Wednesday, July 27, 2016

paradigm shift - blog in bengali


প্যারাডাইম শিফট

এই একটু আগে সিঁড়ির লাইট অফ করার সময় এক হিন্দু ভদ্রলোক বললেন যে আপনারা থানা থেকে যে ফর্মগুলা দিয়েছে বাড়ির সবার সম্পর্কে তথ্য দেয়ার জন্য সেগুলা পূরণ করে দিলেই তো পারেন, দেশের যা অবস্থা। আমিও ছাড়লাম না উনাকে, বুঝালাম যে ঐ তথ্যে তো আপনার নাম ঠিকানাই থাকবে। ওটা তো আপনাকে ফাঁসানোর কাজেই ব্যবহার করবে দুর্নীতিবাজ সরকার। এত সমস্ত জঙ্গি খুন বোমাবাজি যে সরকার নিজেই করতেছে, এটা কি আপনারা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি? মজার ব্যাপার হচ্ছে যে আমার পরিচিত অত্যন্ত শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও এই ব্যাপারটা বুঝতে পারেনা। যতভাবেই বুঝাইনা কেন, মগজ ধোলাই প্রিভেইলস। দিনের শেষে এরা জঙ্গি জঙ্গি করে ভয়ে কাঁপতে থাকে। কিছুতেই কোন বিষয়ে কোন গভীর চিন্তা করতে পারেনা। সবকিছু ঐ মেইন্সট্রিম মিডিয়ার সাপেক্ষে চিন্তা করে। কিছু পণ্ডিত আছে যারা খুব সায়েন্টিফিক জার্নাল কপচায়। যেমন আমি এনএসইউতে দেখসি কিছু চ্যাংড়া পিএইচডি। এদেরকে ওখানকার ডিরেক্টররা মাথায় তুলে নাচে। আমি যে ২০ বছরের এক্সপেরিয়েন্সওয়ালা অ্যামেরিকায় চাকরি করা ঝানু মাল, আমরা যেন এদের চাকর ছিলাম। যাইহোক, জেনারেলি স্পিকিং, বাঙালি কাউকে সম্মান দিতে জানে না। সম্মান দেয়া বলতে এরা বোঝে যারা লোক দেখানো নামাজ পড়ে, একধরণের নকল সোশ্যাল ফাসাদ মেইন্টেইন করা ভন্ড লোকদের বাঙালি খুব সম্মান দেয়, তাও সেটা সামনে। পিছনে না। ৯৫% এই ক্যাটেগরির লোক। আর ৫% ভাল।

আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু কনশাসনেস পোর্টাল খুলে দেয়া। গত কয়েক বছরে বুঝতে পারলাম যে দেশের মানুষ একটা অন্ধকার বাবলের মধ্যে আটকা পড়া। এই বাবলের বাইরে কেউ এখনও চিন্তা করতে শেখেনি। অথচ দেশের বাইরে কিছু মানুষ, তাদের কনশাসনেসকে কমকরেও ১০০ বছর আগায়ে নিয়ে গেছে যা সম্পর্কে একজন বাঙ্গালিরও কোন ধারণা নাই। এটা তো একটা মহা অদ্ভুত ব্যাপার এই ইন্টারনেটের যুগে যেখানে সবকিছু সবার নখদর্পণে চলে আসছে। কাজেই শুরু হল আমার পড়াশুনা আর সবাইকে জানানোর প্রচেষ্টা। চাকরি বাকরি সব গোল্লায় গেল। শুধু পড়ি আর পড়ি। জানি আর জানি। একটা বই থেকে আরেকটা বই। একটা ভিডিও থেকে আরেকটায়। কি দারুন এই জানার নেশা! নিজেকে প্রচণ্ড ভাগ্যবান মনে হল।

