Thursday, September 22, 2016

false light - blog in bengali


ধর্ম এবং ফলস লাইট

কালকে সেথিকাস বোজার ওড টু ম্যাক্স স্পিয়ারস ভিডিওটা শুনে ইন্সপায়ারড হয়ে ধর্ম নিয়ে লিখতে বসলাম। অলটারনেটিভ মিডিয়াতে বেশ কিছু রিকারিং থিম আছে যেগুলা নিয়ে বিভিন্ন স্পিরিচুয়াল অ্যাডেপ্টরা লেখে তার মধ্যে একটা হল ফলস লাইট ডক্ট্রিন। সত্যি বলতে এটা আমি নিজে কদ্দুর বুঝতে পারসি সেটা নিয়ে নিজেরই কনফিউশন আছে আমার। তবু আমি আমার মত করে ব্যাপারটা আলাপ করব, এরপর দেখা যাবে কি ফিডব্যাক পাওয়া যায়। এই প্রসেসটা ইম্পরট্যান্ট কারণ আমরা অ্যাওয়ার অ্যান্ড অ্যাওয়েক টাইপরা সবকিছুই নিজের মত করে বুঝি যাতে কোন ইন্ডক্ট্রিনেশনের ফাঁদে সহজে না পড়ি।

আমাদের ড্রেকো কন্ট্রোলড পৃথিবীতে যার বেশ কিছু টাকা আছে, সে কিন্তু মেট্রিক্সের মধ্যে ফুর্তিসে আছে। এর তো হায়ার কনশাস্ননেসে যাওয়ার কোন ইচ্ছা বা ইন্সপিরেশন নাই। ঠিক একইভাবে, যার অর্থনৈতিক অবস্থা ঠিক আছে, এই লোক যদি ধার্মিক হয়, তখন কিন্তু সে তার মাথাটা লক করে ফেলে যে সে আল্লার পথ পেয়ে গেছে -- তার আর কিছু দরকার নাই। এর ইহকাল আর পরকাল দুইটাই একদম সলিড মজবুত। এই লোকরে কিন্তু কেউ আর নড়াতে পারে না। এই ব্যক্তি তখন সবাইকে উপদেশ দিতে থাকে আল্লার পথে আসার জন্য। সে তখন আল্লাওয়ালা লোক হিসাবে নিজেকে খুব সম্মানিত ভাবতে থাকে এবং বাঙালি সমাজ তার ইগোর বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পায়না বা বলার কোন প্রয়োজন আছে তা মনে করেনা। আর ঠিক এটাই আমার মতে ঐ ফলস লাইট ট্র্যাপ যেটা অলটারনেটিভ মিডিয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ টপিক।

ফ্রিমেসনরির অনেক সিম্বলজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে একটা সূর্য যেটা আসলে আমাদের সূর্য নয়, এটা সিরিয়াস, যেটাকে অনেকে ট্রাইনারি স্টারসিস্টেম বলে কারণ সিরিয়াস এ, বি, আর সি, এই তিনটা একটা আরেকটাকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। আলফা ড্রেকোনিস নামে একটা স্টারসিস্টেম ঐ সিরিয়াস স্টারসিস্টেমেরই একটা অংশ যেখান থেকে ড্রেকোরা এসেছে। আর ঠিক এই কারণেই এই "সূর্যটাকে" ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ানরা এত সম্মান বা পূজা দেয়। বলা হয় যে আমাদের সূর্যটাও ঐ সিরিয়াস স্টার সিস্টেমটাকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। ফ্রিমেসনরির মত সিক্রেট সোসাইটিগুলা এইসব অতি গুরুত্বপূর্ণ এসোটেরিক তথ্য, যা সাধারণ মানুষের কাছে থেকে লুকানো হয়, সেগুলা ঐ মেসনদেরকে ধীরে ধীরে ডিগ্রি বাই ডিগ্রি শিখাতে থাকে।

