Monday, October 12, 2015

draco part 12 (in bengali)

ড্রেকো ১২

কঠিন বিস্টি গেল। গায়া-সোফিয়া মন ঠান্ডা করে দিল তবে আমাদের অপদার্থ মন্ত্রনালয়গুলার কারণে সবখানে পানি জমবে। ঢাকার কমিশনারগুলাকে যদি বাইন্দা পিটান যাইত, বা ঢাকার মসৃণ রাস্তায় নাক খত দেয়ান যেত, আহ কি আরামটাই না পেতাম! কয়দিন আগে না মেয়র ইলেকশন নামে একটা ফাইজলামি হল? যথারীতি ড্রেকো-র পার্টি লুটপাট করে প্যাঁদানি দিয়ে আওয়ামী সমর্থিত পুতুলদের গদিতে বসায়ে দিল। আমার পরিচিত কিছু লোকজন ভোটকেন্দ্রে কাজ করসিল কিন্তু টুঁ শব্দ করে বলল না যে আওয়ামীলীগ চরম গুণ্ডামি করতেসে। শুধু ফেসবুকের প্রাইভেট মেসেজে এসে ভয়ে ভয়ে বলে, আরে ভাই সবই তো দেখসি, কিন্ত বলা যাবে না। এরকম নগ্ন কাপুরুষতা দেখলে মনটা খুব দমে যায়। ও একা তো না, প্রত্যেকটা মানুষ এরকম -- সত্যি কথা বলার সৎসাহস একটা লোকেরও নাই। দুই একজন যারা বলে তাদের কথা কেউ শোনেনা, বা শুনলে মার খেয়ে যায়, বা ফেসবুক একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপির লোক হলে ভুয়া কেসে ফেঁসে যায়। নির্ঝর আমাকে বলে, ভাই বিএনপিএর অবস্থাও আমি জানি, র এর এজেন্ট ভরা ওগোর মধ্যে। দেশের সব বড় পোস্টগুলাতে র এর লোক বসানো। raw কে উলটা করলে হয় war --ভুলেও ভাববেননা যে এটা একটা কোইন্সিডেন্স। ড্রেকোরা খুব মজা পায় এই ধরণের ছোট ছোট চালাকি করে। ওরা সবখানে ওদের ক্লু (clue) রেখে যায়, আর চিন্তা করে মজা পায়, দেখি কতদিনে এই বলদেরা আমাদের ক্লুগুলা ধরতে পারে!

বাংলাদেশে এরশাদ আর আমেরিকায় ট্রাম্প হল গিয়ে ফিফথ কলাম। আমাদের আছে আল বিএনপি ইসলামি সোশালিস্ট -- এর মধ্যে তারেকের মেরুদণ্ড আর বড় ব্যবসাগুলাকে ধ্বংস করে দেয়ায় বিএনপি মোটামুটি সাইজ। ইসলামি দলগুলা কন্ট্রোল করে সৌদি-জায়নিস্টরা -- ওদের ফোকাস এই মুহূর্তে অন্যদিকে কারণ যা আন্দাজ করা যায়, ড্রেকো বসেরা দৌড়ের উপর আছে। একদিকে পুটিন শক্ত মার দিচ্ছে জায়নিস্ট আইসিসকে, আরেকদিকে গ্যালাক্টিক ডিস্ক্লোজার খুব জোরে শোরে হচ্ছে -- সবাই জেনে গেছে যে আমাদের মাটির নিচে অনেকগুলা সভ্যতা আছে; ডীপ স্পেসে আমাদের কয়েকটা ব্রেকএওয়ে সিভিলাইজেশন আছে যাদের স্পেস ট্র্যাভেল, টাইম ট্র্যাভেল থেকে শুরু করে আরও অনেক অসাধারন টেকনোলজি আছে। আমরা বুঝে গেছি যে ভ্যাটিকান শুধু যে আমাদের সমস্ত সম্পত্তির মালিক, তাইই নয়, ওরা আমাদের সবার আত্মারও মালিক। আমাদের সবার সোউল ওরা ওউন করে। ভ্যাটিকান সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান নাই বললেই চলে। ভ্যাটিকানের জেজুইটরা হল পৃথিবীর সবথেকে ভয়ংকর শক্তি। এমআই৬, সিআইএ, এনএসএ, মোসাদ, ইত্যাদি এদের তৈরি করা। ধারণা করা হয় যে ব্ল্যাক গু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ঘাঁটিটা ভ্যাটিকানের নিচেই লুকানো। তবে এ ব্যাপারটা খুব বেশী লোক কনফার্ম করেনি এখনও।

