Sunday, January 17, 2016

stories of dhaka 7 -- time dilation (in bengali)

ঢাকা শহরের কেচ্ছা ৭ -- টাইম ডাইলেশন



তালুকদাররা আসলে বুঝতেই পারে না আমি কোন কথা কেন বলি। একটা কালচারাল গ্যাপ কাজ করে যেটা ধরতে আমার অনেক সময় লাগলো কারণ মানুষ যে এত গবেট হতে পারে, এটা তো অ্যাস্যুম করা সম্ভব না। বেসিক্যালি, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের চিন্তা ভাবনা খুবই টুইস্টেড। এই যেমন ধরেন, মসজিদ থেকে মাইকগুলা যে খুলে ফেলতে হবে, এই কনসেপ্টটাই কারও মাথায় ঢোকে না। ওরা এটাকে একটা নেগেটিভ আইডিয়া মনে করে। এরকম আমার শতশত ব্রিলিয়ান্ট সাজেশনকে ওরা ভাবে এগুলা এক ধরণের পাগলামি। এগুলা যে আসলে খুব রিয়াল ইস্যুজ যেগুলা মানুষের মাথায় ঢুকে আস্তে আস্তে একটা একটা করে ইম্প্রুভ করতে হবে, এই কনসেপ্টটাই কারও মাথায় ঢোকে না। ইম্প্রুভের কি আছে? সব কিছু তো পারফেক্টলি চলছে। রিয়ালি?

এক গাট্টি টাকা নিয়ে ব্যাংকে দিয়ে আসলাম লম্বা লাইন ঠেঙ্গায়ে। এই ব্যাংক রামপুরার মত একটা গেটো জনবহুল এরিয়াতে হওয়া সত্ত্বেও, এদের সারাজীবনের জন্য একজন টেলার। কাস্টোমারদের দুর্দশা নিয়ে কারও কোন মাথাব্যথা নাই, এমনকি কাস্টোমাররা নিজেরাও এটা বোঝে না। আমার বিলের ভ্যাট যা আসছে সেটাই আসল বিলের চেয়ে বেশি। টাকা চুরির বহরটা এখানে চিন্তাই করা যায় না। অথচ এটা নিয়ে টুঁ শব্দ করার মত বুদ্ধি বিদ্যা এদেশে কারও নাই। সেলফি তুলতে বলেন, আছি। আস্তিক নাস্তিক গবেষণা, আছি। সামথিং দ্যাট অ্যাকচুয়ালি ম্যাটারস, ব্যাটা ছাগল কুনহানকার।

সেদিন তালুকদারকে প্রচণ্ড ক্ষ্যাপায়ে দিলাম। বললাম যে তোমার ভুল আছে। ওরে বাপরে। মহাভারত সম্পূর্ণ অশুদ্ধ হওয়া বাকি। ভদ্রভাবে ঘুরায়ে ফিরায়ে অ্যামেরিকান বলে গালি দেয়া থেকে শুরু কোন কিছু বাকি রাখল না। সব কিছু ও মানবে, কিন্ত ওর কোন জায়গায় ভুল থাকলেও থাকতে পারে, এটা মানবে না। আসলে ওর থেকে বেশি বড় ভুল হইসে আমার। কিন্তু আমি সেটা জেনেও ইচ্ছা করে ওকে বলসি যে ওর ভুল হইসে, শুধু দেখার জন্য যে ওর রিয়াকশনটা কি হয় -- প্রাইসলেস! বাঙালি কোনদিন কোন ভুল করেনি, করবেও না।

আমার নিজের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল যে প্রত্যেকটা বাঙ্গালিকে আমার গবেট আর উন্মাদ মনে হয়। এই যেমন ধরেন, নগর চণ্ডালী নামে ফেসবুক গ্রুপটা -- অদ্ভুত এক সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষভরা গ্রুপ। দেখলে মনে র মোসাদের পেইড ট্রোলরা এই গ্রুপ চালায় অ্যাজ এ সাইঅপ্স, মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ বাড়ানোর জন্য। প্রত্যেকটা লোক এখানে ব্রেইনডেড আর ক্লুলেস। ওখানে কয়দিন আগে আমার এই ঢাকা শহরের কেচ্ছা একটা শেয়ার করলাম। কয়েকজন পড়সে, কিন্তু তেমন কোন রিয়াকশন নাই। হয়ত ওরা ভাবসে এই নতুন পাগল কইত্থে আইল?

