Wednesday, July 27, 2016

paradigm shift - blog in bengali


প্যারাডাইম শিফট

এই একটু আগে সিঁড়ির লাইট অফ করার সময় এক হিন্দু ভদ্রলোক বললেন যে আপনারা থানা থেকে যে ফর্মগুলা দিয়েছে বাড়ির সবার সম্পর্কে তথ্য দেয়ার জন্য সেগুলা পূরণ করে দিলেই তো পারেন, দেশের যা অবস্থা। আমিও ছাড়লাম না উনাকে, বুঝালাম যে ঐ তথ্যে তো আপনার নাম ঠিকানাই থাকবে। ওটা তো আপনাকে ফাঁসানোর কাজেই ব্যবহার করবে দুর্নীতিবাজ সরকার। এত সমস্ত জঙ্গি খুন বোমাবাজি যে সরকার নিজেই করতেছে, এটা কি আপনারা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি? মজার ব্যাপার হচ্ছে যে আমার পরিচিত অত্যন্ত শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও এই ব্যাপারটা বুঝতে পারেনা। যতভাবেই বুঝাইনা কেন, মগজ ধোলাই প্রিভেইলস। দিনের শেষে এরা জঙ্গি জঙ্গি করে ভয়ে কাঁপতে থাকে। কিছুতেই কোন বিষয়ে কোন গভীর চিন্তা করতে পারেনা। সবকিছু ঐ মেইন্সট্রিম মিডিয়ার সাপেক্ষে চিন্তা করে। কিছু পণ্ডিত আছে যারা খুব সায়েন্টিফিক জার্নাল কপচায়। যেমন আমি এনএসইউতে দেখসি কিছু চ্যাংড়া পিএইচডি। এদেরকে ওখানকার ডিরেক্টররা মাথায় তুলে নাচে। আমি যে ২০ বছরের এক্সপেরিয়েন্সওয়ালা অ্যামেরিকায় চাকরি করা ঝানু মাল, আমরা যেন এদের চাকর ছিলাম। যাইহোক, জেনারেলি স্পিকিং, বাঙালি কাউকে সম্মান দিতে জানে না। সম্মান দেয়া বলতে এরা বোঝে যারা লোক দেখানো নামাজ পড়ে, একধরণের নকল সোশ্যাল ফাসাদ মেইন্টেইন করা ভন্ড লোকদের বাঙালি খুব সম্মান দেয়, তাও সেটা সামনে। পিছনে না। ৯৫% এই ক্যাটেগরির লোক। আর ৫% ভাল।

আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু কনশাসনেস পোর্টাল খুলে দেয়া। গত কয়েক বছরে বুঝতে পারলাম যে দেশের মানুষ একটা অন্ধকার বাবলের মধ্যে আটকা পড়া। এই বাবলের বাইরে কেউ এখনও চিন্তা করতে শেখেনি। অথচ দেশের বাইরে কিছু মানুষ, তাদের কনশাসনেসকে কমকরেও ১০০ বছর আগায়ে নিয়ে গেছে যা সম্পর্কে একজন বাঙ্গালিরও কোন ধারণা নাই। এটা তো একটা মহা অদ্ভুত ব্যাপার এই ইন্টারনেটের যুগে যেখানে সবকিছু সবার নখদর্পণে চলে আসছে। কাজেই শুরু হল আমার পড়াশুনা আর সবাইকে জানানোর প্রচেষ্টা। চাকরি বাকরি সব গোল্লায় গেল। শুধু পড়ি আর পড়ি। জানি আর জানি। একটা বই থেকে আরেকটা বই। একটা ভিডিও থেকে আরেকটায়। কি দারুন এই জানার নেশা! নিজেকে প্রচণ্ড ভাগ্যবান মনে হল।

