Saturday, October 17, 2015

draco part 16 (in bengali)

ড্রেকো ১৬

তালুকদার খুব ক্ষেপসে ওর বসকে আমি নাদান বলায়। হিরক রাজার দেশে ছবিটা যখন দেখসি, যারপরনাই মজা পাইসি, কিন্তু ঘণ্টাটাও বুঝিনি। সত্যজিৎ রায় কিন্তু ইলুমিনাটির লোগো দাজ্জালের এক চোখ -- ওটা পর্যন্ত ওই সেচ্ছাচারী রাজার পিছনে দেয়ালে এঁকে দিসলেন। মেট্রিক্স আর আভাটার এই ছবি দুইটা প্রথমবার দেখেও কিছুই বুঝিনি যে কি বুঝাতে চাচ্ছে ওরা। অনেক বাঙালির মতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইংলিশ রোম্যান্টিক ছবি হল টাইটানিক -- কিন্তু ওই ছবিটা আসলে একটা চরম মগজ ধোলাই কারণ রথসচাইল্ড ব্যাংকাররা অলিম্পিক নামে একটা পুরানো জাহাজকে কার্পেটে মুড়ে টাইটানিক সাজায়ে ইচ্ছা করে ডুবায়ে এক ঢিলে ১০০ পাখি মেরে, ইনস্যুরেন্স ফ্রডসহ ওদের শত্রুপক্ষের ব্যবসায়ীদের মেরে, পরের বছর ১৯১৩ সালে অ্যামেরিকায় ফেডারাল রিজার্ভ ব্যাংকটা খুলে পৃথিবীতে ব্যাংকিং ফ্রডের যে নবজুগের সূচনা করে -- সেই দাসত্ব থেকে আমরা এখনও বের হতে পারিনি -- এবং তার কারণ হল আমাদের প্রত্যেকের চরম মগজ ধোলাই -- কারণ আমরা প্রত্যেকে একেকজন নাদান গর্দভ মগজ ধোলাই খাওয়া হিপ্নোটাইজড দাস -- যাদের পৃথিবী কীভাবে চলে এবং কারা কীভাবে এই রাজ্য চালায় তার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোন ধারণা নাই। খুব উদ্ধত একটা মন্তব্য করলাম, তাইনা? আসলে তা নয়। কারণ এটাই প্রকৃত সত্য। আপনারা আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন।

গতকাল রাতে অ্যারন ম্যাক্কলাম নামে একজন অ্যামেরিকান ব্ল্যাক অপ্স এজেন্টের একটা পুরানো ইন্টারভিউ দেখছিলাম। আমি আপনাদেরকে কি বুঝাতে চাচ্ছি এটা বুঝতে হলে আসলে আপনাদের প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে, যাহোক, কেরি ক্যাসিডি এবং তার সাংবাদিক ট্রেডমার্ক প্রজেক্ট ক্যামেলট সম্পর্কে আপনাদের জানা বাঞ্ছনীয়। তার প্রধান ও একমাত্র কাজ হল ইন্টেলিজেন্সের হুইসল-ব্লোয়ারদের তথ্যগুলা ভিডিও করে নেটে ফ্রী বিতরন করা। ইন ফ্যাক্ট, আমার জাগরণের যাত্রা শুরু হইসে প্রজেক্ট ক্যামেলট দিয়েই। ওদের শতশত ভিডিওর প্রায় সবগুলাই দেখসি আমি। এরপরে শুরু করসি বিভিন্ন ব্লগ পড়া। আস্তে আস্তে বুঝতে পারসি মিস-ইনফরমেশন আর ডিস-ইনফরমেশন কি জিনিষ। মানুষকে বোকা বানানোর জন্য অজস্র মিথ্যা ইনফরমেশন ভরা ওয়েবসাইট তৈরি করে সিআইএ এবং ওদের সিস্টার সংগঠনগুলা। এটা বুঝতে পেরে তখন শুরু করলাম বই পড়া। যেখানে যত পিডিএফ পাইসি, ঘন্টার পর ঘণ্টা ব্যয় হয়ে গেসে কোন কোন বই খুঁজে বের করতে। আমার তো কোন ক্রেডিট কার্ড নাই, কাজেই বই কেনাটা আমার জন্য কোন অপশন ছিল না। নেটে যত সেমিনার, ওয়েবিনার, পডক্যাস্ট, রেডিও ইন্টার্ভিউ, স্কাইপ ইন্টার্ভিউ, অডিও-ভিডিও, যা পাইসি গিলে ফেলসি, আর ওইসব লোকজনের কাছে থেকেই বইয়ের রেকমেন্ডেশনগুলা পাইসি। আবার একটা বইয়ের ভিতরে অন্য বইয়ের রেফারেন্স থাকে, তখন ওই বইগুলাও খুঁজে বের করসি। এভাবেই চলসে আমার পিএইচডি রিসার্চ। তবে এই পরিশ্রমের কোন ডিগ্রি কেউ দেয়নি। মেন্টাল আর স্পিরিচুয়াল স্যাটিস্ফ্যাকশনটাই আমার রিওয়ার্ড।

