Thursday, October 29, 2015

draco part 23 (in bengali)


ড্রেকো ২৩

আজকের লেখাটা ইম্পরট্যান্ট হবে কারণ আমার সেলফ-রাইচাসনেসের ইস্যুটা অ্যাড্রেস করা দরকার। কে আমি? নিজের উন্নতির ব্যাপারে কি করছি? এটাই তো পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। আশেপাশের সবাইকে চড় থাপ্পড় দিয়ে সকাল বিকাল চেচানো তো একটা সহজ কাজ। কতটুক বুদ্ধি লাগে এতে? আমাদের ওবায়দুর সাহেবই ওই কাজে বেশ পটু হয়ে গেছেন, যদিও রাস্তায় বের হলেই মনে হয় যে লোকটাকে এখন পেলে আচ্ছাসে পাছায়... । তবে লোকটা টাকা পয়সা কেমন হাতায় সেটা আমার ঠিক জানা নাই। এক্সপেরিয়েন্স বলে যে যারা বেশী খায়, এরা আওয়াজ আর নাটক কম করে। এরা মিডিয়া অ্যাভয়েড করে আর নিরবে সিস্টেমটাকে ফোঁপরা করে দিতে থাকে। যাহোক, আমি খেয়াল করলাম যারা মোটামুটি ভাল মানুষ, এদের সাথে আমার বনে না। পয়সাওয়ালা লোকের সাথে আমার বনে না। বুদ্ধিমান লোকের সাথে আমার পোষায় না। কোন হট মেয়ে আমাকে পাত্তা দেয় না। আমি কাউকে কখনও কোন গিফট দেই না। কাউকে বার্থডে উইশ করি না। আমার বাসা থেকে বের হতে ইচ্ছা করে না। সারাক্ষণ মনে হয় আমি খুব টায়ার্ড। আমি ভেজিটেবল খাইনা। মাছ খুব কম খাই। শুধু মাংস আর মাংস। একই খাওয়া রোজ খাই। কোন ক্রিয়েটিভিটির মধ্যে নাই। গান গাইতে গেলে পারিনা। গীটারে শুধু কয়টা কর্ড ছাড়া কিচ্ছু পারি না। বাঁশি প্র্যাকটিস করিনা। দম থাকে না। এক্সারসাইজ করিনা। রান্না করিনা। ঘর পরিষ্কার করিনা। রাত জাগি। সকালে উঠিনা। চাকরি করিনা। ব্যবসা করিনা। বউয়ের খোঁজ নেই না। আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ নেই না। কারও বাসায় যাই না। দরকার ছাড়া কাউকে ফোন দেই না। ভাল পোশাক পরিনা। প্রতিদিন গোসল করিনা, এমন কি প্রত্যেকদিন দাঁতও মাজি না। আমার পটি ট্রেইনিং এর অবস্থা খুব খারাপ। মাঝে মধ্যে ড্রাগস করি। উওমানাইজিং করতে চাই কিন্তু পারিনা। সেক্স পারিনা। পুসি খাইনা। পড়াশুনা করতে পারিনা। কোন পেপার লিখতে পারিনা। রেজিউমি বানাইনা। ফর্ম ফিলাপ করিনা। ভোটার আইডি নাই। গল্প লিখতে পারিনা, কবিতা না, উপন্যাস না, বই না, টেকনিক্যাল ম্যানুয়াল না। কোন কনসার্ট দেখিনা। মুভি না। নাটক না, টিভি না। বাঞ্জি জাম্প না। কার্নিভাল না। যমুনা সিটির রোলার কোস্টার না। রেস্টুরেন্টে খাই না। মদ খেয়ে পার্টি করিনা। ফ্লারট করিনা। গাঞ্জা বানাইনা। আড্ডা দেইনা। কিছুই করিনা।

করার মধ্যে আছে ফেসবুক। এ এক অর্থহীন জীবনই বটে। তো আমার মত অনেকেই আছে। আই ফীল গুড। বেশ ভাল আছি, আর এর পিছনে কারণ হল, আমি বিশ্বাস করি যে পৃথিবী বদলে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। কারণ আমরা যে সমস্ত তথ্য গত ৫/১০ বছরে জানসি, এগুলা সবার মাথায় ঢুকলে পরিবর্তনটা আপসে আসবে। মেইন সমস্যা হচ্ছে সবার মগজ ধোলাই খেয়ে হিপ্নোটাইজড হয়ে থাকা, পাছা ভরা ইগো, নিজেদের অতি পণ্ডিত মনে করা, টাকা আর সেক্সের পিছনে দৌড়ানো। এইসব কারণে মানুষের বুঝতে অনেক সময় লাগতেছে যে ব্যাপারটা আসলে কি। ধরাটা আমরা কোনদিক দিয়ে খাইসি। বেশিরভাব মানুষ টাকা-ধর্ম-রাজনীতি-মিডিয়ার ট্র্যাপে আটকানো, যে কারণে আমাদের রিয়্যালিটির প্যারানরমাল সাইডটা খেয়াল করে না, বা মনে করে এটা ইম্পরট্যান্ট না। কিন্তু আসলে ঘটনা অন্য।