তো, টাইম ডাইলেশন, এই টাইটেলটা দিলাম যে যদি বাই চ্যান্স কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তির চোখে পড়ে, সে নিশ্চয়ই ভাববে ব্যাপারটা কি? দেখি তো। গত কয়েক বছর ধরে আমি একটা জিনিষই চেষ্টা করে যাচ্ছি -- কিভাবে বাঙালির কান ধরে টেনে মাথাটাকে অন্ধকার কুশিক্ষাচ্ছন্ন মূর্খতা আর গবেটামি থেকে বের করে আলোতে আনা যায়। পাঁচ বছর পরে, এখন মনে হয়, ভুল আমারই। এটা কোনদিন হবে না। এ এক অসম্ভব কাজ। মিশন ইম্পসিবল। তারপরও করি। অভ্যাস হয়ে গেছে। যা ইচ্ছা তাই লিখে আনন্দ পাই। যে যা ভাবে ভাবুক। আমি আমার মনের সুকথা কুকথা সমস্ত লিখে খালাস হয়ে যাই। এর মধ্যে একটা আরাম আছে। কেউ তো পড়ে না। কারও কিছু যায় আসে না।


সেদিন দেবস্মিতাকে বললাম, তোমরা কোলকাতার লোকেরা বড্ড ভারবোজ। অনেক ইন্টেলেকচুয়াল প্যাচাল পাড়ো, যেটা ঢাকার পোলাপানের চেয়ে অনেক বেশি ইন্টেলিজেন্ট, কিন্তু তোমরা মনে হয় কথার প্যাঁচে হারায়ে যাও। ঢাকার পোলাপান শুধু স্ট্রীট স্মার্ট। এদের কথায় খুব ধার, আর অনেক ভাবস, বিশেষ করে যাদের বাপের কোমড় শক্ত। কিন্তু এদের মাথায় কিছু নাই। অ্যাট বেস্ট এরা কিছু ফিলসফি আর লিটারেচার নিয়ে দুই চার পাতা যা পড়সে, তাই ভাঙ্গায়ে খাওয়ার চেষ্টা করে। এখানে মূল উদ্দেশ্য হল নিজেকে স্মার্ট হিসাবে প্রেজেন্ট করতে পারা। ইমেজ ইস্যু। রিয়াল থিঙ্ক করাটা কি, এটা আমরা জানিই না। হুমায়ুন আহমেদ হল আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল জিনাথ (zenith), মানে শিখর।

আমাদের এই বুদ্ধিমত্তার কাঙ্গালিপনার পিছনের আদি কারণ ধরা যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণ। ওরা যে আমাদের ঝাঁঝরা করে দিয়ে গেল, এর পিছনে মূল কারণ ছিল আমাদের নির্বুদ্ধিতা। আমরা আরামপ্রিয় বোকা জনগোষ্ঠী, এতে তালুকদার যতই ক্ষেপুক, ইহাই সত্য। ব্রিটিশ নেভি ছিল সেই আমলে একটা ভয়ংকর ব্যাপার। আমি কখনও বুঝতাম না যে নেভিকে এত ভয় পাওয়ার কি আছে? ওরা তো সমুদ্রে থাকে। ওখান থেকে কতটাই বা আঘাত করা যায় একটা দেশকে? এখন ঐ আর্ট অভ ওয়ার ফোয়ার পড়ে না বুঝি যে যুদ্ধ মানেই হল সাইঅপ্স। ইটস এ মাইন্ড গেম। আর বুদ্ধিতে আমরা একটু কমই। এ ব্যাপারে কোন ভুল নাই।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বিবেকের তাড়নায় ভারত ছেড়ে যায়নি কিন্তু, এটা কি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। আমার জানামতে পারেননি। ওরা আরও ভাল স্ট্র্যাটেজি পেয়ে গেছে। সেই স্ট্র্যাটেজির নাম হলঃ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমেফ, সিএফার, কমিটি অভ ৩০০, বিআইএস, ট্রাইল্যাটারাল কমিশন, ন্যাটো, ইউএন, বিল্ডারবারগ, ইত্যাদি। ইন্ডিয়াকে ওরা ব্যবহার করে ওদের সাউথ এশিয়ান ইম্পিরিয়াল এজেন্ট হিসাবে। র হল ওদের শোষণের প্রধান হাতিয়ার। ভারতকে দিয়েই ওরা ভারতের আশেপাশের দেশগুলাকে চুষে খায়। আর ভারতকে যে ছেড়ে দেয়, তাও না। ভারতের সরকার ভারত চালায় না। ওদের মালিক বিদেশী। এটা আপনারা এখনও কেউ বোঝেন না বলে এটা নিয়ে কেউ কোন কথাও বলেন না।

