Wednesday, October 14, 2015

draco part 14 (in bengali)

ড্রেকো ১৪

ছোটবেলাতে যেসব আত্মীয় স্বজনকে অনেক কাছে পেয়েছি, বিভিন্ন অর্থনৈতিক আর সাংসারিক কারণে তারা আস্তে আস্তে দূরে সরে গেছে। একবার আমি দ্যুম করে ঢাকায় এসে ঘুরে গেলাম। তখন চাচারা জিজ্ঞাসা করল, দাদার সাথে দেখা করনি? আমি তখন বলসিলাম যে আমার প্ল্যান ছিল না। এটা যে আমার কত বড় অপরাধ হইসে তা বুঝতে বোধহয় আমার আরও ২০ বছর লাগসে। আমার চাচারা সেই সময় থেকে আমাকে আদর করা বন্ধ করে দিসে যেটা আমি এখন বুঝতে পারি। আব্বার করা বিভিন্ন বাড়িগুলা চাচারা কিনে নিয়ে গেসে। আর আম্মার সাইডে ভুয়া দলিল করে নানা-নানির সব সম্পত্তি মামারা আর কাজিনরা ভাগ বাঁটওয়ারা করে নিসে। এটাই তো আসল দুনিয়া, তাইনা? আজকাল আমি সারাদিন পিসির সামনে বসে থাকি তাই আমাদের বুয়া ভাবে আমি বোধহয় একটা অপদার্থ বলদ। আঞ্জি আমাকে বলে একদিন বাসে উঠাবে যাতে আমি বুঝতে পারি বাংলাদেশের জীবনযাত্রা কেমন! আজকাল সবাই বলে অ্যাল-বিএনপি সমান সমান, হাওয়া ভবনে নাকি তারেক রহমানরা অ্যালের মতই দুর্নীতি করসিল -- কি জানি,হয়ত ওরা কয়েকজন একাই সব খেতে গিয়ে ধরা খেয়ে গেসে। এইদিক দিয়ে অ্যাল আবার ঠিক আছে -- সবাইকে দিয়ে থুয়ে দুর্নীতি করে, আর এইজন্যই মনে হয় এরা এত পপুলার একটা দল। কিন্তু র‍্যাব যখন তারেকের কোমর দুই-তিন জায়গায় ভেঙ্গে দিল আর বাবরের মত একটা আমেরিকান হিপস্টার বয়কে রাতারাতি হেরোয়িনখোর ধ্বজ অথর্ব চেহারা বানায়ে দিল -- তখন খুব খারাপ লাগসিল, যদিও ওকে আমার মোটেও কখনও ভাল লাগত না।

এখন আর কেউ জিয়ার কথা বলতে সাহস পায় না। প্রত্যেকদিন সে যে তার মন্ত্রী পরিষদ নিয়ে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শনে যেত, তখন জিয়া হাঁটত আর অন্যরা দৌড়াতো হাঁসফাঁস করতে করতে -- এই জিনিষ বহুবার টিভিতে দেখসি এটা মনে আছে। এখন এইসব কথা বলা মানে বিএনপির একটা সিল নিজের পিঠে মারা -- সে আর বলতে। সিলের খ্যাতা পুড়ি, আমার যা ভাল্লাগে তা কমুই। নীলফামারীতে জিয়া খালটা দেখে আসছি। আমাদের আসাদুজ্জামান সাহেবের এরিয়াটা তো বেশ সুজলা সুফলা হয়ে আছে ওই খালের বদৌলতে। কিন্তু যেটা আমি কিছুতেই ভেবে পাইনা, তা হল, এই খাল খননের বুদ্ধিটা জিয়ার মাথায় কিভাবে আসলো? কে তাকে সার্ক সম্মেলন করার বুদ্ধি দিল? বাংলাদেশের মত দেশে, যেখানে আমাদের কথায় কথায় জাত যায়, সেখানে সে নির্বিকারে কোদাল মেরে নিজে খাল কাটলো, নিজেই গাছ পুঁতল। বৃক্ষরোপন কর্মসূচী তো অ্যামেরিকানরা শিখল এই সেদিন। জিয়ার মাথায় এইসব আইডিয়া সেই সময় কে ঢুকাল? তারেকের কথা বলি, ও তো বগুড়া শহরের চেহারা পালটে দিল আর যাদের জমিজমা বাড়িঘর গেসে, তারা সবাই মোটামুটি ক্ষতিপূরণ পাইসে। বগুড়ার লোক আমি যদ্দুর জানি তারেকের কাজে সন্তুষ্ট। যদিও শুধু নিজের এলাকার উন্নতি করা একটা বিশ্রী ব্যাপার -- তবু কিছু কাজ তো হইসিল আর বগুড়ার লোকেরা এখনও তার সুফল পাচ্ছে।

আমার জানামতে, এরশাদকে যে বাংলাদেশের হাইওয়ে করার জন্য বাহবা দেয়া হয় তার সব কয়টার কাজ শুরু করে গেসে জিয়া। এরশাদ জিয়াকে মেরে গদিতে বসে ওর ক্রেডিটগুলা আরামে নিজের পাতে নিয়ে গেসে। যাই হোক এরশাদের কথা বলে সময় নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু বিএনপি ধ্বংসের পিছনে আমি আওয়ামীলীগ দেখি না, দেখি র। যদিও ডার্টিওয়ার্কগুলা লীগই করে, কিন্তু মাস্টারমাইন্ডটা লীগ না, এটা বোঝা যায়। লীগকে চালায় র -- আর র কে চালায় ড্রেকোরা -- ড্রেকোদের চালায় আর্টিফিশিয়াল ব্ল্যাক গু এআই -- আর ওই এআই চালায় কারা? সেই প্রশ্নের উত্তরও একদিন বের হবে।

