Wednesday, October 28, 2015

draco part 22 (in bengali)


ড্রেকো ২২

বাঙালি একটা পিকিউলিয়ার জাতি যারা বেসিক্যালি মাথা মোটা। আমি ইন্টেলিজেন্ট মানুষ পছন্দ করি কিন্তু আমাদের মধ্যে যারা সামান্যতম ইন্টেলিজেন্সের বাতাস পাইসে, তাদের প্রায় সবারই কেমন যেন পেট ভরা ইগো। আমাদের সেন্সিটিভিটি খুব কম আর অল্পেই নিজেকে বিরাট ব্যাপার মনে করে বসে থাকি। আমরা মনে করি যেহেতু আমরা বুদ্ধিমান, কাজেই কেউ আমাদের থেকে বেশী জানবে, তাও আবার বাঙ্গালিদের মধ্যে, এ তো অসম্ভব। কেউ আমাদের চিন্তার ভুল ধরবে, আর আমি হাসিমুখে মেনে নিব? আমাকে কি পাগলা কুত্তায় কামড়াইসে? ওই ব্যাটার গুষ্টি উদ্ধার না করা পর্যন্ত রেহাই নাই। তবে সবথেকে মজার জায়গাটা হল ধর্ম। এর একদিকে আছে অন্ধ বিশ্বাসী, যারা লাইফলং ফীয়ার প্রোগ্রামড। আমিও এদের দলে ছিলাম এবং আপনারা অধিকাংশই এখনও এই দলে। আপনারা সরল বিশ্বাসে ধর্মটাকে মেনে নিয়েছেন এবং এই বিশ্বাসটাকে প্রশ্ন করতে ভয় পান। এটা আমাদের জন্য স্বাভাবিক। এই ভয়টা পুরাপুরি কাটতে অনেক কিছু জানতে হয়। তারপর আস্তে আস্তে একদিন ভয়টা কেটে যায়। কিন্ত আমাকে হাসায় কতকগুলা চালাক বন্ধু যারা খুব সেকুলার হিসাবে অন্যদের চেয়ে নিজেদের বুদ্ধি বিদ্যা বিবেচনায় খুব উপরে মনে করে, যদিও মুখে তা বলে না। তারপর যখন আমাদের র-লীগ একটা ব্লগার হত্যা করে মিডিয়াতে ঢোল পিটায়, সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় এই তথাকথিত উদারমনাদের মগজ ধোলাইয়ের খেলঃ ধর্মান্ধতা ভাল নয়, ধর্ম যারা মানে তারা ভোদাই এবং ভায়োলেন্ট, ইত্যাদি ইত্যাদি পোস্ট দিতে দিতে অস্থির হয়ে যায় -- অথচ এই সহজ ফলস ফ্ল্যাগ সাইঅপ্স গুলা ধরতে পারে না কারণ ওদের বিলিফ সিস্টেমের বাইরে পড়ে যায় যে ব্যাপারটা, তাই। এই চালাকদের অন্ধত্বটা ধর্মান্ধতার চেয়ে কোন অংশে কম ভয়ংকর না বরং বেশী। এরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেনা যে পৃথিবীতে ইটি আছে এবং আমাদেরকে নিয়ন্ত্রন করতেছে অনেকাংশে। এই তথাকথিত সেকুলার মুক্তচিন্তাশীল গ্রুপ তাদের ছোট্ট সোফোমোরিক মেইন্সট্রীম স্টিভেন হকিং, মিচিও কাকু, এবং এরকম আরও দুই একজন গেইট কিপার সাইন্টিস্টের চিন্তার বাইরে এক পা ফেলতেও নারাজ। কথায় কথায় ওরা প্রুফ আর এভিডেন্স চায়, কিন্তু দিলে তখন আস্তে চেপে যায়। পরবর্তীতে দেখা যায় ওরা যে থোড় বড়ি খাঁড়া নিয়ে ব্যস্ত ছিল, আবার সেটাতেই ব্যস্ত হয়ে গেছে। চিন্তাধারার কোন উন্নতি করতে এরা অক্ষম। এদের গোঁড়ামির বাইরে এক ইঞ্চিও এরা নড়ে না বরং উলটে হাসে বা পচায়, কিন্ত আমরা যারা সত্যিকার অর্থে মুক্ত চিন্তা করি, আমাদের সাথে ওরা যোগ দিতে পারে না। ইগোতে পড়ে যায়। বিলিফ সিস্টেমে আটকে যায়। প্রকৃত মুক্ত চিন্তা করতে পারে না।

