Thursday, October 6, 2016

dinosaur bones - blog in bengali


ডাইনোসরের হাড্ডি


হঠাত করেই মাথায় আসলো সেদিন যে ড্রেকো বা রেপ্টিলিয়ানদের কোন হাড্ডিগুড্ডি ইত্যাদি কেন পাওয়া যায়না। এরা তো বহু বছর ধরেই পৃথিবীতে আছে। কোন টেলিপ্যাথিক গাইড্যান্স কিনা জানিনা, মাথায় ঠাস করে একটা বাত্তি জ্বলে উঠল যে ড্রেকোদের একটা সহজ টেকনিক হল "প্রকাশ্য দিবালোকে লুকিয়ে রাখা" যেটাকে ইংলিশে বলে হিডেন ইন প্লেইন সাইট। আর ড্রেকোদের হাড্ডির ব্যাপারেও ওরা একই কাণ্ড করে বসে আছে। কেমনে? এইখানেই আমার জিনিয়াসটা কিক ইন করলো যে আমরা মোটামুটি জানি (কেউ কেউ জানি, কিন্তু ঠিক কিভাবে, তা মনে নাই) যে আমাদের তথাকথিত "বিজ্ঞানীরা" বেশ কিছু "ডাইনোসর" "ইনভেন্ট" করেছে ভুল হাড্ডিগুড্ডি অ্যারেঞ্জ করে, অর্থাৎ ওনারা যা বলছেন ঐসব প্রাণী আসলে কোনদিনই ছিলনা, ইনারা তাদের মনের মাধুরি মিশায়ে...। জুরাসিক পার্ক মুভিতে টি-রেক্সের খুদে খুদে হাত আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। এই খুদে হাত নিয়ে কত জল্পনা কল্পনাই না আছে! আসল সত্য হল--যদিও এই পর্যায়ে এটা স্রেফ আমার ধারণা--যে এইসব কাল্পনিক ডাইনোসর আসলে বানোয়াট মগজধোলাই যেটা দিয়ে ঐ বিশেষ কাজটাই সম্পন্ন করা হয়েছেঃ ড্রেকোদের অস্তিত্ব আমাদের কাছে থেকে লুকানো। চিন্তা করতে পারেন? এই হাড্ডিগুলা আসলে কোন ডাইনোসরেরই না! এগুলা ড্রেকোদের হাড্ডি! অসম্ভব? আমি মনে করিনা।

তো কালকে নাবিল বলল যে এই আইডিয়াটা যে একবার আমার মাথায় ঢুকল, আর তো বের হবেনা--কথা ঠিক--আমার চিন্তাটা ভুলও হতে পারে। কিন্তু বহুদিন যাবত ড্রেকোদের নিয়ে গবেষণা করতে করতে একটা ইন্টুইশন তৈরি হয়ে গেছে। এখন অনেক সহজেই "ডট কানেক্ট" করতে পারি। ব্যাপার হল যে এই বিষয়টা রিসার্চ করার এক্সপারটিজ তো আমার নাই। খতিয়ে দেখতে হলে অনেক সময় লাগবে। তারপরও ব্যাপারটা আমাদের কনশাসনেসে থাকা কোন সমস্যা না, কারণ প্রচুর লোক এদেরকে সামনা সামনি দেখেছে বলে দাবী করে। হিটলারের নাৎসিদের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রেপ্টিলিয়ানদের ট্রিটি ছিল, এইসব তথ্য ক্রমাগত বের হয়ে আসছে। কাজেই আমার হাইপোথিসিস ভুল হলেও কিছু যায় আসেনা। বাট নাবিলকে সেটা বুঝাবে কেডা? এই গংএর এক্সপারটিজ একটাইঃ পিত্তি জ্বালানো ডায়ালগ একখান মেরে দিয়ে খিক খিক করে হেসে নিজেকে খুব পণ্ডিত ভাবা! কিছু করার নাই। এই মাল নিয়েই জীবন পার হয়ে গেল।

