Friday, January 1, 2016

stories of dhaka 2 (in bengali)

ঢাকা শহরের কেচ্ছা ২

কালকে ৩১স্ট পার হল তালুকদারের সাথে ঘুরে। ৩২ নম্বরে মীট করে প্রথমে গেলাম রবীন্দ্র সরোবরে। জায়গাটা এত্ত নোংরা যে চিৎকার করে সবাইকে বুঝালাম ওখানে যারা বসে আছে সবাই মানসিকভাবে অসুস্থ। এত নোংরা জায়গায় কিভাবে মানুষ বসে থাকতে পারে? অর্লান্ডোতে কয়দিন সেভেন ইলেভেনে কাজ করার সময় শেলি মামা আমাকে ঝাড়ু আর ডাস্টপ্যান হাতে ধরায়ে দিয়ে বলত, যাও মামা, বাইরের থেকে একটু ঘুরে আস। আমার খুব আরাম লাগত বাইরে কাজ করতে। অনেকক্ষণ ধরে খুঁটে খুঁটে ঘাস ফাস, আগাপাশতলা সব সাফা করে ফেলতাম। কিন্তু এখন আমাদের বাসার নিচের তলা আর সিঁড়ি ফিড়ি প্রত্যেকদিন নোংরা করে ফেলে লোকজন। একতলায় সেরাজেমের লোকজন আমাদের সিঁড়ির নিচেটাকে মোটামুটি ক্যাফেটেরিয়া বানায়ে কাগজ ফেলা, কাপড় পাল্টানো, হাত ধোওয়া থেকে শুরু করে দুই এক সময় বাথরুমও করে যায়। কিন্তু কোন একটা কারণে সেরাজেমের ঝাড়ুদারেরা ঐ এরিয়াটাকে ওদের জুরিসডিকশনের বাইরে মনে করে পরিষ্কার করতে চায় না। যেন এই ময়লা হওয়ার জন্য ওদের কাস্টোমাররা দায়ী নয়। আজব মানসিকতা বটে।


বাঙ্গালির মানসিকতা অবশ্য এতটাই বর্বর যে এ নিয়ে কথা বলাই একটা বাতুলতা কারণ আমাদের চরম লজ্জাস্কর আচরনের কথা কেউ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়ে দিলে আমরা লজ্জিত না হয়ে অপমানিত হই। তখন যে ব্যক্তি যৌক্তিক কথা বলে তাকে পাগল বানায়ে ছেড়ে দেই। এই যেমন সেরাজেমের ব্যবসাটা হল মাইক দিয়ে মানুষকে হিপ্নোটাইজ করে থেরাপি মেশিন বিক্রি করা। সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তারস্বরে বকরবকর অথবা বেসুরা গান বাজখাই ভল্যুমে সারাদিন বাজতে থাকে অথচ ওইখানে যারা কাজ করে বা থেরাপির জন্য বসে থাকে তাদের বিন্দুমাত্র বিরক্ত লাগে না, বা হঠাত করে কেউ মাথা চেপে ধরে দাঁড়ায়ে উঠে চিৎকার করে পাগল হয়ে দৌড় দিয়ে বের হয়ে পালায় না কেন, এর উত্তর আমার সিরিয়াসলি জানা নাই। আমার সারা জীবনের পড়াশুনা, দেশ বিদেশে থাকা, চাকরি করা, জানা শুনা, কোন কিছুর মধ্যে এটা পড়ে না। সত্যি বলছি, এই জাতিকে আমি আদৌ বুঝতে পারি না। আমি অবাক হয়ে এদের দেখি।