তবে এই সুখ ভুত হয়ে কামড়াতে দেরী হলনা যখন দেখলাম আমার স্কুলের বন্ধু, কলেজের বন্ধু, বুয়েটের বন্ধু, বন্ধুদের বন্ধু, পাড়াতো বন্ধু, ফ্যামিলি মেম্বার, ইন্টারনেটের বন্ধু, কোন একজনকেও কোন একটা কথাও বিশ্বাস করাতে পারলাম না। এক এক করে সবাই বিদায় হল। আমি আবার নতুন করে একলা হলাম, কিন্তু এইবার আমি শক্ত থাকলাম কারণ জীবন থেকে সবাই যখন একা করে দিয়ে চলে যায়, তখন কেমন লাগে, সেই তালিম আমার খুব ভালভাবে নেয়া ছিল। পড়াশুনার মাত্রা বাড়ল। ব্লগ আর ভিডিও থেকে বইয়ের দিকে চলে গেল মনোযোগ, কারণ বই না পড়লে একটা বিষয়ের গভীরতায় যাওয়া যায়না। সব ক্ষেত্রে না হলেও, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই, একটা বই একটা সন্তানের মত একজন লেখকের কাছে। একটা বইয়ের ভিতরে সে তার সমস্ত জ্ঞান ঢেলে দেয় যাতে বইটা টাইমলেস হয়। সে চলে গেলেও যেন তার বইয়ের মূল্য রয়ে যায়, এভাবেই বেশীর ভাগ মানুষ বই লেখে। তারমানে এই না যে দালালি করার জন্য এবং মগজ ধোলাই দেয়ার জন্য কোন বই লেখা হয়না। কিন্তু বাস্তবে, যারা এইধরনের বই লেখে, তারা না বুঝেই লেখে। তারা তাদের ভুল শিক্ষাটাকেই আসল মনে করে সেটাই উপস্থাপন করে যায়। আর আমার পরিচিত প্রতিটা মানুষ সেই বইগুলাকেই গস্পেল হিসাবে বিশ্বাস করতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে আমার কোন কথা তারা মানতে পারলো না।

এখন সরাসরি চলে আসি দেশের জঙ্গি ইস্যুতে। এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই এটা বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রই এতদিনে বুঝে ফেলেছেন। গুলশানের সাজানো আইসিস জঙ্গিদেরকে ইচ্ছা করেই মেরে ফেলা হয়েছে যাতে তারা কোনদিন সত্যটাকে প্রকাশ করতে না পারে। হাস্নাত করিমকে মিথ্যা বলানো এবং মগজ ধোলাই দেয়ার ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। যদি কোনদিন সে বক্তব্য দেয়, তাহলে কি কি মিথ্যা বলবে, সেগুলা শিখানো পড়ানো চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা কোনদিনই দেখতে পাবনা। ঐ স্বপ্ন দেখার কোন মানে নাই। আদৌ কোন জাপানি বা ইটালিয়ান মারা গেছে কিনা, এটা অবশ্য একদিন জানা যাবে, তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে নয়। অবস্থা এখন এমন দাঁড়াইছে যে বিম্পি-জামাতও এখন কিছু হাত-বোমা ফুটায়ে দাবী করতে পারে যে এই অপদার্থ সরকার নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এটা দেশের বোকা জনগণ খাবে। এই দেশের জনগণকে যে সত্যি কথা বলে কোন লাভ হয়না, এটা আমার থেকে ভাল কেউ জানে না। এই দেশের লোক ভাউয়ের উপর চলে। একটা ভাল ভাউ পাইলে ক্যোঁৎ করে গেলে।

এখানে আরেকটা বিষয় হল, আওয়ামী সরকার এত বেশি জনগণের টাকা লুট করে খাইসে গত ৭/৮ বছরে যে এদের আর পেটে তেমন জায়গা নাই। এদের রুচি কমে গেছে। তথ্যমন্ত্রী ইনু যে আওয়ামী সরকারকে হঠাত চোর বলা শুরু করসে, এর পিছনে রয়ের এজেন্ডা থাকতে পারে। বেশীদিন ক্ষমতায় থাকলে, প্রাথমিক পর্যায়ে গলাপর্যন্ত টাকাপয়সা চুরি করার পর মনে হয় কারও কারও দেশপ্রেম জেগে ওঠে। তখন তাদেরকে সরায়ে দিয়ে নতুন আবালদেরকে বসাতে হয়। র-মসাদ-সিয়াইএ এটা খুব ভালভাবেই জানে। এইজন্য এদের ঘনঘন প্যাঁচ খেলতে হয়।