আমাদের ডিস্ক্লোজারের দুইটা বড় দিক হল ব্যাংকিং আর ফার্মা -- দুইটাই বিশাল বড় স্ক্যাম। অ্যামেরিকার ফেডারাল রিজার্ভ আর বিস (ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটলমেন্টস) হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুইটা জালিয়াতির জায়গা। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অরগানাইজেশনের কাজ হল গরীব দেশগুলা যেন চিরতরে গরীব থাকে তার ব্যবস্থা করা। আমাকে সবাই জিজ্ঞাসা করে, তাহলে সমাধানটা কি? সমাধানটা আমি বলে দিচ্ছি, প্লিজ একটু খেয়াল করে শোনেনঃ আপনার-আমার জানার পরিধি বাড়াতে হবে ১০০ গুন। আমার উচ্চশিক্ষিত বন্ধুরা যারা প্রতিদিন রাম-শাম-যদু-মধু লিখে বাহবা কুড়াচ্ছেন, এদের একটু নড়ন চড়ন হওয়া বাঞ্ছনীয়। আপনারা কি জানেন যে ক্যান্সার কোন ব্যাধি না, এটা একটা ব্যবসা? এর চিকিৎসাটা লুকায়ে রাখা হয়েছে যাতে ব্যবসাটা রমরমা চলে। শুধু ক্যান্সার না, প্রত্যেকটা রোগের ক্ষেত্রেই এই চালাকিটা করা হচ্ছে। ওষুধ খেয়ে কোন রোগই আর সারে না। হাল্কা প্রশমিত হয়। যতক্ষণ ওষুধ খাবেন, ঠিক ততক্ষন ভাল থাকবেন। আর সঠিক চিকিৎসা পেতে চাইলে বিদেশে যেয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হবে। কাজেই, সবকিছুর সমাধান হল গিয়ে জনগণকে শিক্ষিত করা। জনগণের বুঝতে হবে যে ড্রেকোদের মত কিছু ভয়ংকর চিড়িয়া গোপনে আমাদের সাথে ফাইজলামি করে যাচ্ছে -- আর আমরা এতই বলদ যে ব্যাপারটা বুঝতেই পারছিনা। কেউ বুঝাতে আসলে হেঁসে গড়াগড়ি দিয়ে তাদেরকে পচানি দিয়ে থামায়ে দিচ্ছি। এই অবস্থা চলতে থাকলে কোন সমাধান পাওয়া যাবে না।

সমাধান হল, আমাদের সাংবাদিক আর রিপোর্টারদের অন্য গ্রহের প্রাণীদের দিকে ফোকাস করা। অন্য গ্রহের প্রাণীরা কেন পৃথিবীতে এসে আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে, এটা বোঝা খুব জরুরি। ওদের কি খেয়েদেয়ে কোন কাজ নাই? ওরা কি চায় আমাদের কাছে? কি বলতে চায়? ব্যাপারটা কি? ইন্ডিগোরা তো স্পষ্ট বলছে আমাদের যে ওরা অন্য স্টারসিস্টেম থেকে এসেছে আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য। কি সাহায্য? কেন আমাদের ওদের সাহায্য লাগবে? আমাদের কি সমস্যা যে অন্য গ্রহের প্রাণীর সাহায্য লাগবে? এই প্রশ্নগুলা কে করবে? শুধু আমেরিকানরা? আর আমরা সকাল বিকাল শাহ্রুখ আর সালমানের নাচ দেখে যাবো? কেন আমরা এরকম বলদের মত আচরণ করবো? কেন নির্ঝর একটা ভাল খবর দিলে ৫টা সেলফি দেয়? ৮টা নায়িকা নিয়ে ফাজলেমি করতে হয় শুধু মানুষের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য? আমাদের আইকিউ এত নিচে কেমনে নামলো? কেন আমরা ইংরাজিতে একটা আর্টিকেল পড়তে পারিনা? কেন আমাদের সবার কথাবার্তা বালখিল্য ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের মত? তাহলে এত লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রাইভেট ইউনিতে পড়ে কি লাভ? আমাদের বুদ্ধি আর চিন্তার যদি কোন সম্প্রসার না ঘটবে?

আমাদের প্রশ্ন করা শিখতে হবে। কোন রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সাংসদ, বা পুলিশ দেখলে আমরা ভয়ে আর বিনয়ে এত গদগদ হয়ে যাই কেন? বাংলাদেশে প্রত্যেকটা জিনিষের দাম অ্যামেরিকার থেকে বেশী। কেন? কারণ র-আওামি সরকার একটা অপদার্থ চোরা সরকার। হাসিনা বাহিনি দেশে রাস্তাঘাট বানাতে যে পরিমাণ টাকা চুরি করতেছে, সেটা রাস্তা বানানোর খরচের দশগুন -- কিন্তু দোষী হবে কে? দোষী হব আমি, আবার কে? কারণ ওই যে, লীগের বিরুদ্ধে কথা বলসি! দেশের লোকের এমন একটা ভাব যে লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার সোল এজেন্ট যেন শুধু বিএনপি। কেন রে ভাই? আমি আপনি কি সব তেলাপোকা?

সল্যুশনটা আবার বলিঃ সল্যুশনটা এখনও পাওয়া যায়নি। তার কারণ হল, আপানারা কেউ সেটা খুঁজছেন না। আপনারা ভাবছেন অন্য গ্রহের প্রাণী এসে সল্যুশনটা আমাদেরকে চামচ দিয়ে খাওায়ে দিয়ে যাবে। আমরা প্রত্যেকে গর্দভের মত আচরণ করছি আর একজন আরেকজনকে দোষ দিয়ে যাচ্ছি। নিজেদেরকে আমরা অতিরিক্ত শক্তিহীন আর বুদ্ধিহীন ভাবি। সবাইকে দেখি কেমন যেন মরা। আরেকদল আছে বিনা কাজে সেলফি মেরেই খুশি। এই দুই দলই আবাল। ফেসবুকে বাল-ছাল মিমি আর ওয়াইজ কোট মারা বন্ধ করেন প্লিজ। একটু পড়াশুনা করেন। একটু চিন্তা করেন। একটু বুঝার চেষ্টা করেন কার কথাটা দামী, আর কে ঘোড়ারডিম।  ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment