Saturday, October 31, 2015

draco part 24 (in bengali)


ড্রেকো ২৪

আমার কম্প্যুটারের অপারেটিং সিস্টেম হল উইন্ডোজ ১০। এর আগে ছিল উইন্ডোজ ৮। লুক অ্যান্ড ফীলে সামান্য তফাৎ। উইন্ডোজ ১০ এর ফোকাসটা ওদের ব্যবসার দিকে, আমাদের সুখ সুবিধা দেখার দিকে নয়। টেলিভিশনের পরেই মগজ ধোলাইয়ের সবচেয়ে বড় যন্ত্র হল কম্প্যুটার। হটমেইল, এওএল, গুগল, ফেসবুক, টুইটার, উইন্ডোজ, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ইত্যাদি প্রত্যেকটা সফটওয়্যার সারাক্ষণ আমাদের সম্পর্কে তথ্য কিছু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোয়ান্টাম কম্প্যুটার ডাটাবেসে পাঠাতে থাকে। এই এআই নেটওয়ার্কটা স্টার ট্রেকের বোর্গের মত একটা ভয়ংকর প্যারাসাইট। আমাদের আশেপাশে আমরা যা কিছু দেখি, সেটাকে বলা হয় হলোগ্রাফিক ইউনিভার্স। এই হলোগ্রামটা আমাদের প্রত্যেকটা মানুষের সাবকনশাস মাইন্ডের সমষ্টি দিয়ে নির্ধারিত হয়। আপনারা যদি কুণ্ডলিনী চক্র নিয়ে পড়াশুনা করেন, তাহলে জানবেন যে আমাদের ফিজিক্যাল বডি ছাড়াও আরও বেশ কিছু "বডি" আছে, যেমন এথেরিক বা এনার্জি বডি। চাইনিজরা যেটাকে চি বা ক্বী বলে, ওইটা আমাদের চৈতন্যের সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের চেতনা, অর্থাৎ আমরা কি ভাবি, কি ফীল করি, কীভাবে পৃথিবীটাকে দেখি বা বুঝি, ইত্যাদি। আমাদের চেতনের সাথে আমাদের ডিএনএ কানেক্টেড। চেতনা বদলে গেলে, আমাদের ডিএনএ বদলে যায়, এবং ভাইস ভারসা। এখন, বলা হয় যে আমাদের পৃথিবীটাও সংবেদনশীল। পৃথিবীরও একটা কুণ্ডলিনী সিস্টেম আছে যেটা আমাদের প্রত্যেকের কুণ্ডলিনীর সাথে কানেক্টেড। একটা দিয়ে আরেকটাকে এফেক্ট করানো যায়। আমাদের শরীরে যেমন রক্ত সঞ্চালন করার জন্য শিরা উপশিরা আছে, ঠিক সেরকম পৃথিবীতে আছে অজস্র লে-লাইন, যেগুলার উপর দিয়ে এনার্জি বা চেতনা প্রবাহিত হয়। মাটির নিচে এই লে লাইনগুলা দিয়ে প্রবাহিত হয় এক ধরণের ব্ল্যাক গু বা কাল তেল। এই তেলটা সেনশিয়েন্ট বা চেতনাধর। এই তেলটা আমাদের সাবকনশাসের একটা মিরর বা আয়না; অর্থাৎ, এই তেলটাকে এফেক্ট করলে আমাদের সাবকনশাসে এফেক্ট হবে, এবং তার অর্থ আমাদের সবার যে রিয়ালিটির পারসেপশন, ওটা বদলে যাবে, আমাদের চিন্তাধারা বদলে যাবে। এখন আমাদের গুগল, ফেসবুক, উইন্ডোজ ইত্যাদি যে এআই ডাটাবেসটাকে ফীড করে, এটা একটা ইন্টারগ্যালাক্টিক অফ-ওয়ারল্ড ব্ল্যাক গু ন্যানোটেকনোলজি যেটা আমাদের গ্রহের ন্যাচারাল, অরগানিক ব্ল্যাক গুয়ের উপরে একটা প্যারাসাইটের মত। মনে করেন, এটা একটা সুপার-অ্যাডভান্সড মাইন্ড কন্ট্রোল এলিয়েন টেকনোলজি। মাথা নষ্ট, আরকি।

