Tuesday, October 13, 2015

draco part 13 (in bengali)

ড্রেকো ১৩

বুয়েটে আমার এক দোস্ত আর আমি, দুজনেই একই মেয়ের প্রেমে পড়সিলাম, তবে যা মনে হয়, মেয়েটা আমাকে বেশী পছন্দ করতো। আমরা মাঝে মধ্যে একজন আরেকজনকে চিঠি দিতাম, কিন্তু প্রেম নিবেদন ব্যাপারটা ঠিক ধরতে পারিনাই; আবুল ছিলাম। পরে আমি চলে যাই নিউ ইয়র্কে। এর মধ্যে আবার ওর এক বান্ধবী আমার প্রেমে পড়ে যায়। পরে ওর ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদে পড়ে আমরা বিয়ে করি, কিন্তু সেটা টেকেনি। এই কারণে অবশ্য আমার বুয়েটের অনেক বন্ধুই এখনও আমাকে ক্ষমা করতে পারেনি। বাঙ্গালিরা বড্ড বেশী জাজমেন্টাল। আমার এই গল্পটা এখানে লেখার কারণে আমার এখনকার রিলেশনশিপে ঝামেলা হলে আশ্চর্য হবোনা। কারণ আমি জানি আমার পরিচিত অনেকেই আমার লেখা গোপনে পড়ে এবং কোনভাবে এগুলাকে কাজে লাগানোর ধান্দায় থাকে। যেমন আমার এক আপন দুলাভাই, আমার ধারনা আমার ব্যাংক থেকে সমস্ত টাকা চুরি হয়ে যাওয়ার পিছনে সে দায়ী। সে আমার বউকে আমার সাথে ডিভোর্স করানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করসে। সে আমার বোনের সাথে কুকুরের অধম ব্যবহার করে। আমার বোন ভীতু মানুষ। আমি অ্যামেরিকায় আর থাকি না বলে সে ডিভোর্স দিতে সাহস পায়না। সাপোর্ট দেয়ার যে কেউ নাই। দুলাভাই সাহেবও এটা বুঝে তাকে গাড়তে থাকে। এভাবেই চলে আমাদের বাঙালি জীবন।

একজন এভারেজ বাঙালির চিন্তাভাবনা সাধারণত যে জগতে বিচরণ করে, আর আমি এই গল্পে যা বুঝাতে চাচ্ছি, এই দুটার মধ্যে একটা অগাধ দূরত্ব আছে। আশাকরি আপনারা বুঝবেন যে এটা কোন পণ্ডিতি জাহির করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা না। মিরাজের কথা বলি -- সে প্রতিদিন প্রচুর লেখে, হাজার হাজার ছবি তোলে, গান গায়, পার্টি দেয়, শত শত মানুষের খোঁজ খবর রাখে, তার ক্যাডেট কলেজের প্রোগ্রামের দায়িত্ব নেয়, একজন প্রাক্তন অ্যাথলেট, লাভারবয়, পেইন্টার, ডাক্তার, অ্যাডমিন, কলামিস্ট, ঢাকা শহরের একজন ডাকসাইটে হিপস্টার যাকে কালচারালী আমার কাছাকাছি ধরা যায়। ওর মধ্যে যেটা মিসিং, সেটা হল সোরসারী -- টোল্টেক সমনিস্টিক স্টকিং-ড্রিমিং, আর ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজার। ও নিজেকে সবার উপরে ভেবে অভ্যস্ত, এই জন্য আমি কি জিনিষ তা ধরতে পারেনা -- আর আমার মত কুরিয়ার লেভেলের স্টকাররা ঠিক এটাই চায়। এখানে আমার জোকটা ধরতে হলে আপনাদের ক্যাস্টানেডা পড়া থাকতে হবে। আমরা আবার কাফকা-ক্যামু থেকে শুরু করে, নিতশে-স্পিনোজা-বিটোভেন-গিন্সবারগ-কুঁদেরা-কুরেশি-রুশদি কিছুই বাদ দেইনি যে কারণে ওই হিন্দি সাইডটাতে উইক হয়ে গেছি। এইজন্য এভারেজ বাঙালির সাথে আমাদের কিছু তফাৎ। কিন্তু আলুভর্তা আর ডাল্ভাত কি জিনিষ, তা বুঝতে বোধহয় অ্যামেরিকা চষে আসার দরকার হয় না।

এবার বলি নুহু ভাইয়ের কথা। সে আমার চেয়ে বয়সে ছোট, কিন্ত তাকে আমি ভাই বলি। এর কারণ হল তার ব্যক্তিত্ব। সে তার হৃদয় দিয়ে সবকিছু অনুভব করে। এই নষ্ট হয়ে যাওয়া বেশ্যা দেশটাকে সে আমূল বদলে দেয়ার কাজ করে যাচ্ছে। সে সবাইকে খুব ভালবাসে, আর তাই সবার অকর্মণ্যতা তাকে বড্ড দুঃখ দেয়। আমি যখন তাকে ড্রেকোদের কথা বলি, সে মন দিয়ে শোনে, কিন্তু বুঝতে পারেনা যে এটা জেনে তার কি লাভ। সে চায় আমরা সবাই সংবিধানটা বুঝি। তবেইনা আমরা পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবো। আমি অবশ্য তার সাথে একমত নই। যেমন অ্যামেরিকার পুলিশ আইন যথেষ্ট ভাল জানে, কিন্তু তারপরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রচণ্ডভাবে। ছাত্রলীগ কি বোঝে না ওরা ক্রাইম করতেসে? কাউকে চাপাতি দিয়ে কোবানো বা গুলি করা যে অন্যায় এটাকি ওরা জানে না? তারপরও উপরের লেভেল থেকে ওদেরকে অস্ত্রশস্ত্র দেয়া হয়। যে যত ক্যাম্পাস দখলে রাখতে পারে তার ক্ষমতা তত বেশী। সংবিধানে তো ভাই এই বিষয়ে কিছু বলা নাই।

