Friday, October 16, 2015

draco part 15 (in bengali)

ড্রেকো ১৫

আমার এই লেখা এক ধরণের আক্রমণ, যা থেকে আমার আত্মীয়, বন্ধু, শত্রু, কেউ রেহাই পায়না। আমি দাবী করতেসি যে আমি একজন আন-হিপ্নোটাইজড, ব্রেইনওয়াশ-ডিটক্সড, মেট্রিক্স থেকে আনপ্লাগড, জাগ্রত এবং সচেতন ব্যক্তি। এই সচেতনতা নুহু ভাই, মিরাজ, আদিব, অভিজিত, মেহেদি, ব্রাত্য রাইসু, আহমেদ ছফা, রন ইশতিয়াক (আমার ভাতিজা), নোম চমস্কি, অরুন্ধতী রয়, ইত্যাদি যেকোনো মেইনস্ট্রীম ইন্টেলেকচুয়াল থেকে আলাদা। এর কারণ সমস্ত মেইনস্ট্রীম কনসেপ্টগুলাকে আমরা মিথ্যা মনে করি। অজস্র মিথ্যা মিলায়ে মিশায়ে তৈরি করা হইসে একটা মাইন্ড মেট্রিক্স যেটাকে বাংলায় আমি বলি মনখাঁচা। এই খাঁচা ভিতর থেকে তালা দেওয়া। অর্থাৎ, আমরা চাইলে এই খাঁচা খুলে বের হতে পারবো, কিন্তু সেই চেষ্টাটাই করিনা, কারণ আমরা বুঝতেই পারিনি এখনও যে আমরা বন্দী। যে দাস বুঝতেই পারেনা যে সে একজন দাস, সে পালাবার চেষ্টা করেনা। এই দাস হল শ্রেষ্ঠ দাস। আমরাই সেই শ্রেষ্ঠ দাস। আর আমার এই লেখা এই দাসত্ব থেকে নিজেদের মুক্ত করার একটা ছোট্ট প্রচেষ্টামাত্র।

সচেতনতা আসার একটা পূর্বশর্ত হল এই ব্যাপারটা বুঝতে পারা যে আমরা সবাই যা কিছু জানি আর বিশ্বাস করি, সব ভুল। এটার পিছনে কারণ হল যে আমাদেরকে খুব সিস্টেম্যাটিকভাবে ছোটবেলা থেকে অজস্র ভুল ধারণা দিয়ে দিয়ে একটা মিথ্যার রাজ্যে ঢুকানো হয়, যেটা একটা স্বপ্নের রাজ্য। এই স্বপ্নের মধ্যে আটকা পড়ে আমাদের কাছে মনে হয় যে টাকা-পয়সা, ধর্মকর্ম, রাজনীতি, সেক্স, গাড়িবাড়ি, জমিজমা, শাড়ি গহনা, সোশাল স্ট্যাটাস, দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া, ইত্যাদি খুব জরুরি। তাই আমরা চারপাশে তাকায়ে দেখতে থাকি যে কোন পথে গেলে আমার জন্য টাকা কামানো সবথেকে সহজ। যার মেধা ভাল, সে চলে যায় কর্পোরেট লাইফে। বিরাট বেতন, দামী গাড়ি, ক্রেডিট লাইন, স্টক মার্কেটে ইনভেস্টমেন্ট, উইকেন্ড পার্টি, ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে একজন হিপস্টার হয়ে যায়। যারা পড়ালেখায় ধরা খাওয়া, এরা তখন বুদ্ধি খাটাতে থাকে অন্য রাস্তায় গিয়ে কিভাবে ওই কর্পোরেট চালাকদের উপর টেক্কা মারা যায়। এরা চলে যায় দুই নম্বরিতে -- রাজনীতি, সরকারি চাকরি, ব্যাংক লোণ, পুলিশ, জনগণের টাকা মেরে খাওয়া, ইত্যাদি। অতি বুদ্ধিমানরা ঢুকে যায় আইন, ডাক্তারি, এঞ্জিনিয়ারিং, ইত্যাদি লাইনে। যারা শারিরিক পরিশ্রম করতে পারে ওরা যায় টেনশনবিহীন মিলিটারি লাইনে। এভাবেই শুরু হয়ে যায় আমাদের দাসত্বের জীবন।

উপরে যাদের নাম দিয়েছি এদের প্রত্যেকের বুঝতে হবে কোন একদিন যে ওরা কিছুই ঠিকভাবে জানেনা বা বোঝেনা। এটা ওদের জন্য চরম কঠিন একটা বিষয় কারণ ওরা সবাই নিজেদেরকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান আর নলেজেবল মনে করে। যে কোন ডিবেটে এরা সাধারণত জেতে এবং প্রায়শই শেষ কথাটা এরাই বলে সব ব্যাপারে, যে কারণে এদের একটা অদম্য ইগো থাকে যেটা ভেঙ্গে বের হওয়া খুব কঠিন। এই অতি বুদ্ধিমান স্মার্ট লোকগুলা হল মেট্রিক্স ছবিটার এজেন্ট স্মিথের মত গেইটকিপারস -- এদের কাজ হল মেট্রিক্সটাকে অক্ষত রাখা এবং কেউ এটা থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া। আমার বা নিও এর মত কেউ যখন মেট্রিক্স থেকে বের হয়ে যায়, তখন মেট্রিক্সের ভিতরে হিপ্নোটাইজড হয়ে থাকা প্রত্যেকটা অসচেতন মানুষ হয়ে যায় একেকজন পটেনশিয়াল এজেন্ট স্মিথ -- এরা তখন আমাদের সঙ্গে শত্রুর মত আচরণ করতে থাকে এবং আমাদের কোন কথা পাত্তা দেয় না, বা কেউ যদি পাত্তা দেয়া শুরু করে, সাথে সাথে গিয়ে তাকে সাইজ করে ফেলে -- ড্যামেজ কন্ট্রোল করার জন্য।