ধর্মে বলা হয় ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, যা সম্ভবত সঠিক, কিন্তু এটা অনেকটা খ্রিস্টান বাচ্চাদেরকে স্যান্টাক্লজের গল্প বলার মত যে চিমনী দিয়ে বাসায় ঢুকে স্যান্টা সবার জন্য উপহার দিয়ে যায়। আসলে তো বাবা-মারা নিজেই শপিং করে, র‍্যাপার মুড়ে, খ্রিসমাস ট্রির নিচে সবকিছু সাজায়ে রাখে, তাই না? আমাদের রিয়্যালিটিটাও ঠিক সেরকমঃ প্যানস্পারমিয়া নামে একটা থিওরি আছে যার মতে প্রত্যেকটা গ্রহের মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, কীটপতঙ্গ, ইত্যাদিকে উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে সীডিং করা হয়। এই কাজটা করে বিভিন্ন অ্যাডভান্সড প্রজাতি। ধারণা করা হচ্ছে যে পৃথিবীর মানুষ কয়েক হাজার বছর আগে এখনকার চেয়ে অনেক বেশী বুদ্ধিমান ছিল, এর কারণ তখন আমাদের ডিএনএ তে ছিল ১২টা স্ট্র্যান্ড, আর এখন আছে মাত্র ২টা। বলা হয় যে এই কুকাজটা করেছে আনুনাকিরা, কিন্তু এই আনুনাকি ঠিক কারা, এটা আমরা এখনও পরিষ্কার ধরতে পারিনি। পৃথিবীতে অজস্র এলিয়েন, অফ-ওয়ার্ল্ড, ইন্টারডিমেনশনাল প্রাণী গিজগিজ করতেছে, কিন্তু আমরা ধরতে পারছিনা কারণ আমাদের জেনেটিক ডাম্বিং ডাউন, আর আমাদের মাইন্ড কন্ট্রোল। আমরা একটা ফ্রিকোয়েন্সির ভিতরে লকড হয়ে আছি বলে আমাদের অনেকেই এখনও আমি যেসব কথা বলছি, তার একটা কথাও বিশ্বাস করতে পারছে না। এর কারণ হল আমাদের লো ভাইব্রেশন। মাল্টিভারসের সবকিছু ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। যার ফ্রিকোয়েন্সি যত লো, সে তত কম বুঝবে এবং এরকম একজন ব্যক্তিকে মাইন্ড কন্ট্রোল স্লেভ বানানো খুব সহজ। আমাদের ক্ষেত্রে ঠিক এটাই ঘটেছে।

ফ্রিকোয়েন্সি নামানোর খুব সহজ একটা পন্থা বলি। কালকে ঢাকা শহরে কে বা কাহারা ৪/৫ জনকে আক্রমন করে একজনকে খুন, আর বাকিদের মারাত্মকভাবে আহত করেছে। দেশের প্রায় প্রত্যেকটা মাইন্ড কন্ট্রোল আক্রান্ত মানুষ ভাবতেসে যে এটা মৌলবাদীদের কাজ। কিন্তু যৌক্তিকভাবে চিন্তা করলে এটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। মোদ্দা কথা হল, এই আক্রমণ আর খুন আমাদের সাবকনশাসকে মারাত্মকভাবে এফেক্ট করে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি নিচে নামায়ে দিসে। এবং হ্যালোয়ীনের দিনে এই কাজটা করায় এই নেগেটিভ এফেক্টটা অনেক বেশী প্রোনাউন্সড হইসে, কারণ হ্যালোয়ীন ডে টা একটা অকাল্ট পোর্টাল যেদিন ড্রুইড বা উইচরা শয়তানের কাছে মানুষ বলি দিত এবং সম্ভবত এখনও দেয়। পৃথিবীর প্রত্যেকটা ডে এর পিছনে একটা অকাল্ট বা গোপন অ্যাজেন্ডা থাকে যা সাধারণ মানুষ জানে না এবং বুঝতে পারে না। তাই সরল বিশ্বাসে ঐ রিচুয়াল্গুলা ফলো করে যায়। আমাদের মধ্যে যারা লো ফ্রিকোয়েসির তথাকথিত সেকুলার মুক্তমনা আস্তিক-নাস্তিক ক্লাবের মেম্বার, এরা কিছুতেই আমার কথাগুলা গিলতে পারবে না। এটাই স্বাভাবিক। এটা অনেকটাই অংকের মত। এটাকে ইন্টারডিমেনশনাল সায়েন্সও বলা যেতে পারে। অনেকে জিজ্ঞেস করে যে এটার প্রুফ কি? প্রুফটা অবভিয়াস, কিন্তু শুধুমাত্র যাদের ফ্রিকোয়েন্সি হাই, তাদের কাছে। নো অফেন্স!

