Wednesday, November 9, 2016

folk fest registration - blog in bengali



বাপ্পিরা খুব বলসিল ফোকফেস্টে যাওয়ার রেজিস্ট্রেশন করতে, করিনাই। তখন ব্যাপারটা খেয়াল করিনি। বাপ্পি খুব বিরক্ত টিরক্ত হল। পরে সূর্যের সাথে রিকশায় আবার ক্লাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টের রেজিস্ট্রেশনের কথা উঠল, তখন হঠাত আমার মাথায় টনক নড়ল যে আরে ব্যাপারটা কি? এত ঘণ্টায় ঘণ্টায় রেজিস্ট্রেশন করার হুপের মধ্যে দিয়ে লাফ দিতে হবে কিসের জন্য? আমরা কি সার্কাসের বাঘ নাকি? হচ্ছেটা কি? যথারীতি মাথায় একটা ডাউনলোড আসল আর বুঝতে পারলাম ও আচ্ছা বেশ, ঐযে দাসত্বের বেড়ি আজকাল নিজের গলায় নিজেই পরাতে হচ্ছে, আর আমাদের বোকা বাঙালি জনতা হুড়মুড় করে গিয়ে কে কার আগে নিজের হাতে পায়ে বেড়ি দিবে তার কম্পিটিশন লাগাইছে। তোমরা বাচ্চারা কবে বুঝবা যে আমরা সকাল বিকাল কি কইতেছি? আবার শোনো মনোযোগ দিয়ে।

আমরা বহু বছর ধরে বলে আসতেছি যে আইসিস একটা সিয়াইএ ক্রিয়েশন। সউদি গভঃ মানে সাউদ ফ্যামিলি আসলে রথসচাইল্ড বা তাদের অনুরক্ত। মিডলইস্টের বেশীর ভাগ তেলওয়ালা দেশের সরকার সিয়াইয়ের পাপেট। এরা ওয়াহাবিজমের মাধ্যমে একটা ভুয়া ইসলাম পৃথিবীতে প্রচার করে এক ধরণের জঙ্গিবাদ তৈরি করে মিডিয়ার মাধ্যমে পাবলিককে মগজ ধোলাই দিয়ে ভয় দেখায় – এইটুকু পর্যন্ত এখন নাস্তিক-ব্লগাররা ছাড়া সবাই বুঝতে পারসে। ঠিক তো? এটারই কন্টিনিউয়েশন হল আমাদের জামাত-শিবির ওলামালীগ এবং এই জাতীয় আরও যে ৪৭টা মৌলবাদী দল আছে তাদের বেশীর ভাগই যে সিয়াইএ-মসাদ-রয়ের ফান্ড করা এটা বুঝতে বেশি মগজ লাগে না। আর এখন তো উইকিলিক্সের সহায়তায় হিলারি ক্লিন্টনের ইমেইলেই ্বচক্ষে দেখতে পাইছি যে আইসিসকে অ্যামেরিকা টাকা পাঠায়।

ভার্সিটিতে পড়লে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম, শিবির, ইত্যাদি গ্রুপ থেকে নতুন ব্যাচের ছাত্রদের রিক্রুট করা হয়, এটা সবার জানা। কাজেই এদের মধ্যে থেকে ৫/৬ জন আচমকা গিয়ে গুলশানের একটা পশ রেস্টুরেন্টে হামলা করবে – এটা হতেই পারে, তাইনা? হ্যাঁ, এইখানেই মগজধোলাইয়ের খেল। এটাকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্যই তো বছরের পর বছর সৌদি-রথসচাইল্ড গভঃ বিভিন্ন “গরীব” দেশে এত টাকা পাঠায় “মসজিদ” আর “মাদ্রাসা” বানানোর জন্য। দেশে জানি কয় হাজার এঞ্জিও আছে? এরা জানি কি সব উপকার করে যাচ্ছে আমাদের? রিয়ালি? কেউ জানে আসলে এরা কি করে? ডিজিএফাইয়ের কোন বাৎসরিক রিপোর্ট কেউ কোনদিন দেখসেন? চিন্তা করসেন ব্যাপারটা নিয়ে যে এগুলা কিসের ফ্রন্ট অরগানাইজেশন?