আলটিমেটলি, যে ডক্ট্রিনটা ফ্রিমেসনদের এসোটেরিক ইনার সার্কেলকে শিখানো হয় (যেটা নিচের লেভেলের এক্সোটেরিক বা আউটার সার্কেল জানতে পারেনা) সেটা হল লুসিফেরিয়ান ডক্ট্রিন। বলা হয় যে এই লুসিফার আসলে খুব উচ্চমার্গের একজন আর্কএঞ্জেল বা ফেরেশতা যাকে শয়তানের রোল প্লে করতে দেয়া হয়েছে যাতে আমরা একটা ডুয়ালিটির মাধ্যমে ভাল-খারাপের তফাতটা বুঝতে পারি। ফ্রিমেসনরিতে ঢুকতে হলে একটা বাচ্চাকে ব্লাড স্যাক্রিফাইস হিসাবে মেরে তারপর ঢুকতে হয়, এরকম কিছু তথ্য ইন্টারনেটে আছে। এর সত্যমিথ্যা আমি খুব বেশি যাচাই করিনি, কিন্তু মেসনরির উপরে যত জ্ঞান বাড়ে, তত মনে হয় যে এরকমটা হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি। এদের একটা মূলমন্ত্র হলঃ কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। আর এই ব্লাড স্যাক্রিফাইসের মাধ্যমে পাওয়া যায় পৃথিবীর উচ্চতম ক্ষমতা, কিন্তু একদিনে নয়, ডিগ্রি বাই ডিগ্রি। যারা হলিউডের খুব বড় স্টার হয়ে যায়, এদের কিন্তু গোপনে অনেক দামী কিছু বিসর্জন দিতে হয়। এটা কোন রেটোরিক না, লিটারালি সত্যি। কারণ পৃথিবীর কন্ট্রোলাররা ব্ল্যাক ম্যাজিক দিয়ে তাদের ক্ষমতা ধরে রাখে।

সেথিকাস বোজার মত ব্লাডলাইন থেকে আসা স্পিরিচুয়াল ওয়ারিয়াররা যেটা বলতে চায়, সেটা হল আল্লাহ এবং শয়তান (লুসিফার) একই ব্যক্তি বা এন্টিটি। এটা একই ডিসেপশনের দুইটা দিক। এর যেকোনো একদিকে গেলেই ফলস লাইট ইন্ডক্ট্রিনেশনে পড়তে হবে। কোরানে দেখা যায় ক্রমাগত ফিয়ার মঙ্গারিং -- তোমরা কি দাখো নাই তোমাদের আগে যারা বিপথে গেছে, তাদেরকে আমরা কত সহজে ধ্বংস করে দিয়েছি? এই ধরণের বক্তব্য কয়শোবার আছে কোরানে? এত ভয় দেখানোর কারণ কি? এত ভয় দেখানোর পরও, এবং দেশের ৯৫% মানুষ মুসলমান হওয়ার পরও কই, কেউ তো সুপথে যাচ্ছে না? আমাদের চরম বিপথগামী আওয়ামী লীগ, পুলিশ, উকিল, জাজ, মিলিটারি, কর্পোরেশন, ব্যাংক, স্টক এক্সচেঞ্জ, ইত্যাদি কারও উপরে তো কোন পাথর বর্ষণ হচ্ছেনা? এর কারণ হল এটা ঐ ফলস লাইট ডক্ট্রিন -- এটা একটা ডিসেপশন যেটা দিয়ে ড্রেকোরা আমাদেরকে বোকা বানাচ্ছে। যারা ধার্মিক, এবং আল্লাহর পূজা করে, এরা আসলে এই ফলস লাইটের পূজা করে যাচ্ছে। আর ঠিক এই কারণেই আমাদের অবস্থা দিন দিন নিচের দিকে যাচ্ছে যার কোন এক্সপ্ল্যানেশন আমাদের এই ধার্মিকরা দিতে পারছেনা। অ্যাট বেস্ট, এরা বলে যে পৃথিবীতে খুব শিগগিরই কেয়ামত লাগবে -- যেটা ঐ ফলস লাইটেরই আরেকটা ডিসেপশন।

এখানে একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বোঝা প্রয়োজন যে, মুহাম্মদ, যিশু, বুদ্ধ, কৃষ্ণ, এই ধরণের স্পিরিচুয়াল মাস্টাররা কিন্তু ফলস লাইট ইন্ডক্ট্রিনেশন শেখাননি, অন্তত আমি তাই মনে করি। উনাদের লাইফ ছিল ইম্পেকাবল, নিষ্কলঙ্ক। ইনারা খুবই অ্যাডভান্সড সউল যারা মানুষকে গাইড করার জন্য এসেছেন। কোরান হাদিসের মধ্যে উনাদের আসল শিক্ষাটা লুকানো আছে বটে, তবে বিভিন্ন রকম ভেজালের মধ্যে থেকে সেই আসল সত্যকে উদ্ধার করার মত স্পিরিচুয়াল ক্ল্যারিটি কয়জন বাঙালির আছে তা নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে। এর কারণ হল ডঃ জাকির নায়েকের মত স্পিরিচুয়ালি অন্ধ একজন ব্যক্তিকে এই দেশের লোক গুরু মানে। এখানে ঝামেলা আছে। কেন আমি জাকির সাহেবের নিন্দা করছি সেটা একটু বোঝার ব্যাপার আছে, এটাকে বলে "ইডিয়েট সাভান্ত" -- যেটা আমি অঙ্কে ছিলাম। বইয়ের সব অঙ্ক পারি, পরীক্ষায় ৯০ এর উপরে মার্ক থাকে, কিন্তু নিজের জীবনে কোনদিন কোন অঙ্ক দিয়ে কোন সমস্যা সমাধান করতে পারিনি। এবার কি একটু বোঝা গেছে?

বাংলাদেশে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি যে জিনিষটা সাফার করেছি, এটা হল মানুষের ইসলামিক ফিল্টার দিয়ে সবকিছুকে বুঝার চেষ্টা করা। এখানে সমস্যাটা দ্বিমাত্রিকঃ ১। কিছু মানুষ জ্বিন আর রেপ্টিলিয়ান একই জিনিষ বলে শ্যাম-কূল দুইই রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে একটা প্যাঁচের মধ্যে পড়ে যায়, আর ২। কেউ কেউ ইসলামের উপর আল্টিমেট বিশ্বাসের কারণে আমাদের কোন কথায় আদৌ কান না দিয়ে শুধু সবাইকে নামাজ আদায় আর কোরান পড়তে বলে, যেন এর বাইরে আর কিছু জানা বা বোঝার নাই। মোহাম্মাদ নিজে বলেছেন জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে চীনদেশে যাও -- অর্থাৎ জানার কোন শেষ নাই। মানুষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করতে পারে। কিন্তু আমাদের ধার্মিকরা কেন জানি একটা কোকুনের মধ্যে আটকে যায় আর তারপর সবাইকে ঐ কোকুনের মধ্যে ঢোকার জন্য ঠেলতে থাকে আর সেটা হয়না বলে এক ধরণের চরম বিরক্তি নিয়ে বসে থাকে, যেটা তাদের কথা বার্তায় মুহুর্মুহু বের হয়ে আসে।