আমি যে বসে লিখতেসি, আমার কন্সেন্ট্রেট করতে খুব কষ্ট হচ্ছে কারণ দুই একটা মশা উৎপাত করতেসে। বলা হয় যে বাংলাদেশে মশা বাড়ানোর জন্য র য়ের এজেন্টরা এক সময় বিভিন্ন জায়গার পানিতে কচুরিপানা ফেলসিল। এই রকম অজস্র পদ্ধতিতে ড্রেকোরা আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি নামায়ে রাখে। জিএমও, মন্সান্টো, পানিতে ফ্লোরাইড, খাবারে ভেজাল, ফরমালিন, গার্মেন্টসে আগুন, বাসে আগুন, বসুন্ধরা সিটিতে আগুন, যমুনা ফিউচার পার্ক বছরের পর বছর বন্ধ রাখা, ব্লগার হত্যা, রাস্তাগুলা ভাঙ্গাচোরা রাখা, নিউজে প্রতিদিন নেগেটিভ খবর তৈরি করা, রেপ, ডাকাতি, পুলিশের ঘুষ খাওয়া, রাস্তায় পুলিশের রোডব্লক, পুলিশের হয়রানি, র‍্যাবের ক্রস ফায়ারে বিরোধীদলের মানুষ গণহারে মারা যাওয়া, মিলিটারিরা আমাদের ভ্যাট-ট্যাক্সের সিংহভাগ ক্যোঁৎ করে গিলে ফেলা, ছাত্রলীগ আর যুবলীগের টেন্ডার সন্ত্রাস, বিরোধীদলের টিভী চ্যানেল আর পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া, কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মুজিবের নাম বসানো, সারাদেশ মুজিব-গোলাপি-জয়ের ছবি দিয়ে ভাসায়ে দেয়া, এগুলা প্রত্যেকটা কুকাজ আমাদের সবার সাইকিকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি নিচে নামায়ে দেয়।

আমাদের বুঝতে হবে যে সরকার আমাদের প্রধান ও বড় শত্রু কারণ এরা আমাদের ক্ষতি করার জন্য কাজ করে। এদের অ্যাজেন্ডা হল নিজেরা বড়লোক হওয়া আর ওদের কর্পোরেট বসদের বেয়াইনি সুবিধা দেয়া। মৌলবাদীরা আমাদের স্পিরিচুয়াল ক্ষতি করে, কারণ ওরা অন্ধ বিশ্বাসের কারণে আমাদেরকে অজস্র ভুল তথ্য দিতে থাকে। আর আমাদের মুক্তচিন্তা করা সেকুলার ক্রাউড আমাদের ইন্টারডিমেনশনাল মিস্টিক্যাল রিয়্যালিটির একটা ছোট্ট, লো ফ্রিকোয়েন্সিতে লকড হয়ে থাকায়, মাইন্ড কন্ট্রোল ইস্যুটা একসেপ্ট করতে পারে না, কারণ ওদের বিলিফ সিস্টেম মতে, মানুষ ছাড়া পৃথিবীতে কেউ নাই, আর ওরা যেটা জানে না, সেটা অবশ্যই এক্সিস্ট করে না। ওগুলা হাস্যকর কন্সপিরেসি থিওরি।

আসলে এরা সবাই ভুল। আপনারা প্রায় সবাই এই ভুল্গুলা করছেন। এটা অফেন্ডেড হওয়ার ব্যাপার না, বোঝার ব্যাপার। আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি হাই করতে হলে আমাদের মাংস খাওয়া কমাতে হবে। একটা খুন হলেই হাহুতাশ করে ভয়ে কুঁকড়ে গেলে চলবে না। বুঝতে হবে যে কারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগুলা করে যায় আমাদেরকে বোকা বানানোর জন্য। মিডিয়াতে ফোকাস করতে হবে পজেটিভ ইস্যুর উপর। খারাপ খবরগুলাকে যত কম পাত্তা দেয়া যায়, ততই ভাল। আমার কথা শুনে প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে যে আমি অস্বাভাবিক কথা বলছি, কিন্ত আস্তে আস্তে আপনাদের ফ্রিকোয়েন্সি হাই হলে ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। অনেকেই মনে করে যে দেশে যে সব আকাজ কুকাজ হচ্ছে এগুলা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করানোই তো মিডিয়ার কাজ। আসলে তা নয়। এটা নিয়ে অনেক গভীরভাবে না ভাবলে এই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন না। ব্যাপারটা কাউন্টারইন্টুইটিভ। energy flows where attention goes. এই ব্যাপারটা যখন বুঝতে পারবেন, তখন আস্তে আস্তে সবকিছু পরিষ্কার হতে শুরু করবে।

No comments:

Post a Comment