দেশকে দুর্নীতি থেকে বাঁচাতে চাইলে বাংলাদেশের মরফোজেনেটিক ফিল্ড নিয়ে কাজ করতে হবে। এটা হচ্ছে আমাদের সমষ্টিগত সাবকনশাস ফিল্ড যেটা দিয়ে আমাদের রিয়্যালিটি নিয়ন্ত্রিত হয়। বাংলাদেশের মানুষ মনে করে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় সবকিছু হয়, এটা ভুল। ধর্ম হচ্ছে এক নম্বর মগজ ধোলাই যেটা দিয়ে মানুষকে ভুল পথে চালানো হয়। আগে হোক, পরে হোক, একদিন না একদিন বাঙ্গালিকে এই জায়গায় আসতেই হবে। নিজেদের ভুল বুঝতেই হবে। আমার নিজের এক বন্ধুর কথাই বলি। সে ফিনান্সে পড়া ছেলে এবং তার বাবা আওয়ামী লীগের থিঙ্কট্যাংক। তার সাথে বসে অনেক মাল টানছি। সেই আমাকে তালিম দিছে এইসব বিষয়ে। আমাকে ডন হুয়ান পড়াইসে। তারপর বিয়া করে আমাকে ভুলে গেসে। বসুন্ধরায় মুভ করসে। এখন সে গেছে সপরিবারে অ্যামেরিকা ঘুরতে। অ্যামেরিকার একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রীতিমত ঈর্ষান্বিত করার মত বিরাট ভ্যাকেশন।

এটা বলার পিছনে কারণ হল যে আওয়ামী লীগ যারা করে, তারা বেশীর ভাগ দুর্নীতি করার জন্যই করে। কিন্তু আমার এই বন্ধু দুর্নীতিবাজ নয়। সে খুব বুদ্ধিমান। কিন্তু মূল বিষয়টা হল পাত্তি কামানো এবং লিভিং লারজ। এটা খুব প্রয়োজনীয় বটে, কিন্তু আমাদের দেশ এবং পৃথিবীটাকে ঠিক করতে হলে, এর সাথে আরেকটা জিনিষ যোগ করতে হবে যেটা এরা করেনা কারণ জানে যে এটা করলে টাকার ফোকাসটা নষ্ট হয়ে যাবে। ঐ স্যাক্রিফাইসটা কেউ করতে রাজী না। আর এই টাকার নেশাটাই দুর্নীতির প্রধান কারণ। যে চাকরি করে আমার বন্ধু এত টাকা কামাচ্ছে, তাকে যে বেতন দিচ্ছে, সে এত টাকা পাচ্ছে কোথায়? কাউকে কোন না কোনভাবে তো সিস্টেমটাকে মিল্ক করতে হচ্ছে, নাহলে এই উদ্বৃত্ত টাকা আসবে কোত্থেকে?

সেই আরেকটা জিনিষ কি? এটা হল গ্যালাক্টিক কনশাস্নেস। কজমিক কনশাস্নেস। আমার বন্ধু অ্যামেরিকার যেসব জায়গায় যেয়ে ছবি তুলতেছে, সেইসব জায়গায় আমি ১৫ বছর অ্যামেরিকায় থেকেও কোনদিন যাইনি। যাওয়ার আগ্রহ ফীল করিনি। আমি যেতাম বীচে, বারে, পার্কে, রেভে, মিউজিয়ামে, লাইব্রেরীতে। অথচ এখন আমার দোস্তের সেলফি তোলা দেখলে জেলাস লাগে। মনে হয়, কিজন্য আমি রাম্পুরায় পচে মরি? তারপরই মনে পড়ে, ও হ্যাঁ, আমি একটা চাকরিবিহীন, রিল্যাক্সড লাইফ চেয়েছিলাম। সেটাই তো পেয়েছি। তাইলে আপসোস কিসের? অ্যামেরিকান পাসপোর্ট তো আছেই। চাইলেই যাওয়া যায়, কিন্তু বিভিন্ন কারণে যাই না। যাইহোক নিজের দারিদ্র্য আর আলসেমি ডিফেন্ড না করে কাজের কথায় আসি। পৃথিবীতে একটা প্যারাডাইম শিফট হচ্ছে। একটা কার্মিক ক্লেনজিং হচ্ছে, যার কারণে এতসব সন্ত্রাস দেখতে পাচ্ছি। আস্তে আস্তে সরকারের সমস্ত দুর্নীতি বের হয়ে আসবে। আমরা একটা হাইয়ার ফ্রিকোয়েন্সি রিয়্যালিটিতে উত্তরণ করব যেটাকে বলে অ্যাসেনশন।

