Sunday, October 4, 2015

draco part 6 (in bengali)


ড্রেকো ৬

এই সিরিজটার নাম ড্রেকো কারণ আমার মতে পৃথিবীর সারফেসে আমরা যারা বাস করি তারা ড্রেকো-রেপ্টিলিয়ান জাতীয় কিছু ৪র্থ ডিমেনশনাল প্রাণী দিয়ে মাইন্ড কন্ট্রোল্ড হচ্ছি। পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ এখন এই ব্যাপারে সচেতন, কিন্তু আমরা বাঙ্গালিরা সব কিছু একটু বেশী বুঝি বিধায় এই ব্যাপারটা মাথায় ঢুকাতে একটু কষ্ট হচ্ছে, তবে আর বেশীদিন লাগবে না। এর আগের পার্টটায় আমরা রাজনীতির দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজকে আলাপ করব এই অন্ধকার গর্ত থেকে বের হওয়ার উপায়। আমরা বলেছিলাম যে আমাদের মনখাঁচাটা ভিতর থেকে বন্ধ করা, আর এর চারটা পিলার হল ধর্ম কালচার সরকার আর টাকা। এখন ইংরাজিতে একটা কথা দিয়ে শুরু করিঃ পাগলামি হচ্ছে একই কাজ বারবার করে ভিন্ন রেজাল্ট আশা করা। তো এই জন্য আমি নির্ঝরদেরকে বলি ওদের খুচরা ফাঁপর বন্ধ করতে। দেশে প্রতিদিন পুলিশ র‍্যাব র ছাত্রলীগ এরা বিভিন্ন ক্রাইম করছে, করবে -- আর কোন না কোন বোকা এগুলা মিডিয়ায় রিপোর্ট করবে। আজকে বিদেশী খুন, কালকে রাজাকার ফাঁসি, এইসব চলতে থাকবে কারণ এই মগজ ধোলাইগুলা দিয়েই ড্রেকোরা আমাদের মাথাটা ভর্তি করে রাখে। আমাদেরকে খুচরা ফাঁপরে ব্যস্ত রাখাই এদের কাজ। কাজেই একজন ব্যক্তি যখন সত্যি সত্যি বুঝতে পারবে যে তাকে খুব সিস্টেমেটিকভাবে ঘোল খাওয়ানো হচ্ছে, তখন সে কি করবে? মিডিয়া তাকে যে দিকে এটেনশন দিতে বলছে, সে তার উলটা দিকে ফিরে থাকবে। কিন্তু ড্রেকোরাও তো জানে যে এটা করার সম্ভাবনা আছে, তাই ওরা উলটা দিকটাতেও অনেক রকম গুটি সাজায়ে রাখে যাতে যেদিকেই আমরা যাই, ওদের খপ্পরেই পড়ি। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই কঠিন ফাঁদ থেকে বের হওয়া সম্ভব, এবং কিভাবে সেটাই আলাপ করব।

গত কয়েক বছরে পড়াশুনা করতে করতে আমার কনশাস্নেসটা বাড়তে বাড়তে প্রায় একটা স্টেডিয়ামের সমান হয়ে গেছে। এইজন্য যখন একজন বাঙালির সাথে কথা বলতে যাই, ওদের পিংপং বল সাইজের কনশাস্নেসের কারণে ঝামেলা হয়ে যায় মাঝে মাঝে -- আইসে একজন সবজান্তা -- বলে অ্যাঞ্জি আমাকে গালি দেয়। মাইন্ড করবেন না, একটু হাস্যরস না থাকলে কি চলে? যাহোক আমি শুরু করব ধর্ম নিয়ে। ধর্ম হল আমাদের চিন্তাশক্তির উপর প্রথম আর সবচেয়ে বড় তালা। আপনারা বেশির ভাগ বাঙ্গালিই এখনও এই তালা খোলার জন্য তৈরি না সেটা আমি জানি। কিন্তু আমি আপনাদেরকে মুক্ত চিন্তার মানুষরা কিভাবে কথা বলে তার একটা স্বাদ দিতে চাই। আমি আপনাদেরকে বেবি ফর্মুলা খাওাতে চাই না। যারা আমার কথাগুল হজম করতে পারবে না, তাদের তো পড়ার কোন দরকার নাই। যথেষ্ট পরিমাণ মেন্টাল ম্যাচুরিটি না থাকলে আসলে আমার লেখা পড়া সম্ভব বলে আমি মনে করি না। এটাকে ইগো ভাববেন না, বরং রুথলেসনেস ভাবতে পারেন -- বিনয় এবং অহঙ্কার দুটাই বাদ।

