Saturday, November 12, 2016

independence of bangladesh - blog in bengali


বাংলাদেশ কি এখনও স্বাধীন?


কালকে উত্তরার দিয়াবাড়ি যেতে যেতে রাস্তায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। দূরে দেখা গেল বিরাট বিরাট সব ডেভেলপমেন্ট, বাতি টাতি জ্বলা, একাকার কান্ড। আন্দাজ করলাম দুর্নীতিবাজ আওয়ামীলীগের কোন পুলিশ বা মিলিটারি প্রজেক্ট হবে। আমরা বেকার ঘোরাঘুরি করতে করতে একটা ব্রিজ দেখে সেখানে গিয়ে দাঁড়ালাম। ওখানে অনেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাওয়ার তো তেমন কোন জায়গা নাই, দেখার মতও কিছু নাই। কয়টা বাদাম কিনে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই শুনলাম বাঁশির আওয়াজ। শুনেই বুঝলাম যে ঝামেলা হ্যাজ। কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখি হ্যাঁ ঝাড়ির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তার মিনিট খানেক আগে এক সিএঞ্জিওয়ালাকে দেখলাম ক্যামোফ্লাজ পরা বন্দুক হাতে এক দৈত্যাকার গার্ডের কাছে ব্রিজের উপরে থামার জন্য বকা খেতে। এখন বাঁশির আওয়াজ কেউ পাত্তা না দেয়াতে ধমক দিয়ে ঠেলে সবাইকে ব্রিজ থেকে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে। আগুনটা মাথায় চড়তে দেইনা আজকাল। ভেড়ার সাথে থাকতে থাকতে আমিও ভেড়া প্রায় হয়েই গেছি, এই সময় দেখি দুই ইয়াং ম্যান বেশ ধমকের স্বরে গার্ডদেরকে সরে যেতে বলছে। মজা পেয়ে একটু আগ বাড়ালাম। তর্কাতর্কি আস্তে আস্তে বাড়ছে। ছেলেদুটা এখন বেশ উচ্চস্বরে গার্ডদেরকে ধমকাচ্ছে এই বলে আপনে কে যে আমার আপনাকে আইডি কার্ড দেখাতে হবে? ইত্যাদি। গার্ডদের একজন এই পর্যায়ে লোকটাকে গায়ে ধরে সরানোর চেষ্টা করা শুরু করল, কিন্তু সে প্রচণ্ড ক্ষেপে গিয়ে বললঃ আপনে দ্যাখেননি যে একটু আগে আপনের বসের সাথে আমি একসাথে ছবি তুললাম? আপনে যান সাধারণ পাবলিকরে গিয়া ধরেন। ততক্ষনে বেশ কিছু লোক জমে গেছে। আমার ইচ্ছা ছিল ওদেরকে একটা লেকচার দেয়ার কিন্তু এই বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই ভাবলাম থাক, ব্লগেই লিখব।