আমাদের যাদের টাকা পয়সা কম আছে, বা অ্যামেরিকায় ঘুরে বেড়ানোর সামর্থ্য নাই, তাদের দুঃখ করার কিছু নাই কারণ খুব শিগগিরই পৃথিবীর চেহারা পালটে যাবে কারণ এখন যারা পৃথিবীটাকে এক্সপ্লয়েট করে, তারা আর বেশীদিন এটা পারবে না। পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষ এখন এদের দাস, এটা ভবিষ্যতে আর থাকবে না। এই কাজটাকে ত্বরান্বিত করার জন্য আমাদের যেটা করতে হবে তা হল নিজেকে উন্নত করা। আমাদের কালেক্টিভ মরফোজেনেটিক ফিল্ডের যে ফ্রিকোয়েন্সি, সেটা আমাদের সবার ব্যক্তিগত ফ্রিকোয়েন্সির সমষ্টি বা অ্যাভারেজ। কাজেই সবাই যদি আমরা আমাদের ব্যক্তিগত ফ্রিকোয়েন্সি বাড়াই, তাহলে কালেক্টিভ ফ্রিকোয়েন্সি বাড়বে। এর অর্থ হল, নাস্তিকদের বসে বসে মুসলিমদের দোষ ধরার কোন প্রয়োজন নাই। এতে হিংসামির মাধ্যমে ফ্রিকোয়েন্সি আরও কমে যায়। বরং নাস্তিকদের উচিৎ তাদের নিজেদের দোষগুলা ঠিক করা। নিজেদের উন্নত করা। মুসলিমদের বোঝা উচিৎ তাদের ধর্মে প্রচুর গোঁড়ামি আর ভন্ডামি ঢুকে পড়সে, সেগুলা পরিষ্কার করা।

এখন এটা বলে শেষ করি যে যে অদৃশ্য শক্তি আমাদের সরকারের উপরে ভর করে আমাদের রক্ত চুষে খায়, এদের প্রধান অস্ত্র হল ভয়। এরা ভয় দেখায়ে সবাইকে এদের কব্জার মধ্যে রাখে। এই মুহূর্তে আপনারা যে জঙ্গিদের ভয়ে ভীত -- এটাও এদেরই সাজানো নাটক। এভাবেই এরা যুগে যুগে চালাকির মাধ্যমে আপনাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখায়ে এদের ফায়দা লুটে যায়। আমাদের প্যারাডাইম শিফটের মূল বিষয়ই হচ্ছে যে এখন এই ইন্টারনেটের যুগে আপনারা সবাই ওদের চালাকিটা ধরে ফেলবেন। ওরা আর আপনাদের ভয় দেখায়ে ওদের অ্যাজেন্ডা হাসিল করতে পারবে না। আপনারা যদি শুধু এই একটা ব্যাপার বুঝতে পারেন, তাহলে কিন্তু এদের দফা রফা। কারণ আপনাদের সাপোর্ট ছাড়া কিন্তু এরা এক পাও ফেলতে পারেনা। আপনাদের মগজ ধোলাইয়ের ভরসাতেই এরা চলে। কাজেই যেদিন ম্যাস পিপল ওদের চালাকি ধরে ফেলবে, সেদিন থেকে ওদের কেরামতি শেষ। ঐদিন থেকে শুরু হবে আমাদের মুক্তির পথে যাত্রা।

Sunday, July 10, 2016

isis -- the lastest zionist psyops (blog in bengali)

hasnat karim
আগে খুব উৎসাহ নিয়ে লিখতাম যে খুব অসাধারণ সব তথ্য শেয়ার করে বাঙালি জাতিকে মগজ ধোলাই থেকে বের করে আনব, কিন্তু গত কয়েক বছরের প্রচেষ্টার পর বুঝতে পারলাম যে ব্যাপারটা অতটা সরল নয়। আমরা যতটা সহজে মগজ ধোলাই বা কন্সপিরেসি থিওরি জাতীয় টার্মগুলা ব্যবহার করি, এই টার্মগুলা দিয়ে আমরা যে জিনিষগুলাকে রেফার করি, সেগুলা আসলে অনেক বেশি গভীর। প্রত্যেকটা মানুষ একসেট ধারণা নিয়ে চলে। একজন হিন্দু ব্যক্তির ধারণার সেট একজন মুসলমানের ধারণার সেট থেকে আলাদা। এই কারণে এদের চলাফেরা, ধ্যানধারণা কিছুটা আলাদা হয়। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করলাম মুসলমানদের কারণে হিন্দুরা সামহাউ ওদের নিজের ধর্মটাকে ভুলে গেছে। আমার জানামতে, সনাতন ধর্ম আসলে কোন ধর্মই ছিলনা। এটা ছিল বঙ্গ এবং এর আশেপাশের এলাকার একটা সমষ্টিগত প্রজ্ঞা বা উইজডম। পরবর্তীতে বিদেশী শাসকরা ভারতবর্ষে আমদানি করে ইসলাম ধর্ম যেটা এখন আমরা জানি যে ভ্যাটিকা্ন চার্চের গোপন সহায়তায় প্রচার ও প্রসার লাভ করেছিল। মানুষ ধর্মান্তরিত হয় অর্থনৈতিক আর রাজনৈতিক কারণে, বা অন্যভাবে বললে জানের ভয়ে। আজকে যদি আমাদের র-আম্লিক সরকার ঘোষণা দেয় যে বাংলাদেশে সবাইকে মুসলিম হওয়া বাধ্যতামূলক, তাহলে কিছু লোক দেশ ছেড়ে চলে গেলেও, অনেকেই মুসলমান হয়ে যেতে বাধ্য হবে। তারপর দুই-তিন জেনারেশন পার হওয়ার পর আর কারও মনে থাকবে না যে তাদের পূর্বপুরুষ কি ছিল। এভাবেই বিভিন্ন ধর্ম পৃথিবীতে বিস্তার পেয়ে এসেছে।

