Saturday, February 27, 2016

stories of dhaka 8 - in bengali (blog)

ঢাকা শহরের কেচ্ছা ৮



রিডারশিপের সাথে লেখার ইন্সপিরেশনের যে কোন সম্পর্ক নাই এটা বলা যাচ্ছে না। হয়ত এটা ইগো ইস্যু। অনেকদিন না লেখাতে ইস্যু জমে গেসে সেই ফাকরুলের অফিস যাওয়ার সময় থেকে। আমি আর তালুকদার হিসাব করলাম যে নাইমুল ইসলাম খান বেসিক্যালি রয়ের এজেন্ট। এখন ব্যাপারটা একটু হাস্যকরই হয়ে যাচ্ছে যে আমরা সব জায়গায় রয়ের গন্ধ পাচ্ছি। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা প্রচণ্ড সিরিয়াস। আমাদের জাতীয় উন্নতির প্রধান বাধা আসলে র। এটা যাতে জনগণ কখনও খেয়াল না করে, এইজন্যই মিডিয়া সারাক্ষণ পাক-নিন্দা, রাজাকার, জামাত-শিবির, আইএসাই, ইত্যাদি তথাকথিত "সন্ত্রাসী" নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকে। আবার এদিকে জানা গেল যে নাইম সাহেবের স্ত্রী তসলিমা নাসরিনও রয়ের সাথে অ্যাফিলিয়েটেড। উনার লেখাকে র উস্কানিমুলক  এবং ইসলামবিরোধী প্রজেক্ট হিসাবে স্পন্সর করেছে বলে কেউ কেউ দাবী করেছেন। এটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব হাই কারণ তসলিমা নাসরিন একজন কাল্ট ফিগারের মত হয়ে গেছেন। উঠতি বয়সের মেয়েরা এবং তথাকথিত নাস্তিক-ব্লগার টাইপের উদারমনারা উনাকে বেশ বেইল দেয় দেখি, যদিও উনার লেখা পড়া যায় না। আমার চোখে বেশ নিম্নমানের, তবে আমি আবার হুমায়ুন আহমেদের মত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ লেখককেও বেশি বেইল দেই না। এইজন্য আমার কিছু ফেসবুক ফ্রেন্ডও হারাতে হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সুবিধাভোগ ব্যতিরেকে উনার সত্য লেখার সৎসাহস যথেষ্ট এবং এটাকে আমি সম্মান করি।

গত পরশু বাসায় গলা ভিজানো পার্টি হল কিন্তু ডিনারের বন্দোবস্ত না থাকায় সবাই ৯টার মধ্যেই ফুড়ুৎ। তার আগে দুপুর থেকে কাঠমিস্ত্রী চরালাম ভাঙ্গা সোফা ঠিক করার জন্য। এই সোফাটা আব্বা কিনেছিল। দেখতে কিম্ভুত, বাজে গোলাপি টাইপের রং ছিল সেই আমলে, কিন্তু ব্যবহার হতে হতে, ময়লা হয়ে এখন চোখে সয়ে গেছে। এখন আব্বার স্মৃতি হিসাবে আর বদলাতে ইচ্ছা করে না। যদিও আব্বার সাথে আমি ক্লোজ হতে পারিনি আম্মার কারণে বলা যায়। আম্মা ডমিনেটিং ছিল বলে সব সময় আম্মার দলে পড়ে যেতাম। কিম্বা হয়ত আম্মার সাথে আমার বেশি মিল বলে আম্মার কথা বেশি যুক্তিসঙ্গত মনে হত। তো চাচারা যখন একটার পর একটা জমি আর আব্বার তৈরি করা বাড়িগুলা হাতায়ে নিল, তখন মনে মনে কষ্ট পাইসি। চাচারা বিভিন্ন অজুহাত দিসে। আর আব্বা সারাক্ষণ টাকা চাইত কিন্তু আম্মা দিতে দিত না। হয়তো দেয়া উচিৎ ছিল। বুড়া বাপ কষ্ট করে আমাদের মানুষ করসে এটা তো ঠিক। আর ব্যাংকে টাকা জমায়েও তো লাভ হয়নি -- সিটিব্যাঙ্ক সব হজম করে দিল। আমার ধারণা আমার নিজের দুলাভাই এই কুকাজটা করসে। এবং এটা মনে হওয়ার পিছনে কারণ আছে। তবে এখন জানি দুনিয়া এরকমই। এখন কাউকে বিশ্বাস করতে পারিনা। কিন্তু সেটাও ভাল না।