আপনারা ব্যস্ত থাকেন মসজিদ মন্দির দাঙ্গা হাঙ্গামা নিয়ে। এগুলা যে সাজানো নাটক, কিছুতেই বুঝতে পারেন না। ফলস ফ্ল্যাগ আর সাইঅপ্সের কনসেপ্টগুলা কিছুতেই আপনাদের মাথায় ঢোকে না। আর যখন ঢোকে, তখন আপনারা আমাদেরকেই উলটা বলা শুরু করেন যে আমরা সাইঅপ্স বুঝিনা। আমরাই যে আপনাদেরকে ব্যাপারটা শিখালাম, সেটা দ্রুত ভুলে গিয়ে আজাইরা মাস্তানি শুরু করেন। ভাবেন যে রাতারাতি খুব পণ্ডিত হয়ে গেলেন। এখন আমরা তো কোন ছার। এটাই আমাদের বাঙালি স্টাইল। আমরা একটি হাস্যকর জাতি বটে।


টাইম ডাইলেশন বুঝতে হলে আপনারা র‍্যান্ডি ক্রেমার নামে একজন ইউএস মেরিনের ডিস্ক্লোজার ভিডিও দেখতে পারেন। ইউস্যাপ (usap -- unacknowledged special access program) নামে অ্যামেরিকায় কিছু ব্ল্যাক প্রজেক্ট আছে। ব্ল্যাক প্রজেক্ট অর্থ হল যে অ্যামেরিকার মেইন্সট্রিম গভর্নমেন্ট এগুলা সম্পর্কে কিছুই জানে না। এগুলা কন্ট্রোল করে শ্যাডো গভর্নমেন্ট। আমাদের ট্যাক্সের ট্রিলিয়ন্স অভ ডলারস এই সব প্রজেক্টে চলে যায় বিধায় আমরা দিন রাত টাকার জন্য ত্রাহি ত্রাহি করতে থাকি। আমাদের টাকা ওরা কিভাবে গিলে ফেলে এ ব্যাপারে কোন আইডিয়া আছে? কিছু করা যায়?

কালকে র‍্যান্ডি ক্রেমারের নামে গুগলে ভিডিও সার্চ দিয়ে দেখলাম যে কিছুই পাওয়া যায় না। গুগল এগুলা সেন্সর করার চেষ্টা করে। চর্চা না থাকলে গুগল দিয়ে কোন ইম্পরট্যান্ট তথ্য বের করা সম্ভব না। এর কারণ এগুলা দিয়ে ওরা মানুষকে মাইন্ড কন্ট্রোল করে। যে কারণে আমাদের বেশীর ভাগ বাঙ্গালিরই কোন ধারণা নাই যে আমরা কি পরিমাণ অন্ধকার জগতে বসবাস করি। চ্যান্সেস আর যে আপনারা সার্চ দিলেও কিছুই খুঁজে পাবেন না। আবার খুঁজে পেলেও এত লম্বা লম্বা ইংরেজি ভিডিও গিলতে পারবেন না। এগুলাই তো আমাদের সমস্যা। এগুলা ওভারকাম করেন। আর কত অন্ধকারে থাকবেন?

র‍্যান্ডি ২০ বছরের বেশি কাজ করেছে একজন ইউএস মেরিন হিসাবে। ওর পোস্টিং ছিল মঙ্গল গ্রহে। আমি ঠাট্টা করছি না, বা গাঁজাও খাইনি। ব্যাপারটা একটা সাধারণ সত্য। ২০ বছর কাজ করার পরে, ওকে এজ রিগ্রেস করে আবার পৃথিবীতে পাঠানো হয়। এটা ওদের একটা স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস। এজ রিগ্রেস মানে হল বয়স কমানো। যে টেকনোলজি দিয়ে এই কাজটা করা হয় সেটাকেই বলে টাইম ডাইলেশন। র‍্যান্ডি হল ল্যাবে তৈরি করা জেনেটিকালি অগমেন্টেড হিউম্যান যার ডিএনএ কপিরাইট ইউএস গভর্নমেন্টের। যদি প্রথমবারের মতন আপনারা এইসব কথা শুনে থাকেন, তাহলে ধাতস্থ হতে সময় নিন। আস্তে আস্তে মাথায় ঢোকান, যে আমি এগুলা কি বলছি। আপনার রিয়্যালিটি কোথায়, আর আমি কি বলছি? দুইটার মধ্যে তো আকাশ পাতাল তফাৎ। জ্বি, গত পাঁচ সাত বছর ধরে এই বিষয়টাই আপনাদের মাথায় ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি কিন্তু কিছুতেই পারা যাচ্ছে না। আপনারা ঐ আস্তিক নাস্তিক ইত্যাদি ছাড়া কিছুই বোঝেন না।

No comments:

Post a Comment