Sunday, October 18, 2015

draco part 17 (in bengali)

ড্রেকো ১৭

হাতির ঝিলে তার ছেঁড়া গিটারেই লালন ধরলাম নির্ঝরের উৎসাহে। টিউন হয়না ঠিকমত, গলা ফাটা, সারগাম করিনা কয়েক যুগ, এটাই রক এন রোল। ফুটপাথে শুয়ে ছ্যাঁচড়ানো একটা ফকীরও এসে একটু থামল। ওকে দেখে আমি গানে ঢোকার চেষ্টা করলাম। এইসব বাংলাদেশের দুখী লোক নিয়ে গপ্প, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে কেমন কেমন লাগা, এই মাল পাবলিক খুব খায়। রন, আমার ভাতিজা, অসাধারন লেখে, কিন্তু লেখেনা সিরিয়াসলি। কথা বললেই ওর গলা দিয়ে কাব্য ঝরে, অথচ বড়লোক বাপের একমাত্র পোলা। ওর আবার দুঃখ কিসের? জেনেটিক কিছু ব্যাপার আছে। আমি এইসব দিক দিয়ে কাঠখোট্টা। সবাই বলে আমির খান খুব ভাল অ্যাক্টিং করে, কই? অতি অভিনয় লাগে আমার। হিন্দি মুভির রাজ্যটাই একটা গ্র্যান্ড থেফট অটো এর মত -- সব মুভমেন্টই একটু আন্ন্যাচারাল, একটু অদ্ভুত। বাস্তবের সাথে মিল খোঁজা অবান্তর। তবে আজকাল আবার ওরা অ্যামেরিকান ফিল্মের মত অন্যরকম মুভিও বানায়। জেনারালি স্পিকিং, হিন্দি ফিল্ম দেখতে হলে নিজের ইন্টেলেক্ট আর কমন সেন্স অফ করে রেখে দেখতে হয়। খুব বোকা কতকগুলা লোকজন খুব অতিরঞ্জিত কিছু নাটক করবে, আর ঠান্ডা মাথায় এটাকেই খুব স্বাভাবিক মনে করে দেখে যেতে হবে।

সত্যি বলতে, আমারও একটা ডিএসএলআর এর লোভ। এইজন্যই মনে হয় হাতি ঘোড়া লতা পাতার ছবি তোলা পোলাপানদের পচাই। এত্ত দামী ক্যামেরা দিয়ে পোলাপান এগুলা কি ছবি তোলে? কেন তোলে? কি চায়? ক্যামেরা আছে, তাই তুললাম? এইটাই তো একটা মজা। আমি সালা রাত ৩টা পর্যন্ত মশা মারা র‍্যাকেট ঘুরাই আর অলিভার স্টোনের পোলা শান স্টোনের ইন্টারভিউ দেখি কেরির সাথে। শানের নিজেরি একটা প্ল্যাটফর্ম আছে buzzsaw, ওখানে ও অন্যদের ইন্টারভিউ নেয়। ছেলের মাথা ভাল। কোন প্রশ্নের গৎবাঁধা উত্তর দেয় না। সবকিছুতে নিজস্ব একটা মাত্রা অ্যাড করে। এদের কথাবার্তা হচ্ছিল হলিউড নিয়ে -- ওখানে যে যেসব সেটানিক ইল্যুমিনাটি ব্যাপার স্যাপার হয়। হলিউড আর ডিজনি, দুইটাই শয়তানের আখড়া। বাংলাদেশের মানুষ অবশ্য এখনও সেটানিজম সম্পর্কে ভাল জানে না। আমেরিকা যারা চালায়, মানে ড্রেকোরা আর ওদের হাইব্রিড হিউম্যান মিনিয়নরা -- এই চামচাগুলা শয়তানের পুজা করে। শুধু আমেরিকাতেই কয়েক মিলিয়ন সেটানিস্ট আছে। এরা মানুষ বলি দেয়, রক্ত খায়, মাংস খায়, ইন্সেসচুয়াল সেক্স করে, বন্ডেজ, সেডো মেসোকিজম, হোমোসেক্সুয়ালিটি, এগুলা ওদের জন্য বাধ্যতামূলক। বুশ, ব্লেয়ার, ক্লিন্টন, হিলারি, চেইনি, কিসিঞ্জার, র‍্যামস্ফেল্ড, এরা মোটামুটি সবার পরিচিত। এরা একটা শ্যাডো গভর্নমেন্টের মেম্বার যারা অ্যামেরিকার গভর্নমেন্টকে চালায়। ড্রেকো পরিচালিত এই শ্যাডো গভর্নমেন্টটা আসলে পৃথিবী কন্ট্রোল করে। কিন্তু স্টুয়ারট সোয়ারডলো এর মত কিছু ব্যাক্তির মতে এদের অ্যান্টি-পার্টি হল গিয়ে নাৎসি ৪র্থ রাইখ। এরা এখন অ্যান্টার্কটিকায় ওদের আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি থেকে সবকিছু কন্ট্রোল করে।