এইমাত্র যা বললাম, এটার মর্মার্থ কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেননি, এবং বোঝার কথাও না। লক্ষ্য করেন, যে ধর্মান্তরিত হওয়ার পিছনে কোন গভীর যুক্তি বা তত্ত্ব কিন্তু কাজ করছে না। এখানে কোন ধরণের স্পিরিচুয়াল অ্যাওয়েকেনিং হয়নি। শুধুমাত্র সারভাইভালের কারণে মানুষ এক ধর্ম থেকে আরেক ধর্মে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিন্থু ২/৩ জেনারেশন পার হওয়ার পর যখন সবাই ঐ কারণটা ভুলে যায়, তখন কিন্তু সামাজিক আর পারিবারিক কাঠামোর কারণে সহজাতভাবে পূর্বপুরুষের ধর্মটাই অবলম্বন করে ফেলে। এটা নিয়ে আর দুবার চিন্তা করার অবকাশ কিন্তু কাউকে দেয়া হয়না। কেউ কিন্তু একটা শিশুকে বলে না, "এই যে বাছা, এখানে ২০টা প্রধান ধর্মের বিবরণ আছে, তুমি এখান থেকে তোমার যেটা ভাল লাগে সেটা নিজে চয়েস করে নাও।"

তো পরবর্তীতে কি হয়? দেখা যায় এই বাচ্চাটা বড় হয়ে বিভিন্ন পরিবেশের সম্মুখীন হয় যেখানে তার নিজের ধর্মটাকে বিভিন্নভাবে ডিফেন্ড করতে হয়। তখন সে হয়ত তার ধর্মটা নিয়ে পড়াশুনা করে। অথবা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে সে জীবনে বড় একটা ধাক্কা খেয়ে ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মানুষজন তাকে বুঝায় যে সে ধর্ম মানেনি বলেই তার জীবনে এরকম ধাক্কা এসেছে, ইত্যাদি। এভাবে নানা কারণে একজন তার ধর্ম সম্পর্কে আস্তে আস্তে জানতে থাকে। এর পরে সে কোন ধর্ম বিষয়ক আলচনায় গেলে তার ধর্মের বিভিন্ন সমালোচনা শুনে সেগুলাকে কিভাবে জাস্টিফাই করতে হয় সেগুলা শিখে ফেলে এবং এভাবেই ধীরে ধীরে ধর্মের সাথে তার আত্মীয়তা গভীর থেকে গভীরতর হয়ে শেষ বয়সে সে খুব ধার্মিক একটা মন নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। এটা আমরা প্রায়শই দেখি।

এই ধার্মিক ব্যক্তিটির কিন্তু মৃত্যুর সময়ে কখনও মনে পড়েনা যে তিন জেনারেশন আগে তার পূর্বপুরুষ জানের ভয়ে এই ধর্মটা অবলম্বন করেছিল।