যাদের ধর্মবিশ্বাস খুব প্রবল, তারা আমাকে বাদ দিলেও, আমি তাদের বাদ দিচ্ছি না। কারণ সব কিছুরই ওয়ার্ক এরাউন্ড আছে। যার জন্য যেটা কঠিন সে সেটা বাদ দিয়ে, সহজ যেটা, তাই করুক। কোন সমস্যা নাই। মূলত আমাদের কাজ হল আমাদের পিংপং বল সাইজের কনশাস্নেসটাকে বাড়ায়ে স্টেডিয়ামের মত বড় করা। এতে কিছু কাজ তো করতেই হবে। তো চলেন আমরা কাজের পিছনে সায়েন্সটা একটু বুঝি। আমি এটাকে বলব ফ্রিকোয়েন্সি আর ভাইব্রেশন। ফিজিক্সে এই দুটা রিলেটেড টার্মস -- একটা বাড়লে আরেকটাও বাড়ে। আমি এ দুটাকে ইন্টারচেইঞ্জাবলি ব্যবহার করব। আমাদের অন্ধকার গর্ত থেকে বের হয়ে আসার একমাত্র সমাধান হল আমাদের ভাইব্রেশন বাড়ান। এক্ষেত্রে আমাদের বুঝতে হবে কি করলে আমাদের ভাইব বাড়ে, আর কি করলে কমে। এই সায়েন্সটা যদি আমরা একবার ধরে ফেলি, আর যার যার মত ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর কাজ করতে থাকি, তাহলে দ্রুত আমাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে, এবং কেন, কিভাবে ঘটছে সেটা না বুঝলেও চলবে। ব্যাপারটা ম্যাথমেটিক্স বা ম্যাজিকের মত অটো কাজ করবে। কিন্তু যেহেতু আমরা সায়েন্সটা সম্পর্কে জানি না, তাই প্রয়োগ করতে পারি না। তাই চলেন ব্যাপারটা বুঝে নেই।

যেকোনো পজিটিভ এক্সপেরিয়েন্স আমাদের ভাইব বাড়ায়, আর নেগেটিভ এক্সপেরিয়েন্স ভাইব কমায়। আমরা যখন প্রতিদিন খবরে দেখি রেপ, ট্যাক্স বৃদ্ধি, খুন, দুর্নীতি, আরও যে হাজারও দুঃসংবাদ প্রতিদিন মিডিয়াতে দেখতে/শুনতে পাই -- এর প্রত্যেকটা আমাদের ভাইব কমাতে থাকে -- আর আমাদের ড্রেকো ওভারলর্ডরা ঠিক এটাই চায়। আমাদের ভাইব যত কমবে, দুর্নীতি, দুঃখ, নেগেটিভিটি তত বাড়বে। আমরা মরীয়া আর দিশাহারা হয়ে থাকব -- এরকম একটা জাতিকে শোষণ করা খুব সহজ। যেমন আমরা বাঙ্গালিরা শোষিত হতে হতে তেলাপোকার মত হয়ে গেছি। ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগ পুলিশ র‍্যাব ভুমিদস্যু লুটেরা কর্পোরেশন এরা সমানে আমাদের ক্ষতি করে যাচ্ছে, অথচ আমরা নির্বিকার। মিডিয়াতে একটা টুঁ শব্দ করতে পারছিনা শুধু দুঃসংবাদটা দেয়া ছাড়া। ওইটুকু জায়েজ আছে, কারণ ওটা যে আমাদের ভাইবকে কমাবে!

এর উলটা দিকটা হল গান করা, গল্প করা, হাসাহাসি, আনন্দ, ফুর্তি, ভালবাসা, মানুষের উপকার করা, ভাল কাজ করা, ভাল আর পজেটিভ চিন্তা করা -- এইসবে আমাদের ভাইব বাড়তে থাকে। আমরা বাঙ্গালিরা মনে করি আল্লাহর ইচ্ছায় সবকিছু হয়, কিন্তু আসলে আমাদের ইচ্ছায় সবকিছু হয়। আমরা প্রত্যেকে ছোট ছোট আল্লার মত -- খোদার কথা বলেছিলাম আরেকদিন। খোদ থেকে খোদা। ইংলিশে এটাকে বলে কোক্রিয়েটর -- সহস্রষ্টা। আমাদের রিয়ালিটিটা আমাদের সাবকনশাস দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ব্যাপারটা আমরা এখনও জানিনা বা বুঝিনা। এবং এই কারণে, আমরা কোন দায়িত্ববোধ ফীল করিনা। যে কারণে আমাদের কোন উন্নতি হয় না -- কারণ উন্নতি হওয়ার জন্য আমাদের যা যা করা দরকার তার কোনটাই তো আমরা করছি না।

এখানে আপনাদের মনে হতে পারে যে ধর্ম আমাদের যা শিখায় আমি তার উলটা কথা বলছি। কিন্তু আসলে তা না। ধর্মের শিক্ষা দুই রকমঃ আসল আর নকল। বাংলাদেশে আমরা যেটা চর্চা করি, ওটা নকল। এটা শুনে মাইন্ড করবেন না। আমাদের এই বিষয়গুলা বোঝার সময় হয়ে গেছে অনেক আগেই।

উপসংহারে একটু সামারাইজ করি কি শিখলাম। আমাদের মুক্তির উপায় হল ভাইব্রেশন বাড়ানো। দুঃসংবাদ পড়লে আমাদের ভাইব কমে, সুসংবাদ পড়লে বাড়ে। আমাদের রিয়ালিটি নিয়ন্ত্রিত হয় আমাদের সাবকনশাস দিয়ে। কাজেই আমাদের অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের নিজেদের সাবকনশাস মাইন্ডের উপরে কিভাবে কন্ট্রোল আনা যায় সেটা শিখতে হবে। আজকে এইটুকুই।

No comments:

Post a Comment