সবাই ইসলামিক ডক্ট্রিন থেকে রাতারাতি বের হতে পারবে না, এবং এটার দরকারও নাই। যেটা দরকার, সেটা হল অ্যাওয়ারনেস বাড়ানো। যারা ধর্মের ভিতরে অতটা ডেভোটেড না, তাদের এই ফলস লাইট ডক্ট্রিনটা বুঝতে পারা এবং ভেরিফাই করে দেখা উচিৎ। কারণ আমাদের ড্রেকো-আর্কন্টিক ম্যানিপুলেশন কিন্তু লারজ হেড্রন কোলাইডার টাইপের বিভিন্ন সুপার-অ্যাডভান্সড পোর্টাল টেকনোলজি দিয়ে পারালেল ইউনিভার্স এবং টাইম কন্ট্রোল ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে আমাদের অ্যাসেনশন পাথ সারাক্ষণই ম্যানিপুলেট করে যাচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ আমার কাছে মনে হয়েছে যে হিলারি ক্লিন্টনের অ্যারেস্ট হওয়ার একটা ভিডিও নেটে আছে যেটা আমাদের ঘুমন্ত জনতা দেখেও দেখতে পায়না। বুঝতে পারেনা এটার মাহাত্ম্য কি। উপরের ডিমেনশন থেকে চ্যানেল্ড ম্যাসেজের মাধ্যমে আমাদেরকে বলা হচ্ছে যে বেশ কিছু বড় ঘটনা বা মাইলস্টোন যেগুলা আমাদের আসেনশনের জন্য এসেনশিয়াল, এগুলা অলরেডি ঘটে গেছে কিন্তু টাইমলাইন ম্যানিপুলেশনের কারণে আমাদের কারও মনে নাই। মানে আমাদের কালেক্টিভ কনশাসকে আর্টিফিশিয়ালি ম্যানিপুলেট করা হচ্ছে। আর ঐ হিলারি ক্লিন্টন অ্যারেস্ট ভিডিওটা মেয়েবি ঐ মুছে দেয়া টাইমলাইনের ব্লীড থ্রু।

এখানে অনেক স্পেকিউলেটিভ ব্যাপার পসচিউলেট করলেও আমি জিনিষগুলা আমাদের কনশাসনেসে ঢুকানোর জন্যই মেনশন করলাম। কারণ এগুলা আমাদের মাইন্ড এক্সপ্যান্ড করতে সাহায্য করবে, আর ড্রেকোরা কোন লেভেলে আমাদেরকে মাইন্ড কন্ট্রোল করছে সেটা বুঝতেও সহজ হবে। তো উপসংহারে বলি যে আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল এটা বুঝানো যে ধর্মের আল্লাহ ও শয়তান -- এই ডাইকটমিটা একটা ড্রেকো ফলস লাইট ম্যানিপুলেশনের অংশ। অনেকে বলে যে নিউ এজ লাভ লাইট, বিইং ওয়ান উইথ অল, লাভ অ্যান্ড কম্প্যাশন, এগুলাও এক ধরণের ফলস লাইট ইন্ডক্ট্রিনেশন মানুষকে প্যাসিভ করে রাখার জন্য। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এর সাথে পুরাপুরি একমত নই। এমন হতে পারে যে ঐ স্পিরিচুয়াল অ্যাডেপ্টদের সমকক্ষ না হওয়াতে আমি এই ব্যাপারটা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিনা। সেথিকাস বোজা বা মার্ক প্যাসিও কিন্তু এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ পোষণ করেনা।

তো যাই হোক, আমার বক্তব্য হল, ধর্মের ঈশ্বর যাকে আমরা পূজা দেই -- এটা একটা মারাত্মক মাইন্ড কন্ট্রোল মেকানিজম কারণ স্পিরিচুয়াল অ্যাডেপ্টরা বারবার বলে যে গড আর তোমার মধ্যে কোন সেপারেশন নাই। ঈশ্বর আমাদের মাধ্যমেই নিজেকে এক্সপ্রেস করে। আমাদের উচিৎ আমাদের হায়ার সেলফের সাথে লিংকটা রিএস্ট্যাব্লিশ করা। এটাই আমাদের গড কানেকশন। ঈশ্বর আমাদের ভিতরেই আছে। আমাদের কাজ হল, নিজের ইগোকে দমন করে, নিজের ভিতরের ঈশ্বরকে এক্সপ্রেস করতে দেয়া। যেইমাত্র আমরা আল্লাহর উপাসনা করলাম, সাথে সাথে আমরা আমাদের নিজেদের ক্ষমতা নিজের ইচ্ছায় ছেড়ে দিলাম আর ঠিক এই কারণেই ড্রেকোরা ধর্মকে প্রোমোট করে, কারণ এটা ওদের ম্যানিপুলেশন এবং ব্রেইনওয়াশের একটা মুখ্য অংশ।

No comments:

Post a Comment