Saturday, November 12, 2016

independence of bangladesh - blog in bengali


বাংলাদেশ কি এখনও স্বাধীন?


কালকে উত্তরার দিয়াবাড়ি যেতে যেতে রাস্তায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। দূরে দেখা গেল বিরাট বিরাট সব ডেভেলপমেন্ট, বাতি টাতি জ্বলা, একাকার কান্ড। আন্দাজ করলাম দুর্নীতিবাজ আওয়ামীলীগের কোন পুলিশ বা মিলিটারি প্রজেক্ট হবে। আমরা বেকার ঘোরাঘুরি করতে করতে একটা ব্রিজ দেখে সেখানে গিয়ে দাঁড়ালাম। ওখানে অনেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাওয়ার তো তেমন কোন জায়গা নাই, দেখার মতও কিছু নাই। কয়টা বাদাম কিনে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই শুনলাম বাঁশির আওয়াজ। শুনেই বুঝলাম যে ঝামেলা হ্যাজ। কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখি হ্যাঁ ঝাড়ির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তার মিনিট খানেক আগে এক সিএঞ্জিওয়ালাকে দেখলাম ক্যামোফ্লাজ পরা বন্দুক হাতে এক দৈত্যাকার গার্ডের কাছে ব্রিজের উপরে থামার জন্য বকা খেতে। এখন বাঁশির আওয়াজ কেউ পাত্তা না দেয়াতে ধমক দিয়ে ঠেলে সবাইকে ব্রিজ থেকে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে। আগুনটা মাথায় চড়তে দেইনা আজকাল। ভেড়ার সাথে থাকতে থাকতে আমিও ভেড়া প্রায় হয়েই গেছি, এই সময় দেখি দুই ইয়াং ম্যান বেশ ধমকের স্বরে গার্ডদেরকে সরে যেতে বলছে। মজা পেয়ে একটু আগ বাড়ালাম। তর্কাতর্কি আস্তে আস্তে বাড়ছে। ছেলেদুটা এখন বেশ উচ্চস্বরে গার্ডদেরকে ধমকাচ্ছে এই বলে আপনে কে যে আমার আপনাকে আইডি কার্ড দেখাতে হবে? ইত্যাদি। গার্ডদের একজন এই পর্যায়ে লোকটাকে গায়ে ধরে সরানোর চেষ্টা করা শুরু করল, কিন্তু সে প্রচণ্ড ক্ষেপে গিয়ে বললঃ আপনে দ্যাখেননি যে একটু আগে আপনের বসের সাথে আমি একসাথে ছবি তুললাম? আপনে যান সাধারণ পাবলিকরে গিয়া ধরেন। ততক্ষনে বেশ কিছু লোক জমে গেছে। আমার ইচ্ছা ছিল ওদেরকে একটা লেকচার দেয়ার কিন্তু এই বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই ভাবলাম থাক, ব্লগেই লিখব।