তো জঙ্গিবাদের সাথে ফোক ফেস্ট রেজিস্ত্রেশনের সম্পর্ক কি? এখনও বোঝা যায়নি? আচ্ছা আরও ক্লিয়ার করি। উপরে বর্ণিত ভুয়া জঙ্গিবাদের জুজু দিয়ে মগজধোলাইয়ের পরবর্তী ফলোআপ হল গিয়ে এই রেজিস্ট্রেশন – আমাদের “নিরাপত্তার” জন্য!!! মনে আছে “হোমল্যান্ড সিকুরিটি”? /১১ এর ঘটনার পর অ্যামেরিকানদের হিউম্যান রাইটসের বারোটা বাজায়ে দিসে ওদের গভঃ এই “ন্যাশনাল বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি” জুজু দেখায়ে – অথচ এখন আমরা সবাই জানি যে অ্যামেরিকার সরকার নিজেই টুইন টাওয়ার ধ্বংসের জন্য দায়ী। আস্তে আস্তে কি পরিষ্কার হচ্ছে যে আমাদের জীবন নাটকের আসল ভিলেন কে এবং কার থেকে আমাদের নিরাপত্তা আসলে দরকার?

কিছুদিন আগে সবাইকে ফোনের সিম রেজিস্ট্রেশন করতে বাধ্য করা হয়েছে। এটাও কুকুরের গলায় চেন পরানো ছাড়া আর কিছুই না। সর্বক্ষেত্রে এই রেজিস্ট্রেশনের অর্থ হল যে সরকার আয়রন-হ্যান্ড দিয়ে মানুষকে চিড়িয়াখানার জানোয়ারদের মত কন্ট্রোল করতেছে। এখানে কয়েকটা বিষয় আছে খেয়াল করার মত। যেমন, এই ফোকফেস্টের মত প্রোগ্রামগুলা বিশাল সরকারি বাজেটে হচ্ছে – অর্থাৎ জনগণ আগেই ঐ টাকা প্রদান করেছে, কিন্তু সেই টাকার ফসল শুধু তারাই পাবে যারা সরকারের হুকুম মেনে রেজিস্ট্রেশন করবে। এই ধরণের প্রোগ্রাম অ্যারেঞ্জ করার টেন্ডার নিশ্চয়ই কোন বিএনপি, জামাত, বা অন্য কোন দল বা কেউ কখনও পাবেনা কারণ আমরা সবাই খুব ভালবাভাবেই জানি যে আওয়ামী লীগ চরম প্রকারের দলীয়করণ এবং দলকানামিতে বিশ্বাস করে। এবং সেটা এতটাই যে এরা দেশ থেকে বিএনপি-জামাতকে মেরে ধরে ঠাণ্ডা করে ফেলসে। দেশে এখন চলছে চরম ফ্যাশিজম যেখানে বিএনপি-জামাত বা কেউই আর কোন আন্দোলন করতে পারছে না। আমাদের ট্যাক্স, টোল, ভ্যাট, ইউটিলিটি বিল, ভাতা, ঘুষ, জিনিষপত্রের দাম, ইত্যাদি আওয়ামী এক্সপ্লয়টেশনের কারণে চরমভাবে বেড়ে গিয়ে দেশে এখন নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে। এই গত কালকেই মধুর ক্যান্টিনের মত সস্তা জায়গায় ৫০ টাকা দিয়ে যে রসগোল্লা খেলাম, তার সাইজ দেখে অনেকক্ষণ তাকায়ে থাকলাম। এইজন্যই ওরা খাবার দেয়ার আগেই টাকা চেয়ে নিয়ে গেছে কারণ চেহারা দেখলে এই জিনিষ কেউ টাকা দিয়ে কিনবে না।