মসজিদের মাইকের কথা আমি আগেও লিখসি। বাংলাদেশের এই আজান যে কত বড় বিভীষিকা, শব্দ দূষণ, আর মগজ ধোলাই প্রোগ্রামিং, এটা বিশ্বাস করা যায় না। মাঝে মাঝে আমি মাইকে ফুল ভল্যুমে কোন বাজখাই গলার মুয়াজ্জিনের তারস্বরে চিৎকার দিতে দিতে প্রায় আধা ঘণ্টা লম্বা সময় নিয়ে ক্লাসিক্যাল রেওয়াজের মত আলাপের বিস্তার করা শুনি। আমার কাছে খুব গভীরভাবে মনে হয় যে আমরা খুব অসুস্থ একটা জাতি। ইসলাম ধর্মের ব্যাপারে আমরা যে কি পরিমাণ গোঁড়া, এটা আমাদের সবথেকে হিপ এবং প্রগ্রেসিভ এলিমেন্টগুলাও মনে হয় বুঝতে পারেনা। আর র এর নাস্তিক ব্লগার হত্যা ফলসফ্ল্যাগের কারণে কেউ এই ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করতেও প্রচণ্ড ভয় পায়। কিরকম সিস্টেমেটিকভাবে আমাদেরকে গবেট বানায়ে রাখা হচ্ছে এটা যারা বুঝতে পারতেসে তাদের কিন্তু চিন্তার সীমা নাই। এই ধর্মীয় গোঁড়ামিটা কিন্তু একটা প্রোগ্রাম। শুধু যে প্রোগ্রাম, তাই নয়, ইদানিং বোঝা যাচ্ছে যে এর সাথে ন্যানো ব্ল্যাক গু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর CERN মাইন্ড কন্ট্রোল টেকনোলজির যোগসাজশ আছে। কাবা ঘরের কাল পাথরে চুমা খাওয়ার ব্যাপারে আমার ড্রেকো সিরিজে লিখসি। হ্যারাল্ড কাউটজ ভেলার মতে, ঐ পাথরটা একটা এআই টেকনোলজি।


তালুকদার আর আমি অনেক জাঙ্ক খেলাম কালকে কিন্তু এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল চারুকলার সামনে এক জায়গায় দেখি খুব ভিড়। কোন খাবার বিক্রি হচ্ছে। তো আমরা গিয়ে মিনি সাইজের আলুর চপ আর চিকেন ফ্রাই নিলাম। চপটা এত ছোট ছিল যে কপ করে মুখে দিয়ে গিলে ফেললাম। আর চিকেন ফ্রাই? ব্যাসনের খোলসের ভিতরে দেখি মুর্গীর হাড্ডি, কিন্তু হাড্ডির উপর থেকে মাংস হাওয়া। শুধু হাড্ডিগুলাই ব্যাসনে ভেজে আগুন দামে বিক্রি হচ্ছে আর আমাদের আধুনিক সুশিক্ষিত ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র সমাজ হামলে পড়ে ঐ হাড্ডি কিনে কিনে খাচ্ছে। আশেপাশে বেশ কয়েকটা তাগড়া মোটাসোটা কুকুর দেখলাম বেশ এনজয় করতেসে। বাঙালি নিয়ে রসিকতা করলে তালুকদার খুব মাইন্ড করে আর আমাকে অ্যামেরিকান বলে গালি দেয়। তাই ওকে কিছু বললাম না। সমস্যা কি, ব্লগ তো আছেই! তবে হ্যাঁ, আমি খুব সিরিয়াসলি বলতেসি, আমরা একটা ভয়াবহ রকমের অসুস্থ জাতি। আমাদের কোন দিক দিয়ে কিছু একটা পরিবর্তন হওয়া খুব খুব খুব দরকার। দিস ইজ নট ফানি। আমরা নিষ্পেষিত হতে হতে সত্যি সত্যি নেড়ি কুত্তার অধম হয়ে গেছি। এই জন্যই বোধহয় পুলিশ, র‍্যাব, আম্মিলিক, র, ড্রেকো, এরা আমাদেরকে জানোয়ারের অধম মনে করে। ক্যাডেট আর মিলিটারি আমাদেরকে আড়ালে ডাকে ব্লাডি সিভিলিয়ান্স।


