমার মধ্যে বসে নিজেদেরকে বিশিষ্ট বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ হিসাবে ক্লেইম করে যাচ্ছে। আপনারা সবাইই ঠিক একই কাজটা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমার যত বড়লোক বন্ধু আছে, বিরাট বিরাট পোস্টে বড় বড় চাকরি করে, মাল কামায়, দেশ বিদেশ বেড়ায়, সবগুলা ভুয়া, ব্রেইনডেড। এই যে দেশের নদীনালা খালবিল ভরাট করে ভূমিদস্যুতা চলছে, সব ভুয়া। শুধু টাকার জন্য এদের এত কষ্ট করা, এত পরিশ্রম, সাঁওতাল গ্রাম ধ্বংস করা, মানুষ মারা, বিএনপি নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া, কোন চ্যানেল সত্য বচন করলে তালা ঝুলায়ে দেয়া, জামাত শিবিরকে সন্ত্রাসী লেবেল দিয়ে পিটানো, জেল দেয়া, ছত্রভঙ্গ করা, আন্ডারগ্রাউন্ড বাম রাজনিতির নামে মানুষকে সশস্ত্র বিপ্লবের মুলা ঝুলায়ে রেখে বিভ্রান্ত করা, খতমের রাজনীতির স্বপ্ন দেখানো, যেখানে জমিদার আর জোলা কাঁধে কাধ মিলায়ে জমি চাষ করে খাবে, লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে কলেজ ডিগ্রির সার্টিফিকেট বেচা, স্টক মার্কেটের জুয়া খেলার মাধ্যমে মানুষের সর্বস্ব লুটে নেয়া, হসপিটালের টেস্ট বাণিজ্য, লাখ টাকা ছাড়া কোন চিকিৎসা না দেয়া, একটা মাছ কিনতে ১ বস্তা টাকা লাগা, রিকশা ভাড়া প্রতিদিন বাড়া, এগুলা কি? এর নাম উন্নতি? আপনাদের মাথায় ঘিলু বলে কিছু আছে? আপনারা বুঝতে পারেননা যে হাবিয়া দোজখও ঢাকা শহরের কাছে জান্নাতুল ফেরদৌসের মত? ফরমালিন আর ফ্লোরাইড খেতে খেতে কারও মাথায় তো গোবর ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নাই। জ্বি, আমিই সেই রুড অ্যান্ড ভালগার।

এখন আবার বুঝাই আপনাদের এই দুরবস্থা কেন। আপনারা যেটাকে আপনাদের জীবন বলে মনে করেন, সেটা আসলে একটা ভিডিও গেম যেটা অনেক বেশি অ্যাডভান্সড। আপনারা সবাই এই গেমের ভিতরের ক্যারেক্টার। এখানে সবকিছু পরিচালিত, কন্ট্রোলড। আল্লা আপনাদের তৈরি করেনি, করেছে প্রোগ্রামাররা। স্পেস টাইম বলে আসলে কিছু নাই। আছে ফ্রিকোয়েন্সি আর ডাইমেনশন। আমরা একটা স্পেসিফিক ডাইমেনশনে আটকা পড়া যেখানে কোন কিছুই আসলে রিয়াল না। আপনারা সারা জীবন যে পরিশ্রম করেন, তা দিয়ে উৎপাদন হয় প্রচুর এনার্জি। এই এনার্জিটাকে কাজে লাগায় ঐ প্রোগ্রামাররা যারা আমাদের নিয়ন্ত্রন করে। ঠিক যেমন ঢাকায় একটা গারমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কয়েক হাজার দাস জানোয়ারের মত পরিশ্রম করে কিছু হাড্ডি-কাঁটা পায়, আর ঐ অমানুষিক পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলে মালিক পক্ষ, কোটি কোটি টাকা কামায়ে রাজার হালে ঘুরে বেড়ায় দেশে বিদেশে। কিন্তু ঐ বেটা বুঝতে পারেনা যে ও নিজেও এই দাসত্বের মেট্রিক্সের একটা সিনিয়র দাস। ও নিজের বিবেককে শয়তানের কাছে বন্ধক দিয়ে কয়েক হাজার লোকের রক্ত চুষে খাচ্ছে, এটাই চায় এই মেট্রিক্সের কন্ট্রোলাররা। কারণ, ওকেও এরা ঠিক একইভাবে চুষে খাচ্ছে, ওকে দিয়ে ওদের শোষণযন্ত্রটা চালায়ে নিচ্ছে, এতে ওদের নিজেদের কোন পরিশ্রম করতে হচ্ছেনা। কারণ এই বড়লোক মালিক তো এখন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে টাকা উড়াবে, সেটার জন্য সিস্টেমের ফাঁদ রেডি আছে, বড় বড় হোটেল, রিসোর্ট, ম্যানশন, ইয়াট, ফেরারি, পাজেরো, বিএমডাব্লু, রিক্রিয়েশন পার্ক, জিম, গলফ, ক্যাসিনো, ব্রথেল, ম্যাসাজ পার্লার, পেন্টহাউজ, আরও কত কি।

