Tuesday, January 5, 2016

stories of dhaka 4 (in bengali)

ঢাকা শহরের কেচ্ছা ৪



আজকে বাসায় ইন্টারনেট নাই। প্রোভাইডার বলল খিলগাঁও এলাকায় আজকে সারাদিন কারেন্ট থাকবে না, মাইকে ঘোষণা দিসে। আমি জানিনা, এইসব কাণ্ড আমার কাছে মানবেতর গুহামানবের যুগের মত লাগে। কয়দিন পরপর সারাদিন ইলেক্ট্রিসিটি বন্ধ করে রাখার মত কি এমন বিশাল প্রজেক্ট চলে এদের, এটা আমার ধর্তব্যে কুলায়না। সবাই নতমুখে সবকিছু মেনে নেয় এই দেশে। দুই একটা সারকাস্টিক কমেন্ট করে যার যার মত স্লেভারিতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কেন এরকম হবে? কেন আমরা সব রকম অন্যায় অনাচার মেনে নিব? তাহলে সিস্টেমটা ঠিক করবে কে? আল্লা? না, আপনাদের বোঝায় ভুল আছে। আমাদের জীবনের যত অনিয়ম আর অত্যাচার চলে, এগুলা বন্ধ করার দায়িত্ব আল্লার নয়, আপনার আর আমার। কাজেই প্লীজ আমাকে বলবেন না যে আমি এত নেগেটিভ কথা বলি কেন। আপনাদের এই কনসেপ্টটাই ভুল। আপনারা সবাই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন, আর সেই সাথে বলতে চাচ্ছেন যে ঐ দায়িত্ব এড়ানোটাই ঠিক। সরি, আমি একমত হতে পারলাম না। আপনারা ভুল পথে যাচ্ছেন। আপনাদের ভুল ঠিক করেন। নিজেদেরকে উন্নত করেন। বোঝার চেষ্টা করেন যে আপনাদের ভুলের কারণেই আমাদের দেশের এই দুর্দশা। এর জন্য আপনি আর আমি দায়ী। এই দায়িত্ববোধটা আপনাদের ভিতরে যতক্ষণ না আসবে, ততদিন আমাদের কোন মুক্তি নাই।

তো যাইহোক, কালকে নির্ঝর আর আমি একটা বড়সড় ভিডিও ব্লগ করার পরে আবিষ্কার করলাম যে পুরা ভিডিওটা আমরা টাইম ল্যাপ্স সেটিং এ রেকর্ড করেছি। মনটা খারাপ হয়ে গেল দুই জনেরই। তাই ঠিক করলাম যে ঐ সাবজেক্টটাই এখন লিখে কাভার করবো। সাবজেক্টটা ছিল, ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ান আর ফ্রিমেসনরির মধ্যে সম্পর্কটা কি। এই ব্যাপারে আমার মোটামুটি পড়াশুনা থাকলেও, এইটুকু বলতে পারি যে এই সাবজেক্টটা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরসে এরকম বই নাই বললেই চলে। ফ্রিমেসনদের নিয়ে অজস্র বই আছে, আবার ড্রেকোদের নিয়েও আছে। কিন্তু এই দুইটার মধ্যে যে কানেকশন, এটা বুঝতে হলে অনেক বই পড়তে পড়তে, আস্তে আস্তে বুঝতে পারা যায় যে ঘটনাটা আসলে কি হচ্ছে। তো গোড়া থেকে শুরু করি।

১০ থেকে ১০০ হাজার বছর আগে আটলান্টিস আর লেমুরিয়া নামে দুইটা সভ্যতা ছিল যারা ছিল ৫ম মাত্রিক বা ফিফথ ডিমেনশনাল। এই ডিমেনশনটা একধরণের উন্নতির লেভেলের পরিমাপ, এখন পৃথিবীতে মোটামুটি তৃতীয় মাত্রিক সভ্যতা বিরাজ করতেছে, কিন্তু সব জায়গায় সমানভাবে নয়। যেমন বাংলাদেশে আমরা প্রায় দ্বিমাত্রিক কার্টুনের মত একধরণের হাস্যকর অবুদ্ধিমান লেভেলে বিরাজ করি যেখানে সব কিছু ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট। যে আস্তিক, সে কট্টর ধার্মিক, আবার যে নাস্তিক, সে কোন প্যারানরমাল কোন কিছুতেই বিশ্বাস করে না -- এই রকম সিমপ্লিস্টিক মেন্টালিটির সবাই। সবাই একটা করে জুতার বাক্স নিয়ে ওটার ভিতরে ঢুকে পড়সি, আর বলে যাচ্ছি, এই দ্যাখো সবাই, এই বাক্সটাই হল শ্রেষ্ঠ বাক্স। সবাই আমার বাক্সে ঢোক, নাহলে রগ কেটে দিব টাইপের ব্যাপার স্যাপার।

যা বোঝা যায়, আটলান্টিস আর লেমুরিয়া যথেষ্ট উন্নত সভ্যতা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে শ্রেনীভেদ ছিল ঠিক এখনকার মতই। এটা অবশ্য একটা অনুমান। এ ব্যাপারে ভাল কোন প্রমাণ আছে কিনা আমি সঠিক জানিনা। তবে হ্যাঁ, আটলান্টিস নিয়ে লেখা অজস্র বই আছে যেগুলা আপনারা পড়ে দেখতে পারেন। অনেকে মনে করে ঐ সভ্যতা দুইটা ছিল রেপ্টিলিয়ান সভ্যতা, কারণ ওরা অনেক আগেই আমাদের গ্রহ আক্রমন করে এটাকে কলোনাইজ করে। কিন্তু আমার যা মনে হয়, ঠিক এখনকার মতই, ঐ সভ্যতাটাও ছিল মিক্স সভ্যতা যেখানে পৃথিবীর মানুষ ছাড়াও অন্য গ্রহের প্রাণীরা তখন খোলাখুলিভাবে মানুষের মধ্যে বাস করতো। তাছাড়া, খুব সম্ভবত ঐ সময়ে স্টারগেট জাতীয় টেকনোলজিগুলা লুকানো ছিল না, অর্থাৎ ইন্টারপ্ল্যানেটারি বা ইন্টারগ্যালাক্টিক ট্র্যাভেল তখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। এরপরে এখানে আগমন ঘটে ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ান জাতীয় কিছু ওয়ারিয়ার প্রজাতির, যারা লো-ভাইব্রেটরি এবং অন্যদের উপর মাতব্বরি করাকে জীবনের সার্থকতা বলে মনে করে। সম্ভবত এদেরই কুচক্রী কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে আটলান্টিস আর লেমুরিয়ার মধ্যে একটা যুদ্ধ লেগে গিয়ে, দুইটা সভ্যতাই আলটিমেটলি ধ্বংস হয়ে যায়।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল যে বাংলাদেশের মুসলমানরা কোরান শরীফে উল্লেখ করা নাই এরকম কোন কিছু বিশ্বাস করে না। কারণ আপনাদের খুব ছোটবেলা থেকে শিখানো হইসে যে এই বইটা স্বয়ং আল্লা প্রদত্ত, এবং এই একটা বইয়েই পৃথিবীর সব নলেজ কাভার করা হইসে। মাইন্ড করবেন না, কিন্তু এটা একটা ভয়াবহ মগজ ধোলাই। যদি আপনি আল্লায় বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনার মানতে হবে যে আমার কথাগুলাও আল্লার সৃষ্টি। ইবিলিশও তো আল্লার সৃষ্টি। তাহলে শয়তান যে মিথ্যা কথা বলে, সেটাও তো আল্লা প্রদত্ত। তাহলে শয়তানের বানী, আর কোরানের বাণীর মধ্যে তফাৎ কি? তফাৎ হল যে আপনাকে ছোটবেলা থেকে বুঝানো হইসে যে কোরান আল্লার লেখা এবং আপনিও সেটা বিশ্বাস করসেন। অনেকে বলে যে কোরানের ভিতরেই তো লেখা আছে যে এই বই আল্লা নিজেই প্রোটেক্ট করবেন। এটা শুনে আমি হাসি। এই কথাটা তো শয়তানের বলার সম্ভাবনা বেশি, কারণ মিত্থুকের বেশি বেশি কনভিন্স করতে হয়। যাই হোক, আমি কাউকে অপমান করতে চাই না, কিন্তু তাদের বিশ্বাসটাকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই। কারণ আমি মনে করি যে আপনাদের বিশ্বাসের ভিতরে বিরাট ভুল আছে যেটা আপনাদের খুঁজে বের করে ঠিক করাটা অপরিহার্য।

তো কোরান শরীফে লেখা থাকুক আর না থাকুক, আটলান্টিস আর লেমুরিয়া নামে দুইটা সভ্যতা যে ছিল, এ ব্যাপারে আমার অন্তত কোন সন্দেহ নাই। এখন বলি এটার গুরুত্বটা কি। এটার একটা তাৎপর্য হল যে "আদম" পৃথিবীর প্রথম মানুষ নয়, যেটা আমাদেরকে ছোটবেলা থেকে শিখানো হয়। আদম আসলে রেপ্টিলিয়ানদের জেনেটিকালি মডিফাই করা প্রথম হোমো স্যাপিয়েন্স যার উত্তরসূরি আমরা সবাই। এই ব্যাপারে জানতে হলে আপনারা জাকারিয়া সিচিন থেকে শুরু করতে পারেন, তবে আগেও বলেছি, সিচিনের কিছু কিছু করোলারি থিওরি নিয়ে মতবাদ আছে। যা মনে হয়, মানুষের আসল উৎপত্তিস্থল লাইরা বা লিরা (lyra) স্টার সিস্টেম। এরপরে, ওখান থেকে সিরিয়ান, প্লিয়েডিয়ান, আরক্টুরিয়ান, অ্যান্ড্রোমিডান, ইত্যাদি সভ্যতাগুলা তৈরি হয় অনেক মিলিয়ন বা বিলিয়ন বছর ধরে। আমরা ওদেরই উত্তরসূরি। এই প্রত্যেকটা সভ্যতার মানুষই গোপনে আমাদের দেখাশুনা করে, এবং আমাদেরকে গাইড করে। এবং আমার ধারনা, আটলান্টিস-লেমুরিয়াও ওদের গাইড্যান্সে ছিল। এবং ঐ সভ্যতার মানুষের জেনেটিক্স ছিল কোন একটা এনশেন্ট রেসের ডিজাইন করা। যা বোঝা যায়, প্রত্যেকটা রেসকেই আগের কোন উন্নত রেস জেনেটিকালি ডিজাইন করে। পরে ঐ জুনিয়র রেসটা যখন উন্নত হয়, তখন ওরাও আরেকটা নতুন রেস ডিজাইন করে একটা নতুন সভ্যতা তৈরি করতে পারে। তাহলে একদম প্রথম রেসটা তৈরি হল কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর নাকি কেউই জানে না। অন্তত আমাদেরকে আপাতত তাই বলা হচ্ছে।

তো আটলান্টিস-লেমুরিয়া যখন ধ্বংস হয়ে যায়, তখন কিছু মানুষ নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য ইনার আর্থে চলে যায়, আর কেউ কেউ চলে যায় স্পেসে, চাঁদে, মঙ্গল গ্রহে, বা অন্য কোথাও। সেখানে তারা নতুন সভ্যতা তৈরি করে যেগুলা এখনও আছে। এখানে একটা বিষয় বোঝা জরুরি যে ইনার আর্থে একাধিক সভ্যতা আছে যারা খুবই অ্যাডভান্সড, এবং এরা বেশ ভালভাবে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখে এবং আমাদের প্রগতিকে ইনফ্লুয়েন্স করে। দেখা গেছে যে এরা প্রায়ই পৃথিবীর মানুষের সাথে দেখা করে অন্য গ্রহ থেকে আসা প্রাণী হিসাবে। এরা আস্তে আস্তে আমাদেরকে একটা ডিস্ক্লোজারের জন্য মানসিক প্রস্তুতির কাজ করে যাচ্ছে। এই যে আমি এই ব্লগটা লিখতেসি, এটা ওদের এই বিশাল ডিস্ক্লোজার প্ল্যানের একটা অংশ এটা আমি ফীল করতে পারি। আমি বুঝতে পারি যে আমার চিন্তা ভাবনা কাজ কর্মকে কোন না কোনভাবে ইনফ্লুয়েন্স করা হচ্ছে যেটা সম্পর্কে আমাদের মেইনস্ট্রীম সায়েন্সের কোন আইডিয়া নাই।

এতক্ষণ আমি যা লিখলাম, এরকম একটা ইতিহাস আরও অনেক বেশি ডিটেইলে কিছু কিছু মানুষকে গোপনে শিখানো হয় যেটাকে বলা হয় অকাল্ট বা মিস্ট্রি টীচিংস। এই শিক্ষাটাকে গোপন রাখার পিছনের কারণ সম্ভবত এই যে, আটলান্টিস-লেমুরিয়া ধ্বংস করার পর, নতুন করে যখন আবার পৃথিবীতে জীবনের সঞ্চার হয়, ঠিক তখনই রেপ্টিলিয়ানরা তখনকার প্রাইমেট স্পিসিটাকে জেনেটিকালি মডিফাই করে তৈরি করে তথাকথিত প্রথম মানব "আদম" যে আসলে মোটেই প্রথম না, শুধুমাত্র রেপ্টিলিয়ানদের ডিজাইন করা প্রথম হোমো স্যাপিয়েন্স। এরকম মডিফিকেশন ওরা বা সম্ভবত অন্যরাও বেশ অনেকবার করার ফলেই সাদা কাল বাদামি হলুদ ইত্যাদি রেসগুলা তৈরি হইছে। তো যাইহোক, এখানে ট্রাইব অফ ড্যান বলে একটা বিশেষ গোত্র উল্লেখযোগ্য এই কারণে যে এরাই আমাদের তথাকথিত নীল রক্ত বা ব্লু ব্লাড। এর কারণ হল এদের রক্তে তামার ভাগ অনেক বেশি যেটার কারণে এদের সাইকিক পাওয়ার সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি হয়। এদেরকেই আমরা ড্রেকো হাইব্রিড বলি কারণ এরা মনে প্রানে খুবই রেপ্টিলিয়ান, অর্থাৎ লো ভাইব্রেটরি বিইংস যারা যুদ্ধ, কন্ট্রোল, ডমিন্যান্স, এইসব খুব ভালবাসে। আমাদের রথসচাইল্ডস, রকাফেলার, ওয়ারবারগ, ডুপন্ট, ইত্যাদি যে ১৩টা ব্লাডলাইন পৃথিবীকে গোপনে কন্ট্রোল করে এরা সব ঐ ট্রাইব অভ ড্যানের উত্তরসূরি।

এখন আমার একটা ধারনা বলি, উপরে যে আটলান্টিস-লেমুরিয়ার গোপন ইতিহাসের এসোটেরিক শিক্ষাটার কথা বললাম, ওটা অরিজিনালি ছিল সুফিজম জাতীয় একটা স্পিরিচুয়াল জ্ঞান। এই শিক্ষাটাই বিভিন্ন সিক্রেট সোসাইটিগুলা প্র্যাকটিস করতো গোপনে, পৃথিবীর রেপ্টিলিয়ান বসদের জানতে না দিয়ে। এরা নিজেদের মনে করতো ইলুমিনাটি বা আলোকিত, যারা পৃথিবীর সঠিক ইতিহাস আর বিজ্ঞানটা ধরে রাখসে। ফ্রিমেসন্রির প্র্যাকটিসটা খুব সম্ভবত এরকম ভাল উদ্দেশ্যেই তৈরি হইছিল, আমাদের ইনার আর্থের সহায়তায়, মানুষকে আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু এক পর্যায়ে ড্রেকোরা বিষয়টা ধরে ফেলে এই সোসাইটিগুলা ইনফিল্ট্রেট করতে শুরু করে। মানুষের এই গোপন আন্দোলনটাকে ওরা কোঅপ্ট করে ফেলে সিক্রেট সোসাইটিগুলাকে ওরা ওদের কব্জায় নিয়ে ফেলে। এই সময়ের দিকেই ওরা আলেক্সান্দ্রিয়ার মত বিখ্যাত লাইব্রেরিগুলা পুড়ায়ে দেয় যাতে সাধারণ লোকজন আর এই বিশেষ জ্ঞানগুলা অ্যাকসেস করতে না পারে। এর পরে শুরু হয় আমাদের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা -- ভোদাই তৈরির কারখানা -- আমাদের বুয়েট, ঢাকা ভার্সিটি, প্রাইভেট ইউনি, এসএসসি, এমএ, এ লেভেলস, ও লেভেলস, ইত্যাদি -- টাকা বানানোর কারখানা। তবে আলেক্সান্দ্রিয়া পুড়লেও, ভাল বইগুলা সব পাচার হয়ে যায় ভ্যাটিক্যান লাইব্রেরীতে, যেখানে এখন শুধু ড্রেকো হাইব্রিডরাই ঢুকতে পারে। ড্রেকোদের খুব উঁচু লেভেলের চাকর মিনিয়ন ছাড়া অন্য সবাই অফ লিমিটস।

