Tuesday, November 10, 2015

draco part 26 (in bengali)


ড্রেকো ২৬

ডন হোয়ান মাতুসের মতে, পৃথিবীতে ৩ ধরণের মানুষ আছেঃ হিসু, বমি, আর পাদু। হিসুরা সবুজ উত্তপ্ত তরলের মত, কিন্তু অখাদ্য। বমিরা নিজেকে ঢেলে দিবে আপনার উপর, এখন সামলান। আর পাদুরা আপনাকে বলবে, আমি তোমার থেকে বড় এবং বেশী জানি। সেদিন আঞ্জির ছোটভাইয়ের জন্মদিনে গিয়ে ওর ভাবীর হাতে আচমকা মুখ-মাথা-শার্টে কেকাচ্ছন্ন হয়ে ধরা খাওয়ায় একটা গল্প মনে পড়ল। একদিন ডন হোয়ান ক্যাস্টানেডাকে সিল্ভিও মানুয়েল আর ভিসেন্ট মেদ্রানোর সাথে পরিচয় করতে নিয়ে গেল। কিন্তু পরিচয় হওয়ার সময় ভিসেন্ট বলল, এই লোককে ভিতরে আনছ কেন? একে দিয়ে কাজ হবে না। ওকে  বাইরে নিয়ে যাও। আর সিল্ভিও বলল, ওকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখ। ডন হোয়ান কাস্টানেডাকে আস্তে করে বলল, আস। বলে ওকে পিছনের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে মাটি থেকে একটা চামড়ার দড়ি উঠায়ে মুহূর্তের মধ্যে ওর গলায় প্যাঁচায়ে ফেলল, আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডন হোয়ান ওকে বারান্দার একটা কলামের সাথে বেঁধে ফেলে ভিতরে চলে গেল। রাগে কার্লোস চিৎকার করে ডন হোয়ানকে ডাকা শুরু করল কিন্তু কোন লাভ হল না। অপমানে অন্ধ হয়ে ও তখন পিলারের একটা কোণার সাথে দড়ি ঘষতে শুরু করল, আর এক পর্যায়ে টানের চোটে দড়িটা ছিঁড়ে ও হুড়মুড় করে উলটা হেঁটে পিছনের দরজা খুলে ঘরে বসে থাকা তিনজনের সামনে ছিটকে পড়ল, আর ওরা উঠে দাঁড়ায়ে হোহো করে হাসা শুরু করল। ডন হোয়ান ওকে বসতে সাহায্য করতে করতে বলল, কারলিতো, তুমি পারও বটে। তুমি যদি এত্ত বড় ইগোম্যানিয়াক না হতা, তাহলে একটু খেয়াল করলে দেখতা কাছেই একটা কাঁচি রাখা ছিল। অথবা আরেকটু ঠাণ্ডা মাথায় খেয়াল করলে বুঝতা যে ঐ গিট্টূটা ফলস। তোমাকে স্টকিংয়ের চারটা মুড শেখানোর জন্য এই কাজটা করা হইছে। স্টকিংয়ের চারটা মুড হলঃ সুইট, পেশেন্ট, রুথলেস, আর কানিং।

যাইহোক, টোল্টেক টিচিং অনেক গভীর জিনিষ। কার্লোস ৩৫ বছর ডন হোয়ানের এপ্রেন্টিসশিপ করেও নিজেকে ফেইলিয়র মনে করে। আমরা অবশ্য তা মনে করি না। শমনিক সোরসারি একটা অল্টারনেটিভ রিয়্যালিটির দরজা খুলে দেয়। যে কারনে, আমার ক্ষেত্রে অন্তত, তথাকথিত কন্সপিরেসি থিওরিস্ট টাইটেলে অভিষিক্ত হওয়া সত্ত্বেও সত্যানুসন্ধান থেকে কেউ থামাতে পারেনি। ইগোর ব্যারিয়ার থেকে বের হতে না পারলে কেউ মগজ ধোলাই ভাংতে পারবে না। সিভিয়ার ট্রমা সাফার না করলে কেউ সাধারণত ইগো ট্রিপ থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। পেইন হল গিয়ে বেস্ট টীচার। আমাদের মধ্যে যারা উচ্চবিত্ত, এরা আমাদের আনফেয়ার সিস্টেমের সুবিধাগুলা ভোগ করে, কাজেই সিস্টেম চেঞ্জ করতে অনাগ্রহী। যারা নিম্নবিত্ত, তারা এতই অকাট মূর্খ আর নিষ্পেষিত যে এরা হার শিকার করেই বসে থাকে, আর যারা চালাক তারা চুরি চামারি করে সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করে, আর আমাদের চরম দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমের কারণে মাঝে মাঝে একেবারে উপরে উঠে যায়। এবং উপরে গিয়ে সিস্টেমটাকে আরও চুষতে থাকে। এরপর বাকি থাকল শুধু মধ্যবিত্ত। মধ্যবিত্তরা হল আমাদের সিস্টেমটার চাকার স্পোকের মত। দুইটাকা বেতন পেলে মধ্যবিত্ত এত খুশি হয়ে যায় যে এদের দিয়ে যা খুশি তাই করানো যায়। যেহেতু মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বেশী কম্পিটিশনের মধ্যে পড়তে হয়, এই কারণে এরা সবচেয়ে শার্প হয়। এরা নিজেদের বুদ্ধি দিয়ে চলে বলে এদের কনফিডেন্স আর ইগো অনেক বেশী। যে কারণে, ড্রেকোরা এদেরকে মগজ ধোলাই দেয়ার পিছনে সবচেয়ে বেশী এনার্জি ব্যয় করে।

