Thursday, November 12, 2015

draco part 27 (in bengali)

ড্রেকো ২৭

আজকে একটা বেসিক ব্যাপারে আলাপ করবো, যে মগজ ধোলাইটা কি। রাইট? অনেকেই কিন্তু এই ব্যাপারটাই ধরতে পারি নাই। আমার মনে হয় উদাহরন দিয়ে বুঝাইলে ব্যাপারগুলা পরিষ্কার হতে পারে। যেমন, মেহেদিকে আমি অনেক হাই রিগার্ডে ধরি বা ধরতাম। ও ওশোর লেকচার শোনে, আর নিজেকে স্পিরিচুয়াল গুরু মনে করে। কিন্তু আমি যে ওর বন্ধুর ফিয়াসের প্রেমে পড়ে গেছলাম, এটা ও হজম করতে পারেনি। পরে আমাকে যা তা বলল যে আমি নাকি ওর বন্ধুর নামে বাজে কথা বলে মেয়েটাকে ফুসলানোর চেষ্টা করসি, ইত্যাদি ইত্যাদি টিপিকাল বাংলা নাটক যেটা ওর মত ছেলের কাছে আশা করা যায় না। এটা অবশ্য মগজ ধোলাই না, ছ্যাঁচড়ামি। কিন্তু প্রত্যেকটা ব্লগার হত্যার পরে ওকে বারবার দেখসি মৌলবাদীদের হিট করা পোস্ট দিতে -- যেন ও আগেই জেনে গেছে যে খুনগুলা ওদের করা। যখন আমি ওকে বলসি যে যৌক্তিকভাবে দেখলে এই খুনগুলা র বা লীগের করার সম্ভাবনা অনেক বেশী, তখন কিন্তু ও আমাকে বেনিফিট অফ ডাউট দেয়ার মত উদারতা দেখাতে পারেনি। জেনারালি স্পিকিং, বাঙ্গালিরা বেনিফিট অফ ডাউট কি, কেন এবং কখন এটা অ্যাপ্লাই করতে হয় এটা জানেনা এবং বোঝে না। এই কালচারাল ডেভেলপমেন্টটা আমাদের মুসলিম সমাজের অন্তত হয়নি। যারা ধর্মের পক্ষে কথা বলে, এরা সব সময় অ্যাবসোলুটে কথা বলে, যেন সবকিছু ঈশ্বরের গস্পেল, আর এর পরে কোন কথা থাকতে পারে না। এর থেকে বড় মগজ ধোলাই আসলে কিছুই নাই। আসলে সবকিছুই আপেক্ষিক। মুসলমানরা মনে করে আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু আল্লাহর কোন সৃষ্টিকর্তা নাই। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। এখানে বেনিফিট অফ ডাউটের ব্যাপার আছে। কিন্তু মৌলবাদীরা এমন অ্যাটিচুড করবে যেন কেউ যদি ওদের সাথে একমত না হয়, তাহলে তাদেরকে আসলে মেরে ফেলা উচিৎ। এইটা হল সবথেকে বড় মগজ ধোলাই। মুসলমানরা জেনারেলি মনে করে যে ওরা অমুসলিমদের চেয়ে বেশী বোঝে এবং জানে। এর থেকে বড় মিথ্যা বোধহয় আর নাই দুনিয়ায়। আসলে মুসলমানরা পৃথিবীতে সবথেকে বেশী অজ্ঞ এবং মূর্খ, এটাতে মাইন্ড করলে চলবে না, ব্যাপারটা বুঝতে হবে। এই মুহূর্তে এই লাইনটা পড়ে দুই একজন মৌলবাদীর মাথায় আগুন ধরে গেছে, ঠিক কিনা? যদি ঠিক হয়, তাহলে সেটাই প্রমাণ করে যে আমার কথা সত্যি। এইটাই মুসলিম মৌলবাদীদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এই মগজ ধোলাই থেকে আপনাদের বের হয়ে আসতে হবে। বুঝতে হবে যে এই মাল্টিভারসটা কোরানের কথা অনুযায়ী চলে না। পৃথিবীতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের স্ট্যাটাস নিচে, এই কথাটা কোরানে ভুল আছে। এরকম আরও অনেক কথাই কোরানে আছে যেটা যুক্তিসঙ্গতভাবে মানা যায় না। এই মেনে নেয়াটা ব্যক্তিগত এবং আপেক্ষিক ব্যাপার। আমার ধারণা মতে, কোরান শরীফটা ৪র্থ বা ৫ম ডিমেনশনাল এলোহিমদের রচনা করা যারা ফলেন এঞ্জেলস। ওরা চায় পৃথিবীর মানুষের কাছে নিজেদেরকে ঈশ্বর হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে, যেটা একটা মিথ্যা এবং মগজ ধোলাই। এই ব্যাপারে বুঝতে হলে আপনাদের প্রথমে পড়তে হবে জাকারিয়া সিচিনের বইগুলা যেখানে সুমেরিয়ান সভ্যতা আর আনুনাকি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করা হয়েছে। এর সাথে সাথে আপনারা পড়তে পারেন রবার্ট মর্নিংস্টারের টেরা-পেপারস। এখানে বলে রাখা ভাল যে সিচিন কিন্তু রথসচাইল্ডসদের শিল বা ভিতরের লোক। অ্যারিজনা উইল্ডারের টেস্টিমনি মতে, সিচিনকে শেপ শিফটিং রেপ্টিলিয়ানদের সাথে পার্টি করতে দেখা গেছে। এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে খুব ইম্পরট্যান্ট একটা ব্যাপার। এর কারণ হল, ড্রেকোদের একটা সবচেয়ে বড় এজেন্ডা হল মানুষকে একটা মগজ ধোলাই থেকে বের করে, আরেকটা মগজ ধোলাইয়ের ভিতরে ঢুকায়ে দেয়া, যাতে আমরা আসল সত্যটা কিছুতেই বুঝতে না পারি।