চরম দুর্নীতিবাজ আওয়ামী রেজিম আর র মিলে পুলিশ, মিলিটারি, র‍্যাব, আর আমলাদের তেল মেরে হাত করে ফেলাতে দেশে এখন বিএনপি-জামাত বা অন্য কেউই রাস্তায় শান্তিতে চলাফেরা পর্যন্ত করতে পারছে না। দেশ এখন পুরাপুরি এদের হাতে জিম্মি অথচ এ নিয়ে টুঁ শব্দ করলে মানুষের চাকরি চলে যাচ্ছে প্লাস জান নিয়ে টানাটানি। আমি যে ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ানদের পৃথিবী কন্ট্রোল করার কথা বলি, ওরা এক্সাক্টলি এইরকম ভেড়া-মুর্গীর মত মানুষকে কন্ট্রোল করতে চায়, ফ্যাশিস্ট আওয়ামীলীগ যা অলরেডি শুরু করে দিসে। ইংরাজিতে “ড্রেকোনিয়ান” বলে তো একটা শব্দই আছে যেটা এইখান থেকেই উৎপত্তি। রাস্তায় বের হলেই ইউনিফর্ম পরা কেউনা কেউ ডাইনে-যা, বামে-হাঁট, ওইদিক-যাবিনা, এইদিক-ঘুর, এইসব শুরু করে দেয়। অথচ আমার মনে আছে অ্যামেরিকায় আমার ক্যাম্যারো জি-২৮ গাড়িটা যখন চালাতাম, ঐ গাড়ি পুলিশের চোখের বালি ছিল। একদিন রাতের বেলা দেখি যে এক পুলিশের গাড়ি আমাকে নিঃশব্দে ফলো করতেছে। আমি তো পুরাই নার্ভাস কারণ তখন আমি খুবই স্পিডিং করতাম আর টিকিট খাইতাম। তো হঠাত একটা বড় টার্ন নেয়ার সময় ওর বাত্তি জ্বলে উঠল, আমি গাড়ি থামালাম। পরে পুলিশ আমাকে এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করলে যে তুমি কি বুঝতে পারসো কেন তোমাকে থামাইছি? আমি বললামঃ না। ও বললঃ টার্ন করার সময় সাদা দাগের উপরে তোমার চাকা উঠে গেছলো। এটা নিশ্চয়ই আমি নার্ভাস হওয়ার কারণে হইসে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হল, কোন কারণ ছাড়া ওর আমাকে থামতে বলার কোন অধিকার ছিল না। এই স্বাধীনতা আমাদের কাছে থেকে কেউ কোনদিন কাড়তে পারেনা কারণ এগুলা আমাদের আনএলিয়েনেবল রাইটস। এটা যে মানবে না সে দেশের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রাখেনা।

ঢাকার রাস্তায় দুইচার মিনিট পরপর ব্যারিকেড দেয়া দেখলে মেজাজটা আগুন হয়ে যায় যে একটা বাঙ্গালিরও এইসব নিয়ে প্রতিবাদ করার মত কমন সেন্স নাই, বরং উলটে মেট্রিক্সের এজেন্ট স্মিথের মত আপনাকেই বুঝাবে যে এই দাসত্বটাই নাকি আমাদের দরকার। সেদিন মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের ছেলেটা বলল দেশে এখন আওয়ামী কর্মীর সংখ্যা ৫৬ লাখ না কত যেন। ওর যুক্তি ছিল যে এর মধ্যে ১ লাখ দুষ্টু লোক থাকতেই পারে। আসলে কি তাই? সেদিন ফেসবুকে পরিচিত এক ছেলে দেখা করার জন্য বাসায় আসছিল। তার মুখে শুনলাম গোপালগঞ্জের কোটাবাড়ি থানায় জন্মানোর মাহাত্ম্য। ছেলেটা কোন রাজনীতি করেনা কিন্তু তার এক বন্ধু একবার লীগদ্বারা আক্রান্ত হওয়ায় তাকে গোপালগঞ্জ কার্ডটা খেলতে হইছে। কি জঘন্ন এইসব নোংরামি অথচ দেশের মানুষ মনে করে এটাই ঠিক। মানুষ নাকি সুযোগের অভাবে দুর্নীতি করেনা। এটা আপনারা অনেকেই বিশ্বাস করেন। কিন্তু আপনারা যেটা বুঝতে পারেন না বা বুঝতে চান না, সেটা হল আমাদের একটা অদৃশ্য শত্রু আছে যারা আমাদেরকে আমাদের নৈতিকতা ধ্বংস করতে বাধ্য করে কারণ দুর্নীতি ছাড়া এরা কাউকে শোষণ করতে পারবে না। আমি জানি আমি কাউকে ঠকাতে চাই না। আমি চাই আমার আশেপাশে কোন গরীব লোক না থাকুক। এখানে দুর্নীতির প্রশ্ন আসবে কেন? তারপরও প্রশ্নটা আসে কারণ আমাদের ঐ অদৃশ্য শত্রু। আমার এই ব্লগ লেখা, ভিডিও করা, ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ানদের বিষয়ে রিসার্চ করা, যা কিছু আমি বলি করি আজকাল, সব কিছু একটাই মেসেজ দেওয়ার জন্য – আমাদের অদৃশ্য শত্রু সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল হোক। সবাই মগজ ধোলাই থেকে বের হয়ে বুঝতে শিখুক একটা নতুন ব্যাপার আছে জানার। কিন্তু সমস্যা হল যে মাল্টিজেনারেশনাল ব্রেইনওয়াশ ভেঙ্গে বের হয়ে সত্য চিনতে পারা কিন্তু এত সহজ নয়। আপনারা ৯৯% মানুষ এখনও পারেননি। এটাই সত্য। কিন্তু আমি জানি যে আমার লেখা যে পড়তে পারে, যে এই পর্যন্ত পড়ে আসছে, তার ভিতরে চিন্তার পরিবর্তন আসা শুরু হয়ে গেছে।