তবে এই সুখ ভুত হয়ে কামড়াতে দেরী হলনা যখন দেখলাম আমার স্কুলের বন্ধু, কলেজের বন্ধু, বুয়েটের বন্ধু, বন্ধুদের বন্ধু, পাড়াতো বন্ধু, ফ্যামিলি মেম্বার, ইন্টারনেটের বন্ধু, কোন একজনকেও কোন একটা কথাও বিশ্বাস করাতে পারলাম না। এক এক করে সবাই বিদায় হল। আমি আবার নতুন করে একলা হলাম, কিন্তু এইবার আমি শক্ত থাকলাম কারণ জীবন থেকে সবাই যখন একা করে দিয়ে চলে যায়, তখন কেমন লাগে, সেই তালিম আমার খুব ভালভাবে নেয়া ছিল। পড়াশুনার মাত্রা বাড়ল। ব্লগ আর ভিডিও থেকে বইয়ের দিকে চলে গেল মনোযোগ, কারণ বই না পড়লে একটা বিষয়ের গভীরতায় যাওয়া যায়না। সব ক্ষেত্রে না হলেও, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই, একটা বই একটা সন্তানের মত একজন লেখকের কাছে। একটা বইয়ের ভিতরে সে তার সমস্ত জ্ঞান ঢেলে দেয় যাতে বইটা টাইমলেস হয়। সে চলে গেলেও যেন তার বইয়ের মূল্য রয়ে যায়, এভাবেই বেশীর ভাগ মানুষ বই লেখে। তারমানে এই না যে দালালি করার জন্য এবং মগজ ধোলাই দেয়ার জন্য কোন বই লেখা হয়না। কিন্তু বাস্তবে, যারা এইধরনের বই লেখে, তারা না বুঝেই লেখে। তারা তাদের ভুল শিক্ষাটাকেই আসল মনে করে সেটাই উপস্থাপন করে যায়। আর আমার পরিচিত প্রতিটা মানুষ সেই বইগুলাকেই গস্পেল হিসাবে বিশ্বাস করতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে আমার কোন কথা তারা মানতে পারলো না।

এখন সরাসরি চলে আসি দেশের জঙ্গি ইস্যুতে। এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই এটা বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রই এতদিনে বুঝে ফেলেছেন। গুলশানের সাজানো আইসিস জঙ্গিদেরকে ইচ্ছা করেই মেরে ফেলা হয়েছে যাতে তারা কোনদিন সত্যটাকে প্রকাশ করতে না পারে। হাস্নাত করিমকে মিথ্যা বলানো এবং মগজ ধোলাই দেয়ার ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। যদি কোনদিন সে বক্তব্য দেয়, তাহলে কি কি মিথ্যা বলবে, সেগুলা শিখানো পড়ানো চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা কোনদিনই দেখতে পাবনা। ঐ স্বপ্ন দেখার কোন মানে নাই। আদৌ কোন জাপানি বা ইটালিয়ান মারা গেছে কিনা, এটা অবশ্য একদিন জানা যাবে, তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে নয়। অবস্থা এখন এমন দাঁড়াইছে যে বিম্পি-জামাতও এখন কিছু হাত-বোমা ফুটায়ে দাবী করতে পারে যে এই অপদার্থ সরকার নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এটা দেশের বোকা জনগণ খাবে। এই দেশের জনগণকে যে সত্যি কথা বলে কোন লাভ হয়না, এটা আমার থেকে ভাল কেউ জানে না। এই দেশের লোক ভাউয়ের উপর চলে। একটা ভাল ভাউ পাইলে ক্যোঁৎ করে গেলে।

এখানে আরেকটা বিষয় হল, আওয়ামী সরকার এত বেশি জনগণের টাকা লুট করে খাইসে গত ৭/৮ বছরে যে এদের আর পেটে তেমন জায়গা নাই। এদের রুচি কমে গেছে। তথ্যমন্ত্রী ইনু যে আওয়ামী সরকারকে হঠাত চোর বলা শুরু করসে, এর পিছনে রয়ের এজেন্ডা থাকতে পারে। বেশীদিন ক্ষমতায় থাকলে, প্রাথমিক পর্যায়ে গলাপর্যন্ত টাকাপয়সা চুরি করার পর মনে হয় কারও কারও দেশপ্রেম জেগে ওঠে। তখন তাদেরকে সরায়ে দিয়ে নতুন আবালদেরকে বসাতে হয়। র-মসাদ-সিয়াইএ এটা খুব ভালভাবেই জানে। এইজন্য এদের ঘনঘন প্যাঁচ খেলতে হয়।