তো চেংড়া কাঠমিস্ত্রী আসলে আমাদের পুরানা মিস্ত্রীর পোলা। কিন্তু ওকে দেখলে আর কথাবার্তা শুনলে কেন জানি গা রিরি করতো। বুঝতাম যে আম্মাকে ঠকায়, কিন্তু মনোযোগ দেইনি। এইবার এই সোফা ঠিক করতে গিয়ে দুই সিএফটি গর্জন কাঠ কিনতে ৪,০০০ টাকা নিয়ে গেল। মেহগনিতে নাকি ঘুণ ধরে। ভাল কথা। পরের দিন যথারীতি হাওয়া। ফোন করে ঝাড়ি দিয়ে দুপুরের পরে হাজির করালাম। কাঠ নিয়ে আসছে। কাঠের মাপ চেক করতে যেয়ে দেখি ভুয়া রিসিট। কাঠ দেখা যাচ্ছে ১ ইঞ্চি চওড়া, ও লেখে দেড়। বললাম, ব্যাপার কি? ও বলল, কাটার সময় গুঁড়া পইরা চিকন হয়া যায়। আমি বললাম, তাই নাকি? সাইকেল নিয়ে বাসার কাছে কাঠের দোকানে গেলাম। ওরা বলল, কাটার সময় দুই-তিন সুতা কমে আবার পাক্কা মাপও নিতে পারেন চাইলে। কিন্তু দেড় ইঞ্চি কইমা ১ ইঞ্চি হবে না কোন সময়। পরে ওর কাঠ মাপ দিয়ে দেখলাম ঠিক ১ সিএফটি কাঠ নিয়ে আসছে। ঐটা আসলে গর্জন কিনা কে জানে? আমার গেস, ঐটুক কাঠের দাম ১,০০০ টাকা, আর ওর মজুরি ৫০০ মিলে দেড় হাজার টাকার মামলা হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু এখন র আর আম্মিলিকের আমল। দেড় হাজার টাকার কাজে ও চার হাজার টাকা চুরি না করলে খাবে কি, আর এপার্টমেন্ট বুকিং দিবে কেমনে? সঙ্গে নিয়ে আসছে একজন সং, যে দুই মিনিট কাঠে হাত বুলায় আর দশ মিনিট ফেসবুক করে। আই সুয়ার। পরে চিপায় গিয়ে আমার ফাইবার অপ্টিক রাউটারের কেবলের উপর বসে ফেসবুক করতে গিয়ে আমার ওয়াইফাই কানেকশন অফ করে ফেলসিল। আল্লার কসম বানায়ে বলতাসি না। পোলাটারে খালি এইটুক কইলাম যে তোমার বাপ আমাদের সাথে এরকম করে নাই।

আমার লাইনের কথা একটু বলি। সফট ডিস্ক্লোজার চলতেছে ধীর গতিতে। মানুষ যদি মানুষ হইত, তাহলে কাজ অনেক দ্রুত আগাইত। কিন্তু মানুষ আর মানুষ নাই। মগজ ধোলাই খেয়ে সব বেরাছেরা লেগে গেছে। হঠাত হঠাত দুই একজন পাই যে এসে বলে, ভাই আপনার লেখা পড়সি। ভাল লাগসে। এইসব ব্যাপার আমাদের আরও জানা দরকার। তখন মনে একটু শান্তি পাই। বাই দ্য ওয়ে, আম্মা বলল অভিজিতের বাবা নাকি গণজাগরণ মঞ্চে বলসে যে তার ছেলের হত্যার পিছনে সরকারের হাত আছে। এই জাগরণটা বড্ড জরুরি। মানুষের চোখ দ্রুত খুলে যাচ্ছে।

