Friday, October 9, 2015

draco part 10 (in bengali)

ড্রেকো ১০

রাজীবদের সাথে বেইলিতে অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম। ও আমার গুটিকয় মানুষের একজন যারা আমার লেখা নিয়ে ভালমন্দ কিছু বলে। ওর মতে রাজনীতিতে আমার বোঝার কিছু গ্যাপ আছে; যে ওই গ্যাপটা দেখতে পায়, তার কাছে মনে হবে যে, যে লোকের এইখানে বোঝার মধ্যে ঘাপলা আছে, তার ওই ইটি-ইউফো বিষয়েও ঘাপলা থাকবে।  ও আমাকে বোঝাতে চাইল যে শুধু আওয়ামীলীগ না, অন্যান্য দল্গুলাতেও অনেক ঝামেলা আর দুর্নীতি আছে। তো আমি আর ওকে কিছু বলিনি, কিন্তু এই ব্যাপারটা তো বলাই বাহুল্য। এইটুক না বোঝার মত বলদ মনে হয় আমাকে? চিন্তার বিষয়। এখানে বলে রাখি, আমার আম্মা গত কয়েক বছর নিয়মিত তৃতীয় মাত্রা দেখে আসছে এবং সে কট্টর বিএনপি। সে বাংলাদেশের কোন পক্ষ কোন বিষয়ে কি যুক্তি দেয় সব জানে। আমি অবশ্য এগুলা নিয়ে আম্মার সাথে আলাপ করিনা। আমার চোখে এই টকশোগুলা থোড় বড়ি খাঁড়া মগজ ধোলাই মাত্র। এগুলা দেখে আগামি ১০০ বছরেও কারও কোন উন্নতি হবে না। শুধু দেশের মানুষকে অবান্তর কথার রাজ্যে ডুবায়ে রাখার একটা ফাঁদ। তো আমি যুদ্ধাপরাধী আর রাজাকারদের নিয়ে কিছু নিরেট অজ্ঞ মন্তব্য করতে চাই যা শুনলে কিছু লোকের মাথায় আগুন ধরে যাবে। আর এই লোকগুলার উদ্দেশ্যেই আমার এই মন্তব্য। আমার পরিচিতজনদের মধ্যে কারও কারও আব্বা বা খুব কাছের মানুষ যুদ্ধের সময়ে মারা গেছে, এবং এদের কারও কারও ধারণা যে এই হত্যার জন্য দায়ী হল গিয়ে রাজাকাররা। এই মানুষগুলা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়টাকে মনে প্রানে সাপোর্ট দেয় -- যে কারণে এটা যে একটা র-আওামিলীগ সাইঅপ্স, এটা বুঝতে পারেনা। কিন্তু আমার পয়েন্টটা আরেক জায়গায় -- সেটা হল, পুরা রাজাকার বিষয়টাই একটা র সাইঅপ্স। কিছু কিছু লোক ওই যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানকে সাপোর্ট দিয়েছিল, এবং এই তাঁবেদারি করতে গিয়ে এরা হয়তবা কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের ধরায়েও দিয়েছিল। এখানে একটা বিষয়ে মানুষের পরিস্কার থাকা উচিৎ যে মুজিব বারবার বলে গেছে সেই সময়ে যে সে অটোনমি চায়, কিন্তু সেপারেট স্টেট চায় না। ইউটিউবে ভিডিও আছে যেখানে মুজিবকে স্পষ্টভাবে এই কথা বলতে দেখা যায়। তাহলে সেপারেট স্টেট কে চেয়েছিল তা বলাই বাহুল্যঃ নেমলি, ইন্দিরা গান্ধী। বাংলাদেশের সাধারন মানুষের আসলে সভ্রেইন স্টেট চাওয়ার মত মাল মাথায় সেই সময় ছিল না। যেটা ছিল, সেটা হল বুক ভর্তি দুঃখ আর হাহাকার কারণ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ছিবড়া করে যাওয়া বিভক্ত ভারতবর্ষে ইন্দিরাই ছিল একমাত্র গোবরে পদ্মফুল যার মাথা ড্রেকোদের ক্ষুরধার বুদ্ধির সাথে পাল্লা দিতে পারসিল। এখানে বলা বাহুল্য যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটা ড্রেকো অরগানাইজেশন যারা এখন বিল্ডারবারগার, সিএফআর, ট্রাইল্যাটারাল কমিশন, কমিটি অফ ৩০০, ইত্যাদি নামে পরিচিত। তবে ইন্দিরাকে পর্যবেক্ষণ করলে মনে হয় ওও ড্রেকো রক্ত। এ ব্যাপারে আরও রিসার্চ করলে বোঝা যাবে এটা ঠিক কিনা।

পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স সেই সময় রয়ের কাছে ছিল ছেলের হাতের মোয়া। ১৩ দিনে আমাদের স্বাধীনতা এনে দেয়ার মত ফীট কিন্তু একমাত্র ড্রেকোদের পক্ষেই সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষ ড্রেকোদের সম্পর্কে কিছুই জানেনা দেখে, খুব গবেট লেভেলে সবকিছু চিন্তা করে, আর রয়ের ঘাগু জটিল রাজনৈতিক প্যাঁচের পও ধরতে পারেনা ইভেন আজকের দুনিয়াতেও! আজকেও বাংলাদেশের ৯৯% মানুষের ধারণা যে ব্লগার হত্যাগুলা করছে আমাদের মৌলবাদীরা -- কারণ ড্রেকো ফলসফ্ল্যাগ আর সাইঅপ্স কি জিনিষ, তা মনে হয় আমার আগে কেউ বাংলাতে আজ পর্যন্ত লেখেনি। অ্যাটলিস্ট আমি দেখিনি। আমি অবশ্য দেশের মগজ ধোলাই মিডিয়া পড়িনা। কেউ এ বিষয়ে লিখে থাকলে তাকে কুদোস জানাই। যাইহোক, রাজাকার ইস্যুটা আমার মতে একটা র সাইঅপ্স -- ঠিক যেভাবে মোসাদ-সিআইএ মিলে আইসিস, তালেবান, আল কায়েদা, আন্সারুল্লা ইত্যাদি বানাইসে, রাজাকার ইস্যুটাও রয়ের ম্যানুফ্যাকচার করা। আমি আগেই বলসি যে আমি একটা নিরেট অজ্ঞ মন্তব্য করবো, আর এটাই সেটা। আমি চাই মানুষ ব্যাপারটা চিন্তা করে দেখুক। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী হত্যা করে পাকিস্তানের তো কোন লাভ নাই, কিন্তু রয়ের ১০০% লাভ আছে। এখনও তো বাংলাদেশ রই চালাচ্ছে, আইএসআই নয়। কাজেই আমাদের দেশে যদি কোন সত্যিকার মাথা থেকে থাকে যারা আওয়ামীলীগের কাছে বিক্রি হয়ে যায়নি, তাদের উচিৎ আবার গোড়া থেকে শুরু করা। আর আওয়ামীলীগের মত চরম বেয়াইনি একটা দল, যারা ভুয়া ভোটে গদিতে চড়সে, ওদের তো কোন লেজিটিমেসি শুরু থেকেই নাই। ওরা মাইরের উপরে ওষুধ নাই বলে শুরু করসে বিএনপি প্যাঁদানো। এখন বিএনপি কই? আমি যে ওদের বিরুদ্ধে কিছু বলব, ওরা থাকলে না বলব। আর আওয়ামীলীগের মত একটা ভয়াবহ দুর্নীতিবাজ রেজিমের ছায়াতলে যে কারও সুবিচার হবে না, এটা বুঝতে কি লাগে?

এটা বলাই বাহুল্য যে আমার "এক্সপারটিজ" হল এক্সোপলিটিক্স, বাংলাদেশের রাজনীতি নয়। কিন্তু একটার সাথে যে আরেকটা চরমভাবে লিঙ্কড -- এই বুদ্ধিটা বাঙালির এখনও গজায়নি -- আর এটা গজায়ে দেয়াটাই আমার বর্তমান মিশন। পৃথিবীর মানুষের মধ্যে মিশে আছে কিছু মানুষরূপী চিজ -- ব্যাপারটা শুনতে হাস্যকর হয়ত বা, কিন্তু এই চিজেরা আমাদের যে ক্ষতি করে যাচ্ছে, সেটা হৃদয়বিদারক। কাজেই আপনাদের যার যার ইগো সামাল দিয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করা বাঞ্ছনীয়।

No comments:

Post a Comment