Wednesday, March 23, 2016

stories of dhaka 10 (blog in bengali)

 ঢাকা শহরের কেচ্ছা ১০

আজকের গপ্পে থাকবে আমাদের চিটাগাং গিয়ে মুর্তজা বশীরের উপর মিরাজের ডকুমেন্টারি বানানোর কেচ্ছা। আপনারা জানেন আমি এইসব মেইন্সট্রীম আর্ট-কালচারকে আজকাল আর বেশি একটা পাত্তা দেইনা, হুদাই তেনা পেচাইন্না সময় নষ্ট করে মেট্রিক্সের চিরাচরিত একঘেয়ে স্মার্ট হওয়ার অপচেষ্টা লাগে, কিন্তু মিরাজের ডাকে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত ফিরি থাকা-খাওয়ার অফারটা নিয়েই নিলাম। মিরাজ জানে ওর ওল্ড স্কুল আর্ট কালচারের কচকচানি আমি বেশি পাত্তা দেই না, তবু আমাকে সঙ্গে যাওয়ার যে সম্মানটা সে আমাকে দিল, আল্টিরিওর মোটিভ যাইই থাক, আমি চেষ্টা করবো ওকে বেশি না পচাতে। আমি আসলে কাউকে পচাতে চাইনা, কিন্তু সবাই এত বেশি স্পিরিচুয়ালি ডিস্কানেক্টেড যে এদের পচানি খাওয়া দরকার আছে। মিরাজ ছাড়া কারও কাছে এর আগে আমি আসলে মুর্তজার নাম শুনিনি বা ওঁর সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। উনি যে ডঃ মুঃ শহীদুল্লার ছেলে, তাও জানতাম না। উনি আর্টিস্ট না লেখক, এটা অনেক পরে বুঝছি। তবে আমার এই ধরণের অজ্ঞতা নিয়ে খুব বেশি লাজ লজ্জা নাই কারণ আমি যে সাব্জেক্টে জানি সেটা আরও ইম্পরট্যান্ট। তবে মিরাজ যেসব সুশীল ব্যক্তিদের ইন্টার্ভিউ নিল, তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারলাম যে এই কাজের জন্য মিরাজের চেয়ে সুপাত্র বোধহয় আর কেউ নাই। আর লোকটাও বেশ আমাদের মতই পশ্চিমা ঢঙ্গের। উনি দেশ বিদেশ শুধু চষেই খা্ননি, পিকাসোর সাথে নিজেকে তুলনা করার মত গাটসও তাঁর ছিল বা আছে। 


পাঁচজনের এক ক্যামেরা ক্রুর সাথে মিরাজ নিয়েছিল আমাদের প্রিয় নুহু ভাইকে। এই সেই সংবিধানের ফেরিওয়ালা যে সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সংবিধান সম্পর্কে হাতেখড়ি দেয়। ও অনেক ভুলে যাওয়া অভিমানী মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজে বের করে তাঁদের আর্থিক সাহায্যও দেয়। এগুলাকে আমার কাছে এক ধরণের সস্তা রোমান্টিকতা লাগে, অনেকটা ভিক্ষা দেয়ার মত, যেটা দিয়ে কোন প্রকৃত সমাধান হয়না, শুধু সাময়িকভাবে নিজের বিবেককে সুড়সুড়ি দিয়ে খুশি করা। তবে নুহুদার মতে ওর কাজ আমার ঘরে বসে ফেসবুক স্ট্যাটাস মারার চেয়ে বেশি প্রডাক্টিভ। হতেও পারে, তবে আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি অ্যাওয়ারনেস রেইজ করাটা অনেক বেশি জরুরি। তবে হ্যাঁ, ওর নিজেকে একজন ভবিষ্যৎ নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার উছিলা হিসাবে এইসব কাজের মূল্য অনেক। সে খুব অহংকারী একজন ব্যক্তি হলেও, ওটা বাদে সে একজন বেশ ভাল মানুষ। এই ক্রেডিটটা তাকে দেয়া যায়। কিন্তু ইগোর কারণে সে আমার লেসনগুলা গ্রহন করতে পারে না। কেউ তার চেয়ে কোন বিষয়ে বেশি জানে, বোঝে, এবং তাকে বুঝাবে, এটা তার জন্য হজম করা বেশ কঠিন।

মজার ব্যাপার হল, স্পিরিট কিন্তু সবাইকেই যার যার প্রাপ্য লেসন দিতেই থাকে। আর ঠিক এই কারণেই নুহু ভাইয়ের পড়তে হল আমাদের ক্যামেরাম্যান রিয়াজ ভাইয়ের খপ্পরে। মিরাজও ওদেরকে হোটেলে একই ঘরে রাখল। নুহু ভাইয়ের বেশ কষ্ট হয়েছে পেটি টাইর‍্যান্ট রিয়াজ ভাইয়ের খুচরা আদেশ নির্দেশ হজম করে নিজেকে কূল রাখতে। আমিও ওকে এ ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য মনে করায়ে দিলাম ওর বাসে জামবাক-ওয়ালাকে ঝাড়ি দেয়ার কাহিনী। বললাম যে, "আপনার কি মনে আছে, আপনি ঝাড়ি দিয়েছিলেন, এবং আপনার ঝাড়ির পরে সে একটা কাউন্টার আরগুমেন্ট দিয়েছিল, সেটা কি আপনি খেয়াল করেছিলেন?" যথারীতি এটা নিয়ে ও কোন আগ্রহ ফীল করলো না, কাকে জানি ফোন করে ব্যস্ত হয়ে গেল। তো আপনাদের বলে রাখি, ঐ জামবাক-ওয়ালা বলসিল, "ভাই, আমি আগে আসল জামবাকই রাখতাম, কিন্ত কেউ অত দামী জিনিষ কিনতে চায় না, সবাই ঐ ২০ টাকার নকল মালই খোঁজে।" 