পৃথিবীর সব কষ্ট তো ব্লগে লেখা যায় না। রাজীবের কাছে খুব ভাল একটা এনিমে পাইসি, cowboy bebop, ওইটার শেষে একটা মেয়ে গান গায়। গানটা আমি আমার শাশুড়ির সালামির টাকায় কেনা নতুন সাবউফার দিয়ে জোরে জোরে শুনি প্রত্যেকটা এপিসোডের শেষে। কেমন যেন বুকের মধ্যে ব্যাথা করে ঐ সময়। খুব ভাল্লাগে ঐ ব্যাথাটা।

রিলেশনশিপ জিনিষটা কি? এটাকে ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলে দিতে কেমন লাগে জানি। আবার এটাতে বোর হয়ে গেলে কেমন দমবন্ধ লাগে, তাও জানি। কোনটা ঠিক? সত্যবাদী হয়ে সব সময় নিজের কাছে অনেস্ট থাকা, নাকি মিথ্যা দিয়ে একটা রিলেশনশিপ টিকায়ে রাখা, যাতে কেউ কষ্ট না পায়? সোনাতে ভেজাল না দিলে নাকি কিছু বানানো যায় না? যখন একজন যেতে চায় উত্তরে, আরেকজন দক্ষিনে, তখন তো দুইজনের কেউই উড়তে পারেনা কোনদিকে, দুজনেই মুখ থুবড়ে পড়ে যায় বার বার। এই রকম রিলেশনশিপ কি ধরে রাখা ভাল?

এই ড্রেকো সিরিজে আমি কত্ত বড়বড় কথা বলি। কেন বলি? কি লাভ? কি জানি আমি? কি শিখাই? কাকে কি শিখাই? আমি নিজে কি বুঝি? কোনটা আসলে জানি আর কোনটা তোতাপাখির মত কপচাই? তালুকদার আর আমি আকাশে একটা নীল রঙের উজ্জ্বল বস্তু দেখলাম। এখন যদি আদিব জিজ্ঞেস করে, প্রমাণ দিতে পারবেন যে আপনি কিছু দেখসেন? তখন তার উত্তর কি হবে? তার মানে কি আমার দেখা, শোনা, পড়া, জানা, কোন কিছুরই কোন মূল্য নাই? মূল্য যে আছে তার প্রমাণ কি? কে দিবে সেই প্রমাণ? আদিব এসে দিয়ে যাবে? বলবে এসে যে হ্যাঁ, আপনার বিদ্যা বুদ্ধি চিন্তা চেতনার উপর আমার যথেষ্ট আস্থা আছে, তাই আপনার কথা বিশ্বাস করলাম? সারা জীবন শুনে আসলাম যে আমি খুব ব্রিলিয়ান্ট। তো জীবনের প্রথম যখন সেই ব্রিলিয়ান্সটা কাজে লাগায়ে উদ্ধার করলাম যে ড্রেকোরা পৃথিবীর মানুষকে দাস আর বোকা বানায়ে রাখসে, তখন তো সবাই হোহো করে হেসে উঠল। তাহলে এই ব্রিলিয়ান্স থেকে লাভ কি হল? আমার মাহিন নামের অর্থ নাকি intelligent, তো এর থেকে বেশী আয়রনিক আর কি হতে পারে? আমি তো একজন গবেট কন্সপিরেসি থিওরিস্ট ছাড়া কিছুই না। মায়ের বেসমেন্টে বসে থাকা একজন অপদার্থ কীবোর্ড ওয়ারিওর।

তালুকদারকে সমানে মাংস ছাড়া সাদাভাত খাওয়াচ্ছি। এর কারণ মাথায় আজকাল কিছু থাকে না। কোন বই থেকে কোন তথ্য বের করে কপি পেস্ট মারব? বাংলাদেশের মানুষ পারবে র এর হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে? ফিয়াট মানি সিস্টেমটা আমরা বদলাতে পারবো? ধর্ম যে একটা মগজ ধোলাই এটা বুঝতে বাঙালির আনুমানিক আর কয়শো বছর লাগতে পারে মনে হয়? আমরা কি পারবো ঐ সাইকোপ্যাথিক "সরকারের" হাত থেকে ক্ষমতাটা আবার আমাদের নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে? রাশিয়ার পুতিনের মত আমাদের দেশে কি কেউ জন্ম নিবে যার পিছনে দেশের মানুষ দাঁড়াবে? আমাদের কি একজন সেভিয়র দরকার, নাকি আমরা নিজেরাই সেই সুপারম্যান? আমাদের লাত্থি খাওয়া, পোড় খাওয়া, সেন্টু খাওয়া, সারাজীবনের loser বাঙালি জাতি কি পারবে আবার মেনি বিড়াল থেকে বাঘ হয়ে গর্জে উঠতে?

No comments:

Post a Comment