চরম দুর্নীতিবাজ আওয়ামী রেজিম আর র মিলে পুলিশ, মিলিটারি, র‍্যাব, আর আমলাদের তেল মেরে হাত করে ফেলাতে দেশে এখন বিএনপি-জামাত বা অন্য কেউই রাস্তায় শান্তিতে চলাফেরা পর্যন্ত করতে পারছে না। দেশ এখন পুরাপুরি এদের হাতে জিম্মি অথচ এ নিয়ে টুঁ শব্দ করলে মানুষের চাকরি চলে যাচ্ছে প্লাস জান নিয়ে টানাটানি। আমি যে ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ানদের পৃথিবী কন্ট্রোল করার কথা বলি, ওরা এক্সাক্টলি এইরকম ভেড়া-মুর্গীর মত মানুষকে কন্ট্রোল করতে চায়, ফ্যাশিস্ট আওয়ামীলীগ যা অলরেডি শুরু করে দিসে। ইংরাজিতে “ড্রেকোনিয়ান” বলে তো একটা শব্দই আছে যেটা এইখান থেকেই উৎপত্তি। রাস্তায় বের হলেই ইউনিফর্ম পরা কেউনা কেউ ডাইনে-যা, বামে-হাঁট, ওইদিক-যাবিনা, এইদিক-ঘুর, এইসব শুরু করে দেয়। অথচ আমার মনে আছে অ্যামেরিকায় আমার ক্যাম্যারো জি-২৮ গাড়িটা যখন চালাতাম, ঐ গাড়ি পুলিশের চোখের বালি ছিল। একদিন রাতের বেলা দেখি যে এক পুলিশের গাড়ি আমাকে নিঃশব্দে ফলো করতেছে। আমি তো পুরাই নার্ভাস কারণ তখন আমি খুবই স্পিডিং করতাম আর টিকিট খাইতাম। তো হঠাত একটা বড় টার্ন নেয়ার সময় ওর বাত্তি জ্বলে উঠল, আমি গাড়ি থামালাম। পরে পুলিশ আমাকে এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করলে যে তুমি কি বুঝতে পারসো কেন তোমাকে থামাইছি? আমি বললামঃ না। ও বললঃ টার্ন করার সময় সাদা দাগের উপরে তোমার চাকা উঠে গেছলো। এটা নিশ্চয়ই আমি নার্ভাস হওয়ার কারণে হইসে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হল, কোন কারণ ছাড়া ওর আমাকে থামতে বলার কোন অধিকার ছিল না। এই স্বাধীনতা আমাদের কাছে থেকে কেউ কোনদিন কাড়তে পারেনা কারণ এগুলা আমাদের আনএলিয়েনেবল রাইটস। এটা যে মানবে না সে দেশের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রাখেনা।

ঢাকার রাস্তায় দুইচার মিনিট পরপর ব্যারিকেড দেয়া দেখলে মেজাজটা আগুন হয়ে যায় যে একটা বাঙ্গালিরও এইসব নিয়ে প্রতিবাদ করার মত কমন সেন্স নাই, বরং উলটে মেট্রিক্সের এজেন্ট স্মিথের মত আপনাকেই বুঝাবে যে এই দাসত্বটাই নাকি আমাদের দরকার। সেদিন মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের ছেলেটা বলল দেশে এখন আওয়ামী কর্মীর সংখ্যা ৫৬ লাখ না কত যেন। ওর যুক্তি ছিল যে এর মধ্যে ১ লাখ দুষ্টু লোক থাকতেই পারে। আসলে কি তাই? সেদিন ফেসবুকে পরিচিত এক ছেলে দেখা করার জন্য বাসায় আসছিল। তার মুখে শুনলাম গোপালগঞ্জের কোটাবাড়ি থানায় জন্মানোর মাহাত্ম্য। ছেলেটা কোন রাজনীতি করেনা কিন্তু তার এক বন্ধু একবার লীগদ্বারা আক্রান্ত হওয়ায় তাকে গোপালগঞ্জ কার্ডটা খেলতে হইছে। কি জঘন্ন এইসব নোংরামি অথচ দেশের মানুষ মনে করে এটাই ঠিক। মানুষ নাকি সুযোগের অভাবে দুর্নীতি করেনা। এটা আপনারা অনেকেই বিশ্বাস করেন। কিন্তু আপনারা যেটা বুঝতে পারেন না বা বুঝতে চান না, সেটা হল আমাদের একটা অদৃশ্য শত্রু আছে যারা আমাদেরকে আমাদের নৈতিকতা ধ্বংস করতে বাধ্য করে কারণ দুর্নীতি ছাড়া এরা কাউকে শোষণ করতে পারবে না। আমি জানি আমি কাউকে ঠকাতে চাই না। আমি চাই আমার আশেপাশে কোন গরীব লোক না থাকুক। এখানে দুর্নীতির প্রশ্ন আসবে কেন? তারপরও প্রশ্নটা আসে কারণ আমাদের ঐ অদৃশ্য শত্রু। আমার এই ব্লগ লেখা, ভিডিও করা, ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ানদের বিষয়ে রিসার্চ করা, যা কিছু আমি বলি করি আজকাল, সব কিছু একটাই মেসেজ দেওয়ার জন্য – আমাদের অদৃশ্য শত্রু সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল হোক। সবাই মগজ ধোলাই থেকে বের হয়ে বুঝতে শিখুক একটা নতুন ব্যাপার আছে জানার। কিন্তু সমস্যা হল যে মাল্টিজেনারেশনাল ব্রেইনওয়াশ ভেঙ্গে বের হয়ে সত্য চিনতে পারা কিন্তু এত সহজ নয়। আপনারা ৯৯% মানুষ এখনও পারেননি। এটাই সত্য। কিন্তু আমি জানি যে আমার লেখা যে পড়তে পারে, যে এই পর্যন্ত পড়ে আসছে, তার ভিতরে চিন্তার পরিবর্তন আসা শুরু হয়ে গেছে।