আমার আজকের ব্লগের মূলমন্ত্র হলঃ দেয়ার আর নো কোইন্সিডেন্সেস, পৃথিবীতে কাকতালীয়ভাবে কোন ঘটনা ঘটেনা। যা ঘটে, তার পিছনে কারও না কারও হাত থাকে। এই আইডিয়াটাই আজকে আপনাদের মাথায় ঢুকানোর চেষ্টা করবো কারণ আমাদের "জাগরণের" একটা প্রধান বিষয়বস্তু হচ্ছে এই সত্য যে মানবতার একটা লুকানো শত্রু আছে। এই শত্রু এই পৃথিবীর ইন্ডিজেনাস কেউ নয়, এরা বাইরে থেকে এসেছে এবং উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। এরা মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান বা অ্যাডভান্সড। যে কারণে অনেক সহজে আমাদের চোখে ধুলা দিয়ে, আমাদেরকে মগজধোলাই দিয়ে বোকা বানায়ে রেখে আমাদের মাথার উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে অথচ আমরা এদের অস্তিত্ব সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল না। মানুষকে যে এই পর্যায়ে বোকা বানানো সম্ভব সেটাই তো আপনারা বিশ্বাস করতে চান না। সেই জন্য, আপনাদের চোখ খুলে দেয়াটাই আমাদের মিশন। আপনাদের শুধু একটু খেয়াল করে শুনতে হবে, আর ধৈর্য ধরে ঠাণ্ডা মাথায় যাচাই করে দেখতে হবে যে আমাদের কথা সত্যি কিনা। গত ৫/৭ বছর চেষ্টা করার পর এখন অনেকেই বুঝতে পারছে যে আমাদের কথার মধ্যে সত্যতা আছে। একটু মনোযোগ দিলে আপনিও বুঝতে পারবেন, এবং এই বুঝতে পারাটা মানবতার টিকে থাকার জন্য খুব জরুরি।

প্রথমে আসি আমাদের দেশের দারিদ্র্য ব্যাপারটায়। এটা নকল এবং সাজানো। আমরা সবাই জানি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে বঙ্গে এসে আমাদের সর্বস্ব লুট করে। পরে সেই সম্পদ দিয়েই ওরা পুরা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট দখল করে ২০০ এর বেশি বছর ধরে লুটপাট করে। এরপর এরা চলে গেলেও যেটা রয়ে যায় সেটা হল ওদের এক্সপ্লয়টেশন মেশিন -- যেটাকে আমরা বলি সরকার ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং। যদিও এখন আমাদের দেশের লোক দিয়েই আমাদের সরকারি ব্যবস্থা চলে বলে আমরা মনে করি যে আমরা স্বাধীন জাতি কিন্তু আসলে এটা একটা মগজধোলাই। এই বিষয়টা এখন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মোদী-হাসিনার ঘেঁষাঘেঁষি, বিরোধী দল উৎপাটন, সব রকমের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করন, জনগণের গলা টিপে ধরে ট্যাক্সের বোঝা চাপানো, জিনিষপত্রের লাগামহীন দাম বাড়ানো, ভূমি লুণ্ঠন, ইত্যাদির কারণে দিনের আলোর মতই পরিষ্কার। আমাদের সরকারকে নিয়ন্ত্রন করে ভারতের তথাকথিত গোয়েন্দা সংস্থা র।

