Saturday, November 7, 2015

draco part 25 (in bengali)


ড্রেকো ২৫

জর্ডান ম্যাক্সওয়েল নামে একজন গবেষকের মতে, পৃথিবীর মানুষ একটা গ্র্যান্ড এক্সপেরিমেন্ট। আমাদের দেহের ভিতরে আত্মার বসবাসের যে ব্যবস্থা, এটা চিরস্থায়ী নয় তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু অনেকে যেটা জানি না, তা হল, জীবিত অবস্থায় আমাদের আত্মা বা কনশাস্নেস্টা দেহ থেকে বের হয়ে যেতে পারে, যেটাকে বলে আউট অভ বডি এক্সপেরিয়েন্স বা OBE। ঘুমের মধ্যে আমাদের সবারই ওবিই হয় যেটা অধিকাংশ সময়ে আমাদের মনে থাকে না। রবার্ট মোনরো নামে একজন বিজ্ঞানী, এবং আরও অনেকেই, এটা নিয়ে লিখেছেন। পরবর্তীতে এটার উপরে গবেষণা করতে করতে সিআইএ আবিষ্কার করে রিমোট ভিউইং এবং আরও পরে রিমোট ইনফ্লুয়েন্সিং। নেটিভ শমনদের লুসিড ড্রিমিং ব্যাপারটাও খুব কাছাকাছি। এটা দিয়ে ইন্টারডিমেনশনাল ট্র্যাভেল করা যায়। এই রিমোট ভিউইংটা সিআইএ কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে তার একটা নমুনা দেই। এর আগে আমি অ্যারন মাক্কলামের কথা বলেছি, যে একজন ডলফিন-হিউম্যান হাইব্রিড সুপারসোলজার বা অগমেন্টেড হিউম্যান। ও একজন স্পেশাল অপ্স কম্যান্ডার যে অজস্রবার বিভিন্ন স্টারগেট পোর্টাল দিয়ে অন্য ডিমেনশন, টাইম, বা প্ল্যানেটে মিশনে গেছে। ওর একজন মেয়ে পার্টনার আছে যে ঐ মিশনগুলাতে ওর সাথে ননফিজিক্যালি রিমোট ভিউইংয়ের মাধ্যমে যায় এবং কি ঘটছে তা ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যায় পৃথিবীতে বসে। এই ডিভাইসটার নাম সম্ভবত ক্রোনোভাইজর যেটার কথা অ্যান্ডি বাসিয়াগো বলেছেন। বাসিয়াগো হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দাবী করেন টীনএজ থাকাকালে উনি প্রজেক্ট পেগাসাস জাম্পগেটের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহে টেলিপোর্ট মিশনে গেছেন, এবং ওখানে ওবামাকে দেখেছেন।

এই ড্রেকো সিরিজের মাধ্যমে একটা প্রধান বিষয় আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে পৃথিবীর সাধারণ মানুষকে একটা মিথ্যার জগতে বন্দী করে রাখা হইছে। আমাদের ধর্ম-টাকা-রাজনীতি-মিডিয়া-ক্যারিয়ার এর যে জগতের মধ্যে আমরা আটকা পড়ে আছি, এটা একটা দাসত্ব। এটার মধ্যে আমাদেরকে বন্দী করে রাখা হইছে মাইন্ড কন্ট্রোল আর হিপ্নোসিসের মাধ্যমে। আমাদের অন্ধ করে রাখা চোখের একটু বাইরেই আছে একটা অসাধারন মাল্টিভারস, যা সম্পর্কে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নাই। যুগ যুগ ধরে মালটিজেনারেশনাল মগজ ধোলাই খেতে খেতে আমাদের অজ্ঞতা এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছে যে এখন কেউ সত্যি কথাটা আমাদের হঠাত খুলে বললে আমরা হেসে উঠি। সত্যি কথাটা আমরা বিশ্বাস করতে পারি না। ঐ লোকটাকে পাগল ছাগল মনে করি। আমরা বিশ্বাসই করতে পারিনা যে সাড়ে সাত বিলিয়ন মানুষকে এভাবে ভেড়া বানায়ে রাখা সম্ভব, কিন্তু ঠিক তাইই ঘটেছে। আমাদের অ্যাটলান্টিস আর লেমুরিয়া নামে দুটা খুব উন্নত সভ্যতা ছিল যেগুলা ধ্বংস হয়ে গেছে ৬ থেকে ১৩ হাজার বছর আগে। কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ ভুলে গেছি সেই কথা? কেন ভুলে গেছি? কারণ খুব সিস্টেম্যাটিকভাবে আমাদেরকে ভুলানো হইছে। আপনারা দেখেছেন কীভাবে আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের নামটা ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে দেয়ার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে? কেন? আপনারা কি শেখ মুজিবের সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতা শুনেছেন যেটা এখন এডিট করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ কথাটা মুছে দেয়া হয়েছে? একটু খেয়াল করে শুনলে জোড়া দেয়া নকল পার্টগুলা স্পষ্ট বোঝা যায়। ঠিক এভাবেই যুগ যুগ ধরে ড্রেকোরা আমাদেরকে মগজ ধোলাই দিয়ে আসছে। আমরা কুচা মুর্গীর মত শুধু দেখে যাই। কিছু করতে পারি না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি, ভাই, কিসসু করার নাই।