ছোটবেলা থেকে আমাদের শিক্ষা, ধর্ম, কালচার, মিডিয়া, ইত্যাদির মাধ্যমে যা কিছু শিখানো হয় সবকিছু হল একধরণের মাইন্ড কন্ট্রোল বা মগজ ধোলাই। এর ৯৫% থেকে ৯৯% ভাগই মিথ্যা। আপনি হয়ত ভাবছেন, এটা সম্ভব না, কিন্তু আসলে ব্যাপারটা সম্ভব এবং সত্যি, যেটা আপনারা আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন, একদিনে নয়। আমাদের দেশের যে অসাধারন দুর্নীতি, এর পিছনে কারণটা খুব সহজ অথচ কেউ কখনও এটা নিয়ে চিন্তা করেনা বা অর্থপূর্ণ কোন বক্তব্য রাখে না। আমাদের উপার্জনের সিংহভাগ সরকার, কাস্টমস, কর্পোরেশন, ব্যাংকিং, ইত্যাদির মাধ্যমে চুরি হয়ে যায়। পুরা টাকাটাই বিভিন্ন রাস্তায় দেশের বাইরে চলে যায় আর এই ব্যবস্থাটা দেখাশুনা করার দায়িত্বে যারা থাকে, তাদেরকে আমরা সরকার বলি। সরকারের প্রধান কাজ হল দেশের টাকা যত বেশী সম্ভব বিদেশে পাচার করে দেয়া। এইকাজে যারা সহায়তা করে, তাদেরকে ঢালাওভাবে পুরস্কৃত করা হয়। আমরা যে নাকে মুখে ১৫% ভ্যাট দেই, এর একটা টাকাও আমাদের কোন কাজে লাগে না। আপনারা যে ফ্লাইওভারএর কথা বলে বিগলিতভাবে আওয়ামীলীগের পিঠ চাপড়াতে থাকেন, ওটা যৎসামান্য -- তাও সম্ভবত ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে লোন নেয়া যেটার সুদের ভার আপনার আর আপনার ছেলেমেয়েদের ঘাড়েই পড়বে। নিশ্চিন্ত থাকেন।

মোদ্দা কথা, পৃথিবীটা যে সিস্টেমে চলে বলে আপনারা মনে করেন, তার পুরাটাই ভুল। পৃথিবী সেভাবে চলে না। শুরুতে যাদের নাম নিয়েছি ওরা অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করে, তাহলে আপনার মতে আমাদের সমাধানটা কি? এর উত্তরে আমি বলব, সমাধান পরে, আগে আপনারা প্রব্লেমটা বোঝার চেষ্টা করেন। এখনও প্রব্লেমের ৩% আপনারা বুঝে উঠতে পারেননি -- কারণ এখনও আপনারা এজেন্ট স্মিথের মত আচরণ করে যাচ্ছেন। আগে নিজেকে জাগান। দুই একজনকে দেখি তারা খুব ফ্রাস্ট্রেটেড যে আশেপাশের কাউকে জাগাতে পারছে না। কিন্তু তাদের নিজেদের অবস্থান দেখে আবার আমার হাসি পায়। এখানে ভাববেন না যে আমি নিজেকে একধরণের সবজান্তা ভেবে বসে আছি -- সেটা করলে তো হাস্যকর হয়ে যাবে। আমার কিছু সচেতন বন্ধুর সাথে আমার অহরহ টোকাটুকি হয় যে কে ঠিক কে ভুল। আমরা একটা ওয়ার্কিং হাইপোথিসিস নিয়ে কাজ করি যেটা হামেশা বদলায়, কিন্তু এটা কোন দুর্বলতা না, বরং এটাই আমাদের শক্তি। মেট্রিক্স থেকে বের হতে হলে অনেকগুলা স্তর পার করতে হয়। একেকটা স্তর পার হলে নিজেকে খুব পণ্ডিত মনে হয় কিছুদিন, কিন্তু পরে দেখা যায়, ব্যাপার আসলে অন্য। আস্তে আস্তে পরের স্তরটা চোখে পড়তে থাকে। ডেভেলপমেন্টটা এইজন্য হয় ধীরে ধীরে। কনফিডেন্সটা আস্তে আস্তে বাড়ে। কাজেই আমি বলব যে সচেতনতা আমার পর্যায়ে আসতে অনেকেরই সময় লাগবে, কারণ আমি কাজ শুরু করসি অনেক আগে। কিন্তু তার মানে এই না যে আমি চিরতরে সবার উপরে থাকব। আমার এই মুহূর্তের যে সামান্য অগ্রগতি তা নিয়ে বেশী গাগা হয়ে গেলে ধরা খাব।

No comments:

Post a Comment