আমরা যে কিছুদিন পরপর আমাদের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলাতে আগুন লাগার খবর পাই, এটার কারণ কি? মনে আছে রানা প্লাজা ধ্বংস হয়ে গেল পিলার নিয়ে লাড়ালাড়ি করার কারণে? এগুলা কি কাকতালীয় ঘটনা? বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগল। যমুনা ফিউচার পার্ক বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে থাকল। আপনাদের কি একবারও মনে হয়না যে কাকতালীয় ঘটনার সংখ্যা বড্ড বেশি আমাদের দেশে? সুন্দরবনে কাল তেল, গুলশান আরটিসানে সাজানো নাটক দিয়ে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির নাম ডুবানো। আপনারা কি বুঝতে পেরেছেন যে কোরিয়ান ভদ্রলোকের ভিডিওর কারণে আমাদের সরকার তাদের সাজানো নাটকের বানোওয়াট গল্পটা জনগণকে গিলাতে পারছেনা কারণ হাসনাত করিম সাহেবের মত অতি সাদাসিধা মানুষ কিভাবে সন্ত্রাসীদের সাথে অত সহজভাবে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছিল তার কোন ব্যাখ্যা আমাদের মগজধোলাই মিডিয়া আর মিথ্যাবাদী পুলিশ ওরফে সরকার দিতে পারেনি? কোন বিদেশী যে খুন হয়েছে তার একসুতা পরিমাণ কোন প্রমাণ আমাদেরকে এরা দেখাতে পারেনি -- শুধু তাদের বানানো বক্তব্য ছাড়া। কোন প্রমাণ এরা দেখাতে পারেনি যে ঐ ছেলেগুলা আসলেই বিদেশীদের খুন করেছে। এমনকি কয়েকটা লাশ বদলাবদলি হয়ে ঐ রেস্টুরেন্টের শেফের লাশকে জঙ্গি বলে চালানো হয়েছে এবং যে দুই একজন জঙ্গির লাশ পাওয়া যায়নি, তাদের কথা মিডিয়া এবং পুলিশ আপসে ভুলে গেছে এবং সেই সাথে আপনারাও। জনগণকে গোঁজামিল দিয়ে একটা মিথ্যা বুঝ দেয়া যে কতটা সহজ সেটা না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না।

এবার আসি আপনাদের ফেভারেট ইন্ডিয়া-পাকিস্তান যুদ্ধে -- আপনারা সবাই তো চরম খুশি যে এই দুই দেশের মধ্যে লাগুক একটা গণ্ডগোল, কারণ গোপনে এদের দুই দলের উপরেই আপনাদের রাগ। হায় মগজধোলাই! এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ লাগার কোন কারণই নাই -- এটা শুধুমাত্র ড্রেকোদের একটা সাইঅপ্স। পৃথিবীর প্রত্যেকটা যুদ্ধই আসলে সাইঅপ্স কারণ কোন যুদ্ধেই মানবতার জয় হয়না -- বরং পরাজয় হয়। যুদ্ধ হল মানুষের সংগঠন আর একতাবদ্ধতাকে ধ্বংস করার একটা শ্রেষ্ঠ অস্ত্র ড্রেকোদের জন্য। ঠিক যেমন ব্যাংকিং আর স্টকমার্কেট ড্রেকোদের শোষণের অন্যতম হাতিয়ার। আপনাদের বুঝতে আর কতদিন লাগবে যে স্টকমার্কেটকে ড্রেকোরা পানির কলের মত খোলা বন্ধ করতে পারে? কিছুদিন ওরা সুতা ছাড়ে আর মূলা ঝুলায় যাতে মাছ বড়শিতে গাঁথে। যথেষ্ট পরিমাণ গেঁথে গেলেই তখন দেয় সুতায় টান। তখন শুরু হয় আপনাদের আহাজারি। ভাংচোর, অফিস ঘেরাও এইসব নাটক চলে কিছুদিন -- আর ড্রেকোরা ওদের গোপন পেন্টহাউস পার্টিতে বসে আপনাদের নিয়ে হাসাহাসি করে। শতশত, হাজার হাজার বছর ধরে ওরা মানবতাকে এভাবে রেপ করে যাচ্ছে অথচ আপনারা বুঝতে পারেননা। ব্যাপারটা যথেষ্টই রসিকতাময়। এখনও আপনারা উলটে আমাদেরকে নিয়েই হাসেন আর ভাবেন যে ড্রেকো বলে কিছু নাই -- আমরা পাগল। হায় মগজধোলাই!