টাইম, নিউজউইক, অবজারভার, ন্যাট জিও, রিডারস ডাইজেস্ট, ভোগ, আপনারা যেসব ম্যাগাজিন পড়েন, এর প্রত্যেকটাই জায়োনিস্ট মগজ ধোলাই মিডিয়া। বাংলাদেশের ডেইলি স্টার বা প্রথম আলো পড়লে আপনাদের মাথায় নিরেট গোবর ছাড়া আর কিছু থাকবে না। কারণ কোন অর্থপূর্ণ খবর দেয়ার সাহসই এদের কারও নাই। বাংলাদেশে ভিন্নমত প্রকাশ করার কোন অবকাশ আওয়ামী লীগ অবশিষ্ট রাখেনি, আর রাখলেও খুব একটা লাভ নাই। যে যে পক্ষেই কথা বলুক, প্রত্যেকেই মগজ ধোলাই খাওয়া। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ একটা অর্থহীন লেভেলে কথা বলে এবং চিন্তা করে। দেশের সবথেকে বুদ্ধিমান যারা, তারা কি করে? কোন একটা মালটিন্যাশনালে কাজ করে? লীগের মাথায় তেল দিয়ে বড় বড় ব্যবসাগুলা ধরে? নেপোটিজমের মাধ্যমে জয়ের মত দেশের সবচেয়ে বড় পোস্টগুলাতে বসে যায়? বেসিক্যালি এরা ছলে বলে কৌশলে টাকা বানানোর ধান্দা খুঁজতে থাকে। এর বাইরে চিন্তা করাকে এরা ফাজলেমি মনে করে। ঠিক কিনা? আপনি নিজে কি এই দলে পড়েন? পড়াটাই স্বাভাবিক। কারণ আমরা প্রত্যেকেই গভীরভাবে মগজ ধোলাই খাওয়া হিপ্নোটাইজড জম্বি। আমাদেরকে যেভাবে চিন্তা করতে শিখানো হইছে, তার বাইরে আমরা এক পা ফেলার কথা চিন্তা করিনা। আর ঠিক এই কারণেই পৃথিবীতে কোন পরিবর্তন আসে না। সারাজীবন আমরা একটা জিনিষই দেখে যাইঃ যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ।

পরিবর্তন আনতে হলে কি করতে হবে? প্রথমত বুঝতে হবে সরকার, ব্যাংক, আর কর্পোরেশনগুলা আমাদের শত্রু। দেশে যত অপকর্ম হয়, সবকিছুর জন্য সরকার দায়ী, এইটা বোঝা হল প্রাথমিক কাজ। পুলিশ, সরকার, আইনজীবী, এরা আইনের ধার ধারে না, এটা বুঝতে হবে। মিডিয়াতে খুচরা ফাঁপর ছাড়া কোন অর্থপূর্ণ খবর আসে না। আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে কি কি দুই নম্বরি হচ্ছে এগুলা সমস্ত বের করতে হবে। আমাদের ভ্যাটের টাকা কোন নেতার সুইস ব্যাংক একাউন্টে জমা হচ্ছে, এটা বের করতে হবে। আমরা যে গ্যাস পানি ইলেকট্রিক বিল দিচ্ছি, সেই হাজার হাজার কোটি টাকা কার সুইস ব্যাংকে জমা হচ্ছে এটা জানতে হবে। সরকারি আমলা, তাদের পিয়ন চাকর ড্রাইভার থেকে শুরু করে সবাই যে দুর্নীতি করে যাচ্ছে, সেটা থামাতে হবে। কিন্ত তার আগে...

