Thursday, October 8, 2015

draco part 9 (in bengali)

ড্রেকো ৯

একটু পরে বাসায় লোকজন আসবে, গান হবে, মাল খাওয়া হবে। (দিদিভাই, প্লিজ আম্মাকে এই আপডেটটা দিও না)। বহুদিন পরে এরকম কিছু হচ্ছে। ইদানিং বাসায় বসে এই ড্রেকো সিরিজ লেখা ছাড়া আর কিছুই করা হয় না। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি, আবার গিটার বাজাবো, গান কম্পোজ করবো, কিন্তু হয় না। ফেসবুকে সারাদিন কেটে যায়। বিশ্রী রাটটা থেকে বের হতে পারিনা। তাই লাইটওয়ার্কিং করে নিজেকে সান্ত্বনা দেই, যে একটা কিছু প্রডাক্টিভ কাজ করতেসি। কিন্তু সত্যি বলতে বাপ্পীর সকাল বিকাল বিভিন্ন কনসার্টে তোলা ছবি দেখতে দেখতে মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা তেজপাতাই হয়ে গেল। একটা বাঙ্গালিকেও তো জমবি স্টেট থেকে টেনে বের করতে পারলাম না। শুধু এদের চালাক চালাক আর বোকা বোকা কথাই শুনে গেলাম। যাহোক, আজকে শুরু করবো হায়ার-ডিমেনশনাল বিইংদের নিয়ে। যুগে যুগে মানুষ অন্য ডিমেনশনের প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ করে আসছে, কিন্তু কোন একটা অজ্ঞাত কারণে আমরা ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নেই না। খাওয়া ঘুম সেক্স আর টাকা পাইলেই খুশি। ইদানিং যার বাসাতেই যাই, দেখি যে সবাই খুব পশ এলাকায় থাকে। এলিভেটর এপার্টমেন্ট, নিচে গাড়ির সমাহার, দারওয়ান ফোন করে পারমিশন নিয়ে তার পরে ঢুকতে হয়। পুরা বাসায় থাকে দামি টাইলস। বাথরুমে দামি ফিটিংস, বাথটাব। ডাইনিঙে মার্বেলের টেবিল। ঘরে ঘরে বারান্দা, রান্নাঘরে ক্যাবিনেট, দুই দরজার ফ্রিজ, হোম থিয়েটার আর বিশাল টিভি -- এগুলা এখন স্ট্যান্ডার্ড। এরপর আছে বোতলের কালেকশন, প্লেনের টিকেট, বিদেশে সেকেন্ড হোম, হজ, উমরা, ইত্যাদি। ছেলেমেয়েদের কলেজের খরচ ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা জন প্রতি। আমার কাছে মনে হয় যে মানুষ আমার থেকে অনেক বেশী বুদ্ধিমান। এত টাকা কামাচ্ছে। আমার পাড়ার বন্ধু রাজু, শেরে বাংলার নাতি, ও এখন জয়ের দোস্ত, একটা পাওারপ্ল্যান্টের আংশিক মালিক। ও অবশ্য ব্রাউন নোজিং ব্যাপারটাকে ট্যালেন্টের পর্যায়ে নিয়ে গেসে। তাতে কি, লিভিং লারজ অ্যান্ড হ্যাভিং এ গুড টাইম।

বলতে চাইলাম কি, আর গেলাম কোথায়! আসলে মাথার উপর অন্য চাপ থাকলে এরকম হবেই। যাহোক, বিষয়টা হল, আমাদের বেসিক চাহিদাগুলা মিটাতে কিন্তু একটা মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিরও একগাদা টাকা কামাতে হয় আজকাল। একটা স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট না থাকলে চলে? একটা ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ঘাস লতাপাতার ছবি তুলে ফেসবুকে তো দিতে হবে, নাকি? নাহলে জীবনের মর্ম কোথায়? এই জন্যই কি কারও আমার এইসব ড্রেকো-ফেকো নিয়ে বাল-ছাল শোনার সময় নাই? এইসব কন্সপিরেসি থিওরি পড়ে তো আর পেট ভরবে না। সেজন্যে পড়াশুনা নিয়ে কত কসরত না করে যাচ্ছে আজকের ছেলেমেয়েরা। একটা দামী স্কুলের সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। একটা সরকারি দুই টাকা বেতনের চাকরি নিতে লাগে ১০ লাখ টাকা ঘুষ। এরশাদের আমল থেকে শুরু হইসে ব্যাঙ্কের টাকা মেরে মার্চেন্ট হয়ে যাওয়ার কাহিনি। আর ব্যাংকগুলা নিজেরা কিভাবে মানুষের রক্ত চুষে যাচ্ছে তা দেখার সুযোগ কোথায়? চলছে মেট্রিক্স, মেট্রিক্সের গতিতে।

ইসলামের ফেরেস্তা, জিন, ব্লাভাটস্কির অ্যাসেন্ডেড মাস্টার্স, বিলি মায়ারের প্লিয়েডিয়ান্স, ফ্রিমেসনদের ডিমন কনজুরিং ইভোকিং, উইচক্রাফট, এগুলা সবই কিন্তু অন্য ডিমেনশনের প্রাণীদের সাথে ইন্টার‍্যাকশনের ঘটনা। ডলোরেস ক্যানন নামে একজন রিগ্রেশন হিপ্নোটিস্ট ছিলেন যিনি হিপ্নোসিসের মাধ্যমে ইটিদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন। উনি বেশ কয়েকটা বই লিখে সম্প্রতি মারা গেছেন। ইউটিউবে উনার অনেক ভিডিও আছে। উনি সিআইএর সাথে কাজ করতেন ওদের এলিয়েন অ্যাবডাকশন কেসগুলা নিয়ে। কয়েক হাজার কেস হ্যান্ডল করার পরে উনি আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করেন যে ইটিরা আসলে কি করতে চাচ্ছে। ওরা চাচ্ছে আমাদের এই অর্থহীন দাসত্বের জীবন থেকে মুক্ত করতে। কিন্তু এই কথা আপনি আমার অনেক বিদেশী বন্ধুদের সামনে বললে ওরা আপনার সাথে একমত হবে না। ওরা বলবে যে কোন "সেভিয়র রেস" আসলে নাই। আমাদের সাথে যারা কম্যুনিকেট করে, এরা সবাই নেগেটিভ আর এদের আল্টেরিয়র মোটিভ আছে। আর যারা ভাল, তারা আমাদের থেকে দূরে থাকে কারণ মাল্টিভারসে একটা অনুন্নত বিশ্বকে উন্নত বিশ্বের বিইংসরা ইন্টারফিয়ার করার নিয়ম নাই। কিন্তু ডলোরেস বা আমার মতে, এটা ভুল ধারণা। আসলে আমাদেরকে অনেক উন্নত প্রাণীরাই খুব সাটল্ভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। নেগেটিভ আর পজেটিভ ইটির মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নেগেটিভরা ইউনিভারসাল ল গুলা মানে না, আর পজেটিভরা ওগুলা মেনে চলে। তবে বলা হয়, কিছু কিছু রেইস এতই উন্নত যে এদের এজেন্ডা আমরা কিছুই বুঝতে পারিনা।

সন্ধ্যা প্রায় হয়ে গেল, আমার গেস্টরা আসা শুরু করবে। টেনশনে আর মশার কামড়ে এখন আর কিছু মাথায় আসছে না। আপাতত এইটুকুই থাকুক। কালকে আবার হবে।

No comments:

Post a Comment