আমাদের নাস্তিক ব্লগারদেরকে মোটামুটি মগজধোলাইয়ের পরাকাষ্ঠা বলা যায় কারণ এদের ইগো আর নিজেকে অতিবুদ্ধিমান পণ্ডিত টাইপ ভাবার টেন্ডেন্সি সবচেয়ে বেশি। খেয়াল করবেন যে এরা বেশি একটা পড়াশুনা করেনা, কোন বিষয়ের গভীরে যায়না, শুধু মুসলিম পচায়ে মজা নিতে পারলেই সেলেরবিটি। এদের হাইট অভ কনসারন হল জায়নিস্ট মিডিয়ার মিথ্যা সাইঅপ্স নিয়ে ব্যস্ত থাকা অ্যাজ ইফ যে এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ পৃথিবীতে নাই। ন্যাক্কারজনক টু সে দ্য লিস্ট।

এবার একটু ধার্মিকদের নিয়ে বলি। এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে সেন্সিটিভ টপিক, কাজেই এটা নিয়ে বলার বলজ যদি আমার না থাকে, তাইলে দেশে আর কারও থাকবে না নাস্তিক ব্লগার ছাড়া। তবে নাস্তিকদের সারকাজম আর সিনিসিজম ব্যাপারটাকে বিষাক্ত করে ফেলে, যে কারণে কোন পজেটিভ রেজাল্ট পাওয়া যায়না। অলরেডি ডারউইনের বিবর্তনবাদের সাথে ইসলামের কনফ্লিক্ট তো আছেই। আর আমাদের কাছে আছে এই কনফ্লিক্টের আসল কারণ। এরা কোন পক্ষই সত্যটা ধরতে পারেনি। এর কারণটা আপনাদের বলে দিচ্ছি।

প্রথমত বোঝার চেষ্টা করেন যে আমরা যেসব তথ্য জানি সেগুলার সোর্স কোন মেইনস্ট্রিম সায়েন্স বা মিডিয়া নয়, কারণ এগুলা কঠোরভাবে কন্ট্রোল করা হয়। এটা বোঝা বাঙালির জন্য খুব সহজ হওয়ার কথা কারণ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিডিয়া কিছু লিখলে বা বললে সাথে সাথে ওদের ব্যবসায় তালা ঝুলে যায়। ফ্যাশিস্ট স্বৈরাচার এভাবেই টিকে থাকে যতদিন পারে। মাহমুদুর রহমান এখনও বিনা দোষে জেলে। শফিক রেহমান সম্ভবত উনার অ্যামেরিকান কানেকশনের কারণে কোনমতে বেঁচে গেছেন। এ থেকেই আপনারা বুঝতে পারেন যে মেইন্সট্রিমের গলা টেপা আমাদের গ্লোবাল কাবালের জন্য কতটা সহজ। কাজেই আপনি যদি একজন নাস্তিক ব্লগারের মত নাইভ আর বোকা হন যার একমাত্র সোর্স অভ ইনফরমেশন হল গিয়ে মেইন্সট্রিমে ইসলামিক টেররিজমের ভুয়া খবর, তাইলে আপনার কাছে থেকে আমরা কতটুকু আশা করতে পারি?