আমি আম্মাকে বুঝালাম যে কেন বিরোধীদল কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারতেছে না। র আর মোসাদ মিলে আম্মিলিককে চরম ডিজিটাল সহায়তা দিচ্ছে। ফোন, ইন্টারনেট, গুগল, ফেসবুক, হোয়াটস্যাপ, ইমো, স্কাইপ, টুইটার, গাড়ির লাইসেন্স প্লেট থেকে শুরু করে সবকিছুতে সারভেইল্যান্স হচ্ছে। আপনার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রসেসগুলা চেক করলে দেখবেন ভিডিও কামেরার প্রসেসটা অযথাই চালু হয়ে আছে। উইন্ডোজ ১০ মোটামুটি আপনার প্রাইভেসি জলাঞ্জলি দিয়ে দিসে। বিম্পির কোন নেতা কার সাথে কি বলে আর ইন্টারনেটে কি করে, সমস্ত অব্জারভেশনে থাকে। একটা মিটিং ডাক দিলেও সে অ্যারেস্ট হয়ে যেতে পারে ভুয়া মামলায়। জনগণ রুখে না দাঁড়ালে এদের ফ্যাশিজম ১০০ বছরেও যাবে না। জীবন হবে এখনকার চেয়ে ১০০গুন দুর্বিষহ।

এখন আশার কথা বলি। আশার ব্যাপার হচ্ছে আমাদেরকে চরমভাবে সাহায্য করতেছে ইটিরা। মগজ ধোলাইয়ের কারণে আপনারা বেশীরভাগ বাঙ্গালিই এটা হজম করতে পারেন না, কিন্তু ঐ প্রাগইতিহাসিক মনোভাব বাদ দেন। যদি আপনি আমার চেয়ে অত বেশি বুদ্ধিমানই হতেন তাইলে এদ্দিনে আমাকে থামাতে পারতেন। আমার কথার ভুল ধরতে পারতেন। কিন্তু পারেননি এবং পারবেনও না। এর কারণ আর কিছুই না, আমরা যথেষ্ট হোম ওয়ার্ক করে তারপর কথা বলি। আর আমি যা যা বলছি, কোনটাই আমার নিজের কথা না। এগুলা প্রচুর পরিমাণ রিসার্চ করা। কাজেই আপনাদের মনোভাব বদলাতে হবে। বুঝতে হবে যে আপনাদের নতুন করে সবকিছু জানা এবং বোঝার সময় হয়েছে।

ইদানিং আমি আন্তন পার্ক (ফ্রেঞ্চ) এবং ড্যান উইন্টারের (অ্যামেরিকান) রিসার্চ রিভিউ করার চেষ্টা করছি। এনারা বলছেন যে ২২টা ইটির গ্রুপ আমাদের ডিএনএ নিয়ে খেলাধুলা করেছে। আমরা ল্যাবে তৈরি করা একটা হাইব্রিড প্রজাতি। আমাদের ধর্মগুলা আনুনাকিদের বানানো। এগুলা আমি আগেও বলেছি তবে আন্তন আর ড্যান অনেক গভীর লেভেলে কথা বলেন। উনাদের কথা বুঝতেও বেশ কষ্ট হয়। আমরা বাঙালি তো সবকিছু একটু বেশি বেশি সেন্টিমেন্টাল লেভেলে নিয়ে ফেলি। এটা আসলে অজ্ঞতারও একটা লক্ষণ বটে। বোকা লোক সহজেই মাইন্ড খেয়ে যায়। কারণ ওর তো নিজেকে ডিফেন্ড করার অন্য কোন অপশন জানা নাই। কিন্তু ধরমানুভুতিতে আঘাত লেগে গেলে আর এই জীবনে সত্যের কাছাকাছি পৌঁছানো হবে না। এটা আমাদের ক্রাক্স অফ দ্য ম্যাটার। আমি বুঝি, আমার অনেক শিক্ষিত, বুদ্ধিমান বন্ধুবান্ধব, ফ্যামিলি ধর্মকে খুব অন্ধভাবে মানে। এদের সাথে আমি তর্কে যাই না। কারণ এটা তর্কের বিষয় না। এটা অনুধাবনের বিষয়। যে মানসিকভাবে প্রস্তুত, শুধু সেই যাচাই করতে পারবে আমাদের কথার সত্যতা। আর আমরাও সেইটুকুই চাই।


No comments:

Post a Comment