এই পর্যন্ত লিখে সূর্যর কাছে পাঠাইছিলাম এই লেখাটা, যে আমার অ্যান্টি-আওয়ামী ফ্লেয়ারটা এডিট করে দিতে, কিন্তু কাজ হলনা। আমরা একটা আলোচনায় ঢুকে গেলাম যে সিস্টেমটাই এমনভাবে তৈরি যাতে দুর্নীতি করা যায় এবং শুধু তাই না, অবস্থা এমন দাঁড়াইসে যে দুর্নীতি না করলে আপনার অফ যাইতে হবে। যেখানে পুরা সিস্টেমটাই দুর্নীতির উপর চলে সেখানে দুইচারজন নৈতিক ব্যক্তি থাকলেই ঝামেলা। সূর্য বলল যে আওয়ামী লীগ করে ইন্টেলিজেন্ট লোকেরা, আর শিক্ষিত বুদ্ধিমান মানুষ যখন খারাপ কাজ করে, তখন সেটা সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষদের শিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান কোনটাই মনে করিনা, কারণ আমরা যে লেভেলে ধরা খাওয়া একটা জাতি, তাতে এই দেশে সত্যিকার বুদ্ধিমান কেউ নাই বললেই চলে। তবে হ্যাঁ, এইদেশে চালাকের অভাব নাই। চালাক লোক খুব দ্রুত “সিস্টেম” বুঝে ফেলে এবং নিজের নৈতিকতা দ্রুত বিক্রি করে দেয়। বাংলাদেশে রয়ের ক্ষমতা এতই বেশি এখন যে নীতিবান কেউ আর কোন উচ্চপর্যায়ে যেতেই পারবেনা। গভীর একটা ডার্ক এজেন্ডা এখন বাংলাদেশে খুব দ্রুত আগাচ্ছে আর এর খুব ভাল প্রমাণ হল ভারতের তিনটা যুদ্ধ জাহাজের বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ভিতরে অবস্থান। কেউ জানেনা এরা কেন ঢুকসে, কারা এই পারমিশন দিসে, এবং কি কারণে। আওয়ামী সরকার যেন ভারতের সক-পাপেট।

বাংলাদেশে পুলিশ আর মিলিটারির এখন স্বর্ণযুগ চলতেছে। যেখানে যত জায়গা জমি আছে বা না থাকলে নদী খাল বিল ভরাট করে, মেরে কেটে যেভাবে হোক জবর দখল করে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক নগর-পল্লী যেখানে শুধু মিলিটারি, পুলিশ-অফিসার, আর আওয়ামী “এলিট”, বা যাদের কাছে টাকা খোলামকুচির মত, তারাই থাকতে পারবে। এই গ্রুপগুলাকে খুশি করে আওয়ামী সরকার গদি হাইজ্যাক করে রাখসে কারণ জনগণের আওয়ামী লীগের উপরে কোন সাপোর্ট না থাকলেও কিছু আসে যায়না, কাউকে তো আন্দোলন করতে দেয়া হচ্ছেনা। ইভেন ফেসবুকে আওয়ামী সরকারের নিন্দা করতে সাধারণ মানুষ সাহস পায়না যেহেতু দেশে আইনের শাসন বলে কিছুই আর অবশিষ্ট নাই। যাকে যখন খুশি ইচ্ছা এরা ধরে নিয়ে যেতে পারে – সাথে সাথে শুরু হবে আপনার ফোন করা আর টাকার শ্রাদ্ধ। এমনকি এখন হাজত আর জেলখানায় এমন সিস্টেম করা আছে যে আপনি কারও সাথে যোগাযোগ ও করতে পারবেন না যদি ওরা আপনার টাকা আর সেলফোন দুইটাই নিয়ে নেয়, যেটা ওদের সিস্টেম। সেলফোন নিয়ে গেলে কারও নাম্বার মুখস্ত না থাকলে আপনি টাকা দিয়েও ফোন করতে পারবেন না। কাজেই আপনার অপশন অনেক কমে যাচ্ছে। আবার অন্যদিকে যাদের ঢেল টাকা আর কানেকশন আছে, তারা কোন কিছুর পরোয়া না করে, জেলের মধ্যে রাজার হালে চর্ব্যচোষ্য খেয়ে ফুর্তি করে, সবাইকে কলা দেখায়ে পরের দিন জামিনে বের হয়ে যেতে পারে। এই জিনিষ আমার স্বচক্ষে দেখা। জেলের ভিতরে সবাই টাকার কাঙ্গাল। শুধু আপনার ভাব নিতে জানতে হবে যে আপনার টাকার কোন অভাব নাই। দেখবেন আপনার পা টেপার লোকেরও অভাব হবে না। 