রবার্ট মর্নিংস্টার, আন্তন পার্কস, জাকারিয়া সিচিন, লয়েড পাই, প্রমুখ ঠিকভাবে সনাক্ত করেছেন যে আড়াই লক্ষ বছর আগে আনুনাকি নামের “বাইরে থেকে আগত” কিছু প্রজাতি পৃথিবীর ইন্ডিজেনাস প্রাইমেটের সাথে ওদের নিজেদের ডিএনে ক্রসব্রিড করে তৈরি করেছিল হোমো স্যাপিয়েন্স। যে জায়গায় এই ল্যাবরেটরিটা ছিল, সেটার নাম ছিল এডিন, আর প্রথম মানবগোত্রের নাম ওরা দিয়েছিল আডামা। এই গল্পটাই এখন আমাদের হোলি স্ক্রিপচারে আদম হাওয়ার গল্প হিসাবে প্রচলিত হয়ে আছে যেটাকে এখন অন্যরকমভাবে এক্সপ্লেইন করা হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, আমাদের এই কথা শুনলে শুধু যে আস্তিকরা বা ধার্মিকরা বিরক্ত হয়, তা নয় কিন্তু, আমাদের বিশিষ্ট নাস্তিকরাও এই সত্যটাকে গিলতে পারেনা। এই বিষয়ে কোন ইনভেস্টিগেশন করেনা, বা ব্যাপারটার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করেনা। ব্যাপারটা এরকম যেন শুধু ওরা যা মনে মনে ভাবে, তাইই সত্যি, আর সবকিছু ঐ ইসলামের মতই ভুয়া। আর ঠিক এই কারণেই আমি নাস্তিকতাকে একটা নতুন মডেলের ধর্মীয় গোঁড়ামি হিসাবে দেখি। এরা এদের অন্ধকার বাবলের বাইরে যেতে অনিচ্ছুক। বরং বেশ কিছু মুসলিমকে আমি আনুনাকি তত্ত্ব নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখেছি।

এখানে ধার্মিকদের জন্য একটা কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ যে আনুনাকিরা মাস্টার জেনেটিসিস্ট হিসাবে নতুন স্পিসি ডিজাইন করতে পারে ঠিকই কিন্তু তার মানে এই নয় যে ওরা সউল বা আত্মা বানাতে পারে। পৃথিবীর মানুষই এখন জেনেটিক মডিফিকেশন করে নতুন নতুন প্রজাতি বানাতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা ডিএনে তৈরি করতে পারে। ওরা শুধুমাত্র লেগো দিয়ে খেলনা বানানোর মত, এক্সিস্টিং ডিএনে দিয়ে খেলাধুলা করতে পারে। অর্থাৎ, প্রাণ, সউল, বা কনশাসনেসের সৃষ্টি কিভাবে, সেই রহস্য কিন্তু এখনও অজানা।

এখান থেকে সেগুয়ে করি যে আমাদের পৃথিবী বা সৌরজগৎ একটা কন্সট্রাক্ট যার দুইটা মালিক আছে। একটা মালিক হলাম আমরা নিজেরা, যাদের আত্মা অমর। আমরা সবাইই সোর্স কনশাসনেস – সোর্স হল অধার্মিকদের “আল্লা” কিন্তু আমরা সোর্সকে বেহেশতের চূড়ায় বসে থাকা সাদা দাঁড়িওয়ালা একজন বৃদ্ধ মনে করিনা (এটা হয়ত কেউই মনে করে না বাট আমরা মজা নেই)। এই কন্সট্রাক্টের আরেকটা মালিক হল ড্রেকো বা আরকনদের মত কিছু প্যারাসাইট যারা ঠিক আওয়ামীলীগের মত জোর করে আমাদের মালিক হতে চায়। কোন ভোট বা জনগণের সাপোর্ট ছাড়া যে আওয়ামীলীগ গদিতে বসে আছে, এর কারণই হল ড্রেকোদের গোপন সাপোর্ট। সম্পূর্ণ বেয়াইনিভাবে এরা র-মসাদ-সিয়াইএ ইত্যাদির সহায়তা নিয়ে আমাদের রক্ত চুষে খাচ্ছে আর যত দিন যাবে এদের ক্ষমতা আরও বাড়বে আর আমাদের উপরে আরও অনেক বেশি ট্যাক্স বসাবে। এটাই ড্রেকোদের কাজ। এরা বিভিন্ন গ্রহে যেয়ে এভাবেই ঐ গ্রহের প্রাণীদের শোষণ করে।

গতকাল নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জিতেছে। বুঝতে কষ্ট হয়না যে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। গ্যাগড মিডিয়া কোন বাহ্যিক গোলমালের খবর না দিলেও সহজে আন্দাজ করা যায় যে ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে কারণ লীগের বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা বা মরাল-এথিকাল স্ট্যান্ডার্ড নাই এটা ইভেন দলকানারাও জানে। যাইহোক, ড্রেকো এজেন্ডার সাথে যে র-আওয়ামী এজেন্ডা পুরাপুরি অ্যালাইন্ড, এটা বুঝানোই আমার উদ্দেশ্য। আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে আওয়ামী স্বৈরাচার পুরাপুরি তাদের নিজস্ব কৃতিত্ব নয়। ওদের পিছনে গ্লোবাল এলিটের গোপন সায় ও সাহায্য কাজ করছে।