...তার আগে ঠাণ্ডা মাথায় যেটা বুঝতে হবে সেটা হল, জীবনের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত যা আমাদেরকে শিখানো হয়, তার পুরাটাই মগজ ধোলাই। সিস্টেমের চাকায় একটা স্পোক হয়ে বেঁচে থাকার জন্য যা যা দরকার, শুধু সেটুকুই আমাদেরকে বলা হয়। এর পরের বাকিটা অফ লিমিটস -- খাঁচার মুর্গীর জন্য নয়। আমরা কেউ যদি জানার চেষ্টা না করি, কিছু বোঝার চেষ্টা না করি, তাহলে কিন্তু আমাদের মালিকেরা খুব খুশি থাকে। আমরা যত বেশী টাকা কামাই, ততই ওরা আমাদের পিঠ চাপড়ায় কারণ ওদের স্লেভারী সিস্টেমটাকে তো আরও পোক্ত করে দিচ্ছি। যখনই আপনি জানতে চাইবেন যে পৃথিবীর শতশত ফ্রি এনার্জি ডিভাইস কেন সাপ্রেসড হয়ে আছে, সাথে সাথে সবার মুখ ব্যাজার। ঐ যে আবার কন্সপিরেসি থিওরি শুরু করছে। কেন বাপ, মুখ গুঁজে টু পাইস কামায়ে সুখে থাক? মেয়েছেলে লাগা? চটকদার গাড়ি বাড়ি কিন? এইসব ফালতু জিনিষ ভাবিস ক্যান? তুই পারবি পৃথিবীটাকে বদলে ফেলতে? হু পারবো। পারতাছি। পাইরা ছাড়ুম।

নাস্তিক ব্লগার নামে কিছু দুনিয়াতে নাই। এইটা একটা মিমি। একটা মগজ ধোলাই। লক্ষ লক্ষ লোক নানা কথা লিখে যাচ্ছে ধর্ম নিয়ে, তাতে কার কি এসে যায়? কিন্তু না, ঐ ব্লগারদের মারতে হবে। তাও গুলি করে মারলে হবে না -- ইসলামিক পদ্ধতিতে কোপায়ে মারতে হবে। কেন? কারণ নাহলে মগজ ধোলাই হবে কীভাবে? মানুষ যদি মৌলবাদীদের ভয়ে শিটকে না থাকে, তাহলে সাইঅপ্স কীভাবে কাজ করবে? কে বিশ্বাস করবে?

যারা মুর্গীর খাঁচার বাইরে বাস করে, তারা কিন্তু পুরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিভ্রমন করে বেড়াচ্ছে। কি? বিশ্বাস করতে পারছেন না? এভিডেন্স চাই? প্রুফ চাই? হাসান কেন ভাই? এভিডেন্স আপনাদের পিছন দিক দিয়ে সাঁটতে সাঁটতে গলা পর্যন্ত হয়ে গেছে কিন্তু আপনাদের মগজ ধোলাই তো ভাঙ্গে না! এ কি আজীব কারখানা আমাদের! কেউ কোন পড়াশুনা করে না। কিছু জানতে চায় না। একটা বই পড়ে না। কোন আগ্রহ নাই। কোন কমন সেন্স নাই। সত্য উদ্ঘাটনের কোন চেষ্টা নাই। দুর্নীতি থামানোর কোন ইচ্ছা নাই। কারও কোন বিকার নাই। সবাই শুধু মুখ দিয়ে ফেনা তুলে একটা কথাই বলে যাচ্ছে বারবারঃ থোড়-বড়ি-খাঁড়া আর খাঁড়া-বড়ি-থোড়!

কথা শেষ। কিন্তু আরেকটু কি যেন বলার ছিল। আমাদের জীবন চরম অর্থহীন হয়ে গেছে। খাঁচার মুর্গী হয়ে বেঁচে থাকা অভ্যাস হয়ে গেছে। তবু কি যেন বলার ছিল। কি যেন হওয়ার ছিল। এই চোরা সরকার, ধর্মের ভণ্ডামি, আর টাকার লোভে অন্ধ হয়ে থাকা -- এটাই শেষ কথা নয়।

No comments:

Post a Comment