কিছুদিন আগে পুলিশ ঢাকা শহরের প্রত্যেকটা বাসার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। আমরা হিটলারের আমলে ফ্যাশিজমের যে নমুনা দেখসি, আমাদের এই নব্য ফ্যাশিজম সোশ্যাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোন, সিসি ক্যাম, সেল টাওয়ার, স্যাটেলাই সারভেইল্যান্স, ইত্যাদির কারণে এখন হবে আগের থেকে হাজার গুণ বেশি ভয়ংকর। ইতিমধ্যেই আওয়ামীলীগ মিডিয়াকে সম্পূর্ণ কন্ট্রোল করে ফেলসে এবং কাউকে চাকরি দেয়ার আগে আওয়ামী এজেন্টরা সবার সোশ্যাল মিডিয়া চেক করে দেখা শুরু করসে। অনেকেরই ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে চাকরি যাচ্ছে। এবার কি কিছু বুঝতে পারছেন যে এদেরকে ঠেকানো কতটা জরুরি? যদি না বুঝে থাকেন তাহলে আমার কোন লেখা কক্ষনো পড়বেন না কারণ আপনি সম্ভবত মানুষই না। সম্ভবত আপনি একজন সউলবিহীন বট যে দেখতে মানুষের মতই, কিন্তু ভিতরে আসলে ফোঁপরা – আপনার কোন বিবেক, মানবতা, মূল্যবোধ, এই ধরণের কোন মানবিক কোয়ালিটি নাই। হয়ত আপনি জিএমও খাবার আর ফ্লোরিডেটেড পানি খেতে খেতে একজন পারফেক্ট জম্বি স্লেভ হয়ে গেছেন যার দুইটা টাকা কামাই করতে পারলে আর কিচ্ছু লাগেনা। 

সূর্য আমাকে বলে আমার লেখার মধ্যে অনেক রাগ ভরা। আমি বলি যে এইরকম ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যে থেকে যে রাগ করেনা সে তো মানুষই না। রাগ তো মানুষের খুব প্রয়োজনীয় একটা হাতিয়ার। রাগ না থাকলে তো মানব জাতি ধ্বংস হয়ে যেত অনেক আগেই। রাগ দিয়েই তো আমি বুঝতে পারি কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। ব্রয়লার মুরগির কোন রাগ নাই। এইজন্যই তো আমরা ওদের খাঁচায় ভরে দিব্যি পেলে-পুষে খাই। এখন অবস্থা এমন দাড়াইছে যে মানুষ আর মুর্গীর মধ্যে কোন তফাৎ করা যাচ্ছে না। দুটা গান শুনতে গেলেও এখন আওয়ামী লীগের পসচাদ্দেশে তেল মেরে তবে যেতে পারবো। এই হল আমাদের উন্নতির নমুনা। এই হল এই জাতির বুদ্ধির পরাকাষ্ঠা। ধন্য বাঙালি জাতি। তোমরা রেজিস্ট্রেশনের জগতে এক নতুন রেভলুশনারি দিগন্তের সূচনা কর। এই কামনায় শেষ করি।  

পুনশ্চঃ অ্যাসাঞ্জ, স্নোডেন, চেলসি/ব্র্যাডলি্যানিং, কেন ও' কীফ, রন প, বারনি স্যান্ডারস, অ্যালেক্স জোনস, জেফ রেন্স, ডেভিড আইক, এইসব ব্যক্তিবর্গের বদৌলতে অ্যামেরিকার জনগণ এখন তাদের সরকারি দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য বদ্ধপরিকর। ীরে ীরে অ্যামেরিকার জনগোষ্ঠী কিন্তু জেগে উছে এবওদের সরকারি, ব্যাংকিং, কর্পোরেট, আর মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল-কমপ্লেক্সের দুর্নীতি কিন্তু ক্রমাগত বের হয়ে আসছে, যে কারণে ওদের সিক্রেট গভঃ এর প্রথম চয়েস হিলারি হওয়া সত্ত্বেও সে ভোটে হেরে গেছে। তবে কেউ যদি মনে করে যে এতে ্লোবাল কাবালের বিশাল হার হয়েছে এবট্রাম্পের পিছনে ওদের কোন চাবি লাগানো নাই, তাইলে সে খুব নাআমাদের দেশেও এই জাগরণ, আর সরকারি দুর্নীতি নির্মূলের দিকে ফোকাস না করে অন্ কিছু করা অবান্তর ময় অপচয় ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই সহজ চিন্তাটা গীর মগোলাই আর টাকার লোভের কারণে কিছুতেই পাবলিকের সাইকিতে ঢুকানো যাচ্ছেনা। বেীর ভাগ মানুষই এখনও আমাদের কথা োটেও পাত্তা না দিয়ে মেইন্সট্রিমের "পারসেশন বা রিয়ালিটি্যানেজমেন্ট" হুক-লাইন-অ্যান্ড-সিঙ্কার গিলে যাচ্ছে। এই হিপ্নোসিস ভেঙ্গে আমাদের বের হয়ে আসতে পারতে হবে। ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment