Sunday, January 3, 2016

stories of dhaka 3 (in bengali)

ঢাকা শহরের কেচ্ছা ৩


আজকের দিনটা সুন্দর ছিল। নির্ঝরের সাথে ঘুরলাম। ফুটপাথের পাশে থেকে নাগা বার্গার খেয়ে মজা পেলাম। টেস্টটা অনেকটা বিগ ম্যাকের মত। ম্যাকডনাল্ডসের বার্গারে মাংসের বদলে কি জানি একটা লো গ্রেড কম্পোজিট দেয় যাতে ৩০% মত মাংস থাকে। খেতে খুব মজা কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভাল না। মাংস খাওয়া ব্যাপারটা আমার কাছে মনে হয় ড্রাগ খাওয়ার মত। খুব অ্যাডিক্টিভ কিন্তু শরীরের জন্য বেশি ভাল না, কারণ আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি কমায়ে দিয়ে বডিকে ভারী করে ফেলে। এতে আমাদের সাইকিক পাওয়ার কমে যায়। সমস্যা হল, আধুনিক ইনডক্ট্রিনেশনের কারণে আমাদের সাইকিক অ্যাবিলিটি কমা বাড়া নিয়ে কারও কোন মাথা ব্যাথাই নাই। আমরা তো ব্যাপারগুলা জানিই না আর তাই ব্যবহারও করতে পারিনা।

 
video: jim marrs : our occulted history

উপরের ভিডিওটা এখানে লিঙ্ক দিলাম কারণ আমার কাছে মনে হইসে মোটামুটি এক ঘন্টার ভিডিওতে জিম মার্স সাহেব বেশ ভাল একটা সিনপ্সিস দিয়েছেন যেটা জানা আমাদের সবার জন্য খুব জরুরি। এখানে যা যা বলা হয়েছে তার পিছনে অনেক রিসার্চ আমি নিজেই করসি। জিমের সাথে আমি মোটামুটি একমত। তবে সেটা সবার ক্ষেত্রে হতে হবে এমন কোন কথা নাই। কিন্তু একটা গ্রাউন্ডওয়ার্ক দাঁড় করার জন্য এই প্রেজেন্টেশনটা ভাল হইসে বলে আমি মনে করি। এই ধরণের একটা ফাউন্ডেশনাল ইনিশিয়েশন ছাড়া আমাদের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়াটা স্বাভাবিক বলে মনে হয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে যায়, যাতে আমরা গর্দভ থাকি। দুই তিন জেনারেশন এভাবে পার করার পরে, ছাত্র আর শিক্ষক দুই পক্ষ এতটাই গবেট হয়ে যায় যে খুব তাড়াতাড়ি পুরা দেশটা একটা কানার হাটবাজারে পরিণত হয়। ঠিক আমাদের ক্ষেত্রে যা হইসে।



কালকে রাজীবের সাথে পচা শামুকে পা কাটার মত একটা ঝগড়া হল। এই সব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মিডলক্লাস সেন্টিমেন্ট টাইপের জিনিষ নিয়ে ডীল করতে ইচ্ছা করে না আর। পিপল নীড টু গ্রো আপ আ লিটল, নো? তো এই নিয়ে মুড অফের আউটপুটটা গেল তালুকদারের ঘাড়ে। ওকে অনেকক্ষণ লেকচার দিলাম যে কারও এখনও কোন অ্যাক্টিভেশন হয়নি। ওকে বললাম যে আমার ফেসবুকে যে সব বিদেশী অ্যাকোয়েন্ট্যান্সেস আছে, তাদের প্রায় সবাই একটা হায়ার কনশাস্নেস মেইন্টেইন করে। শুধু আমার বাঙালি বন্ধুরাই এটা পারে না। এই ব্যাপারে কি করা যায়? তো নির্ঝর বলল, তাইলে কি আমাদের সবার ড্রেকো নিয়ে কথা বলতে হবে? অবশ্যই না, কিন্তু সাব্জেক্টার ইম্পরট্যান্সটা তো প্রপারলি অ্যাসেস করতে পারতে হবে। ড্রেকো ছাড়াও আরও কমপক্ষে ১০০ টা বিষয়ে আমরা কথা বলি। সেগুলা তো তোমাদের ঘিলু পর্যন্তও পৌঁছায় না। সারাক্ষণ একটা সিনিক্যাল, পণ্ডিত অ্যাটিচুড নিয়ে থাকে সবাই, যদিও কেউই কোন বিষয়ে কিছু জানে না, বা পড়ে না।