এইটুকু পড়ার পর কি আপনাদের কারও মনে হয় যে আমার কথার সত্যতা বুঝতে পেরে কেউ তার নিজের ধর্ম সম্পর্কে তার যে ইমোশন, সেটা নিয়ে লজ্জিত হবে? তা হবে না কারণ মানুষ আসলে খুব বেশি চিন্তাশীল প্রাণী নয়। অধিকাংশ মানুষ খুব অল্প বুদ্ধি ব্যবহার করে চলে। অনেকেই আমার উপর প্রচণ্ড রেগে গিয়ে গালাগালি করবে অথবা আমাকে মেরে ফেলতে চাইবে। ইতিহাসে আমরা বারবার একই জিনিষ দেখে গেছি যে উচ্চতর চিন্তার মানুষকে মানবতা কখনও সহ্য করতে পারেনা। এদেরকে সাধারণত একঘরে করে দেয়া হয় বা মেরে ফেলা হয়। কিন্তু আবার নিজেই নিজেকে উচ্চতর চিন্তার মানুষ বলে লজ্জা দেয়াটাও বোকামি হবে। যাহোক এবার আপনাদের আরেকটা দিক বলি।

ধরেন ঐ তিন পুরুষ আগে এই ধার্মিক ব্যাক্তির পূর্বপুরুষ ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বী। তাদের কিছু উত্তরসূরিদের অন্য কোন দেশে বা কালচারে বড় হওয়ার কারণে ধর্মান্তরিত হতে হয়নি। তো এই পক্ষ ঐ ধর্মান্তরিত পক্ষের কাণ্ডকারখানা দেখতে দেখতে আর তার সমালোচনা করতে করতে আস্তে আস্তে ঐ বিপরীত পক্ষের মতই আচরণ করা শুরু করল। এবং এক পর্যায়ে দেখা গেল যে দুইপক্ষ সারাক্ষণ একদল আরেকদলের সমালোচনা আর গালাগালিতেই ব্যস্ত। দুই পক্ষের আচরণে আর তেমন কোন তফাৎ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। এই দৃশ্য কি কেউ কখনও দেখেছেন?

এরপর আমাদের মডার্ন যুগে তৈরি হল নাস্তিক-ব্লগার কাল্ট। বাংলাদেশের অতিধর্মীয়তার কারনে এই নাস্তিক কাল্টটার জন্ম অবধারিত ছিল কারণ ইউনিভারসে প্রতিটা শক্তির বিপরিতে তৈরি হয় একটা প্রতিশক্তি। কিন্তু দেখা গেল, সেকুলার চিন্তা করা সত্ত্বেও, এরা ফ্যানাটিসিজমের কাদায় পড়ে একধরণের অ্যান্টি-ফ্যানাটিক ফ্যানাটিসিজমের স্বীকার হয়ে গিয়ে, ঠিক উপরের দুই পক্ষের মতই, এই আস্তিক-নাস্তিক দুই পক্ষের আচরণও হুবহু একই রকম হওয়া শুরু করলো। এ ওকে গালি দেয়, আর ও একে, এর বেশি কিছু নয়। বছর শেষে ঈদ আসলে, দুই পক্ষই বাসায় সেমাই খায়।

এই তিন পক্ষের সাথে এখন আপনি যোগ দেন একটা চতুর্থ গ্রুপ যার নাম কম্যুনিস্ট পক্ষ যারা সাধারনত নাস্তিক হওয়ার কথা। এই পক্ষ সাধারণত ক্যাপিটালিজম আর ইম্পিরিয়ালিজমের ডার্ক রিয়্যালিটিটা কিছুটা বুঝতে পারে, কিন্তু বলশেভিক রেভোলুশন যে রথসচাইল্ডদের সাইঅপ্স ছিল এটা না জানার কারণে একটা কমন ফাঁদে পড়ে যায় এবং একটা ডেলুশনাল কৃষক-শ্রমিক রেভোলুশনের স্বপ্ন দেখতে থাকে।

এতক্ষণ যা বললাম এই প্রেক্ষাপটটা আপনারা মাথায় রাখেন। এটা কিন্তু একধরণের হিংসামি আর গালাগালির কালচার যেখানে সব গ্রুপের শিয়ালের কমবেশি একই রা -- আমার ধর্ম তোর ধর্মের চেয়ে একশো গুণ ভাল। তোরা এইটা এইটা খারাপ কাম করসোস, আর আমরা এইটা এইটা ভাল কাম করসি। মোটামুটি সবাই এই মেন্টালিটি নিয়ে বসে আছে। এ কয় তুই বেশি খারাপ, ও কয় না তুই।