এবার আসি আমার অকাল্ট আর এসোটেরিক বিদ্যায় হাতেখড়ির ব্যাপারটায়। অ্যালিয়েস্টার ক্রাওলি, জ্যাক পারসন্স, আর রন হাবারড এই ট্রিনিটিকে বলা হয় ব্ল্যাক ম্যাজিকের বস। আসলে ব্ল্যাক ম্যাজিক ঠিক কি এটা বুঝতেও কিন্তু প্রচুর কষ্ট হয়। বলা হয় যে আমাদের রিয়্যালিটি তৈরি হয় আমাদের সাবকনশাস দিয়ে আর সাবকনশাসকে ম্যানিপুলেট করা যায় সিম্বল দিয়ে। এটা নিয়ে স্টাডি করে মার্কেটিঙের লোকজন যারা মিডিয়াতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে, বিভিন্ন সিম্বলের মাধ্যমে আমাদের চিন্তার জগতকে ম্যানিপুলেট করে ওদের প্রডাক্ট বিক্রি করার জন্য। আরও আছে এনএলপি বা নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক-প্রোগ্রামিং যা দিয়ে মানুষের উইল পাওয়ারকে সহজে ম্যানিপুলেট করা যায়। এর সাথে হিপ্নোসিসের কানেকশন আছে। বেসিক্যালি আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোন ধরণের হিপ্নোগগিক স্টেটে থাকি এটা যেকোনো মানুষকে একটু অব্জারভ করলে বুঝতে পারেবন। প্রত্যেকটা মানুষ কিছু প্রোগ্রামের ভিত্তিতে প্রতিনিয়ত ডিসিশন নিচ্ছে যার ভিত্তিতে হয়ত তার জীবনে তৈরি হচ্ছে অনেক স্ট্রেস। আপনি খেয়াল করবেন যে আপনি চেষ্টা করলেও ঐসব প্রোগ্রাম তার মন থেকে ডিলিট করে দিতে পারবেন না যাতে তার মনটা মুক্ত হয়ে যায়। দেখবেন সে তার প্রোগ্রামগুলাকে কোরানের আয়াতের মত আঁকড়ে ধরে আছে। এটা আস্তিক, নাস্তিক, সেকুলার, মুক্তমনা নির্বিশেষে প্রযোজ্য। সবথেকে জরুরি হল আপনার নিজের প্রোগ্রামগুলাকে চিনতে পারা, কিন্তু এটা খুব কম মানুষই পারে। নিজেকে বিভিন্ন মাইন্ড প্রোগ্রাম থেকে ডিটক্স করার যে প্রসেস সেটাকে বলা হয় ইনার ওয়ার্ক। জন্ম থেকে আমরা বিভিন্ন প্রোগ্রাম দিয়ে ইন্ডক্ট্রিনেটেড হতে থাকি। এই প্রোগ্রামগুলা আমাদের মনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। এরপর আমরা নিজেকে হিন্দু, মুসলিম, নাস্তিক, ডাক্তার, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, মিলিটারি, যুবলীগ, জামাত, ইত্যাদি লেবেল দিয়ে একটা মুখোশ পরে ফেলি, আর তারপর ঐ মুখোশের মত আচরণ করতে থাকি। এটাই হল মাইন্ডফাক মেট্রিক্স। এটা থেকে সবার আগে মুক্ত করতে হয় নিজেকে। তারপর আপনি অন্যদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে এটা একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। কিছুদিন পরপরই আমরা আবার নতুন নতুন প্রোগ্রাম দিয়ে কন্টামিনেটেড হতে পারি। সেদিকে ক্ষ্য রাখার প্রয়োজন আছে।

ডাইগ্রেস করে ফেললাম। অকাল্ট আর এসোটেরিক বিদ্যার একটা বিশেষ অংশ হল ইন্টারডিমেনশনাল বিইংদের সাথে চুক্তি করা। উদাহরণ স্বরূপ, ড্রেকোরা একজন রেপ্টিলিয়ান হাইব্রিড অর্থাৎ ঐ ১৩টা ব্লাডলাইন ফ্যামিলির মানুষদের সাথে, বিশেষত নকল জু, অর্থাৎ খাজারিয়ান মাফিয়াদের সাথে--যাদের রেপ্টিলিয়ান ডিএনে কনটেন্ট বেশি--খুব সহজে কম্যুনিকেট করতে পারে। বিভিন্ন সেটানিক রিচুয়াল পালনের মাধ্যমে এরা ড্রেকো বা কোন ডিমনিক এন্টিটিকে পূজা দেয়, তার বদলে কিছু পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয়। এখানে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে এটা আগুন নিয়ে খেলার মত। একটু অসাবধান হলেই কিন্তু সর্বনাশ হয়ে যাবে যেটা অহরহই হয় আর তার খেসারত দেই আমরা সাধারণ মানুষ যারা এগুলা সম্পর্কে খুব কমই জানি। আর গ্লোবাল এলিটও আমাদের অজ্ঞতার সুযোগ কড়ায়গণ্ডায় নিয়ে থাকে।