একটা গিয়ার শিফট করি। বাংলাদেশে সবাই ধর্মান্ধ না। শুধু বিপদে পড়লে তখন আর আল্লাকে ডাকা ছাড়া উপায় থাকে না -- এই ঝামেলা না থাকলে অনেকেই আমাদের কথা শুনত। আমারও একজন ইমাজিনারি ফ্রেন্ড আছে যে আমাকে নিরাপত্তা দেয়। কখনও খুব বাজে লাগলে আমি তার সাথে মনে মনে যোগাযোগ করি। ওখান থেকে শক্তি নেই। কিন্ত আজকাল আমার মন ভাল থাকে বেশীর ভাগ সময়। নক অন উড! মাথা শান্ত থাকে। কোন কিছু নিয়ে টেনশন করি না আর। আগে মোটেও এরকম ছিলাম না। কিছুটা হলেও নিজেকে বদলাতে পারসি। এখন দাবী করে বলতে পারি যে নিজের অবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে দোযখের আগুনে পোড়ার যে ভয়টা একদম পিচ্চিকাল থেকে আমাদের মাথায় ঢুকান হয়, ওইটা কাটতে কিন্তু সময় লাগে। আমি বেশ কয়েকজনকে দেখসি যারা বিভিন্ন কন্সপিরেসি নিয়ে প্রচুর পড়ে, কিন্তু ভিতরের ভয়টা কাটাতে পারে না বলে, সব পড়াশুনাকে ইসলামিকভাবে ফিট করার চেষ্টা করে। সবকিছুকে ওরা কোরান দিয়ে ব্যাখ্যা করে বা ইসলামিকভাবে বিশ্লেষণ করে দেয়। এতে ঝামেলা যেটা হয়, তা হল, গোড়ার মগজ ধোলাইটা থেকেই যায়, এবং এরকম একজন ব্যক্তিকে সহজে আবার কাত করে দেয়া যায় কারণ সে কোন সলিড আন্ডারস্ট্যান্ডিঙের উপরে দাঁড়ান নাই।

এখানে আমার মন্তব্য হচ্ছে, ঈশ্বরে বিশ্বাস আর ধর্মবিশ্বাস, দুইটা দুই জিনিষ। আমার মতে ঈশ্বরে বিশ্বাসটা ভাল, আর ধর্মবিশ্বাসটা খারাপ। প্রথমটা আমাদের কাজে আসে, পরেরটা আমাদের ক্ষতি করে। এখানে বলে রাখা ভাল, যে আমাদের ঈশ্বর, যাকে আমরা সোর্স বলি, প্রাইম ক্রিয়েটর বা ওয়াননেস বলি, সে খুবই অ্যাবস্ট্রাক্ট একটা আইডিয়া -- সোর্স কখনও কাউকে নামাজ পড়তে বলবে না। যখনই আমরা দেখি যে কেউ আমাদেরকে একটা কাজ বারবার করতে বলছে্‌ তখনি বুঝতে হবে যে এটা আমাদেরকে অভ্যাস করানো হচ্ছে। এটাকে ম্যাগ্নেটাইজ করার সাথে তুলনা করা যায়। বারবার ঘষে ঘষে একটা লোহাকে চুম্বক বানানো -- এটাই হল মগজ ধোলাই। কারণ এই মানব-চুম্বক এখন বিভিন্ন কাজে লাগান যাবে -- কিন্ত আমাদের সুবিধার্থে না, অন্য কারও সুবিধার্থে। যখন কেউ এই ব্যাপারটা পরিস্কার বুঝতে পারে, তখনই তার টনক নড়ে যায়, আর এরপর থেকে তার ভয়টা আস্তে আস্তে কাটতে থাকে, এবং একদিন সে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু এই কাজটা কাউকে দিয়ে জোর করে ঠেলে করাতে গেলে যে হিতে বিপরীত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

উপরের প্যারাটা লিখেই শেষ করতে গিয়ে মনে হল আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল। আমাকে নির্ঝর থেকে শুরু করে জেসি পর্যন্ত সবাই বলসে যে, আপনার এইসব কথা বাঙালি হজম করতে পারবে না। খুব আস্তে আস্তে ওদের বুঝাতে হবে। যে কারণে অন্য কেউ আমার মত এভাবে মনের কথা লিখে ফেলেনা কখনও। সত্যি বলতে আমার অত ধৈর্য নাই, আর আমি মনে করি আমরা যথেষ্ট কালচারালি ম্যাচিউর একটা জাতি। একজন বলা শুরু করলে আরও অনেকেই এটার রেশ ধরে আরও অনেক কিছু বলবে। কিন্তু সবাইকে বলে রাখি, ধর্মবিশ্বাসটা আমাদের বাঙালির স্পিরিচুয়ালিটির ফাউন্ডেশন। আমি রেকমেন্ড করবো না যে কেউ আমার দুই একটা কথাতে কনভিন্সড হয়ে ওটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিক। সবকিছু ঠাণ্ডা মাথায় বুঝে করবেন। হুজুগে বাঙালির মত ফাল পেড়ে কিছু করতে গেলে ধরা খাওয়ার চান্সটাই বেশী।

No comments:

Post a Comment