মজার ব্যাপার হল, আপনাকে ঐ "কিসসু করার নাই" পরাজিত মনোভাবে নিয়ে আসার জন্যই কিন্তু এত খুন, রেপ, ভণ্ডামি, মিথ্যা, মগজ ধোলাই, হিপ্নোসিস, পুলিশ, র‍্যাব, মিলিটারি, সরকার, মন্ত্রীসভা, ভোট চুরি, দাঙ্গা, হাঙ্গামা, আগুন, মিথ্যা মামলা, ক্রসফায়ার, রিমান্ড, সাইঅপ্স, ইত্যাদির এত আয়োজন। সবথেকে ইম্পরট্যান্ট হল মানুষের স্পিরিট। যার স্পিরিট ভেঙ্গে গেছে, সে পরাজিত। এখন সে কারও না কারও দাস হয়ে বেঁচে থাকার জন্য তৈরি। এখন ইচ্ছামত তাকে ট্যাক্স, ভ্যাট, ঘুষ, বিল বাড়ানো, সরকারি ভাতা বাড়ানো, লাত্থি গুতা, যাইই দেন না কেন, সে এখন কুচা মুর্গীর মত শুধু কুকু করবে, কিচ্ছু বলবে না। কারণ সে জানে বলে কোন লাভ নাই। কেউ তার কথা পাত্তা দিবে না। সবাই তো চুরি আর লুটপাটে মজে আছে। সবাইই তো কামড়াকামড়ি করে খাচ্ছে। জমি খারিজ, এপার্টমেন্ট বুকিং, ব্যাংক লোণ, গাড়ির মডেল আপগ্রেড, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড স্কুলে বাচ্চাদের পড়ানো, বিদেশে পাঠানো, এইসব নানান কাজের জন্য কোটি কোটি টাকা লাগে। এইসব ড্রেকো ফেকো নিয়ে ফাজলেমি করার ফুরসত কই?

কালকে ইন্ডিয়ার একটা খবরে পড়লাম হাসিনা চায় ওয়ান পার্টি পলিটিক্স। যেটা এখন সে বাংলাদেশে এস্টাব্লিশ করে ফেলছে। বিএনপি ভাবতেছে, এটা কি হল? কিন্তু ঘটনা যা ঘটার ঘটে গেছে। খালেদা দেশের বাইরে, আর আমাদের তালুকদারের ধারণা যে সে আর ফিরবে না। এদিকে জয় গদিতে বসে পড়েছে এবং প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকায় দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের অর্ডার দেয়া হয়ে গেছে। এই ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা ড্রেকোদের প্ল্যানের একটা বড় অংশ। ড্রেকোরা চায় ওদের ফার্মের মুরগীদের পুরাপুরি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। আমরা কম্প্যুটারে যা কিছু করি সব ওরা রেকর্ড করে একটা কোয়ান্টাম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডাটাবেসে পাঠায় তা আগেই বলেছি। এর সাথে যোগ করেন HAARPএর মত মাইন্ড কন্ট্রোল টেকনোলজি যেটা দিয়ে মানুষকে খুব সহজে ব্রয়লার মুরগি বানানো যায়। এরপরে আছে পানিতে ফ্লোরাইড মিশানো। অরগানিক খাবারের বদলে মনসান্টোর জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার। খেয়াল করবেন যে আমাদের ইয়াং জেনারেশন ভিডিও গেমের ভিতরে হারায়ে গেছে। দেশে ইয়াবার বিক্রি দিন দিন বাড়ছে। মিডিয়ায় তাকালে দেখবেন প্রত্যেকদিন নতুন নতুন দুঃসংবাদ। আমাদের মধ্যবিত্ত সুশীল সমাজ যেন অপেক্ষায় থাকে নেক্সট ব্যাড নিউজটা পাওয়ার জন্য। পাওয়া মাত্র শুরু হয়ে যায় লেখালেখি কিন্তু এই লেখা সম্পূর্ণ অর্থহীন। এই ফেসবুক কালচার আরেকটা মগজ ধোলাই কাল্ট। এরা সবাই থোড়-বড়ি-খাঁড়া নিয়ে ব্যস্ত। কিছুতেই বুঝতে পারেনা যে একটা অন্ধত্বের গণ্ডীর ভিতরে বিচরণ করছে এরা সবাই। আস্তিক-নাস্তিক ঝগড়া, বিএনপি-অ্যাল ঝগড়া, হিন্দু-মুসলিম হিংসামি, এই চলছে।