বাংলাদেশের মানুষের মাথায় মাল থাকলে সকাল বিকাল জিএমও নিয়ে লিখত। ইন্ডিয়াতে তো অনেক চাষি আত্মহত্যা করসে, উপায় না দেখে। কিন্তু আমাদের সমস্যা তো আসলে অন্য জায়গায়। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে লিখি, কিন্তু কোন পরিবর্তন আনতে পারিনা। এর কারণ সবাই জানে -- কোন সমস্যা যখন নিচু লেভেলে সমাধান হয় না, তখন সেটা এস্কালেট করতে হয় উপরের লেভেলে। সাধারন কোর্ট থেকে কেস চলে যায় সুপ্রিম কোর্টে। এটাই পৃথিবীর নিয়ম। কিন্তু আমাদের সমস্যা তো সুপ্রিম কোর্টেই -- সবচেয়ে উপরে যে মাথারা বসে আছে, এরা তো র আর ড্রেকোদের পাপেট। এরাইতো সবথেকে বেশী দুর্নীতিবাজ। সেক্ষেত্রে এস্কালেট করে কারও কোন লাভ হচ্ছে না। তাই সবকিছু সমাধান হচ্ছে নিচু লেভেলে, ঘুষ আর বন্দুকের বিনিময়ে। আর ড্রেকোরাও ঠিক এটাই চায়। এইজন্যই তো আওয়ামীলীগ, র, র‍্যাব, পুলিশ, মিলিটারি, ছাত্রলীগ, এরা সব একদলে। এই ব্যাপারটা একদিনে ঘটেনি। আপনারা যে বছরের পর বছর হিন্দি ফিল্ম, ক্রিকেট খেলা, আর সেলফি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন, ওই সময় র তো বসে থাকেনি। ওরা ঘুণপোকার মত আমাদের সিস্টেমটাকে খেয়ে গেছে। ভুয়া ইলেকশন করে পাবলিকের ভোট ছাড়াই লীগকে গদিতে বসাইছে। মিডলেভেলের আর্মি অফিসারগুলাকে মেরে ফেলে আর্মির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিসে। র‍্যাবের আবিষ্কারও করসে র আর এমআই৬। ওদের ইউনিফর্ম ডিজাইনও রয়ের করা কারণ ইন্ডিয়াতে একই রকম পোশাকের স্পেশাল ফোরস আছে, যদ্দুর জানি। এগুলা কোনটাই জনগণের সুবিধার্থে করা নয়। শুধুমাত্র আমাদের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে আমাদের দাসত্ব আরও পোক্ত করার জন্য এইসব দুরভিসন্ধি।

আদিব, মেহেদি, এরা আমাদের মৌলবাদী দল্গুলার বিরুদ্ধে লেখে। একদিন একটা লিস্ট দেখলাম ২০-২৫টা ইসলামিক দলের নাম আছে ওটাতে। এই লিস্ট কে বানাবে র ছাড়া? হিজবুত-তাহরি, আন্সারুল্লাহ, ওলামালীগ, এগুলা র ছাড়া আর কে বানাবে? সিআইএ এমআই৬ মোসাদ আর র -- এদেরই ব্রেইনচাইল্ড এইসব ভুয়া সো কল্ড টেররিস্ট গ্রুপ। এরা বাংলাদেশের ডালভাত খাওয়া পোলাপান যারা বুঝতে পারসে কোন দুই নম্বরি না করলে এই দেশে বাইচা থাকা সম্ভব না। এদের মাথায় কি আছে মগজ ধোলাই ছাড়া? আপনি যে আমার এই লেখা পড়তেছেন, আপনার মাথায় কি আছে? ওদের চেয়ে আপনি কোন বিষয়ে বেশী জানেন? আপনিও তো ওই একই পত্রিকা পড়েন, ওই একই টেলিভিশন দেখেন। ও যা জানে, আপনিও তাই জানেন। শুধু হয়ত আপনার দেখার ফিল্টার আর ওর দেখার ফিল্টারের রঙটা এদিক সেদিক, যদি সেইটুকুও হয়ে থাকে। আপনার বাপের টাকা পয়সা বেশী তাই আপনি প্রাইভেট ইউনিতে পড়েন। ওই বেচারারা তো সাধারণ স্কুলের বেতন দিতে পারেনি। তাই আপনাদের ফুটানি দেখে যদি ওদের একটু চোখ টাটায়, এটা কি খুব বড় দোষ? আর প্রাইভেটে পড়ে আপনার তো তেমন কিছু উপকার হয়নি -- কিছু টেকনিকাল বই পড়ে আপনি হইসেন একজন স্কিল্ড স্লেভ। আপনি কি নিজে চিন্তা করতে পারেন বলে মনে করেন? আপনার প্রত্যেকটা চিন্তা যে টাভিস্টক ইন্সটিটিউট কন্ট্রোল করে এ ব্যাপারে আপনার ধারণা কতটুকু?

আমাদের দেশ চালাচ্ছে অযোগ্য লোকেরা। এটা কোন এক্সিডেন্ট বা কোইন্সিডেন্স না। ঠিক এভাবেই ড্রেকোরা আমাদের চালায়। ওদের সিলেক্ট করে দেয়া লোকেরাই গদিতে বসে আছে। আর এই লজ্জা পুরাটাই আমাদের কারণ দেশের ৪৫ কোটি মানুষ, ১০ হাজার র এজেন্টের বুদ্ধির সাথে পারি না। আমরা অত্যন্ত বোকা একটা জাতি। এটা যতদিন স্বীকার না করবেন, যতদিন না বুঝতে পারবেন যে আপনি নিজেও মগজ ধোলাই প্রাপ্ত, অজ্ঞ, মূর্খ, অপ্রয়োজনীয় চিন্তায় মগ্ন, একজন মাইন্ড কন্ট্রোলড স্লেভ -- ততদিন আমাকে কোন সমাধানের কথা জিজ্ঞেস করবেন না প্লীজ।

No comments:

Post a Comment