Saturday, October 3, 2015

draco part 5 (in bengali)

ড্রেকো ৫

আমাকে জেসি বলসিলো, আপনি যদি ছোট বাচ্চাকে বিরানী খাওয়ান, সেকি হজম করতে পারবে? গুড পয়েন্ট কিন্তু ও আপনাদেরকে ছোট বাচ্চার সাথে তুলনা দিচ্ছে, এটা তো আপনাদের জন্য অপমানকর। তাই আমি আপনাদেরকে বেবি ফরমুলা না খাইয়ে, একদম ১০০% আসলি মাল ধরায়ে দিচ্ছি। কয়েকজন তো বেশ ভালই খাচ্ছেন, নাকি? অন্যদের হাল্কা বদহজম হলেও অভ্যস্ত হয়ে যাবেন অল্প কিছুদিনে। সত্য এমন এক জিনিষ, একে চিরদিন লুকানো যায় না। যাই হোক, একটু রাজনীতির কথা বলি। দেশের একটা বড় অংশ মগজ ধোলাইয়ের কারণে একটা কথা তোতাপাখির মত অহরহ বলেনঃ এই হাসিনা খালেদা না যাওয়া পর্যন্ত এই দেশের কিসসু হবে না। নো অফেন্স, আপনি একটা আবাল। এরকম কথা যারা বলে তারা পৃথিবীর গ্লোবাল কন্ট্রোল মেকানিজম সম্পর্কে কিচ্ছু জানেনা। আপনার কমন সেন্স ব্যবহার করে যদি চিন্তা করেন, পুরা পৃথিবীটা কন্ট্রোল করছে রথসচাইল্ডস-রকেফেলার-ভাটিকান-জেজুইট-অ্যাংলো-স্যাক্সন অ্যাক্সিস যাদেরকে আমি বলি ড্রেকো-কাবাল। সেক্ষেত্রে এরা বাংলাদেশটা কেন কন্ট্রোল করবে না? ওরা কি আমাদের কথা ভুলে গেসে আমরা গরীব বলে? নাকি আমরা গরীব কারণ ওরা আমাদের রক্ত শুষে খাচ্ছে? কোনটা? অনেকে বলে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি একই সমান দুর্নীতিবাজ -- কিন্তু তা কেন হবে? আপনারা কি অন্ধ? আমি বলছি না যে বিএনপি দুর্নীতিবিহীন, বা ওদের আমলে পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু লীগের আমলে অনেক বেশী ক্ষতি হয় কারণ লীগ চালায় র। আর র এর কালহাত এই উপমহাদেশের প্রত্যেকটা দেশকে কিভাবে নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে এটা অবশ্য আমাদের মগজ ধোলাই মিডিয়া কখনও বলেনা। এখানে মোদ্দা কথা যেটা সবার বোঝা উচিত, তা হল, আমাদের যে গনপ্রজাতন্ত্র, যেটাকে আমরা ভুলবশত গণতন্ত্র বলি, এটা আসলে একটা ড্রেকো নিয়ন্ত্রিত ফ্যাশিস্ট কর্পোরেট অলিগারকি যার প্রধান কাজ দেশের মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া। আমাদের দেশে যে তথাকথিত "ক্ষমতা হস্তান্তর" হয় -- আমরা আম জনতা হাঁ করে টেলিভিশনে দেখি আর হাততালি দেই -- এটা একটা সার্কাস ছাড়া কিছুই না। কিন্তু এই সার্কাস আমাদের উপভোগের জন্য নয়, বরং আমরা সেই পশুপাখি যাদের দিয়ে সার্কাসের খেলাগুলো খেলানো হয়।

বাংলাদেশের লোক রাজনীতি করে ক্ষমতার লোভে। এটাই তো স্বাভাবিক, তাই না? মোটেও না। এটা মোটেই স্বাভাবিক নয়। কারণ এটা একটা ড্রেকোনিক সিস্টেম। আমরা সংবিধানের মাধ্যমে আমাদের সভ্রেইন্টি (sovereignty) একটা দলের হাতে তুলে দিয়ে সেচ্ছায় তাদের দাসে পরিণত হই; আর এরাও মনের সুখে আমাদের খাল বাকল, পিঠের ছাল চামড়া উঠায়ে লবন লাগাতে থাকে। কারও কাছে কি কখনও মনে হইসে যে এই ব্যাপারটা ঠিক না? গুলশানে আমাদের যে কোটীপতিরা থাকে, তারা কি একবারও ধ্বজভঙ্গ রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে চিন্তা করে যে বিদেশিরা যখন আমাদের দেশের এই অবস্থা দেখে, ওরা কি ভাবে? আমাদের সেলফি তোলা ফেসবুক ছাগু গুলাকে কখনও দেখসেন একটা ইন্টেলিজেন্ট স্ট্যাটাস দিতে? আমাদের ডঃ ইউনুস যে নোবেল প্রাইজ পেলেন, হাসিনা ছাড়া আমরা বাদবাকি সবাই তো বেশ খুশি, নাকি? কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরটা যে একটা G-মারা সেক্টর সেটা কি আপনারা কেউ বোঝেন? কখনও কোনদিন কোন বাংলা আর্টিকেল পড়সেন যেখানে ব্যাংকিং স্ক্যাম নিয়ে আলোচনা করা হইসে? আমাদের এই গোবর্ধন অবস্থা কিভাবে হল? বাংলাদেশে স্টকমার্কেট কত হট -- টাকায় টাকা -- কিন্তু আসলে কি? এ মানি-ব্রিডিং স্ক্যাম। অন্য কারও পরিশ্রমের ফসলে জাল ফেলে মাছ ধরা। এটাতো ইসলামে জায়েজ, নাকি?