এর মধ্যে মোটামুটি ২০-২৫ বছর আগে অ্যামেরিকা থেকে খবর আসলো যে মধ্যপ্রাচ্যের আরবরা খুব বর্বর এবং জঙ্গি। একদিকে ব্যালফোর ডেক্লারেশনের মাধ্যমে রথসচাইল্ড কাবাল শুরু করলো প্যালেস্টাইন ধ্বংস করে ইজরাইল তৈরির কাজ, আর অন্যদিকে বিভিন্ন ইসলামিক দেশে অ্যামেরিকার রেজিম চেঞ্জ অ্যাজেন্ডা কার্যকরী হয়ে তৈরি হল সালাফি, ওয়াহাবি, ডনমে, তালিবান, এবং শেষের দিকে ৯/১১ জায়োনিস্ট ফলস্ফল্যাগের পরে আমরা প্রেসিডেন্ট বুশের মুখে শুনতে পেলাম একটা নতুন নাম -- আল কায়িদা। বুশ বলল যে এই আল কায়িদা ৯/১১ টুইন টাওয়ার ক্র্যাশ ঘটাইসে। এর পরবর্তী ১৫ বছরে বিভিন্ন কন্সপিরেসি থিয়োরিস্ট আর ইনভেস্টিগেটররা গবেষণা করে সন্দেহাতীতভাবে বের করে ফেলে যে বুশ মিথ্যা কথা বলেছিল। আল কায়িদা নামে আসলে কিছু নাই। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসেনা কারণ বুশের মুখ থেকে ঐ আল-কায়িদা নামটা শুনে আমাদের উপরের ঐ চার গ্রুপকে এটা নিয়ে যুদ্ধ করতে দেখে গত পনেরো বছরে সিয়াইএ বেশ কয়েকটা দেশে এই নামে কিছু জঙ্গি গ্রুপ তৈরি করে ফেলসে। এখন স্বভাবতই সবাই ভুলে গেছে যে আল কায়িদা নামে তো আসলে কোন সংগঠন ছিল না। ওটা বুশ মিথ্যা বলেছিল। কিন্তু কে শোনে কার কথা?

ইন ফ্যাক্ট, আল কায়িদা নামটার সাফল্য দেখে সিয়াইএ এটাকে আরও এক্সপ্যান্ড করে খুব হাই বাজেট একটা নতুন সাইঅপ্স তৈরি করে যেটাকে আজকে আমরা জানি আইসিস হিসাবে। এখন আপনি যদি ঐ চার গ্রুপের পাল্লায় পড়েন, তাহলে দেখবেন যে প্রত্যেকটা মেম্বার এদের বিষয়ে দশপাতার রচনা লিখে দিতে পারবে আপনাকে। সিয়াইএর কোইন্টেলপ্রো এর এটাই ক্ষমতা -- শূন্য থেকে এরা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনবান ও ক্ষমতাবান জঙ্গি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারে যারা ভুলেও ইজরাইলকে একটা ধমকও দেয়না, কিন্তু বিভিন্ন ইসলামিক দেশে ত্রাসের সঞ্চার করার জন্য এখন মরীয়া হয়ে গেছে।

অবধারিতভাবে উপরের চার গ্রুপের সবাই বিশ্বাস করে যে আইসিস ইসলাম ভিত্তিক একটা জঙ্গি দল। এরা মানবতার শত্রু। এরপর ঢাকার গুলশানে আমরা দেখলাম যে সাজানো নাটকের মত চারটা ছেলের একটা বন্দুক আর গামছা নিয়ে একটা পতাকার সামনে দাঁড়ায়ে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সদাহাস্যময় মুখে পোজ দিয়ে তোলা ছবি কে যেন খুব সময়মত ফেসবুকে ছেড়ে দিল। সবকিছু ক্লকওয়ার্কের মত ঘটতে থাকল। প্রথমে মারাত্মক বিস্ফোরণে কিছু পুলিশ মারা গেল। পরে চার পাঁচ জন প্রাইভেট ইউনিতে পড়া বড়লোকের পোলাপান, এর মধ্যে আবার আওয়ামী নেতার পোলাও আছে (যেটা এই সাইঅপ্সের আরেকটা অ্যাস্পেক্ট, আওয়ামী নেতাদের বুঝানো, তারা যেন বেশি তেড়িবেড়ি না করে), এরা নাকি রাতে ২০-২২ জন ব্যক্তিকে জবাই করে রক্তের বন্যা বওয়ায় দিয়ে, নিজেদেরকে বাঁচানোর কোন চেষ্টা না করে, গদাইলস্করি চালে সকাল বেলা প্রকৌশলী হাসনাত করিমের সাথে দরজায় দাঁড়ায়ে অলসভাবে কমান্ডো অভিযানে মৃত্যুর অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল। ব্যাপারটা অদ্ভুত।