ূর্য সেদিনধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের ছেলটাকে াইরেক্ট জিজ্ঞাসা করসিলআপনি কেন ছাত্রলীগ করেন? ছেলেটা বলসিলঃ আমি শেখ মুজিবকে ভালবাসি বলে ছাত্রলীগ করি। আজকে সূর্য আমাকে বলতেছেঃ ঐ সময়ে ছেলেটাকে ঠাস করে একটা চড় মারা উচিছিল। ব্যাপারটা নিয়ে আমি আসলে চিন্তাই করিনি এর আগে। ূর্যর চিন্তাভাবনা আমার থেকে অনেক অ্যাভান্সড। আসলে তো ছেলে মুজিবের ইতিহাসজানেনা। জানলে ঐ কথা বলতই না। আসলে কয়জন মুজিবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে লীগ করে? সেই আদর্শটাই বা কি? এইসব ণ্ডামি আমরা আর কতদিন গিলব এবং গেলাবো?

তো তাইলে আমরা কি শিখলাম? আমাদের পয়েন্টটা কি? পয়েন্ট হল দেশের অবস্থা ভয়াবহ এবং আমরা খুব সম্ভবত ভারতের কাছে আমাদের স্বাধীনতা হারায়ে ফেলসি বা অচিরেই হারাতে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে লুটপাট করে শুধু নিজেদের আখের গুছানোর জন্য প্যারাডাইস তৈরি করতেছে দেশে যেটা আমরা সাধারণ জনতা হাঁ করে দেখতেছি। এরপর আমাদের আত্মীয়-স্বজনরাই মারমার কাটকাট করে ঐসব পশ এলাকায় থাকতে পেরে গর্বে মরে যাবে। দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়বে। অল্প কিছু সুবিধাবাদী লোক খুব মহাসুখে থাকবে, আর তাদের আনন্দ ফুর্তির খরচ জোগাবে দেশের কৃতদাস আমজনতা যারা মেইনস্ট্রিমের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, আর সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার জাতীয় খুচরা আওয়ামী ফাঁপর নিয়ে আন্দোলন করতে করতে পায়ের ঘাম মাথায় তুলে ফেলবে।