আমাদের তালুকদারের কথায় আসি। ওতো চাপাতি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ক্যাডার ছিল। কোপ খাওয়া আর দেওয়া দুইটাতেই বেশ অভিজ্ঞ। তারপরে সুযোগ বুঝে একদিন ওকে দেওয়া হল পিস্তল। ওরা বুঝছিল এই ছেলের বিচির সাইজ বড়। কিন্তু বিধি বাম -- ওর ব্রেনের সাইজও যে একটু বড়, সেটা ওর সিনিয়রদের ব্রেনে কুলায় নাই। আস্তে করে বের হয়ে গেল ছেলেটা। হয়ে গেল নিরীহ সাংবাদিক। এখন মেয়েরা ওর সেলফিতে লাইক মারে আর ইনবক্সে খুঁজতে থাকে, তালুকদার ভাই, আপনি কই? ও তখন বসে আছে আমার সঙ্গে হাতির ঝিল -- দুইজনে মিলে তাকায়ে আছি আকাশের দিকে -- নীল রঙের একটা ইউএফও এর অবতরণ দেখতেসি।

এরকম গল্পতো কতই লেখা যায়। লাভ কি? দুই একজন বাহবা দিবে? এইসব খুচরা ফাঁপরে কোনোদিনই স্যাটিস্ফাইড হতে পারিনি। আমাদের উদ্দেশ্য হল আস্ত ব্যাংকিং সেক্টরটাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া। এটা যে একদিনে হবে না, তা বলাই বাহুল্য, কিন্তু এই কাজটা পারতে হলে আমাদের সবার একসাথে কাজ করতে হবে। একটা খুব ভাল উদাহরণ আমাদের ছেলেমেয়েরাই কয়দিন আগে দেখালো আমাদের -- শিক্ষাতে কোন ভ্যাট চলবে না। সবাই মিলে একসাথে দাঁড়ায়ে বলল "না" -- আওয়ামীলীগের বাপের সাধ্য নাই কিছু করে। ব্যাপারটা কিন্তু এতটাই সহজ যদি আমরা বুঝতে পারি যে কি করতে হবে। যদি আমরা একমত হতে পারি। আমাদের সংসদ, সংবিধান, কিচ্ছু মানার দরকার নাই। এইটাই আমাদের ক্ষমতা। এইটাই আমাদের জনবল। এটাকে দমায়ে রাখার জন্যই তো এত মগজ ধোলাই এত বিভাজন এত নাটক! কাজেই আমাদের একজন আরেকজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনাটা খুব জরুরি।

কেন আমি নিজের ঢাক নিজেই বারবার পিটাই? কারণ আমার মত এক্সপেরিয়েন্সের একজন মানুষ যখন বলে যে রেপ্টিলিয়ান নামে কিছু প্রাণী মানুষ খায় -- তখন আপনাদের সেটা সিরিয়াসলি নেয়া উচিত। কিন্তু তার বদলে আপনারা নিজেদের অত্যন্ত পণ্ডিত মনে করে আমাকে ছাগু আখ্যা দিয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। যখন আমি জাকারিয়া সিচিন বা লয়েড পাইএর রেফারেন্স দিয়ে বলি যে মানুষের জেনেটিক ডিজাইন করেছে ২২টা ইটি গ্রুপ, তখন আপনাদের বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখা উচিৎ। আমাদের ধর্মগুলার সোর্স কি ঈশ্বর, নাকি মাটির নিচে বাস করা কতকগুলা অতি-উন্নত মানুষ? এই বিষয়গুলা প্রমাণসহ যাচাই করার সময় কিন্তু অনেক আগেই হয়ে গেছে।

আমাদের বাঙ্গালিদের একটা বদ অভ্যাস পশ্চিমা বিশ্বের দিকে হাঁ করে তাকায়ে থাকা আর ওরা যা করে ওটা ১০০ বছর পরে কপি করে সেলেব্রিটি হয়ে যাওয়া। ন্যাক্কারজনক!

আর একটা কথা বলে আজকে শেষ করবো, আমরা যদি আজকে থেকে আমাদের মিডিয়া একদম ফলো না করি আর কোনদিন -- কিচ্ছু হবে না। কারও কোন ক্ষতি হবে না, বরং প্রচণ্ড লাভ হবে। দেশে যে সব অঘটন ঘটছে, তার বেশীর ভাগই ঘটাচ্ছে সরকার নিজে। পুলিশ চাইলে ৭ দিনে সমস্ত ক্রাইম বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তাহলে ঘুষ খাবে কে? দেশে কি নুহু ভাইয়ের মত ভাল লোক নাই? অবশ্যই আছে, কিন্তু ওই ব্যক্তিটাই যদি ক্ষমতা পায়, তখন কি সে ড্রেকোদের বিরুদ্ধে যাওয়ার মত সাহস নিয়ে চলতে পারবে? যাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে সে জানেই না? সে কি র-এর ব্ল্যাকমেইল ঠেকাতে পারবে? সেকি সিআইএ আর মোসাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস রাখবে? কিসের ভিত্তিতে সে এটা পারবে? কে তাকে বাঁচাবে? বাংলাদেশের সেলফি তোলা আর হিমু রোমান্টিসিজমের হীনমন্যতায় ভোগা ধর্মান্ধ সেন্টু বাঙালি তখন পারবে তার পিছনে দাঁড়াতে?

No comments:

Post a Comment