এবার আসি ফ্রি এনার্জিতে। মোদী ফ্রি এনার্জি রিলিজ করছে বলে খবর বের হইসে একটা। নিকোলা তেসলা ১০০ বছর আগে ফ্রি ওয়্যারলেস ইলেক্ট্রিসিটি আবিষ্কার করে গেছে যেটা জেপিমরগান-রথসচাইল্ড এরা এখনও মানুষকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। এর কারণ কি? কারণ আমরা সবাই বলদ। দিনরাত আজাইরা প্যাচাল পাড়ি, কিন্তু আসল কামের জায়গায় মদন। আমি যে ব্রেকএওয়ে সিভিলাইজেশনের কথা বলেছি, সেটা জানা এত জরুরি কেন? জেনে কি লাভ? বিশ্বাস করেন, আমার অনেক অতি-বুদ্ধিমান বন্ধু মনে করে এসব জানা সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই না। গত ৫/৭ বছর ধরে প্রায় প্রত্যেকদিন আমি নতুন কিছু না কিছু শেয়ার দিয়ে যাচ্ছি ফেসবুকে, কিন্তু আমার একজন বাঙালি বন্ধুও এখন পর্যন্ত এগুলা শেয়ার দেয় না, বা এগুলা শেয়ার দেয়া কতটা দরকার এবং কেন, সেটা বুঝতে পারেনা। কারণটা আমি বলে দিচ্ছিঃ সিক্রেট স্পেস প্রোগ্রামগুলাতে যে ধরণের টেকনোলজি ব্যবহার হয়, সেটা জানলে আমাদের আক্কেল গুড়ুম হয়ে যাবে। মাটির নিচে আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলে যে ম্যাগলেভ শাটল সিস্টেম আছে, সেটা দিয়ে ২০ মিনিটে ইন্ডিয়া থেকে অ্যামেরিকা যাওয়া যায়। আর আমাদের প্লেনে যেতে কতক্ষণ লাগে? আমাদের যদি প্রত্যেক মাসে কোন ইলেকেট্রিক বিল না দিতে হয়, আর গাড়ি চালাতে যদি তেল না লাগে, এতে কি কারও কোন সুবিধা হবে? না মনে হয়।

আজকে তো ড্রেকো নিয়ে কিছুই বলা হল না। থাকুক। যেটা আরও বেশী জরুরি সেটা হল আমাদের রাজনৈতিক চেতনাটা বদলানো। আমাদের এখনকার যে সরকার ব্যবস্থা, এটা যতদিন থাকবে ততদিন আমরা দাস হয়েই থাকবো। যারা বিএনপি করে, তারা ভাবছে খালেদা বা তারেক আবার হয়ত ক্ষমতা পাবে। ওঁদের পরিশ্রমের ফসল একদিন ঘরে উঠবে, আর উনারাও তখন আরামসে র-লীগের মত দুধের উপর থেকে ক্রীমটা তুলে খেয়ে বলবেন, আঃ! কিন্তু তাতে দেশের লোকের অবস্থার তো কোন উন্নতি হবে না। এমন তো না যে বিএনপি কখনও ক্ষমতায় আসেনি। সবার খেলই আমরা মোটামুটি দেখে ফেলসি। আমাদের চূড়ান্ত ভণ্ড সিস্টেমটা না বদলালে কোন আশা নাই। কিন্তু কিভাবে এটা বদলানো সম্ভব? আমাদের সংসদে যে ছারপোকারা অবিরাম রক্ত চুষে যাচ্ছে, তাদের থামাবে কে? আওয়ামী লীগ যে সাবমেরিন কেবল নিয়ে অনেক বড়াই করে, কিন্তু কেউ কি জানে বছরে কত টাকা ঢালতে হয় ওটার পিছনে? আইটি সেক্টর আর টেলিকম দিয়ে প্রতি বছর কত টাকা দেশ থেকে ছলছলায়ে বের হয়ে যাচ্ছে কারও কোন আন্দাজ আছে ভাই?

তো সল্যুশনটা কি? এর উত্তরটা এত সহজ যে কেউ বুঝতেই পারেন না কি বলছি! সল্যুশনটা হল -- কোয়ান্টাম লীপ অফ কনশাস্নেস। আপনার জানার পরিধি বাড়ান। আমি এই ড্রেকো সিরিজে যা লিখছি, এটাতো একটা ছিটেফোঁটা। পৃথিবীতে একটা অসাধারন পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, আপনারা কি বুঝতে পারছেন? না বুঝতে পারলে বোঝার চেষ্টা করেন, কারণ আপনার জানাটা অত্যন্ত জরুরি, কারণ দি সল্যুশন ইজ ইউ! যেদিন আপনি বদলাবেন, ঠিক সেইদিন পৃথিবীও বদলে যাবে। আপনি হয়ত ভাবছেন সেটা কিভাবে হয়? সেক্ষেত্রে একটা কথা বলি, অনেক কিছুই তো আমি বললাম যা আপনি আগে কখনও শোনেননি। ওগুলা যদি কোনভাবে বিশ্বাস করতে পারেন, তাহলে এই কথাটাও বিশ্বাস করেন। পৃথিবী বদলানোর কাজ শুরু করতে হয় নিজেকে বদলানো দিয়ে। আমাদের প্রত্যেকের চিন্তা ভাবনাতে অজস্র ভুল আর অজ্ঞতা আছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে সবার। আর যার যার কমুনিটি বানাতে হবে যেখানে আমরা হায়ার কনশাস্নেস নিয়ে আলাপ করে নিজেদের চিন্তা ভাবনাকে আমূল বদলে ফেলতে পারবো।

No comments:

Post a Comment