Monday, December 28, 2015

stories of dhaka 1 (in bengali)


ঢাকা শহরের কেচ্ছা ১


কালকে আম্মিলিকের জনৈক নেতার সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে শুনলাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পদ্মা সেতু প্রজেক্টে চাকরি দেয়ার নামে গরীব মানুষের টাকা মারার কাহিনি। জন প্রতি এরা ২৫,০০০ এর মত করে মারসে। ফর্ম ফিলাপে ১০০০, ফিজিকাল টেস্টে ৫০০০, এর পর সিলেকশনে টিকার নামে ১০,০০০ ঘুষ, ইত্যাদি ইত্যাদি মিলায়ে। ভদ্রলোক বলল আমি নিজে আমার থানায় ৫০০ ফর্ম ফিলাপ করসি। এখন আপনে হিসাব করেন ৬৬টা জেলায় গড়ে ৫টা করে থানা হইলে, সারাদেশে কয়জন মানুষ কত টাকা ঠকলো। ২৫,০০০ টাকা x ৫০০ জন x ৫ থানা x ৬৬ জেলা = ৪১২,৫০,০০,০০০ টাকা। চারশো বার কোটি পঞ্চাশ লাখ। মিডিয়া এই ব্যাপারে টুঁ শব্দ করতে পারেনি। ছেলেটা বলল ওর কাছে সব রকম ডকুমেন্টেশন আছে প্রমাণ করার মত। ও চায় দেশের মানুষ জানুক কিভাবে আম্মিলিক দেশের মানুষকে ঠকায়ে খাচ্ছে। আমিও মনে মনে ভাবলাম, সমস্যা না্‌ই, কালকেই বসে যাবো। গড়ে ৩০ জন লোক আমার ব্লগ পড়ে। এটাই বা কম কি?

এরা যে মানুষ ঠকাচ্ছে এটা প্রচার করা কেন জরুরি তা বলাই বাহুল্য। আমরা সবাই জানি যে আম্মিলিক হল একটা ব্র্যান্ড নেম। এই নামটা আমাদের সোসাইটির ক্রিমিনাল এলিমেন্টরা ব্যবহার করে খুব আরাম পায়। ছাত্রলীগ বলা মাত্র ভিতরে একটু কেঁপে ওঠেনা এরকম বাঙালি কয়টা আছে? এই ভয়টা ন্যাচারাল কারণ পুলিশ আর মিলিটারির পরে এরাই আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী যাদের কথা মিডিয়াতে বলা নিষেধ। মজার ব্যাপার হল যার বাপ বা চাচা-মামা ঊর্ধ্বতন পুলিশ মিলিটারি ডিবি বা আম্মিলিক, এদের সুপারস্টার খুনি নেতা হইতে কি লাগে? এ লিটল ডেস্পারেশন ফর মানি? আমি যদি জানি আমি খুন করলেও ছাড়া পামু, তাইলে মাস্তানি করুম না ক্যান? এই লজিক বুঝতে কি বুয়েটে পড়া লাগে?

আম্মিলিকের থিঙ্কো ট্যাঙ্কোদের গুণ হইল এদের সারভাইভাল ইন্সটিঙ্কট খুব ভাল। এ না হইলে ভাল ক্রিমিনাল হওয়া যায়না। এই যে সামনে পৌরসভা না কি জানি ইলেকশন আসতাছে, এর মধ্যেই এদের পিডাপিডি লুটপাট কার্যক্রমের প্ল্যান করা শেষ। এরা দেশকে মাইরের উপরে রাখসে। মাইর দিয়ে দেশ চালাচ্ছে। এও এক দেখার বিষয়। র এর কার্যক্রম বাংলাদেশে সবচেয়ে সক্রিয় বলে আমার ধারনা যার পিছনে কারণ খুব সহজঃ আমরা সংখ্যায় খুব বেশি আর বুদ্ধিতে সবচেয়ে কম। এটা বললে বাঙালি চেতে আগুন হয়ে যায় কারণ ইহাই সবচেয়ে বড় সত্য। বাঙালির সত্য হজম করতে সবথেকে কষ্ট হয়। মিথ্যা আমরা মুড়ির মত গিলতে পারি তার আগের কামটা করি না করি।

বোঝা যায় যে অনেকেই বাধ্য হয়ে আম্মিলিক করে কারণ পেটের দায় সবারই আছে। এদের দলীয়করণের যন্ত্রণায় দেশের লোক কিরকম বিপদে আছে সেটা বোধহয় আমার বলে দিতে হবে না। হাতির ঝিলে খুব সুন্দর ছোট ছোট বাস চালু হইসে মিলিটারি মালিকের অধীনে। বলাই বাহুল্য এই বাস কেনার টাকা জনগণের ট্যাক্স থেকে আসছে অথচ এর লাভের ভাগ চলে যাবে মিলিটারি কোষাগারে। আর সাধারণ জনগণ যারা পুরানো মাইক্রো দিয়ে দুই পয়সা রোজগারের চেষ্টা করসিল, এরা এখন পচে মরুক। এই হল আমাদের কুচক্রী অমানবিক অপদার্থ সরকার। শুধু নিজের ধান্দা বোঝে এরা। শুধু তেলা মাথায় তেল দেয়া। বড়লোক আরও বড়লোক হয় আর গরীব ভাতে মরে।

ভাতে মরার কথা বলতেই একটা মজার কাহিনি ঘটলো। কালকে শাউলিকে গোপনে তেহারি কিনে দেয়ার সময় আমিও দুই বাক্স নিছলাম। আম্মা সারাক্ষণ নিজের রান্না খেতে খেতে টায়ার্ড হয়ে যায়। আম্মা সেই তেহারি গরম করে থালায় বাড়সে। খেতে নিয়ে দেখি সেই পুরানা কাহিনি। মটরদানা সাইজের দুইতিনটা রগ আর হাড্ডি। ভাতটা পুরাই তেলতেলা। কালকে রাতে ছাগলটাকে যখন দেখসিলাম চামচ দিয়ে মাংস দিতে, ওর দেয়াল স্টাইল দেখে অন্যদিকে তাকায়ে থাকতে হইসিল। বড় করে চামচ ঘুরায়, কিন্তু চামচে কিছুই ওঠে না। এ এক দেখার মতন নাটক বটে। আসলে ওরে একটা ঝাড়ি দিয়ে বলা উচিৎ ছিল, খানকীর পোলা ঠিকমতন মাংস দে! ৬০ টাকা প্লেটের তেলতেলা তেহারিতে দুইতিনটা রগ আর হাড্ডি তো আমরা আমাদের কুত্তাকেও খাইতে দেইনা। তোরা মানুষ না আম্মিলিক?

No comments:

Post a Comment