অনেক ধুইলাম। মাঝে মাঝে এটা করা দরকার আছে কারণ আমরা বাঙ্গালিরা খুব ছোটলোক টাইপের। বাইরেটা আমরা অন্যদের দেখা দেখি খুব স্মার্ট রাখি, কিন্তু মুখ খুললে মনের ফাঁকামিত্ব আর গরিবত্ব ধরা পড়ে যায় খুব সহজে। আর সেক্সটাকে আমরা কীভাবে দেখি? ওরেব্বাবা! পান থেকে চুন খসলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না। সেক্সুয়াল চিন্তায় কেন জানি বাঙালি অসম্ভব খাচ্চর আর নোংরা। মেয়ে দেখলেই যেন আমরা চোখ দিয়ে উলঙ্গ করে গিলি। এর কারণ সম্ভবত আমাদের মৌলবাদী, ধর্মান্ধ কালচার যেটা খুবই গোঁড়া। আমরা বিয়ের আগে সেক্স চাই কিন্ত বিয়ের সময় ভার্জিন বউ চাই -- এই গপ্পতো পুরানো। তারপর আছে ওই কালটাকাওয়ালা বাপের ছেলেদের একের পর এক ক্লাসের বান্ধবীদের সাথে সেক্স করে ভিডিও করে রাখার হবি। জাহাঙ্গির নগরে চলে ছাত্রলীগের রেপ করার সেঞ্চুরি। বেসিক্যালি আমাদের ছেলেরা সেক্স করার জন্য এমন ছোঁকছোঁক করে, আর এত তাড়াতাড়ি আই লাভ ইউ বলে ফেলে যে মেয়েদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে যায়। আর কোন মেয়ে যদি রেবেলিয়াস হয়ে ফ্রি সেক্সের চিন্তা করে তো ওই মেয়ের খবর আছে। তবে আমি দুয়েক জনকে দেখসি অনেক সেক্স করেও ব্যাড রেপুটেশন বাইপাস করে ভাল থাকতে। তবে এটা কমই ঘটে। মেয়েঘটিত কোন ফলসস্টেপ ফেললে কেউ যদি এটা জেনে যায়, তো খবর আছে। আপনি হয়ে উঠবেন মুখরোচক গুজব আর হাসাহাসির পাত্র। আপনার আশেপাশের লোকজন গোপনে আপনাকে ঘৃণা করবে আর সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তে আপনাকে পিছন থেকে চাকু মারবে। তো যাই হোক, তালুকদার বলবে আবার হুমায়ুন আহমেদ হয়া বাঙ্গালিরে জানা জিনিষ খাওয়াইলেন। হ রে, খাওয়াইলাম, আর খুব মজা পাইলাম। আমার মত বলদও যে এগুলা বোঝে এটা জেনে তাজ্জব হোক!