কোরান শরিফ পড়লে নাকি যে কেউ এরকম সুইসাইড জ্বিহাদী হতে পারে, এটাই আমাদের চারদলের বক্তব্য। পুরা দোষটাই নাকি কোরান শরীফের। ঐ আওয়ামী নেতার ছেলে যে ইন্ডিয়া থেকে নিখোঁজ বা অ্যারেস্ট হয়েছিল, সে ইন্ডিয়ায় কি করছিল, কিভাবে নিখোঁজ হল, কেন তাদের জেলে রাখা হয়েছিল, এরকম শত প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এবং আমরা বিডিয়ার ম্যাসাকারের অভিজ্ঞতা থেকে জানি এইসব উত্তর আওয়ামী রেজিম কখনও দিতে পারেনা। আমরা ঐ ছেলেদের খুন করার সময়ের সিসিক্যাম দেখতে পারিনি যেটা দিয়ে প্রমাণ করা যায় যে ঐ ছবিতে পোজ দেয়া ছেলেগুলা আদৌ কাউকে খুন করেছে। আমার আন্দাজ মতে, এই ছেলেগুলাকে খুব সম্ভবত বলা হয়েছিল যে আইসিস নিয়ে একটা শর্ট ফিল্ম করা হবে যেখানে ওরা অভিনয় করবে। বাই দ্য ওয়ে, এটা সিয়াইএর একটা কমন ট্রিক মানুষকে ফাঁসানোর।

তো আমার এত বড় রচনা লেখার পিছনের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার। সমস্ত ক্লু একদিকেই আঙ্গুল নির্দেশ করে যে গুলশানের এই সাইঅপ্স র-মসাদ-সিয়াইএর একটি যৌথ প্রযোজনা। ভারত আর অ্যামেরিকার স্পেশাল ফোরস বোধহয় ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে ঢুকে গেছে, অথবা প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কালকে বেলি রোডে মিনিস্টারস অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে, যেখানে রাজীবের সাথে আড্ডা দিতাম ওখানে সাইকেল দিয়ে ঢুকতে যেয়ে দেখি বন্দুক হাতে সব গার্ড দাঁড়ানো। ভয়ের চোটে পরে অফিসারস ক্লাবে যেয়ে লেলিনদের ফোন করে জানলাম ওদের আসতে একটু দেরী হবে। তো ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর স্প্রাইট খাওয়ার মাঝখানে ওয়েটারটা এসে বলে এক্সকিউজ মি, আপনি কি এখানকার মেম্বার? মানে ও আমার ধ্যারধ্যারা জিন্স, স্যান্ডেল, আর টি সার্ট দেখে জঙ্গি ঠাউরেছে। পরে আমার অ্যামেরিকান স্টাইল কথাবার্তা শুনে আবার অ্যাপোলোজাইজও করল। তো ব্যাপার এটাই। পুরা বাংলাদেশ ভয়ে শিটকে গেছে।

পরে আমরা স্কুল ফ্রেন্ডরা ১৫-২০ জন অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম। এক পর্যায়ে আমি আর না পেরে বলে উঠলাম যে আমি জঙ্গি বিষয়ে কথা বলতে চাই। সবাই একদম হাঁহাঁ করে উঠল যেন সর্বনাশ হয়ে যাবে। সবকিছুর নাকি প্রপার স্থান কাল পাত্র আছে। চুপ হয়ে গেলাম কিন্তু মনটা অস্থির হয়ে থাকল। গত সাত বছরে এদেরকে আমি বুঝাতে পারিনি গ্লোবাল অ্যাওয়ারনেসের মর্ম। আমার কোন সন্দেহ নাই যে আমার ক্লাসমেটদের প্রত্যেকের ধারণা আইসিস এখন বাংলাদেশে এবং এরা মুসলিম জঙ্গি প্রতিষ্ঠান। এটা যে র-সিয়াইএ-মসাদের একটা যৌথ প্রযোজনায় করা নাটক এই কথা একবার বলার সুযোগও পেলাম না। দুঃখ এটাই, আমাদের দেশে সবাই সবকিছু খুব দ্রুত বুঝে ফেলি, আর দ্বিতীয় কোন অপিনিয়ন শুনতে আমরা কেউ আগ্রহী না। অফিশিয়াল স্টোরিতে যে হাজার হাজার ফাঁক থেকে যায় সেগুলা কোন ব্যাপার না। উপরে বর্ণিত চারগ্রুপের কচকচানি এখন তুঙ্গে। মগজধোলাই জিন্দাবাদ।