Wednesday, November 9, 2016

folk fest registration - blog in bengali



বাপ্পিরা খুব বলসিল ফোকফেস্টে যাওয়ার রেজিস্ট্রেশন করতে, করিনাই। তখন ব্যাপারটা খেয়াল করিনি। বাপ্পি খুব বিরক্ত টিরক্ত হল। পরে সূর্যের সাথে রিকশায় আবার ক্লাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টের রেজিস্ট্রেশনের কথা উঠল, তখন হঠাত আমার মাথায় টনক নড়ল যে আরে ব্যাপারটা কি? এত ঘণ্টায় ঘণ্টায় রেজিস্ট্রেশন করার হুপের মধ্যে দিয়ে লাফ দিতে হবে কিসের জন্য? আমরা কি সার্কাসের বাঘ নাকি? হচ্ছেটা কি? যথারীতি মাথায় একটা ডাউনলোড আসল আর বুঝতে পারলাম ও আচ্ছা বেশ, ঐযে দাসত্বের বেড়ি আজকাল নিজের গলায় নিজেই পরাতে হচ্ছে, আর আমাদের বোকা বাঙালি জনতা হুড়মুড় করে গিয়ে কে কার আগে নিজের হাতে পায়ে বেড়ি দিবে তার কম্পিটিশন লাগাইছে। তোমরা বাচ্চারা কবে বুঝবা যে আমরা সকাল বিকাল কি কইতেছি? আবার শোনো মনোযোগ দিয়ে।

আমরা বহু বছর ধরে বলে আসতেছি যে আইসিস একটা সিয়াইএ ক্রিয়েশন। সউদি গভঃ মানে সাউদ ফ্যামিলি আসলে রথসচাইল্ড বা তাদের অনুরক্ত। মিডলইস্টের বেশীর ভাগ তেলওয়ালা দেশের সরকার সিয়াইয়ের পাপেট। এরা ওয়াহাবিজমের মাধ্যমে একটা ভুয়া ইসলাম পৃথিবীতে প্রচার করে এক ধরণের জঙ্গিবাদ তৈরি করে মিডিয়ার মাধ্যমে পাবলিককে মগজ ধোলাই দিয়ে ভয় দেখায় – এইটুকু পর্যন্ত এখন নাস্তিক-ব্লগাররা ছাড়া সবাই বুঝতে পারসে। ঠিক তো? এটারই কন্টিনিউয়েশন হল আমাদের জামাত-শিবির ওলামালীগ এবং এই জাতীয় আরও যে ৪৭টা মৌলবাদী দল আছে তাদের বেশীর ভাগই যে সিয়াইএ-মসাদ-রয়ের ফান্ড করা এটা বুঝতে বেশি মগজ লাগে না। আর এখন তো উইকিলিক্সের সহায়তায় হিলারি ক্লিন্টনের ইমেইলেই ্বচক্ষে দেখতে পাইছি যে আইসিসকে অ্যামেরিকা টাকা পাঠায়।

ভার্সিটিতে পড়লে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম, শিবির, ইত্যাদি গ্রুপ থেকে নতুন ব্যাচের ছাত্রদের রিক্রুট করা হয়, এটা সবার জানা। কাজেই এদের মধ্যে থেকে ৫/৬ জন আচমকা গিয়ে গুলশানের একটা পশ রেস্টুরেন্টে হামলা করবে – এটা হতেই পারে, তাইনা? হ্যাঁ, এইখানেই মগজধোলাইয়ের খেল। এটাকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্যই তো বছরের পর বছর সৌদি-রথসচাইল্ড গভঃ বিভিন্ন “গরীব” দেশে এত টাকা পাঠায় “মসজিদ” আর “মাদ্রাসা” বানানোর জন্য। দেশে জানি কয় হাজার এঞ্জিও আছে? এরা জানি কি সব উপকার করে যাচ্ছে আমাদের? রিয়ালি? কেউ জানে আসলে এরা কি করে? ডিজিএফাইয়ের কোন বাৎসরিক রিপোর্ট কেউ কোনদিন দেখসেন? চিন্তা করসেন ব্যাপারটা নিয়ে যে এগুলা কিসের ফ্রন্ট অরগানাইজেশন?