দেশকে দুর্নীতি থেকে বাঁচাতে চাইলে বাংলাদেশের মরফোজেনেটিক ফিল্ড নিয়ে কাজ করতে হবে। এটা হচ্ছে আমাদের সমষ্টিগত সাবকনশাস ফিল্ড যেটা দিয়ে আমাদের রিয়্যালিটি নিয়ন্ত্রিত হয়। বাংলাদেশের মানুষ মনে করে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় সবকিছু হয়, এটা ভুল। ধর্ম হচ্ছে এক নম্বর মগজ ধোলাই যেটা দিয়ে মানুষকে ভুল পথে চালানো হয়। আগে হোক, পরে হোক, একদিন না একদিন বাঙ্গালিকে এই জায়গায় আসতেই হবে। নিজেদের ভুল বুঝতেই হবে। আমার নিজের এক বন্ধুর কথাই বলি। সে ফিনান্সে পড়া ছেলে এবং তার বাবা আওয়ামী লীগের থিঙ্কট্যাংক। তার সাথে বসে অনেক মাল টানছি। সেই আমাকে তালিম দিছে এইসব বিষয়ে। আমাকে ডন হুয়ান পড়াইসে। তারপর বিয়া করে আমাকে ভুলে গেসে। বসুন্ধরায় মুভ করসে। এখন সে গেছে সপরিবারে অ্যামেরিকা ঘুরতে। অ্যামেরিকার একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রীতিমত ঈর্ষান্বিত করার মত বিরাট ভ্যাকেশন।

এটা বলার পিছনে কারণ হল যে আওয়ামী লীগ যারা করে, তারা বেশীর ভাগ দুর্নীতি করার জন্যই করে। কিন্তু আমার এই বন্ধু দুর্নীতিবাজ নয়। সে খুব বুদ্ধিমান। কিন্তু মূল বিষয়টা হল পাত্তি কামানো এবং লিভিং লারজ। এটা খুব প্রয়োজনীয় বটে, কিন্তু আমাদের দেশ এবং পৃথিবীটাকে ঠিক করতে হলে, এর সাথে আরেকটা জিনিষ যোগ করতে হবে যেটা এরা করেনা কারণ জানে যে এটা করলে টাকার ফোকাসটা নষ্ট হয়ে যাবে। ঐ স্যাক্রিফাইসটা কেউ করতে রাজী না। আর এই টাকার নেশাটাই দুর্নীতির প্রধান কারণ। যে চাকরি করে আমার বন্ধু এত টাকা কামাচ্ছে, তাকে যে বেতন দিচ্ছে, সে এত টাকা পাচ্ছে কোথায়? কাউকে কোন না কোনভাবে তো সিস্টেমটাকে মিল্ক করতে হচ্ছে, নাহলে এই উদ্বৃত্ত টাকা আসবে কোত্থেকে?

সেই আরেকটা জিনিষ কি? এটা হল গ্যালাক্টিক কনশাস্নেস। কজমিক কনশাস্নেস। আমার বন্ধু অ্যামেরিকার যেসব জায়গায় যেয়ে ছবি তুলতেছে, সেইসব জায়গায় আমি ১৫ বছর অ্যামেরিকায় থেকেও কোনদিন যাইনি। যাওয়ার আগ্রহ ফীল করিনি। আমি যেতাম বীচে, বারে, পার্কে, রেভে, মিউজিয়ামে, লাইব্রেরীতে। অথচ এখন আমার দোস্তের সেলফি তোলা দেখলে জেলাস লাগে। মনে হয়, কিজন্য আমি রাম্পুরায় পচে মরি? তারপরই মনে পড়ে, ও হ্যাঁ, আমি একটা চাকরিবিহীন, রিল্যাক্সড লাইফ চেয়েছিলাম। সেটাই তো পেয়েছি। তাইলে আপসোস কিসের? অ্যামেরিকান পাসপোর্ট তো আছেই। চাইলেই যাওয়া যায়, কিন্তু বিভিন্ন কারণে যাই না। যাইহোক নিজের দারিদ্র্য আর আলসেমি ডিফেন্ড না করে কাজের কথায় আসি। পৃথিবীতে একটা প্যারাডাইম শিফট হচ্ছে। একটা কার্মিক ক্লেনজিং হচ্ছে, যার কারণে এতসব সন্ত্রাস দেখতে পাচ্ছি। আস্তে আস্তে সরকারের সমস্ত দুর্নীতি বের হয়ে আসবে। আমরা একটা হাইয়ার ফ্রিকোয়েন্সি রিয়্যালিটিতে উত্তরণ করব যেটাকে বলে অ্যাসেনশন।