কেউ যদি নিজের ইগো কমাতে চায়, তার জন্য সবার আগে রেকমেন্ডেড হল ক্যাস্টানেডার ডন হোয়ান ম্যাটেরিয়াল। টোল্টেক সোরসারি কি জিনিষ, এটা যে না পড়সে, সে বুঝতে পারবে না। আর আমি যে সবাইকে নিয়ে এত মজা মারি, স্পিরিট কিন্তু আমাকেও ছাড়ে না। আর যে যত বড় সাইজের পণ্ডিত, তার জন্য চ্যালেঞ্জও সেই মাপের হয়। আসার পথে মিরাজের গাড়ির পিছনের চাক্কা গেল ফেটে। আমিও সেই সুযোগে ঢাল বেয়ে নামলাম হিসু করতে, কিন্তু বিপদ আমার যেটা হয়, হিসু বেশিক্ষণ আটকে রাখলে, তখন হিসুর সাথে একটু হাগুও... মানে আমি এটা লিখা উচিৎ কি উচিৎ না আসলে জানিনা। কিন্তু এই ধরণের ঘটনা আমার বেশ ঘটে -- হাগুর সাথে আমার বনে না। এইটা যে ঠিক কি ধরণের কার্স আমার জানা নাই। হয়ত আমি মানুষ বেশি ভাল না তাই...

কিভাবে এটা সামাল দিলাম বলি। জ্যাকের উপর রাখা অবস্থায়ই গাড়িতে ঢুকে পড়লাম আর আগের এক্সপেরিয়েন্স থেকে জানি যে বসলেই একেবারে কেল্লা ফতে, তাই বসার আগেই ইনসার্ট করে দিলাম টিস্যু পেপার। এতক্ষনে হুঁশ হল যে গাড়িটা তিন চাক্কার উপর খাঁড়ানো। আবার নামলাম। তারপর একটু এদিক ওদিক পায়চারী করার ভান করতে করতে প্যান্টের ভিতর দিয়ে হাত ঢুকায়ে দিয়ে কাপড় ঠিক করার মত একটা ভাব করতে করতে টিস্যুর পর টিস্যু মেরে মোটামুটি কাজ সেরে ফেললাম। কে জানে মিরাজ বা ওসমান আমার গায়ে গুয়ের গন্ধ পাইসে কিনা? সত্যি বলছি আমার আর কিছু করার ছিল না। আমাকে সবাই মাফ করবেন।


তো আমার গল্প বোধহয় প্রায় শেষ আজকের মত। পাঁচদিনের ট্রিপটা অনেক ফান ছিল। নুহু ভাইয়ের কাছে ফ্রিমেসনদের সম্পর্কে অনেক তথ্য পেলাম। ওকে বলার চেষ্টা করছিলাম যে এই প্রাথমিক ধারণাগুলা আরও বেশি পড়লে আস্তে আস্তে বদলে যায়, আর পাঁচটা ফ্যামিলির নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে কাবাল শব্দটা তৈরি হয়নি, কিন্তু ওর ইগোর অবস্থা দেখে আর সাহস পেলাম না। বেচারা এমনিতেই রিয়াজ ভাইয়ের লিডারশীপ নিয়ে বিপর্যস্ত। আসার পথে গাড়িতে মিরাজকে অনেক ক্লান্ত মনে হল। ও যেন বুঝতে পারছিল যে ওর এত পরিশ্রমের ফিউটিলিটিটা। কিম্বা হয়ত এটা আমার প্রজেকশন। আমি মানুষকে শিখাই যে পৃথিবীটা রেপ্টিলিয়ানরা কন্ট্রোল করে। এটা বোঝা মুর্তজা বশীরের শিল্পকর্ম বোঝার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা যে ক্যামেরা ক্রু নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের আলাপচারিতা শুনলাম। এই ছোট্ট প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে যে নাটকগুলা হল -- যেমন হোটেলে ফ্রি ইন্টারনেট পেয়ে সবাই রাত জেগে মুভি দেখে পরের দিন কাজের বারোটা বাজল প্রায়। রিয়াজ ভাইয়ের ঝাড়ি, নাস্তা খাওয়ার সময় নাই, ইত্যাদি। এগুলা নিয়েই তো আমাদের মেট্রিক্সের জীবন। এভাবে দেখলে আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্ত খুব দামী আর অর্থপূর্ণ। আমার পক্ষ থেকে থাকলো সবার জন্য ভালবাসা। আর মিরাজের জন্য অভিনন্দন। 


No comments:

Post a Comment