Tuesday, October 20, 2015

draco part 19 (in bengali)


ড্রেকো ১৯

 তালুকদার যখন আমাকে বলল যে মগজ ধোলাই ভিডিও করার সময় নাকি আমার চোখ মুখ জ্বলজ্বল করে, আর এটা একটা ইগোর লক্ষণ, তখন ভাবলাম আজকে ওকে ছাই দিয়ে ধরব। মিরাজ আদিব অভিজিৎ -- এদেরকে নিয়ে আমি যা খুশি তাই বলি কারণ আই লাভ দেম। আমি ওদের মেধা, রাইটিং স্টাইল, অরিজিনালিটি, ট্যালেন্ট, ইত্যাদি অ্যাপ্রিশিয়েট করি। কিন্তু প্রব্লেমটা হল, ওরা যেসব সাবজেক্ট নিয়ে ডীল করে, আর যে অ্যাংগেল থেকে রিয়ালিটিটাকে দেখে, সেটা খুব মেইন্সট্রীম, যেটার সমস্যা হল যে ওদের লেখা যারা পড়বে, এবং যত বেশী পড়বে, তত ডাম্ব হতে থাকবে। এর কারণ হল, ওদের লেখার মধ্যে বেশ ভাল একটা উইট থাকে, বুদ্ধিমত্তা থাকে, যে কারণে মানুষ পড়তে আকৃষ্ট হয়। কিন্তু এই বুদ্ধিমত্তা আমার মতে খুব empty বা faux -- জাস্ট একটা চালাক সেন্সেশন, এটা হুমায়ুন আহমেদ বা হানিজ সংকেতেরই আরেকটা ভার্শন। রেশমি মিঠাইয়ের মত খেতে বেশ মজা কিন্তু পেট ভরেনা, আর বেশী খেলে গা গুলাবে। সরি, আমি মানে কাউকে অপমান করতে চাইনা, কারণ আমি জানি অপমানিত হইতে কেমন লাগে। কিন্তু আমার এই বলার পিছনে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে, যেটা ওরা না বুঝলেও, আপনারা কেউ কেউ হয়ত বুঝবেন। তালুকদার আজকে আমাকে গাড়লো যে ড্রেকো ১৮ র তেহারিতে মাংস কম হইসে আর সাদাভাত বেশী পড়সে। আকাশ দিয়ে প্লেন যায় দেখি, হুমায়ুন আহমেদ ও নাকি লেখে আকাশ দিয়ে প্লেন যায় দেখি -- যা দেখি ওইটাই। শ্যালশ্যালা মাল। তবে আমার পারস্পেক্টিভটা ভিন্ন। আমি ওকে বলি সেন্সেশন থেকে বের হয়ে আসতে। সারাক্ষণ মজার মজার খবর দিলে ব্যাপারটা মজা সর্বস্ব হয়ে যায়, যে রোগটা মিরাজদেরও আছে। আমার মতে এরকম লেখা দায়িত্বহীন রোমান্টিসিজম, যেটা নিয়ে ওরা নিজেরা খুব খুশি। ওদেরকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে ভরে দিবে, বলবে, আমার চ্যাটের খুশি। আপনার ভাল্লাগে না, আপনি পইড়েন না। শেষ। সোফোমোরিক যুক্তি হিসাবে ঠিকই আছে।

কিন্তু সোশাল কনশাস্নেসের দিক দিয়ে দেখলে ঘোড়ার আন্ডা। জাস্ট মোর অভ দ্য সেইম ওল্ড। তালুকদারকে আমি ইনভেন্টরি ব্যাপারটা বুঝালাম। এই কন্সেপ্টটা ডন হোয়ানের। ধরেন আপনার একটা সাধারণ জ্ঞানের পরিধি আছে, এখন আমি আপনাকে ইটি, ইল্যুমিনাটি, আর ব্যাংকিং ফ্রড সম্পর্কে কিছু ধারণা দিলাম, যে বিষয়ে আপনি আগে জানতেন না। এখন যেটা হল যে আপনারা যা জানেন, সেই ইনভেন্টরিতে কিছু নতুন আইটেম যোগ হল, আর কিছু নয়। এই বিষয়ে কোথাও কোন আলাপ হলে এখন আপনিও দুই এক কথা বলতে পারবেন। আমাদের মেইন্সট্রীম ইন্টেলেকচুয়ালরা এই কাজটাই করে থাকে। তারা আমাদের ইনভেন্টরি বাড়ায়, আর ওইটা নিয়ে লেখক এবং পাঠক, দুই পক্ষই খুব খুশি থাকে। ঝামেলা এখানেই। কারণ ঠিক এই কাজটাকেই আমরা বলি ফীডিং দ্য মেট্রিক্স। মোর ইন্টারনাল ডায়ালগ। মোর ক্র্যাপোলা ইন ইয়োর হেড টু ডীল উইথ। এতে আমাদের এনার্জি, আর স্টোরেজ এরিয়া, দুইটাই লস হচ্ছে। কিন্তু লাভ তেমন কিছু হচ্ছে না, কারণ আমাদের যে ম্যাসিভ ব্রেইনওয়াশ, সারা জীবন যে অজস্র মিথ্যা আমাদেরকে গুলে গুলে খাওয়ানো হইসে, সেগুলার একটাও তো সাফ হচ্ছে না। যেসব প্রচণ্ড জরুরি তথ্য আমাদের কাছে থেকে লুকায়ে রাখা হইসে, সেগুলার একটাও তো জানা হচ্ছে না। কাজেই আমাদের যে মনখাঁচা, ওই খাঁচার তালা ভিতর থেকে বন্ধই থেকে যাচ্ছে। মুক্তির কোন সম্ভাবনা ওই রাস্তায় অন্তত নাই। এইবার কি একটু বোঝা গেসে আমি কি বলতে চাচ্ছি, তালুকদার?

ড্রেকো নিয়ে বলার পিছনে একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে যে এই ব্যাপারগুলা আপনাদের কাছে এতই অজানা, এতই নতুন, অথচ এত বেশী তথ্য আমার কাছে আছে, এবং শুধু ড্রেকোর বিষয়ে না, আরও শতশত বিষয়ে, যে আপনারা অবাক হয়ে ভাববেন যে এটা কীভাবে সম্ভব? কে এই ব্যাক্তি? এইসব তথ্য সে পাচ্ছে কোথায়? সত্যি সত্যি আপনাদের জায়গায় আমি হলে খুব তাজ্জব হয়ে যেতাম আমার এইসব লেখা পড়লে। যাহোক, জোকস এসাইড, আজকে একদিনে দুই পর্ব লেখার একটা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হল। তাই তেহারির বদলে আঞ্জির ভাগ্যে পড়ল সাদাভাত আর পাতলা ডাইল। মাইন্ড কোরো না তোমরা, ওকে?

No comments:

Post a Comment