রেপ্টিলিয়ানরা সবার আগে যোগাযোগ করেছিল জার্মানির নাৎসিদের সাথে যাদের ইউজেনিক্স এজেন্ডা (রেসিয়াল ক্লেঞ্জিং) রেপ্টিলিয়ানদের টেকওভার এজেন্ডার সাথে মিলে গেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ভ্রিল আর থুলে সোসাইটি সম্পর্কে পড়লে বুঝতে পারবেন যে এই কাল্টগুলায় ইন্টারডিমেনশনাল কম্যুনিকেশন হচ্ছিল যার মাধ্যমে নাৎসি পার্টি কিছু অ্যাডভান্সড টেকনোলজি পেয়ে যায়। এই টেকনোলোজি দিয়ে অ্যান্টিগ্রাভিটি, স্পেস ট্র্যাভেল, টাইম ট্র্যাভেল, টেলিপরটেশন, ইনভিজিবিলিটি, এই জাতীয় অবিশ্বাস্য সব কাজ করা যায় যেগুলা সম্পর্কে গ্লোবাল এলিট আমাদের কিছু জানতে দেয়না। আর এই ব্যাপারটাই আমাদের সুশীল নাস্তিক পাকনারা বুঝতে না পেরে আমাদেরকে কন্সপিরেসি থিওরিস্ট ইত্যাদি বলে নিজেদের অজ্ঞতার পূজা দিতে থাকে।

এখন আমরা জানি যে পৃথিবীর মানুষ পুরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ঘুরতে পারে। শুধু অ্যামেরিকারই একাধিক স্পেস সিভিলাইজেশন আছে যারা সবাই অন্যদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেনা কারণ এদের টেকনোলজির লেভেল ভিন্ন ভিন্ন। সবগুলা গ্রুপই মনে করে যে তারাই বুঝি টেকনোলজির শীর্ষ পর্যায়ে আছে, কিন্তু আসলে তা নয়। আমাদের সৌরজগতের প্রতিটা গ্রহেই মানুষ আর অন্যান্য প্রাণী আছে যেটা নাসা আমাদেরকে বলেনা। বিভিন্ন মগজধোলাই দিয়ে আমাদেরকে বুঝাইসে যে শুধু পৃথিবীই একমাত্র প্রাণ ধারণের উপযুক্ত। পুরাই মিথ্যা কথা। তবে সব গ্রহের সব সভ্যতাই ফিজিক্যাল নয়। এথেরিক বা ইথার দিয়ে তৈরি সভ্যতা, বা প্লাজমিক সভ্যতাও আছে, অ্যামাং আদার থিংস।

মোদ্দা কথা, আমরা আগে যা ভাবসি, আমাদের রিয়্যালিটি আসলে তার থেকে পুরাই আলাদা। আমরা আজকে যা জানি বলে ভাবি, এগুলা সবই আসলে বিভিন্ন প্রোগ্রামের ভিত্তিতে যেগুলা আমরা কেউই যাচাই করে দেখিনাই। আমাদের সুশীল-নাস্তিক এই জায়গাতেই ধরা যে তারা কোন কিছু ভেরিফাই না করে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া, মেইনস্ট্রিম সায়েন্স, আর মেইনস্ট্রিম ইতিহাসকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে তার ভিত্তিতে পাকনামি করে যায়। এর সাথে ধর্মান্ধতার খুব একটা অমিল নাই, এটা ওরা বুঝতে পারেনা। বরং উলটে আমাদের কথাবার্তাই ওদের কাছে একটা নতুন ধর্মবিশ্বাসের মত লাগে, কিন্তু তার কারণ ওরা ওদের নিজেদের অজ্ঞতাটা ইগোর বসে আমাদের ঘাড়ে চাপায়ে রাখে। দে ক্রিটিসাইজ হোয়াট দে ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড।

স্বৈরাচার থেকে মুক্তি পেতে হলে যুদ্ধ করতে হয়। এই যুদ্ধ কনশাসনেসের যুদ্ধ। এটা যেদিন বুঝতে পারবেন, সেইদিন আপনিও আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলায়ে যুদ্ধে নেমে পড়বেন। আশা করি সেইদিন আসতে বেশি দেরী হবেনা।