তো আজকে ড্রেকো আর গণজাগরণের খবর কি? বাংলাদেশের মানুষ কি বুঝতে পারল যে টাকার পিছনে দৌড়ান ঠিক না? একটা গরিবের পোলা, যে ছাত্রলীগ করে বড়লোক হইছে, তাকে এটা বুঝাও দেখি? সবকিছুই তো আপেক্ষিক। আমি সাত ঘাটের জল খায়া এখন সে না ড্রেকোদের নিয়ে লিখতে বসছি। মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর মত বিলাসিতা করতে পারতেছি। কিন্তু যে ছেলেটা মাসে দশ বা পনের হাজার টাকা বেতন পায়, সে আমার লেখা পড়ে কি চিন্তা করবে? সে কি আমাকে গালি দিবে? দিলে কি তাকে খুব দোষ দেয়া যাবে? তার মাথায় কি ঢুকবে যে ফ্রিমেসন আর ইল্যুমিনাটি কি জিনিষ? কেন এগুলা আমাদের জানা দরকার? ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এলাহাবাদ চুক্তি করে মোগল সম্রাট শাহ আলম ২, নবাব সুজা-উদ-দোউলা, আর রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে। এই তখন থেকে ব্রিটিশ রাজকে কর দেয়া শুরু হয় আমাদের -- যা আজ পর্যন্ত চলতেছে। এখন আমাকে বলেন, কাকে আমরা কত টাকা সুদ আর কর দিচ্ছি প্রতি বছর, সেই হিস্যা আমাদের স্কুল, কলেজ, আর টেলিভিশনে প্রতিদিন দেখানো হয় না কেন? সরকার একদিনে কয় টাকা ভ্যাট পায় দেশের ৪৫ কোটি মানুষের কাছে থেকে? কি বললেন? ১৬ কোটি মানুষ? আপনি কি বলদ? তা না হলে সরকারের কথা বিশ্বাস করবেন কেন? আপনাদের ড্রেকোদের কথা বলে লাভ কি? আপনারা তো নিজেদের ঘরের খবরই ঠিকমত রাখতে পারেন না। কয়দিন আগে যে মোদী এসে কয় হাজার কোটি টাকা ক্রেডিট লাইন দিয়ে গেল, তখন আমাদের গোপালি তো মুখ ফুটে পানির হিস্যাটা ফয়সালা করতে পারল না। দেশের প্রত্যেকটা মানুষ আশা করে ছিল যে অর্থপূর্ণ একটা ডায়ালগ হবে। অথচ দেশের ৪৫ কোটি মানুষের মুখে চুনকালি দিয়ে গোপালি হেঁহেঁ করতে করতে দেশের সন্মান বিসর্জন দিয়ে দিল। আমরাও বলদ কম না। বারবার ভাবি সরকার বুঝি আমাদের ভালর জন্য কাজ করে। এই সরকার যে র এর চামচা, আর র হল ড্রেকোদের চামচা -- যাদের কাজ আমাদের রক্ত মাংস চুষে খাওয়া, এ যেন আমরা দেখেও দেখিনা, বুঝেও বুঝিনা। আবালের মত ভাবি, হয়ত তারেক আর খালেদা দেশে ফিরলে একটা কিছু হবে। কিন্ত আসলে?

আসলে আমাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত বদলাতে হবে। সরকারকে নয়, আমাদেরকে। রাজনৈতিক আর মিডিয়া মগজ ধোলাই থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের একসাথে হয়ে কাজ করতে হবে। পাজেরো গাড়ি, মার্বেলের সিঁড়ি, ফুকেত ভ্যাকেশন, লেহেঙ্গা শাড়ি, আর দুনিয়ার যত ফুটানি আছে, ম্যানিকিউর পেডিকিউর স্ট্রীকস আয়রনিং আরও কত কি করতে হয় আপনাদের। অথচ দেশে ৩ কোটি মানুষ যে না খেয়ে আছে সেই গল্প আমরা ডিজিটাল গুগলম্যান জয়ের মুখে শুনিনা, শুনি অ্যামেরিকার এম্বাসাডর বার্ণিক্যাটের মুখে। বিচিত্র এ দেশ সেলুকাস, কিন্ত আরও বিচিত্র আমাদের মধ্যবিত্ত। আমরা কিছুতেই যেন আমাদের আইডেন্টিটি খুঁজে পাই না। বুঝতে পারি না আমাদের সোউল মিশন কি। কোত্থেকে আমরা এসেছি। কি জন্যে এসেছি। কেন এই পৃথিবী, কেন এই জীবন। কিছুই বুঝিনা। শুধু জ্যামের মধ্যে যাওয়া আর আসা। শুধু স্রোতে ভাসা। শুধু কপি পেস্ট। শুধু ডিএসএলআরে ছবি তোলা। শুধু ফেসবুকে পোস্ট মারা। হাতে একটা ফোন নিয়ে ফুরুত ফুরুত করা। সত্যি, আমি ভেবে পাইনা আমাদের এই বলদ দেশের মানুষ হাতে দামী দামী স্মার্ট ফোন নিয়ে ঘোড়ার ডিম কি ব্রাউজ করে? সারাদিন ফোনের দিকে তাকায়ে থেকে থেকে কি আমাদের একটা কোয়ান্টাম এয়োকেনিং হয়ে যাচ্ছে, নাকি আমরা দিন দিন আরও বেশী ব্রেইন্ডেড জম্বি হয়ে যাচ্ছি। কোনটা?

No comments:

Post a Comment