এই পর্যন্ত লিখে সূর্যর কাছে পাঠাইছিলাম এই লেখাটা, যে আমার অ্যান্টি-আওয়ামী ফ্লেয়ারটা এডিট করে দিতে, কিন্তু কাজ হলনা। আমরা একটা আলোচনায় ঢুকে গেলাম যে সিস্টেমটাই এমনভাবে তৈরি যাতে দুর্নীতি করা যায় এবং শুধু তাই না, অবস্থা এমন দাঁড়াইসে যে দুর্নীতি না করলে আপনার অফ যাইতে হবে। যেখানে পুরা সিস্টেমটাই দুর্নীতির উপর চলে সেখানে দুইচারজন নৈতিক ব্যক্তি থাকলেই ঝামেলা। সূর্য বলল যে আওয়ামী লীগ করে ইন্টেলিজেন্ট লোকেরা, আর শিক্ষিত বুদ্ধিমান মানুষ যখন খারাপ কাজ করে, তখন সেটা সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষদের শিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান কোনটাই মনে করিনা, কারণ আমরা যে লেভেলে ধরা খাওয়া একটা জাতি, তাতে এই দেশে সত্যিকার বুদ্ধিমান কেউ নাই বললেই চলে। তবে হ্যাঁ, এইদেশে চালাকের অভাব নাই। চালাক লোক খুব দ্রুত “সিস্টেম” বুঝে ফেলে এবং নিজের নৈতিকতা দ্রুত বিক্রি করে দেয়। বাংলাদেশে রয়ের ক্ষমতা এতই বেশি এখন যে নীতিবান কেউ আর কোন উচ্চপর্যায়ে যেতেই পারবেনা। গভীর একটা ডার্ক এজেন্ডা এখন বাংলাদেশে খুব দ্রুত আগাচ্ছে আর এর খুব ভাল প্রমাণ হল ভারতের তিনটা যুদ্ধ জাহাজের বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ভিতরে অবস্থান। কেউ জানেনা এরা কেন ঢুকসে, কারা এই পারমিশন দিসে, এবং কি কারণে। আওয়ামী সরকার যেন ভারতের সক-পাপেট।

