Friday, November 13, 2015

draco part 28 (in bengali)


ড্রেকো ২৮

বাই ডিফল্ট, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা যা কিছু ভাবি আর করি, সেই এনার্জিটা একটা মেট্রিক্স সিস্টেমকে ফীড করে। এই সিস্টেমটা সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত একটা স্লেভারি সিস্টেম। জেলখানার ভিতরে মানুষ বছরের পর বছর বাস করে, ঠিক সেরকম, আমাদের প্রত্যেকের জীবন কাটে একটা বড় সাইজের জেলখানার ভিতরে যার গরাদ্গুলা আমরা দেখতে পাইনা। আমরা টের পাই শুধু আমাদের দুঃখ, কষ্ট, পেটের ক্ষুধা, আর অভিমানগুলা। কিন্তু সারাজীবন জেলখাটা আসামীর মত আমরাও অভ্যস্ত হয়ে গেছি এই বন্দী জীবনে। মানুষ বড্ড আজব এক প্রাণী; খুব সহজে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এই মুহূর্তে দেশ শোষণ করতেছে র আর আওয়ামী লীগ নামে একটা ড্রেকো রেজিম। কিন্তু আশেপাশে কাউকে কিছু বলতে শুনছেন? কি বলবে? কেন বলবে? বলে লাভ নাই, কিন্তু ক্ষতি আছে। সবাই বলবে, ঐ দ্যাখ, বগুড়ার লোক তো, তাই লীগের বিরুদ্ধে কথা বলে। এইসব বলে কি লাভ ভাই? লীগ-বিএনপি সব সমান। এই মনোভাবটাকেই আমি বলি মগজ ধোলাই। যেমন অনেকে বলে, সব রবীন্দ্র সঙ্গীত নাকি একই রকম। একটা শুনলে সবগুলা শোনা হয়ে যায়। আসলে মনোযোগ দিয়ে না শুনলে কিন্তু কথাটা একদম ভুল না। প্রত্যেকটা বড় শিল্পীরই নিজস্ব একটা স্টাইল থাকে। ছোট শিল্পীদের এটা থাকে না। গান শুনলে যদি বোঝা যায় যে এটা কার গান, এটা তো একটা বিরাট ব্যাপার। কাজেই, সব রবীন্দ্রসঙ্গীত একই রকম, এটা একটা আনকালচারড কথা। আসলে প্রত্যেকটা গান খুবই আলাদা আর প্রচুর সূক্ষ্ম কারুকাজ থাকে কথায়, সুরে, তালে, রাগে, মার্গে। এখন একটা কুকুরকে মার্গ বোঝান দেখি? পারবেন? আসলে ওরা মার্গ অনেক ভালই বোঝে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের চেয়ে বেশী। আর ঠিক এই কারণেই আমি অসভ্য, অপগণ্ড, মূর্খ, ইগোম্যানিয়াক, মৌলবাদী, ধর্মান্ধ বাঙ্গালিকে এত কথা বলি। এটা ডন হোয়ানের শিক্ষা। ওর মতে, নলেজ যে কোন ব্যক্তির কাছে আসতে পারে, সে ধনী, গরীব, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, যাইই হোক না কেন। এই ব্যাপারটা ভাল বোঝা যায় আমাদের বাউল সমাজকে দেখলে। আমাদের গরীব রিকশা ড্রাইভার সমাজ দিনের শেষে বাউলের আসর বসায়। দুই এক ছিলিম খায় আর গান শোনে। ফকির শাহ আব্দুল করিম, আমাদের প্রিয় লালন, এঁরা তো রুমি হাফিজের মার্গের লোক। এঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? দেড়শ বছর আগে লালন বলে গেছে "এসব দেখি কানার হাটবাজার" -- সকাল বিকাল আমরা আজকাল গুরুর গান গাই, কিন্তু সেই অন্ধত্ব তো ঘুচল না। "নিজে কানা, পথ চেনেনা, পরকে ডাকে বারংবার" -- এর মানে কি? "সময় গেলে সাধন হবে না" -- তো সময় তো চলে যাচ্ছে, র আর আওয়ামীলীগ মিলে দেশটাকে চুষে ছিবড়া করে কোন কুমার্গে নিয়ে পুঁতে দিচ্ছে, কই, কারও তো সাধন হল না! সবাই ফোক ফেস্টিভালে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। গত দুই মাসে যে দুইহালি খুন করল আমাদের সরকার, তার বিচার অবশ্য আল্লাহ করবে। এখানে বাঙালির কোন দায় দায়িত্ব নাই। বিল্ডারসকে জমি দেয়া হয়ে গেছে। তিন বছর পরে কয়েক ডজন ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে পায়ের উপর পা তুলে...