ওহ, আম্মিলিকের পৌরসভা নির্বাচনের গুণ্ডামির বিষয়ে বলা হয়নি। জামাত আর বিম্পির এত দুর্বল হয়ে যাওয়ার পিছনের মূল ঘটনা ছিল আমার ধারনামতে রাইফেলস স্কয়ারে বিডিআর ম্যাসাকার। হাসিনার সম্পূর্ণ সহযোগিতায় র বাংলাদেশ মিলিটারি থেকে আইএসাই এলিমেন্টগুলাকে মেরে ফেলে। এতে আমাদের মিলিটারি মোটামুটি র এর হাতে চলে আসে। আমার রিটায়ার্ড এয়ারফোরস পাইলট বন্ধুর গল্প শুনলে বোঝা যায় যে র মিলিটারিকে উচ্চ পর্যায় থেকে ডমিনেট করে। আমার দোস্তকে ওরা খোলাখুলি অফার দিসল ওদের এজেন্ট হওয়ার জন্য। ও রাজী হয়নি। কিন্তু ওদের অ্যাটিচুড হল, ঠিক আছে, তোমারই লস। ইন্ডিয়ায় একটা কনভেনশনে ঐ ঘটনা ঘটসিল, আমার যত দূর মনে আছে। পরবর্তী প্রোগ্রামগুলাতে ওরা ওকে অ্যাক্সেস ডিনাই করে। র এর কাছে আমাদের মিলিটারি পর্যন্ত কতটা অসহায় এটা বুঝে হাঁ হয়ে গেসলাম।


বাংলাদেশের মানুষ এইটা বোঝে যে আম্মিলিক আর বিম্পি আসলে একই শিয়ালের দুই মাথা। কেউই জনগণের স্বার্থে কিছু করে না। যা করে, মাল কামানোর ধান্দায়। তফাৎ হল আম্মিলিক সেই মুজিবের আমল থেকে র এর পাপেট হিসাবে দেশ বিক্রি করে আসতেসে বলে এদের দহরম মহরমটা একটু বেশি। এর সাথে অ্যাড হইসে ফিনস্পাই জাতীয় সারভেইল্যান্স সফটওয়্যার, ফেসবুক, আইসিটি সারভেইল্যান্স, ইত্যাদি -- মনে আছে কিছুদিন আগে সরকার বাধ্য করল প্রত্যেকটা টেলিকম কোম্পানিকে যেন সবার সমস্ত তথ্য সরকারের ড্যাটাবেসে জমা হয়? হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ আসলে ড্রেকোদের মানব খামারের ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট যাতে প্রজারা কোনভাবেই সরকারকে ফাঁকি দিয়ে কিছু করতে না পারে, এবং এই ফ্যাশিস্ট সরকারকে উতখাতের জন্য সমবেত হতে না পারে। মানুষ ভাবে যে বিম্পির দুর্বল হয়ে যাওয়ার জন্য খালেদা ইত্যাদির অদূরদর্শিতা দায়ী, বা হাওয়া ভবনের কর্মফল। হতে পারে, তবে র এবং আম্মিলিক খুব সিস্টেম্যাটিকভাবে এই দেশের একছত্র শাসন কায়েম করে ফেলসে, যার লেটেস্ট উদাহরণ হল গতকালকের পৌরসভা নির্বাচনের কালো বিজয়। সবাই জানতো লীগ কি করবে ভোট কেন্দ্রে কিন্তু পুলিশ আর লীগের যুগ্ম-গুন্ডামির বিরুদ্ধে টিকার উপায় কি? ওরা তো কাউকে ইভেন সমবেত হতেও দিচ্ছেনা। আমাদের রাইট টু অ্যাসেমব্লির উপরে এরা পেশাপ করে দিসে।