বাংলাদেশে পুলিশ আর মিলিটারির এখন স্বর্ণযুগ চলতেছে। যেখানে যত জায়গা জমি আছে বা না থাকলে নদী খাল বিল ভরাট করে, মেরে কেটে যেভাবে হোক জবর দখল করে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক নগর-পল্লী যেখানে শুধু মিলিটারি, পুলিশ-অফিসার, আর আওয়ামী “এলিট”, বা যাদের কাছে টাকা খোলামকুচির মত, তারাই থাকতে পারবে। এই গ্রুপগুলাকে খুশি করে আওয়ামী সরকার গদি হাইজ্যাক করে রাখসে কারণ জনগণের আওয়ামী লীগের উপরে কোন সাপোর্ট না থাকলেও কিছু আসে যায়না, কাউকে তো আন্দোলন করতে দেয়া হচ্ছেনা। ইভেন ফেসবুকে আওয়ামী সরকারের নিন্দা করতে সাধারণ মানুষ সাহস পায়না যেহেতু দেশে আইনের শাসন বলে কিছুই আর অবশিষ্ট নাই। যাকে যখন খুশি ইচ্ছা এরা ধরে নিয়ে যেতে পারে – সাথে সাথে শুরু হবে আপনার ফোন করা আর টাকার শ্রাদ্ধ। এমনকি এখন হাজত আর জেলখানায় এমন সিস্টেম করা আছে যে আপনি কারও সাথে যোগাযোগ ও করতে পারবেন না যদি ওরা আপনার টাকা আর সেলফোন দুইটাই নিয়ে নেয়, যেটা ওদের সিস্টেম। সেলফোন নিয়ে গেলে কারও নাম্বার মুখস্ত না থাকলে আপনি টাকা দিয়েও ফোন করতে পারবেন না। কাজেই আপনার অপশন অনেক কমে যাচ্ছে। আবার অন্যদিকে যাদের ঢেল টাকা আর কানেকশন আছে, তারা কোন কিছুর পরোয়া না করে, জেলের মধ্যে রাজার হালে চর্ব্যচোষ্য খেয়ে ফুর্তি করে, সবাইকে কলা দেখায়ে পরের দিন জামিনে বের হয়ে যেতে পারে। এই জিনিষ আমার স্বচক্ষে দেখা। জেলের ভিতরে সবাই টাকার কাঙ্গাল। শুধু আপনার ভাব নিতে জানতে হবে যে আপনার টাকার কোন অভাব নাই। দেখবেন আপনার পা টেপার লোকেরও অভাব হবে না। 

ূর্য সেদিনধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের ছেলটাকে াইরেক্ট জিজ্ঞাসা করসিলআপনি কেন ছাত্রলীগ করেন? ছেলেটা বলসিলঃ আমি শেখ মুজিবকে ভালবাসি বলে ছাত্রলীগ করি। আজকে সূর্য আমাকে বলতেছেঃ ঐ সময়ে ছেলেটাকে ঠাস করে একটা চড় মারা উচিছিল। ব্যাপারটা নিয়ে আমি আসলে চিন্তাই করিনি এর আগে। ূর্যর চিন্তাভাবনা আমার থেকে অনেক অ্যাভান্সড। আসলে তো ছেলে মুজিবের ইতিহাসজানেনা। জানলে ঐ কথা বলতই না। আসলে কয়জন মুজিবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে লীগ করে? সেই আদর্শটাই বা কি? এইসব ণ্ডামি আমরা আর কতদিন গিলব এবং গেলাবো?

তো তাইলে আমরা কি শিখলাম? আমাদের পয়েন্টটা কি? পয়েন্ট হল দেশের অবস্থা ভয়াবহ এবং আমরা খুব সম্ভবত ভারতের কাছে আমাদের স্বাধীনতা হারায়ে ফেলসি বা অচিরেই হারাতে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে লুটপাট করে শুধু নিজেদের আখের গুছানোর জন্য প্যারাডাইস তৈরি করতেছে দেশে যেটা আমরা সাধারণ জনতা হাঁ করে দেখতেছি। এরপর আমাদের আত্মীয়-স্বজনরাই মারমার কাটকাট করে ঐসব পশ এলাকায় থাকতে পেরে গর্বে মরে যাবে। দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়বে। অল্প কিছু সুবিধাবাদী লোক খুব মহাসুখে থাকবে, আর তাদের আনন্দ ফুর্তির খরচ জোগাবে দেশের কৃতদাস আমজনতা যারা মেইনস্ট্রিমের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, আর সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার জাতীয় খুচরা আওয়ামী ফাঁপর নিয়ে আন্দোলন করতে করতে পায়ের ঘাম মাথায় তুলে ফেলবে।

No comments:

Post a Comment