তো জঙ্গিবাদের সাথে ফোক ফেস্ট রেজিস্ত্রেশনের সম্পর্ক কি? এখনও বোঝা যায়নি? আচ্ছা আরও ক্লিয়ার করি। উপরে বর্ণিত ভুয়া জঙ্গিবাদের জুজু দিয়ে মগজধোলাইয়ের পরবর্তী ফলোআপ হল গিয়ে এই রেজিস্ট্রেশন – আমাদের “নিরাপত্তার” জন্য!!! মনে আছে “হোমল্যান্ড সিকুরিটি”? /১১ এর ঘটনার পর অ্যামেরিকানদের হিউম্যান রাইটসের বারোটা বাজায়ে দিসে ওদের গভঃ এই “ন্যাশনাল বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি” জুজু দেখায়ে – অথচ এখন আমরা সবাই জানি যে অ্যামেরিকার সরকার নিজেই টুইন টাওয়ার ধ্বংসের জন্য দায়ী। আস্তে আস্তে কি পরিষ্কার হচ্ছে যে আমাদের জীবন নাটকের আসল ভিলেন কে এবং কার থেকে আমাদের নিরাপত্তা আসলে দরকার?

কিছুদিন আগে সবাইকে ফোনের সিম রেজিস্ট্রেশন করতে বাধ্য করা হয়েছে। এটাও কুকুরের গলায় চেন পরানো ছাড়া আর কিছুই না। সর্বক্ষেত্রে এই রেজিস্ট্রেশনের অর্থ হল যে সরকার আয়রন-হ্যান্ড দিয়ে মানুষকে চিড়িয়াখানার জানোয়ারদের মত কন্ট্রোল করতেছে। এখানে কয়েকটা বিষয় আছে খেয়াল করার মত। যেমন, এই ফোকফেস্টের মত প্রোগ্রামগুলা বিশাল সরকারি বাজেটে হচ্ছে – অর্থাৎ জনগণ আগেই ঐ টাকা প্রদান করেছে, কিন্তু সেই টাকার ফসল শুধু তারাই পাবে যারা সরকারের হুকুম মেনে রেজিস্ট্রেশন করবে। এই ধরণের প্রোগ্রাম অ্যারেঞ্জ করার টেন্ডার নিশ্চয়ই কোন বিএনপি, জামাত, বা অন্য কোন দল বা কেউ কখনও পাবেনা কারণ আমরা সবাই খুব ভালবাভাবেই জানি যে আওয়ামী লীগ চরম প্রকারের দলীয়করণ এবং দলকানামিতে বিশ্বাস করে। এবং সেটা এতটাই যে এরা দেশ থেকে বিএনপি-জামাতকে মেরে ধরে ঠাণ্ডা করে ফেলসে। দেশে এখন চলছে চরম ফ্যাশিজম যেখানে বিএনপি-জামাত বা কেউই আর কোন আন্দোলন করতে পারছে না। আমাদের ট্যাক্স, টোল, ভ্যাট, ইউটিলিটি বিল, ভাতা, ঘুষ, জিনিষপত্রের দাম, ইত্যাদি আওয়ামী এক্সপ্লয়টেশনের কারণে চরমভাবে বেড়ে গিয়ে দেশে এখন নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে। এই গত কালকেই মধুর ক্যান্টিনের মত সস্তা জায়গায় ৫০ টাকা দিয়ে যে রসগোল্লা খেলাম, তার সাইজ দেখে অনেকক্ষণ তাকায়ে থাকলাম। এইজন্যই ওরা খাবার দেয়ার আগেই টাকা চেয়ে নিয়ে গেছে কারণ চেহারা দেখলে এই জিনিষ কেউ টাকা দিয়ে কিনবে না।

কিছুদিন আগে পুলিশ ঢাকা শহরের প্রত্যেকটা বাসার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। আমরা হিটলারের আমলে ফ্যাশিজমের যে নমুনা দেখসি, আমাদের এই নব্য ফ্যাশিজম সোশ্যাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোন, সিসি ক্যাম, সেল টাওয়ার, স্যাটেলাই সারভেইল্যান্স, ইত্যাদির কারণে এখন হবে আগের থেকে হাজার গুণ বেশি ভয়ংকর। ইতিমধ্যেই আওয়ামীলীগ মিডিয়াকে সম্পূর্ণ কন্ট্রোল করে ফেলসে এবং কাউকে চাকরি দেয়ার আগে আওয়ামী এজেন্টরা সবার সোশ্যাল মিডিয়া চেক করে দেখা শুরু করসে। অনেকেরই ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে চাকরি যাচ্ছে। এবার কি কিছু বুঝতে পারছেন যে এদেরকে ঠেকানো কতটা জরুরি? যদি না বুঝে থাকেন তাহলে আমার কোন লেখা কক্ষনো পড়বেন না কারণ আপনি সম্ভবত মানুষই না। সম্ভবত আপনি একজন সউলবিহীন বট যে দেখতে মানুষের মতই, কিন্তু ভিতরে আসলে ফোঁপরা – আপনার কোন বিবেক, মানবতা, মূল্যবোধ, এই ধরণের কোন মানবিক কোয়ালিটি নাই। হয়ত আপনি জিএমও খাবার আর ফ্লোরিডেটেড পানি খেতে খেতে একজন পারফেক্ট জম্বি স্লেভ হয়ে গেছেন যার দুইটা টাকা কামাই করতে পারলে আর কিচ্ছু লাগেনা। 