এবার আসি মিরাজের মগজ ধোলাইয়ের বিষয়ে। ও প্রথম দুই চার দিন আগ্রহ দেখাল যতদিন ওর ইনভেন্টরি বাড়াটা ওর বিলিফ সিস্টেমের ভিতরে ছিল। কিন্তু তারপর এক পর্যায়ে ও আস্তে লাইট বাল্বের মত অফ হয়ে গিয়ে সুড়ুত করে আবার মেট্রিক্সে ঢুকে পড়ল, এবং এর পর থেকে কোন আলোকিত বিষয়ে ওকে আর কোন আগ্রহ দেখাতে দেখা যায়নি। ব্যাপারটা এরকম যেন কয়দিন সামান্য পর্যবেক্ষণ করেই ও ব্যাপারটা পুরাপুরি বুঝে ফেলসে, এবং এখানে আর কিছু পাওয়ার নাই বিধায় সে আবার আগের বাবলে ঢুকে পড়ল। এই ঘটনা যার ঘটে তাকে আর কোনভাবেই মগজ ধোলাই থেকে বের করে আনা যায় না, আমার এক্সপেরিয়েন্স মতে। আমি এদেরকে বলি সেন্সেশনালিস্ট। যেখানেই সস্তা সেন্সেশন, সেখানেই এরা হাজির। প্রথম কয়দিন ও আনন্দ পাইল কন্সপিরেসি থিওরিতে কারণ ওর আশেপাশের সবাই এটা অ্যাভয়েড করে। তাই এটা উদারতা প্রদর্শনের একটা ফিল্ড হিসাবে কয়দিন বেশ অ্যাপিলিং ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যে মগজ ধোলাই থেকে সত্যি সত্যি বের হতে হলে ওকে অনেক কিছুই বদলাতে হবে, অনেক ছাড় দিতে হবে, আর সবচেয়ে ভয়ংকর যেটা, ওর কম্ফোরট জোন থেকে নড়তে হবে। তখনই ব্যাপারটার চার্ম শেষ হয়ে গিয়ে ও আবার ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন -- ব্যাক ইনসাইড দ্য মেট্রিক্স বাবল।