ইংল্যান্ড অ্যামেরিকার আইভিলীগ স্কুলগুলা থেকে ফ্রিমেসনরা সবথেকে ভাল মাথাগুলাকে টেনে ওদের সোসাইটিতে ঢুকায়। রোডস স্কলার বা জেসন সোসাইটি ইত্যাদি এই জন্যই আছে। যার মাথা যত ভাল, তাকে দিয়ে ওদের তত বেশি উপকার হয়। এই চাকর সিলেকশনের ব্যাপারে কিন্তু ওরা মোটেই রেসিস্ট না। যাকে দিয়ে কাজ হবে, ওরা তার মাথাতেই হাত বুলায়, তবে কাজ হয়ে গেলে বেশি একটা পাত্তা দেয়না। আর ওদের উঁচু ডিগ্রিগুলাতে--৩২, ৩৩ ইত্যাদি--ওরা সবাইকে আলাউ করে না। অনেকে বলে যে ৩৩ থেকে ওদের আসল ইনসাইড এসোটেরিক শিক্ষা শুরু হয় যখন ওরা লুসিফারের মত খুব হাই রেপ্টিলিয়ান বিইং এর সাথে দেখা করতে পারে।

এখানে আপনাদের এই বিষয়গুলা বিশ্বাস করতে যে খুব কষ্ট হয় এর কারণ খুব সহজঃ আমাদেরকে কোন কিছু জানতে দেয়া হয় না। আমাদের সরকারের কথা চিন্তা করেন। আমরা মনে করি যে সরকারের প্রত্যেকটা লেভেলে তো চেক আর ব্যালান্স আছে, কাজেই কেউ না কেউ তো জানে প্রত্যেকটা লেভেলে কি হচ্ছে। হ্যাঁ জানে, কিন্তু আপনাকে কোনদিন বলবে না। আমাদের সরকার কি করে না করে এ ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান প্রায় শুন্য। মিলিটারির কথা চিন্তা করেন। ওদের কোন ফ্যসিলিটিতে আমাদের অ্যাকসেস নাই। উন্নত দেশগুলা মাটির নিচে শহর তৈরি করে ফেলসে। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ কি করে প্রতিদিন আমাদের তো কোন ধারণাই নাই। আমাদের জানতে পারার সোর্স তো সব বন্ধ করে রাখা। কাজেই ঐ স্মার্ট ফোন দিয়ে সেলফি তোলা, হুমায়ুন আহমেদ পড়া, হলি-বলিয়ুড ফ্যান্টাসি ছবি দেখা, স্পোর্টস বিয়ার ভদকা স্কচ -- এতেই আমাদের সান্ত্বনা নিতে হয়। যারা এতে স্যাটিস্ফায়েড হয়না, তারা ড্রাগ নেয়। এস্কেপ করার রাস্তা খোঁজে, কিন্তু পায়না। সেক্স, পর্ণ, ভিডিও গেমস, ফেসবুক, ইত্যাদি অ্যাডিকশনে দিন পার হয়ে যায়। কেউ কেউ হয়ে যায় তথাকথিত ইন্টেলেকচুয়াল -- কঠিন কঠিন সব আর্টিকেল লেখে, অর্থহীন আর সারবস্তুহীন নিজের পিঠ নিজে চাপড়ানো। এরপর আছে পুরস্কার বিতরণী পার্টি, ফিতা কাটা, সম্বর্ধনা, গণতান্ত্রিক চেতনা, ভাষা আন্দোলন, রাজাকার, আস্তিক নাস্তিক, যুদ্ধাপরাধীর বিচার, আইসিস, ধর্ম বিদ্বেষ, রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি। বেশি বুদ্ধিমান যারা ওরা ফিলসফি কপচায়, আইন্সটাইনের রিলেটিভির টার্মস শো অফ করতে চায়, কোয়ান্টাম ফিজিক্স, গালিব, হাফিজ, চাইকভস্কি, মোজার্ট, জাগজিত সিং, দেশের বিভিন্ন বিখ্যাতদের সাথে সেলফি... আরও আছে মালয়সিয়া ব্যাংকক বেড়ানো, যারা অ্যাফোরড করতে পারে। অ্যামেরিকা ইউরোপ ক্যানাডা বা অস্ট্রেলিয়া যাইতে পারলে তো সোনায় সোহাগা। আর আমারে পায় কে?

5 comments:

  1. যে জীবন ফড়িঙের ,দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা...

    ReplyDelete
  2. অসাধারন লিখেছেন স্যার, এটি একটি মূল্যবান তথ্যের কম্পাইলেশন হয়ে থাকবে আর্কাইভে, বাংলা স্বাভাবিকভাবে এমন রিসার্চ বিশ্লেষন হয়নি বললেই চলে।

    ReplyDelete