সূর্য আমাকে বলে আমার লেখার মধ্যে অনেক রাগ ভরা। আমি বলি যে এইরকম ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যে থেকে যে রাগ করেনা সে তো মানুষই না। রাগ তো মানুষের খুব প্রয়োজনীয় একটা হাতিয়ার। রাগ না থাকলে তো মানব জাতি ধ্বংস হয়ে যেত অনেক আগেই। রাগ দিয়েই তো আমি বুঝতে পারি কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। ব্রয়লার মুরগির কোন রাগ নাই। এইজন্যই তো আমরা ওদের খাঁচায় ভরে দিব্যি পেলে-পুষে খাই। এখন অবস্থা এমন দাড়াইছে যে মানুষ আর মুর্গীর মধ্যে কোন তফাৎ করা যাচ্ছে না। দুটা গান শুনতে গেলেও এখন আওয়ামী লীগের পসচাদ্দেশে তেল মেরে তবে যেতে পারবো। এই হল আমাদের উন্নতির নমুনা। এই হল এই জাতির বুদ্ধির পরাকাষ্ঠা। ধন্য বাঙালি জাতি। তোমরা রেজিস্ট্রেশনের জগতে এক নতুন রেভলুশনারি দিগন্তের সূচনা কর। এই কামনায় শেষ করি।  

পুনশ্চঃ অ্যাসাঞ্জ, স্নোডেন, চেলসি/ব্র্যাডলি্যানিং, কেন ও' কীফ, রন প, বারনি স্যান্ডারস, অ্যালেক্স জোনস, জেফ রেন্স, ডেভিড আইক, এইসব ব্যক্তিবর্গের বদৌলতে অ্যামেরিকার জনগণ এখন তাদের সরকারি দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য বদ্ধপরিকর। ীরে ীরে অ্যামেরিকার জনগোষ্ঠী কিন্তু জেগে উছে এবওদের সরকারি, ব্যাংকিং, কর্পোরেট, আর মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল-কমপ্লেক্সের দুর্নীতি কিন্তু ক্রমাগত বের হয়ে আসছে, যে কারণে ওদের সিক্রেট গভঃ এর প্রথম চয়েস হিলারি হওয়া সত্ত্বেও সে ভোটে হেরে গেছে। তবে কেউ যদি মনে করে যে এতে ্লোবাল কাবালের বিশাল হার হয়েছে এবট্রাম্পের পিছনে ওদের কোন চাবি লাগানো নাই, তাইলে সে খুব নাআমাদের দেশেও এই জাগরণ, আর সরকারি দুর্নীতি নির্মূলের দিকে ফোকাস না করে অন্ কিছু করা অবান্তর ময় অপচয় ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই সহজ চিন্তাটা গীর মগোলাই আর টাকার লোভের কারণে কিছুতেই পাবলিকের সাইকিতে ঢুকানো যাচ্ছেনা। বেীর ভাগ মানুষই এখনও আমাদের কথা োটেও পাত্তা না দিয়ে মেইন্সট্রিমের "পারসেশন বা রিয়ালিটি্যানেজমেন্ট" হুক-লাইন-অ্যান্ড-সিঙ্কার গিলে যাচ্ছে। এই হিপ্নোসিস ভেঙ্গে আমাদের বের হয়ে আসতে পারতে হবে। ধন্যবাদ।