Wednesday, October 7, 2015

draco part 8 (in bengali)

ড্রেকো ৮

পৃথিবীটা এখন যে সিস্টেমে চলছে, বিশেষ করে আমাদের টাকা আর ইকোনোমি, এটা একটা ভয়াবহ দাসপ্রথা, যেটা কিভাবে আমাদের রক্ত চুষে খায় তা বেশির ভাগ বাঙালি এখনও ধরতে পারেনি। চরম দুর্নীতি আর র-এর নিয়ন্ত্রনের কারণে আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিলিটারি আর রাজনীতিবিদ মিলে যে ডিসিশন মেকিংটা হয়, সেখানেই আমাদের সব এনার্জির লাভের ভাগ টিয়ায় খেয়ে ফেলে। র সিআইএ মোসাদ এমআই৬ জেজুইট আর জায়োনিস্টদের যে এত লাফালাফি আর গোপন কর্মকাণ্ড, তার সবকিছুই মূলত এই জায়গাটাকে ইনফ্লুয়েন্স করার জন্য। এই কারণেই আমাদের দেশে কোন শক্তিশালী লীডার বেঁচে থাকতে পারেনা। পুটিনের মত শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব আমাদের দেশে তৈরি হওয়াই অসম্ভব কারণ পুটিনের সমস্ত বুদ্ধিমত্তার পিছনে আছে একটা শক্তিশালী ইন্টেলিজেন্স, আর তার পিছনে একটা বুদ্ধিমান আর শিক্ষিত জাতি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি বেশ কয়েকজন রাশানের সাথে কাজ করেছি, এরা প্রত্যেকে এভারেজ অ্যামেরিকানদের থেকে অনেক বেশী স্কিল্ড আর্ ইন্টেলিজেন্ট। মজার ব্যাপার, রাশানদের একটা গোঁয়ার টাইপের ক্রুডনেস থাকে যেটার সাথে বাঙ্গালিদের খুব মিল। আমরা অনেকটা এক রকম, শুধু ওদের রিসোর্সটা আমাদের নাই। এটি&টিতে আমার এক দোস্ত ওর নিজের গাড়ির এক্সেল নিজেই বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে একাই খুলে ফেলত। ডিমিট্রি ছিল একজন কন্ট্রাক্ট প্রোগ্রামার, যে সকাল দশটার দিকে আমার কিউবে চলে আসত সারাদিনের কাজ শেষ করে। জেপিমরগানে ছিল লিও -- একমাত্র ব্যক্তি যে পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের উল্টা ঝাড়ার সাহস রাখত আর কাউকে ছেড়ে কথা বলত না, যেখানে আমরা এভারেজ আইটি গাইজ নিজেদেরকে সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন ভাবতাম, আর খুব নার্ভাস থাকতাম।

আমাদের যে ইসলাম ধর্ম, এটা নিয়ে ক্রিটিসাইজ করা নাজায়েজ, কিন্তু ঝামেলা এইখানেই। ইসলাম এবং অন্যান্য এব্রাহামিক ধর্মগুলার সমস্যাটা কোথায় আর কত বড়, এটা যতদিন আমরা বুঝতে না পারবো, ততদিন আমাদের দাসত্ব চলবে। কাউকে না কাউকে কোনভাবে কোন একসময় এই বুলেটটা বাইট করতেই হবে। তো এখানে আমি একটা ব্যাপার বুঝায়ে বলি যা ৯৯.৯৯% বাঙালি কোনদিন শোনেনি বলে আমি মনে করি। সেটা হল, স্টারসীড শব্দটা হয়ত আপনারা শুনে বা পড়ে থাকবেন, কিন্তু এর অর্থ সম্ভবত আপনারা জানেন না। স্টারসীডের অনেক ভ্যারিয়েশন আছে, যেমন ইন্ডিগো, ক্রিস্টাল, রেইনবো, ইত্যাদি। মূলত, এই সোউলগুলা উপরের ডাইমেনশন থেকে অবতরণ করে আমাদের তৃতীয় ডাইমেনশনে ইনকারনেট করেছে আমাদেরকে দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করার জন্য। আমাদের মূল সমস্যা হল যে আমরা যে ড্রেকো আর আর্কনদের দাস, এটা আমরা কিছুতেই ধরতে পারছিনা। যে কারণে আমাদের অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর হচ্ছে, কিন্তু আমরা যেন পানিতে ডোবানো ব্যাঙ -- পানির মধ্যে আস্তে আস্তে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু ব্যাপারটা টেরই পাচ্ছিনা। দিব্যি ফুর্তিসে সেলফি তুলতেছি আর কতকগুলা মিডিয়া সাইঅপ্স মগজ ধোলাই নিয়ে দিন রাত বাকোয়াজ করে নিজেদের খুব বুদ্ধিমান ভাবতেছি। আমাদের কারও কোন নিজস্ব চিন্তাশক্তি যেন আর অবশিষ্ট নাই। আমরা হাঁ করে মিডিয়ার দিকে তাকায়ে থাকি যেন মাছ ধরতেছি -- কোন একটা ছাগল মন্ত্রী কোন ফালতু মন্তব্য করলে, বা কোন আকাম করলে তাই নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা আর সেন্স অফ হিউমার দেখে নিজেই গাগা হয়ে যাচ্ছি।