নিজের কথা অনেকটা বলে ফেললাম, কিন্তু এটা জানা বোধহয় দরকার ছিল, কারণ একজন মানুষ যখন স্রোতের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে কথা বলে, তখন তার সেই স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটার শক্তিটা কোত্থেকে আসছে এটা বোঝাটা ইম্পরট্যান্ট। আমাদের শিক্ষা ধর্ম কালচার বানিজ্য চিন্তা ও কর্ম -- সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে ইটি ও তাদের মানব চামচারা। যান আমাদের মোল্লাদের গিয়ে এটা বোঝান! হাঃ! মজার ব্যাপার হল আমাদের মোল্লা আর নাস্তিক আদিবের মধ্যে তফাৎটা কি? আদিব লন্ডনে বসে বসে ইসলামবিদ্বেষী কথা বলতে বলতে তসলিমা নাসরিনের বন্ধু হয়ে গিয়ে র-এর হিটলিস্টের তিন নম্বর পজিশনে চলে গেল, কিন্তু ও কি ওই মোল্লাদের চাইতে কোন কিছু বেশী বোঝে? এক ফোঁটাও না -- এটা আমার হাম্বল ওপিনিয়ন। হি ইজ ওনলি ফীডিং দ্য মেট্রিক্স -- নাথিং মোর। সবাই মিলে আমাকে একদিন ধরবে, জানি, কর্মফল থেকে কারও রেহাই নাই, এইজন্যই তো খুব সাবধানে কথা বলি। যা বলি অনেক ভাবনা চিন্তা করে বলি -- যাতে এফেক্টটা ম্যাক্সিমাইজড হয়। কারণ, ইংরাজিতে দুর্বল একটা জাতিকে জাগানো খুব কঠিন যখন সমস্ত তথ্য ইংরাজিতে লভ্য, বাংলায় নয়।

এখানে আরেকটা তথ্য না দিলে মানুষকে ঠকানো হবে সেটা হল অরূপ সাগর সাল্লু আর আরিফের সাথে আমার বছর পাঁচেকের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ। এরা ঢাকা শহরে আমার চেনা সবথেকে বড় সাইজের স্টকারদের কয়েকজন। এদের কাছে থেকে আমি এত কিছু শিখসি যে সমীহ করা ছাড়া উপায় নাই। স্টকার শব্দটা এখানে আমি টোল্টেক মিনিঙ্গে ব্যবহার করতেসি যা বুঝতে হলে আপনাদের কার্লোস ক্যাস্টানেডা এবং ডন হোয়ান সম্পর্কে খুব ভাল আইডিয়া থাকতে হবে। ডন হোয়ানের শিক্ষাগুলা স্টাডি করাতে আমার সারাজীবনের যে বিলিফ সিস্টেমটা ছিল, ওটা গুঁড়া গুঁড়া হয়ে, আবার নতুন করে জোড়া লাগসে। এখন আমি বুঝতে পারি যে, ওই প্রসেসটা দিয়ে যাওয়ার কারণেই কিন্তু আমি পরবর্তীতে এক্সোপলিটিক্সের অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য সত্যগুলাকে সহজে হজম করতে পারসি -- যেটা আপনাদের অনেকের জন্যই খুব কঠিন বা প্রায় অসম্ভব।

অ্যারন ম্যাক্কলামের কথা আরেকটু বলে শেষ করব। ও রেপ্টিলিয়ান, গ্রে, আর্কটুরিয়ান, আর সিরিয়ান -- এই চারটা ইটি গ্রুপের কথা বলে। ও মিডল-আর্থের কথা বলে যেটাকে আমি বলেছি ইনার আর্থ। ও হচ্ছে গিয়ে একজন ব্ল্যাক অপ্স কম্যান্ডার যে পৃথিবীতে এবং অন্যান্য গ্রহে শতশত মিশন করেছে যেখানে ইটিরা ইনভল্ভড ছিল। ও একজন হিউম্যান-ডলফিন হাইব্রিড যে যতক্ষণ ইচ্ছা পানির নিচে থাকতে পারে আর ওর কোন শীত বা গরম লাগে না। ইন্টার্ভিউতে ও প্রজেক্ট সীগেইট নামে একটা ইন্টার-ডিমেনশনাল পোর্টালের কথা বলে যেটা সমুদ্রের নিচে অবস্থিত। এই পোর্টালটা অ্যারনের মতে পৃথিবীতে অবস্থিত সবচেয়ে বড় বা শক্তিশালী পোর্টাল যেটা দিয়ে অন্য গ্রহ গ্যালাক্সি বা টাইমে যাওয়া যায়। ও নিজে ওই পোর্টাল দিয়ে বেশ কয়েকবার যাতায়াত করসে। পৃথিবীতে এই সব সুপারএডভান্সড টেকনোলজি কন্ট্রোল করে ইটি আর অ্যামেরিকা ইংল্যান্ড ফ্রান্স ইতালি জার্মানি রাশিয়া ইত্যাদি দেশের ম্যাজেস্টিক বা কসমিক সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়া অ্যাবাভ টপ সিক্রেট স্পেশাল এক্সেস হাইলি ট্রেইন্ড এজেন্টরা -- যাদেরকে মিশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর মাথা থেকে মেমরি মুছে দেয়া হয়। শুনতে রূপকথার মত লাগলেও, আমাদের এই ব্রেইনওয়াশ মেট্রিক্সেই একটা কথা আমরা অহরহ বলিঃ ট্রুথ ইজ স্ট্রেইঞ্জার দ্যান ফিকশন। আর আমাদের ক্ষেত্রে, ইট ইজ মাচ মাচ স্ট্রেইঞ্জার।

No comments:

Post a Comment