যতদিন ব্যাবিলনিয়ান মানি ম্যাজিক থাকবে পৃথিবীতে -- দাসত্ব থাকবে। ঢাকা শহরটাকে দেখতে একটা ধ্বংসস্তূপ ভর্তি ডাস্টবিনের মত লাগে। বিদেশ থেকে ফিরে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে প্রথম ঢাকা শহরটা দেখলে অদ্ভুত লাগে! এই অবস্থা কীভাবে হল? এত নোংরা আর ধ্বজভঙ্গ চেহারা একটা দেশের হতে পারে? দেখে বিশ্বাস করা যায় না। ব্যাংকিং সিস্টেমটা বদলাতে হবে। এটা নিয়ে সবার জানতে হবে। পৃথিবীর প্রত্যেকটা সেন্ত্রাল ব্যাংক রথসচাইল্ডের কন্ট্রোলে থাকে। যেখানে সেই কন্ট্রোল নাই, সেখানেই ওরা যুদ্ধ লাগায়। ইরানের মেহেরান কেশি উনার প্লাজমা টেকনোলজি সবাইকে দেয়ার জন্য কতদিন ধরে চেষ্টা করছেন, কই, আমাদের এত বুদ্ধিমান সরকার তো একটা টীম পাঠালো না সেখানে! কেন পাঠাবে? আমাদেরকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়ার কাজ কি সরকারের? নাকি ওরাই বিভিন্ন অভিসন্ধি করে আমাদেরকে মূর্খ দাস বানায়ে রাখছে? কোনটা? পুটিন আর মোদীকে খেয়াল করেন, বুঝতে পারবেন একজন শক্তিশালী নেতা কীভাবে চিন্তা করে, কীভাবে কাজ করে। কিন্তু ঐ রকম নেতা বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে আমাদের সবাইকে মগজ ধোলাই ভেঙ্গে বের হয়ে মানুষের মত আচরণ করতে হবে। একজন জিয়া বা জহির রায়হান তো বেশী দূর যেতে পারে না। ওদেরকে মেরে ফেলা হয়। কিন্তু পুটিন বা মোদীকে মেরে ফেলা অত সহজ হবে না। কারণ ওরা আমাদের বাংলাদেশের মত মূর্খ জাতি নয়। নিজের মূর্খতা স্বীকার করে নেয়া হল আমাদের প্রত্যেকটা বাঙালির প্রধান কাজ, এই মুহূর্তে। আমি মিরাজ, নুহু, আদিব, মেহেদি, অভিজিতের কথা লিখেছি -- এরা সবাই নিজেকে বিরাট পণ্ডিত মনে করে, বাট নো অফেন্স, আমি তোমাদের সবাইকে বিরাট বড় গর্দভ মনে করি যারা এখনও সামান্যতম মগজ ধোলাই ভেঙ্গে বের হতে পারেনি। মগজ ধোলাইটা কি এবং কীভাবে হচ্ছে, এটাই এখনও ওদের বোধগম্য হয়নি। এখনও এরা মনে করে যে ড্রেকো ফেকো বলে কিছু নাই। বা এগুলা জেনে কোন লাভ নাই। আর এই অতি পণ্ডিতিটাই আমাদের জাতীয় সমস্যা।

No comments:

Post a Comment