স্টারসীডরা গডকে বলে সোর্স। কিন্তু গড আর সোর্সের মধ্যে বিশাল তফাৎ। ইসলামের আল্লাহ যেমন মানুষের বিচার করে মানুষকে বেহেস্ত বা দোজখে পাঠায়, সোর্স এরকম কিছুই করে না। সোর্স ইজ অল এবাউট লাভ। ভালবাসা দিয়ে সোর্স সবকিছু সৃষ্টি করেছে। সে সবাইকে ভালবাসে। কেউ কোন খারাপ কাজ করলে মৃত্যুর পর যখন সে উপরের ডাইমেনশনে ফিরে যায়, তখন সে নিজেই খুব অনুশোচনা বোধ করে, আর সেই কারণে সে আবার আরেকটা জীবনে ফেরত আসে যেখানে সে আগের জীবনে যে ভুলটা করেছিল, সেই একই ভুলটা তার সাথে করা হয়। এতে তার আগের জীবনের অপকর্মটা কাটাকাটি হয়ে যায়। ইসলামে যে দোজখ বেহেস্তের কথা বলা হয়, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। চমকে উঠলেন, তাই না? কিন্তু আসলে এই ব্যাপারটা আমার আবিষ্কার নয়, পৃথিবীতে কয়েক লাখ স্টারসীড আছে যারা সবাই এই ব্যাপারটা জানে। হিন্দুরা এটা জানে। আমাদের ড্রেকো কাবাল আর ফ্রিমেসনরা এটা জানে। এবং আরেকটা মজার বিষয় হল, পৃথিবীর সব মানুষই আসলে স্টারসীড -- কিন্তু সবাই এখনও এক্টিভেটেড না। আর এই এক্টিভেটেড না হওয়ার পিছনের কারণটা হল প্রচন্ড মগজ ধোলাই। সারা জীবন আমাদেরকে শিখানো হয়েছে দিন হল রাত, আর রাত হল দিন। এইজন্য যখন আমার মত কেউ প্রথমবারের মত আপনাদেরকে সত্যটা বলবে, আপনাদের প্রথম রিয়াকশন হবে -- ওইটারে বাইন্দা পিডা। এটাই স্বাভাবিক।

তাই রাগ করবেন না। আমাকে বলতে দেন। এটাই তো বাক স্বাধীনতা। আমরা সবাইই উপরের ডাইমেনশন থেকে অবতরন করে পৃথিবীতে এসেছি, তাই আমরা সবাই অবতার বা আভাটার। ওই সিনেমাটাতে যে কনশাস্নেস ট্র্যান্সফার টেকনোলজিটা দেখায়, ওই একই রকম টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা এখানে চলে ফিরে বেড়াচ্ছি, কিন্তু আমাদের একটা "হায়ার সেলফ" উপরের ডাইমেনশন থেকে আমাদেরকে গাইড করে যাচ্ছে। এই জন্যই আমরা সবাইকে মেডিটেশন বা ধ্যান করতে বলি, কারণ সেটা করলে আমাদের প্রতিদিনের যে মগজ ধোলাই, সেটা একটু হলেও পাতলা হয়, আর তখন আমরা আমাদের হায়ার-সেলফের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের কি করণীয় এটা বুঝে নিতে পারি। ইসলামে যে নামাজ পড়া, এটা আসলে আমাদের হায়ার সেলফের সাথে যোগাযোগই, কিন্তু আমাদের টারমিনলজিগুলা খুব ডিস্টরটেড। ইসলামের মূল শিক্ষাটা আসল জায়গা থেকে সরে একটা ভুল শিক্ষায় চলে গেছে বলে আমি মনে করি। এই ডিস্টরশনটা প্রত্যেকটা ধর্মেই আমাদের ড্রেকোরা খুব বুদ্ধি করে ঢুকাইছে।

আমি যদি বলি যে আল্লাহ আর সোর্স একই জিনিষ, সেক্ষেত্রে যেটা বোঝা দরকার তা হল, সোর্স আমাদেরকে দিয়েছে ফ্রি-উইল -- আমরা যা খুশি তাই করতে পারি, সোর্স কোন ইন্টারফিয়ার করে না। পৃথিবীতে যা ঘটে সবকিছু আমাদের ইচ্ছার মাধ্যমে ঘটে আর এই জন্যই আমরা যতক্ষণ নিজেদেরকে না বদলাতে পারবো, ততক্ষন আমাদের অবস্থার কোন উন্নতি হবে না। আর আমাদের প্রত্যেকের ক্ষমতা অসীম। এটা বোঝা খুব জরুরি কারণ এটা না বুঝলে আপনার মনে হবে যে ড্রেকোদের জাল কেটে বের হওয়ার ক্ষমতা বুঝি আমাদের নাই বা কোনদিনই হবে না। এটা আসলে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যেদিন আমরা যথেষ্ট পরিমাণ মানুষ আমাদের নিজেদের ক্ষমতার ব্যাপ্তিটা বুঝতে পারবো, সেইদিন ওই ড্রেকোরা আর পালানোর রাস্তা খুঁজে পাবে না।

No comments:

Post a Comment