নেক্সট বলির পাঁঠা হল গিয়ে আমার প্রিয় নুহু ভাই। থ্যাংকস টু মি যে উনি এখন রূপসী বাংলা ইন্টার্নেট টিভিতে প্রত্যেক সপ্তাহে সংবিধান শিক্ষার উপর একটা করে প্রোগ্রাম করবেন। এই ক্রেডিটটা আমি নিচ্ছি কারণ আমিই উনাকে প্রথম আমার মগজ ধোলাই ভিডিও ব্লগ সিরিজে গেস্ট হিসাবে ডাকি, যেখান থেকে এই সাপ্তাহিক সিরিজের আইডিয়াটা বের হয়ে আসে। যাই হোক, উনার কাছে আমার বক্তব্য হচ্ছে, এই সংবিধানগুলাও এক ধরণের পাবলিককে বোকা বানানোর চাল। এটা বুঝতে হলে আপনাদেরকে ভ্যাটিকান জেজুইট আর রথসচাইল্ড ড্রেকো ব্যাংকার সম্পর্কে পড়াশুনা করতে হবে। পৃথিবীর যে কোন শিক্ষিত লোকই বোঝে যে বাংলাদেশের মত অপোগণ্ড মূর্খ দেশে আসলে কখনই গনতন্ত্র কাজ করবে না। এমনকি অ্যামেরিকার মত শিক্ষিত দেশে পর্যন্ত ফ্রিমেসন, জেজুইট, নাৎসি, আর ড্রেকো ব্যাংকাররা মিলে দেশটাকে একটা ফ্যাশিস্ট পুলিশ স্টেটে কনভার্ট করে ফেলসে ধীরে ধীরে, আর অ্যামেরিকানরা জম্বির মত ঘুমাচ্ছে। এখনও ওদের দেশে বহু লোক জানে না যে ৯/১১ ঘটাইসে বুশ আর নেতানিয়াহু। ওদের আকাশে প্রত্যেকদিন প্লেন দিয়ে বিষাক্ত কেমট্রেইল ছড়ানো হয়, অথচ কেউই ঠিকমত জানে না কেন বা কারা এই কাজ করে যাচ্ছে। এত শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ওরা এটা বন্ধ করতে পারছে না। আর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যা করে যাচ্ছে, এটা তো কোন শিক্ষিত এবং জাগ্রত দেশে করা সম্ভব হত না। আচমকা দেশে চলে আসলো ৫৪ ধারা। কেন আসলো, কীভাবে আসলো, কে জানে? গত ২/৩ বছরে বিএনপি আর জামাতকে ধুলায়ে মিশায়ে ফেলসে আওয়ামী লীগ আর র, কিন্তু ঘুমন্ত বাঙালি ক্রিকেট খেলা আর ব্লগার হত্যা নিয়ে ব্যস্ত। মিডিয়াতে যা বলে, তার বাইরে একটা বাঙ্গালিকে চিন্তা করতে দেখা যায় না। আমি নুহু ভাইকে বলসি, যে বাংলাদেশের সংবিধান বুঝতে আমার একদিন লাগবে। এটা নিয়ে আপনি মাসের পর মাস প্রোগ্রাম করতে যাবেন কেন? সংবিধান বোঝা একটা কমন সেন্সের ব্যাপার। বিরোধী দলকে সরকারি অবকাঠামো আর ফান্ড অপব্যবহার করে, মাইর আর মিথ্যা মামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করে, দেশের সমস্ত আন্দোলন করার রাস্তা অকার্যকর করে গদিতে গ্যাঁট হয়ে বসে যাওয়া কোন সংবিধানে নাই। যেখানে সরকার নিজেই সংবিধানের ধার ধারে না, সেখানে জনগনকে সংবিধান পুথিপড়া করে লাভ কি? কেউ যদি বলতে যায় যে সরকার সংবিধান বিরোধী কাজ হরহামেশা করে যাচ্ছে, যেটা দেশের প্রত্যেকটা লোক জানে, তখন তো ঐ ব্যক্তির জান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।

উপসংহারে বলব যে কাউকেই আমি বলছিনা আপনারা যা করছেন, তা বন্ধ করতে। সবাইই তো চিন্তা ভাবনা করেই আমরা কাজ করি, আর প্রত্যেকটা কাজের কিছু না কিছু মূল্য আছে, ইভেন আমার এই ড্রেকো সিরিজেরও। অন্তত আমি তাই মনে করি। কিন্তু আমাদের রথসচাইল্ড, জেজুইট, নাৎসি, ড্রেকো, ব্লাডলাইন, ব্যাংকিং, ফ্রিমেসন্রি, ইলুমিনাটি, র, আইএসআই, মোসাদ, সিআইএ, ড্রাগন, এদের সম্পর্কে ধারণা না থাকলে, শুধু মেট্রিক্সের ভিতরে বসে অজ্ঞ লেভেলে পণ্ডিতি করতে থাকলে আর কোনদিন আমাদের নিজের দেশের মানুষের দাসত্ব থেকে বের হতে হবে না। আমার নিজের জন্য একটা হাই স্যালারি কর্পোরেট চাকরি বের করা খুব একটা কঠিন না, এই দেশে অথবা অ্যামেরিকায়, কারণ আমি আইটির লোক। কিন্তু সেটাই সমাধান না। শুধু একটা বড় মাপের চাকরি করার জন্য আমরা পৃথিবীতে আসিনি। এখানে আরও অনেক কিছু হওয়া বাকি, অনেক কিছু করা বাকি। আমি ইন্টুইট করতে পারি যে আমাদের সামনে একটা বিরাট পরিবর্তন আসবে, আর সেটা নিয়েই এত কথা বলা। যাদেরকে এই লেখার মাধ্যমে বাঁশ দিলাম তারা যেন আমাকে ক্ষমা করে দেয়! আই লাভ ইউ গাইজ!

No comments:

Post a Comment