রাস্তায় যদি বের হন, একটু খেয়াল করলে দেখবেন চুল ছাঁটা, বাটার চপ্পল পরা, হাতে ওয়াকিটকি ধরা লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক সেদিক। এরা সব বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্সের লোক, ডিবি, এসবি, ডিজিএফআই, এইসব নানান ডেজিগনেশন। এরপর আছে পুলিশ, র‍্যাব, বর্ডার গার্ড, আনসার, পুলিশের ইনফরমার, ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম সিচুয়েশনে বড় ক্রাইম হওয়া যথেষ্ট দুঃসাধ্য ব্যাপার। ডিজিএফআই এর ভিতরে G5, G8, G20, ইত্যাদি দেশের চর থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মূল সমস্যা হল -- কন্ট্রোল কার হাতে? র, সিআইএ, এমআই৬, না মোসাদ? মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের মধ্যে যে বা যারাই ডমিনেট করুক, তাতে কোন তফাৎ হয় না কারণ এরা সবাই ড্রেকোদের চামচা। আওয়ামী লীগের মত রেজিমের সমস্যাটা খুব সিম্পলঃ এরা একটা সাইকোপ্যাথিক গ্রুপ, কাজেই উপরের পোস্টগুলাতে এরা দেশের সবচেয়ে বড়বড় সাইকোপ্যাথদেরই বসাবে। আর কোন কোন ক্ষেত্রে এরা মেরুদণ্ডহীন উজবুকদের বড় পদ দেয় যাতে এরা খুব ভাল ইয়েসম্যান হিসাবে কাজে দেয়। এদের সবার প্রধান কাজ হচ্ছে দেশের সমস্ত ব্যবসা বাণিজ্য, ট্যাক্স, ভ্যাট, বিল, ফী, ভর্তুকি, চাঁদা, যেখানে যে দুই পয়সা কামাচ্ছে, তার একটা ভাগ আদায় করার জন্য যা যা করা দরকার, শুধু সেইটুকু কাজ করা। গদিটা যাতে পাছার নিচ থেকে সরে না যায়, এর জন্য এরা যতরকম অপকর্ম করা সম্ভব, সব করে শেষ করে ফেলে এখন নতুন লেভেলে ওঠার চেষ্টা করতেছে। দেশ আর জনগণের উন্নতির কথা শুনলে এরা সম্ভবত অট্টহাসি দেয়। এরা ঐ ধরণের মানুষই নয়। এদের চিন্তাধারা আর কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ আলাদা। এটা আমি কীভাবে বুঝলাম? না এই প্রশ্ন আসলে কেউ আমাকে করবে না। এই দেশের জনগণ এত ভোদাই না।

আওয়ামীলীগও একসময় গদি থেকে নামবে। তাতে দেশে সামান্য হলেও সরকারি ক্রাইম কিছু কমবে। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। কিন্তু দেশের অবস্থার কোন উন্নতি হবে না কারণ আমাদের কালচার। একটা রাজনৈতিক রেজিম গদিতে চড়ে বসে ৮, ১০, ১৫ বছরের জন্য। ঐ সময়ের মধ্যে এরা যা পারে হাতায়ে নেয়। কিন্তু ঠিক এদের নিচের স্তরেই থাকে সরকারি আমলারা যারা যুগ যুগ ধরে ছারপোকার মত সিস্টেমটাকে চুষতে থাকে। এদের কোন পরিবর্তন হয় না। নতুন কোন রেজিম আসলে এরা হাওয়া বুঝতে কয়দিন সময় নেয়। আওয়ামী রেজিমটাকে এরা খুব ভাল চেনে। এদের ইডিওলজি বাঙালির খুব পরিচিত। এরা গদিতে বসলে ওরা হাত ধুয়ে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করে খাওয়া, আর খাওয়ার পরে আলহামদুলিল্লাহ বলতে কক্ষনো ভোলে না। দেশে যে রেজিমই আসুক, কিছু লোক খুব বড়লোক হয়ে যায়। আর আওয়ামী লীগের আমলে কিছু দুষ্টু লোক অস্বাভাবিক রকম বড়লোক হয়ে যায়। স্টক মার্কেটটা কিছুদিন পরপর ক্র্যাশ হয়। ইত্যাদি ইত্যাদি।

