Tuesday, August 9, 2016

ke dayi -- blog in bengali


কে দায়ী?

এক ধরণের অস্বস্তি বা অস্থিরতা বোধ হচ্ছে কয়েকদিন ধরে। ইটিরা বলে যে ওরা গ্যালাক্টিক সেন্টার থেকে বিভিন্ন রকম কজমিক ওয়েভ নাকি পাঠাচ্ছে গত কয়েক দশক ধরে, আমাদেরকে অ্যাসেনশনে সাহায্য করার জন্য। পার্শিয়ালি এই কারণে নাকি আমাদের কনশাসনেস একটু একটু করে বাড়ছে। পৃথিবীর কমবেশি প্রত্যেকটা দেশে যে প্যাটার্নটা দেখা যাচ্ছে সেটা হল কন্ট্রোলড মিডিয়ার মাধ্যমে, এবং এটা বিশেষ করে বাংলাদেশে, একটার পর একটা সাইঅপ্স হচ্ছে, এগুলাকে ভালভাবে ইনভেস্টিগেট না করেই সরকার একধরণের মিথ্যা ছড়াচ্ছে। তারপর সেই মিথ্যার ভিত্তিতে বিরোধীদলের সদস্যদের খুন-গুম-হয়রানি-অত্যাচার করে জনগণের মুখ একদম বন্ধ করে ফেলসে। এমন কি সোশ্যাল মিডিয়াতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে লিখলেও তাদের পুলিশ আর র‍্যাবের হয়রানি এবং দন্ড সাফার করতে হচ্ছে। মিডিয়ার লোকজন তাদের ব্যক্তিগত ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু লিখলেও চাকরিচ্যুত, সাস্পেন্ডেড, মামলা আক্রান্ত, বা গুম হয়ে যাচ্ছে। সবথেকে ভয়ংকর হল এটা যে শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার লড়াই তাও নয়; ওদের উপর দিয়ে দেশে চড়াও হয়ে আছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র -- যাদের এজেন্ডা লীগের থেকেও আরেক কাঠি সরেস যার নমুনা আমরা দেখতে পেয়েছি গুলশান নাটকে আর সুন্দরবনের রামপাল চুক্তিতে ভারতের একমুখী শোষণভিত্তিক আচরণে। একদিক দিয়ে ধ্বংস হবে সুন্দরবন, আরেকদিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের অর্থনীতি -- চড়াদামে, উচ্চসুদে আমরা ভারতের পুরানো অবসোলিট টেকনোলজি কিনতে বাধ্য হচ্ছি স্রেফ আমাদের আওয়ামী রেজিম এদের প্রভুভক্ত কুকুর বলে। এই হৃদয় বিদারক দৃশ্য বাংলাদেশের প্রাইভেট ও সরকারি ভার্সিটিতে পড়া, আইসিটি সেকটরে কাজ করা, আইফোন আর স্যামসাং হাতানো, প্রিজমা ও পোকিমন বাহারি, ফেবুতে চালাক চালাক স্ট্যাটাস দেয়া ৪৫ কোটি অবোধ, নির্বোধ, আস্তিক-নাস্তিক-সুশীল বাঙালি চেয়ে চেয়ে দেখছে, আর বলছে, "কিসসু করার নাই, কিসসু করার নাই, কিসসু করার নাই..."।

সরকার জনগণের কোন ধারই ধারছে না, এটা যেন কেউ দেখেও দেখে না। আসলে ব্যাপার হল, জনগণ ভয়ে শিটকে গেছে, কারণ পুলিশে, র‍্যাবে, মিডিয়ায়, চাকরিতে, মিলিটারিতে, সর্বত্র দলীয়করণ। লীগকে ঘুষ না দিয়ে কেউ কোন চাকরি পায়না। লীগকে তেল না দিয়ে কেউ চাকরি রাখতে পারেনা। যে কোন রিয়াল ইস্যু নিয়ে কোন টুঁ শব্দ করলে উচ্চ পর্যায়ে রয়ের এজেন্টরা সোজা এসে জিজ্ঞেস করে বসে, "কি, তুমি বিএনপি নাকি? তোমার সাহসের পিছনে খুঁটিটা কি?"। লীগ ছাড়া আর কোন খুঁটিতে তো এখন আর কাজ হয়না। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বঙ্গ এবং ভারত দখল করে ফেললো। তখন নিশ্চয়ই হুবহু একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ওদেরকে তেল না দিয়ে কেউ বাঁচতে পারতো না। যারা ইগোর কারণে ওদের তেল দেয়নি, যেমন বেশীরভাগ মুসলিম, যারা ব্রিটিশদের আগে ক্ষমতাসীন ছিল, তারা এখন হয়ে গেল তেলাপোকা। ঠিক এখন যেমন বিএনপি-জামাতের হয়েছে। 

বিএনপি দল হিসাবে খুব মিডিওকার আর হাওয়াভবনে ওরা লীগের দেখাদেখি ঘি-মাখন লোটা শুরু করে ফেলাতে দেশের জনগণ আর ওদেরকে লীগের চেয়ে উন্নত কিছু ভাবতে পারেনা। কিন্তু সত্যি কথা হল যে বিএনপি লীগের চেয়ে কম করে হলেও ১০০ভাগ কম ক্ষতিকর দেশের জন্য যার প্রধান কারণ হল এরা রয়ের এত প্রভুভক্ত নয়। যদিও মোদির সাথে ৩০ মিনিট মিটিঙয়ে খালেদা নাকি বলেছে লীগ ১০০% দিলে আমি দিব ১৫০%। এটা গুজব। সত্যি নাও হতে পারে। কিন্তু বিদেশী সাহায্য ছাড়া বিএনপি জামাত সব কানা, এটা একটা ঝামেলা। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিখানো হয় কিভাবে বিদেশী কর্পোরেশনের ঝান্ডাধারী কেরানি হয়ে স্মার্ট ফোন দিয়ে বিদেশে ভ্যাকেশন করে সেলফি তুলতে হয়, এর বেশি নয়। দেশকে একটা ছ্যাঁচোড় ফ্যাশিস্ট ডিক্টেটরশিপ থেকে কিভাবে উদ্ধার করতে হয়, এই বিদ্যা তো আমাদের ঐ নর্থসাউথের বিবিএ ডিপার্টমেন্টে শিখানো হয়না। 