এরপরের আইটেম হল মিডিয়াতে খুন, রেপ, কোপাকুপি, ইত্যাদি খবর শুনে ফেসবুকে আপনাদের সোচ্চার হওয়া -- এর ভাল খারাপ দুইটা দিকই আছে। ভাল দিকটা হচ্ছে আমাদের সমবেদনা বা কম্প্যাশন, এটা মানবতার একটা সবচেয়ে ভাল দিক, এটা না থাকলে আমরা মানুষই না। কিন্তু এর খারাপ দিকটা হল স্মার্ট ফোন ব্রাউজ করার মত ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ আসে আর যায়। শুধু আহা উহু, শুধু ব্যস্ত থাকা। প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে একটা নতুন আহা উহু। পরের সপ্তায় আরেকটা -- এইই চলছে। এটাই তো আমাদের মগজধোলাই মেট্রিক্স -- আমাদের ভেড়ার মত বেঁচে থাকা। র এবং আম্লিক আমাদের দেশ বেঁচে দিচ্ছে, আমাদের ব্যক্তি স্বাধীনতা একের পর এক নষ্ট করে যাচ্ছে। পুলিশ ঘুষ খেয়ে আর আইন ভঙ্গ করতে করতে দুর্নীতির শিখরে চড়ে গেছে, আম্লিকের নেতা ফেতা পাতি নেতা হাফ নেতা হাফপ্যান্ট নেতা, জুতা নেতা, যুব নেতা, ছাত্রলীগ, পাত্রলীগ, শিশুলীগ, মানে লীগ শব্দটা থাকলেই হল -- সবাই মনে মনে একটু চমকায় -- এদেরকে থামাতে হবে এবং আপনাদের ঐ আহাউহু যথেষ্ট নয় এটা বুঝতে আর কদ্দিন লাগবে? আপনারা বসে বসে বিম্পিকে গালাগালি দেন যে কবে ওরা এসে আমাদের উদ্ধার করবে, সেটা যে আর হবে না এটা কি অ্যাদ্দিনেও বুঝতে পারেননি?

আমাদের সমস্যা আমাদের সমষ্টিগতভাবে সমাধান করতে হবে। র-আম্লিকের পিছনে আছে মসাদ-সিয়াইএ-এমাই৬-জেজুইটদের মত কাবাল যারা সরকার আর ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আমাদেরকে শোষণ করে। এই শোষণ থামাতে হলে আমাদের আগে জানতে আর বুঝতে হবে যে কিভাবে দুর্নীতি করা হচ্ছে। আমরা যে যেখানে কাজ করি, আমাদের আশেপাশেই প্রতিদিন দুর্নীতি হয় যা আমরা দেখেও দেখিনা বা নিজেই সেই দুর্নীতি করি বা তার ভাগ পাই। আপনি যেভাবেই অ্যানালাইজ করেন না কেন, ঘুরে ফিরে দেখবেন দোষের একটা ভাগ আপনার নিজের উপরেই বর্তাচ্ছে -- আর ঠিক এই কারণেই তো আপনি চুপ করে থাকেন, তাই না? কারণ আপনি জানেন আপনি নিজেও অনেক ডার্ক অ্যাজেন্ডাকেই নিজের স্বার্থে মেনে নিচ্ছেন, বা নিজেই চালাচ্ছেন। র-আম্লিক তো আমাদের ফ্যামিলির মধ্যেই আছে, এরাই তো আমাদের চুষে খাচ্ছে। কেউ ডাইরেক্টলি খাচ্ছে, আর কেউ ইন্ডাইরেক্টলি। এদেরকে না বলতে শিখতে হবে আমাদের। দুর্নীতি দেখে ভয়ের চোটে দুই পায়ের ফাঁকে লেজ দিয়ে নেড়ি কুকুরের মত সরে যাওয়ার স্বভাবটা বদলাতে হবে আমার আর আপনার।

No comments:

Post a Comment