জিয়াকে যারা ফলো করেছেন, তারা জানেন যে যারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে, তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অন্য রকম হয়। এই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আপনারা লীগের কারও মধ্যে পাবেন না। আপনাদের মধ্যে যারা লীগ সাপোর্ট করেন তারা লীগের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য করেন। আপনারা প্রকাশ্যে এদের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না কারণ এতে কাজে কর্মে বাধা সৃষ্টি হবে। আর লীগের কানেকশনে যারা কাজ পান তারা লীগের বিরুদ্ধে কথা বলতেও অস্বস্তি বোধ করেন। এটাই হয়ত স্বাভাবিক। কারণ সত্য বলা আমাদের কালচার থেকে উঠে গেছে অনেক আগেই। এখন সত্য হল সেটাই যেটাতে আমার কোন ফায়দা হবে। খামোখা সদা সত্য কথা বলিব কপচায় কোন বেকুব এই যুগে? কাজেই জিয়ার কবরটা সরাতে হবে। ঐ কবরটাকে জিয়ার মাজার বলা খুব বিরক্তিকর লাগে আমার। একজন মানুষকে পছন্দ করলে তাকে ধরে পীর বানায়ে দিতে হবে কেন? এ কেমন অসভ্যতা? তবে জিয়ার কবর উৎখাত করার মধ্যে যে পৈশাচিক আনন্দ লীগের কেউ কেউ পাচ্ছে, এটা আমাদের বুদ্ধিমান বাঙ্গালিরা হাড়ে হাড়ে জানলেও মুখে কিছু বলবে না। এই উপহাস পার্টি হবে গোপনে, খুব দামী কোন হোটেলে -- হাসাহাসি পার্টি।

তো কি বুঝলেন? খুব না? খুব! আমি বগুড়ার লোক বলেই কি এসব লিখলাম? এতটাই একচোখা আর অন্ধ আমি? কি জানি, হতেও পারে। আমি শুধু জানি আমি সত্যবাদী। যা দেখি, তাইই লিখি। তবে অনেক কিছু দেখতে পাই না, সেটা জানি। তবে আমার মূল উদ্দেশ্য তো বাংলাদেশের রাজনীতির অ্যানালিসিস না। আমার উদ্দেশ্য হল আপনাদের চিন্তা ভাবনাকে উন্মুক্ত করতে সাহায্য করা। এখানে আমি একগাদা ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছি এটা সত্যি, কিন্তু আমি মনে করি এই কথাগুলা বলা অনেক জরুরি। ভয় দেখায়ে সবার মুখ বন্ধ করা যায় না। মগজ ধোলাইয়ে সবাইকে বেকুব বানানো যায় না। ড্রেকোরা ১৩ হাজার বছর ধরে এই কাজ করে আসছে কিন্ত এখন ধরা পড়ে গেছে। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ লোক ওদের সমস্ত দুষ্কর্ম ফাঁস করে দিচ্ছে। আমাদের দেশেও তাই হবে। মেক নো মিস্টেক যে পৃথিবীতে একটা আমূল পরিবর্তন আসতেছে। কত তাড়াতাড়ি এটা আমাদের কাছে পৌঁছাবে সেটা নির্ভর করবে আমাদের পারফরমান্সের উপর। আমরা কি নিজেদেরকে বদলাবো, নাকি আমাদের ঐ থোড়-বড়ি-খাঁড়া চলতে থাকবে? কোনটা?

No comments:

Post a Comment