আমাদের যাদের টাকা পয়সা কম আছে, বা অ্যামেরিকায় ঘুরে বেড়ানোর সামর্থ্য নাই, তাদের দুঃখ করার কিছু নাই কারণ খুব শিগগিরই পৃথিবীর চেহারা পালটে যাবে কারণ এখন যারা পৃথিবীটাকে এক্সপ্লয়েট করে, তারা আর বেশীদিন এটা পারবে না। পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষ এখন এদের দাস, এটা ভবিষ্যতে আর থাকবে না। এই কাজটাকে ত্বরান্বিত করার জন্য আমাদের যেটা করতে হবে তা হল নিজেকে উন্নত করা। আমাদের কালেক্টিভ মরফোজেনেটিক ফিল্ডের যে ফ্রিকোয়েন্সি, সেটা আমাদের সবার ব্যক্তিগত ফ্রিকোয়েন্সির সমষ্টি বা অ্যাভারেজ। কাজেই সবাই যদি আমরা আমাদের ব্যক্তিগত ফ্রিকোয়েন্সি বাড়াই, তাহলে কালেক্টিভ ফ্রিকোয়েন্সি বাড়বে। এর অর্থ হল, নাস্তিকদের বসে বসে মুসলিমদের দোষ ধরার কোন প্রয়োজন নাই। এতে হিংসামির মাধ্যমে ফ্রিকোয়েন্সি আরও কমে যায়। বরং নাস্তিকদের উচিৎ তাদের নিজেদের দোষগুলা ঠিক করা। নিজেদের উন্নত করা। মুসলিমদের বোঝা উচিৎ তাদের ধর্মে প্রচুর গোঁড়ামি আর ভন্ডামি ঢুকে পড়সে, সেগুলা পরিষ্কার করা।

এখন এটা বলে শেষ করি যে যে অদৃশ্য শক্তি আমাদের সরকারের উপরে ভর করে আমাদের রক্ত চুষে খায়, এদের প্রধান অস্ত্র হল ভয়। এরা ভয় দেখায়ে সবাইকে এদের কব্জার মধ্যে রাখে। এই মুহূর্তে আপনারা যে জঙ্গিদের ভয়ে ভীত -- এটাও এদেরই সাজানো নাটক। এভাবেই এরা যুগে যুগে চালাকির মাধ্যমে আপনাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখায়ে এদের ফায়দা লুটে যায়। আমাদের প্যারাডাইম শিফটের মূল বিষয়ই হচ্ছে যে এখন এই ইন্টারনেটের যুগে আপনারা সবাই ওদের চালাকিটা ধরে ফেলবেন। ওরা আর আপনাদের ভয় দেখায়ে ওদের অ্যাজেন্ডা হাসিল করতে পারবে না। আপনারা যদি শুধু এই একটা ব্যাপার বুঝতে পারেন, তাহলে কিন্তু এদের দফা রফা। কারণ আপনাদের সাপোর্ট ছাড়া কিন্তু এরা এক পাও ফেলতে পারেনা। আপনাদের মগজ ধোলাইয়ের ভরসাতেই এরা চলে। কাজেই যেদিন ম্যাস পিপল ওদের চালাকি ধরে ফেলবে, সেদিন থেকে ওদের কেরামতি শেষ। ঐদিন থেকে শুরু হবে আমাদের মুক্তির পথে যাত্রা।

No comments:

Post a Comment