নর্থসাউথ প্রসঙ্গে বলি, ওখানকার মত গলাকাটা ব্যবসা আমার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ না হলেও, এটা মানতে বাধ্য হই যে এই রকমের কয়েকটা প্রাইভেট ইউনি পড়াশুনার একটা নিম্নতম মান বজায়ে রাখতে পারার কারণে কিন্তু আমাদের উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত যাওয়া কমে গেছে। এ কারণে বেশ অনেকদিন ধরেই এই আল্মা মাটারটা রয়ের কোপানলে পড়ে আছে। এবং অ্যাদ্দিনে আইসিস জঙ্গির নকল নাটক সাজায়ে এরা মোটামুটি এদের পিছনে বাঁশ ঢুকানোর একটা রাস্তা বের করে ফেলেছে। 

আইসিস জঙ্গির ঐ কাল পোষাকে স্নিগ্ধহাসি দেয়া ছেলেগুলাকে দেখলে কি মায়াই না লাগে। পৃথিবী কি ভয়ংকর জায়গা! বাংলাদেশ একটা প্রিডমিনেন্টলি ইসলামিক দেশ। এখানে কেউ ইসলামের পিছনে লেগে নাই। ইভেন রও না। এই দেশে কান ফাটানো আজান বাজে যেটা নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করতে সাহসও পায়না। এই দেশ তো ইসলামের স্বর্গরাজ্য। এখানে কেউ সুইসাইড জ্বিহাদী হতে যাবে কোন দুঃখে? জাপান আর ইতালিয়ানরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কি অপকর্ম করেছে? কয়েকটা বিদেশী বিধর্মী হত্যা করে আমি স্বর্গবাসী হব, এই ইসলাম বাংলাদেশে কেউ প্রচার করেনা। এটা মিথ্যা মিথ্যা মিথ্যা। এটা সাজানো নাটক। এটা বুঝতে কিচ্ছু লাগে না। আমাদের সেই জাপানি আর ইতালিয়ানদের লাশ কই? প্লেনে লাশ উঠানোর ফুটেজ কই? জাপানি আর ইতালিয়ান ডেলিগেটদের বক্তব্য কই? কেউ তো আসলো না? কেউ শোক প্রকাশ করলো না? সিসিক্যামের ফুটেজ কই? মিসিং সন্ত্রাসীদের কি হল? যাদেরকে জ্যান্ত ধরা হল? এই সরকার কোন কিছুর ধার ধারে না। এরা যা বলে তাইই। কে এদের বিপক্ষে টুঁ শব্দ করার সাহস রাখে? কোথায় আমার অ্যামেরিকা? কোথায় রুশিয়া? কোথায় হিউম্যান রাইটস? 

আপনারা সবাই ঘুম থেকে জাগেন প্লীজ। এভাবে পৃথিবী চলতে পারেনা, চলবেও না। আমরা আপনাদেরকে বলেছি ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ান জাতীয় কিছু ইটিরা গ্লোবাল শ্যাডো গভর্নমেন্টের মাধ্যমে পৃথিবীকে কন্ট্রোল করে। এদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে গ্যালাক্টিক ফেডারেশন নামে অজস্র ইটি গ্রুপের একটা সুপার ফেডারেশন। এরা আমাদেরকে এদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে অজস্র তথ্য ইন্টারনেটে আছে, শুধু আপনাদের জেগে ওঠার অপেক্ষায়। এই গ্লোবাল কাবালেরই মিনিয়ন হচ্ছে আমাদের র-সিয়াইএ-মসাদ-এমাই৬। এদেরই আজ্ঞাবাহী আমাদের বেচারা আওয়ামীলীগ -- এরা শুধু দুটা টাকা চায়। আর একটু ক্ষমতা। এরা বেশীর ভাগই টোকাই থেকে নেতা। এদের বুদ্ধি বা সাহস খুব একটা বেশি না। এদেরকে এত ভয় পেলে আমাদের আত্মসম্মান কই গিয়ে ঠেকবে? আসলে আমাদের প্রধান সমস্যা তো আমরা নিজেরাই। আমরা অলস, কাপুরুষ, অবুদ্ধিমান, এবং মূর্খ। আমরা তো টেক্সট বই, ফেসবুক, মিডিয়া, হুমায়ুন আহমেদ, আর দুই চারটা কবিতার বই, এর বেশি কয়জন পড়েছে? আমরা কিচ্ছু জানিনা। জানি বলতে পলিটিক্স, আর সেটাও মগজ ধোলাই। দেশ যে র চালায়, সেটাও তো বুঝতে পারিনা। আসেন, আমরা আবার নতুন করে জানা শুরু করি। আপনারা একটু দায়িত্ব নেন প্লীজ। একটু পড়াশুনা করেন। একটু বুঝার চেষ্টা করেন যে দেশের এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য আমি আর আপনিই দায়ী। ধন্যবাদ।