আমাদের মুক্তির উপায় একটাইঃ বুদ্ধিমান হওয়া। মগজ ধোলাই থেকে বের হয়ে আসা। আপনারা কয়জন বুঝতে পারসেন যে আপনি একজন মগজ ধোলাই খাওয়া বলদ স্লেভ যার আসলে আমাদের রিয়ালিটি সম্পর্কে কোন ধারনা নাই। ধারনা কোত্থেকে আসবে? মিডিয়া? খবরের কাগজ আর পত্র পত্রিকা? সায়েন্স ম্যাগাজিন? সায়েন্টিফিক জার্নাল? আপনার শিক্ষা দীক্ষা? আপনার আশেপাশের জানাশোনা লোকজন? কেউই আসলে কিছু জানিনা আমরা। আর যে যেটুকু জানি, সযতনে লুকায়ে রাখি নিজের সুবিধার্থে। কিছু ফায়দা লুটে নেই। কালকে অনেকক্ষণ অভিজিতের কথ শুনলাম। ও বুয়েটের ছাত্র। মানুষের কনশাস্নেস আর অ্যাওয়্যারনেস বাড়ানোর জন্য অনেকগুলা আইডিয়া বলল। তার মধ্যে একটা ছিল কিছু ভাল বই বাংলায় ট্র্যান্সলেট করা। ওর আইডিয়াগুলা ভাল লাগলো কিন্তু এক পর্যায়ে ও বলল যে আমি ড্রেকো ইত্যাদির বিষয়ে যা বলি, ঐ সব সাবজেক্টের কোন বইয়ের একটা কথাও ও বিশ্বাস করে না। শুনে একটু থমকালাম। কানে আটকাল ওর কথাটা। আমার কাছে মনে হল এটা কিভাবে সম্ভব? কিসের ভিত্তিতে কোন ব্যাক্তি এটা করতে পারে? ও তো একটা বইও পড়ে দেখেনি। তাহলে পড়ার আগেই এই প্রেজুডিস কেন? এর উত্তরটা কি আপনি বলতে পারবেন? উত্তর হলঃ মগজ ধোলাই। এটা শুধু অভিজিৎ না, আমাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যতক্ষণ আপনি নিজে না বুঝতে পারছেন যে আপনিও ভয়াবহ রকমের অজ্ঞ আর ব্রেইনওয়াশড, ততক্ষণ কিন্তু কিছুতেই আপনার চোখ খুলবে না। আপনি আপনার সেই পুরানো বাবলের মধ্যেই বিচরণ করতে থাকবেন। আমরা প্রায় প্রতিদিন কিছু নতুন তথ্য পাচ্ছি যেটা আপনারা পাচ্ছেন না। তাই আপনাদের জানার গণ্ডি থেকে যাচ্ছে আগের মতই কিন্তু আমরা লাফ দিয়ে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সাথে আপনাদের গ্যাপ প্রতিদিন বাড়ছে। এটা কোন ভাল লক্ষণ নয়।


রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটা ভয়াবহ সময়ের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। পুরা পৃথিবীটা একটা বিরাট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যেটা সম্পর্কে আমাদের ওয়াকিবহাল থাকা দরকার। এই পরিবর্তন আমাদেরকেও প্রভাবিত করবে। পরিবর্তনটা হল মানুষের কনশাস্নেসের। এতদিন আমরা যেভাবে ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, পৃথিবী আসলে মোটেও সেভাবে চলে না। আমাদের সাথে বসবাস করছে অতিউন্নত প্রাণীরা, অন্য গ্রহের প্রাণীরা, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা টাইম ট্র্যাভেল করে আমাদের কাছে আসে বিভিন্ন কারণে। এগুলা কোন সায়েন্স ফিকশন ফ্যান্টাসি নয়। এগুলা খুব সিস্টেম্যাটিকভাবে আমাদের কাছে লুকায়ে রাখে মিলিটারি আর ওদের কন্ট্রাক্টররা, যেমন নরথ্রপ, লকহিড মারটিন, বোইং, রেইথিয়ন, এইসব কোম্পানি যারা সুপারঅ্যাডভান্সড টেকনোলজি তৈরি করে অন্য গ্রহের প্রাণীদের কাছে বিক্রি করতেসে। বিশ্বাস করা খুব কষ্ট তাই না? আমরা কিন্তু বছরের পর বছর নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি আর আপনাদের সাথে শেয়ার করে যাচ্ছি। অথচ কোন একটা অদ্ভুত কারণে আপনারা এগুলা ভুলেও ছুঁয়ে দেখেন না। সবকিছু কন্সপিরেসি থিওরি মনে করে জাত যাওয়ার ভয়ে অ্যাভয়েড করেন। ভাবেন আমরা পাগল। আমরাও আপনাদের কার্যক্রম দেখি আর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করি। ২০১৫ চলে গেল বেশ ভালভাবেই। অনেক নতুন ডিস্ক্লোজার হল। ২০১৬ তে আরও হবে। ২০১৭ এর মধ্যে পৃথিবীর চেহারা পালটে যাবে বলে আমি মনে করি। দেখা যাক।














No comments:

Post a Comment