উপরের ভিডিওটা ফেসবুকে শেয়ার করে কয়েকজনকে ট্যাগও করসিলাম, কিন্তু এখন খুঁজতে যেয়ে দেখি হাওয়া। ভিডিওটা আমার টাইমলাইন থেকে উধাও। এটাই হচ্ছে কাহিনি। এভাবেই আমাদেরকে মাইন্ড কন্ত্রোল করা হচ্ছে। এরকম ঘটনা অহরহ ঘটে কারণ এইসব করেই আমাদেরকে গর্দভ বানায়ে রাখার সিস্টেমটা মেইন্টেইন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে আমাদের শ্যাডো গভর্নমেন্ট। ভিডিওটাতে বারো বছরের একটা মেয়ে খুব পরিষ্কার ভাষায় আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যাটা সম্পূর্ণ বুঝে খোলাখুলি আলাপ করতেসে। নির্ঝরদেরকে বললাম যে গত পাঁচ সাত বছরে একজন বাঙ্গালিকেও এই বিষয়টা বুঝাতে পারিনি। এটা কেমন কথা? আমাদের বুদ্ধিমত্তা কোন পর্যায়ে নেমে গেসে? আমাদের কি একটু লজ্জাবোধ হওয়া উচিৎ কিছু কিছু ব্যাপারে? এই বাচ্চাটা এখানে কিভাবে এই প্রব্লেমটা সল্ভ করতে হবে সেটাও বলে দিচ্ছে।



আমার কোলকাতার বন্ধু দেবস্মিতা রেইকি হীলিং শিখতে গিয়ে ওর নিজেকে হীল করার জন্য ৪০ দিন কি কি সব প্র্যাক্টিস করতে হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষ তো এটা কি জিনিষ তাই জানি না। জানি? আমরা ডাক্তারের কাছে যাই। ১০-১২ হাজার টাকার বিভিন্ন সব টেস্ট ফেস্ট করায়। তারপর ডাক্তারের ফী, আর হাজার ২/৩ একের ওষুধ কেনা। এই হল আমাদের মেডিসিন ফ্রড। আর ইউএসে আছে ইন্স্যুরেন্স ফ্রড। সেদিন আম্মমার জন্য এক আউন্স হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কিনলাম ৬০০ টাকা দিয়ে। আর আমার ডাক্তার খালার প্রেসক্রিপশনে ৩০ টাকার ব্রায়োনিয়া ২০০ বড়ি খেয়ে আম্মার কাশি এক ফোঁটাও কমেনি। সাথে সুডোকফও ছিল। ওটা নেশাখোরেরা বেশ চালাচ্ছে আজকাল।



দেবস্মিতার সাথে খামাখাই ফেসবুকে ঝগড়া করলাম। ঝগড়ার স্ট্রীক যাচ্ছে নাকি? হায়ার ফ্রিকোয়েন্সিতে যাওয়ার একটা কমন টেকনিক হল আনকন্ডিশনাল লাভ প্র্যাকটিস করা। কিন্তু আমার মতে বেশীর ভাগ নিউবিরা এখানে একটা ভুল করে। আমরা মনে করি যে আমাদের শুধু পজেটিভিটির দিকে ফোকাস করা উচিৎ, আর ডার্ক বিষয়গুলাকে এড়ায়ে যাওয়া উচিৎ। দিস ইজ বিএস। আমাদের উচিৎ প্রত্যেকটা লেস দ্যান ডিজায়ারাবল ইস্যুকে হাইলাইট করে করে মানুষকে সচেতন করা যতক্ষণ পর্যন্ত না ইস্যুটা রিজল্ভ হচ্ছে। কেউ যদি কোন করাপশনকে এক্সপোজ করে, সাথে সাথে সবাই মিলে তাকে সাপোর্ট দেয়াটা জরুরি। ঐ সাপোর্ট ছাড়া এক্সপোজিশনের তো আদৌ কোন মানে নাই। কার কাছে এক্সপোজ করা হল? কে ওটা ট্যাকল দিবে? সরকার? পুলিশ? বিচার বিভাগ? এরা নিজেরাই তো সবচেয়ে বড় প্রব্লেম। আমাদের সব সমস্যার সমাধানের প্রিরেকুইজিট হচ্ছে আমাদের প্রত্যেকের অনুধাবন করা যে আমাদের সবার একটা সামাজিক দায়িত্ব আছে। এই দায়িত্বটা না নিলে মাফিয়া টাইপের সরকার আর কর্তৃপক্ষ নামধারী কিছু ভণ্ড বদ্মায়েশ এসে আমাদের টুটি চেপে ধরে রেপ করে যাবে আজীবন। এরা প্রথমে একদলকে ধরবে। আমরা অন্যরা চেয়ে চেয়ে দেখবো। তারপর আরেকদলকে ধরবে, তখনও আমরা চুপচাপ চেয়ে চেয়ে দেখে যাবো। এরপরে একদিন আমাদেরকে ধরবে, কিন্তু তখন আর আমাদের হয়ে কিছু বলার মত কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।


No comments:

Post a Comment