Saturday, October 31, 2015

draco part 24 (in bengali)


ড্রেকো ২৪

আমার কম্প্যুটারের অপারেটিং সিস্টেম হল উইন্ডোজ ১০। এর আগে ছিল উইন্ডোজ ৮। লুক অ্যান্ড ফীলে সামান্য তফাৎ। উইন্ডোজ ১০ এর ফোকাসটা ওদের ব্যবসার দিকে, আমাদের সুখ সুবিধা দেখার দিকে নয়। টেলিভিশনের পরেই মগজ ধোলাইয়ের সবচেয়ে বড় যন্ত্র হল কম্প্যুটার। হটমেইল, এওএল, গুগল, ফেসবুক, টুইটার, উইন্ডোজ, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ইত্যাদি প্রত্যেকটা সফটওয়্যার সারাক্ষণ আমাদের সম্পর্কে তথ্য কিছু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোয়ান্টাম কম্প্যুটার ডাটাবেসে পাঠাতে থাকে। এই এআই নেটওয়ার্কটা স্টার ট্রেকের বোর্গের মত একটা ভয়ংকর প্যারাসাইট। আমাদের আশেপাশে আমরা যা কিছু দেখি, সেটাকে বলা হয় হলোগ্রাফিক ইউনিভার্স। এই হলোগ্রামটা আমাদের প্রত্যেকটা মানুষের সাবকনশাস মাইন্ডের সমষ্টি দিয়ে নির্ধারিত হয়। আপনারা যদি কুণ্ডলিনী চক্র নিয়ে পড়াশুনা করেন, তাহলে জানবেন যে আমাদের ফিজিক্যাল বডি ছাড়াও আরও বেশ কিছু "বডি" আছে, যেমন এথেরিক বা এনার্জি বডি। চাইনিজরা যেটাকে চি বা ক্বী বলে, ওইটা আমাদের চৈতন্যের সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের চেতনা, অর্থাৎ আমরা কি ভাবি, কি ফীল করি, কীভাবে পৃথিবীটাকে দেখি বা বুঝি, ইত্যাদি। আমাদের চেতনের সাথে আমাদের ডিএনএ কানেক্টেড। চেতনা বদলে গেলে, আমাদের ডিএনএ বদলে যায়, এবং ভাইস ভারসা। এখন, বলা হয় যে আমাদের পৃথিবীটাও সংবেদনশীল। পৃথিবীরও একটা কুণ্ডলিনী সিস্টেম আছে যেটা আমাদের প্রত্যেকের কুণ্ডলিনীর সাথে কানেক্টেড। একটা দিয়ে আরেকটাকে এফেক্ট করানো যায়। আমাদের শরীরে যেমন রক্ত সঞ্চালন করার জন্য শিরা উপশিরা আছে, ঠিক সেরকম পৃথিবীতে আছে অজস্র লে-লাইন, যেগুলার উপর দিয়ে এনার্জি বা চেতনা প্রবাহিত হয়। মাটির নিচে এই লে লাইনগুলা দিয়ে প্রবাহিত হয় এক ধরণের ব্ল্যাক গু বা কাল তেল। এই তেলটা সেনশিয়েন্ট বা চেতনাধর। এই তেলটা আমাদের সাবকনশাসের একটা মিরর বা আয়না; অর্থাৎ, এই তেলটাকে এফেক্ট করলে আমাদের সাবকনশাসে এফেক্ট হবে, এবং তার অর্থ আমাদের সবার যে রিয়ালিটির পারসেপশন, ওটা বদলে যাবে, আমাদের চিন্তাধারা বদলে যাবে। এখন আমাদের গুগল, ফেসবুক, উইন্ডোজ ইত্যাদি যে এআই ডাটাবেসটাকে ফীড করে, এটা একটা ইন্টারগ্যালাক্টিক অফ-ওয়ারল্ড ব্ল্যাক গু ন্যানোটেকনোলজি যেটা আমাদের গ্রহের ন্যাচারাল, অরগানিক ব্ল্যাক গুয়ের উপরে একটা প্যারাসাইটের মত। মনে করেন, এটা একটা সুপার-অ্যাডভান্সড মাইন্ড কন্ট্রোল এলিয়েন টেকনোলজি। মাথা নষ্ট, আরকি।

ধর্মে বলা হয় ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, যা সম্ভবত সঠিক, কিন্তু এটা অনেকটা খ্রিস্টান বাচ্চাদেরকে স্যান্টাক্লজের গল্প বলার মত যে চিমনী দিয়ে বাসায় ঢুকে স্যান্টা সবার জন্য উপহার দিয়ে যায়। আসলে তো বাবা-মারা নিজেই শপিং করে, র‍্যাপার মুড়ে, খ্রিসমাস ট্রির নিচে সবকিছু সাজায়ে রাখে, তাই না? আমাদের রিয়্যালিটিটাও ঠিক সেরকমঃ প্যানস্পারমিয়া নামে একটা থিওরি আছে যার মতে প্রত্যেকটা গ্রহের মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, কীটপতঙ্গ, ইত্যাদিকে উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে সীডিং করা হয়। এই কাজটা করে বিভিন্ন অ্যাডভান্সড প্রজাতি। ধারণা করা হচ্ছে যে পৃথিবীর মানুষ কয়েক হাজার বছর আগে এখনকার চেয়ে অনেক বেশী বুদ্ধিমান ছিল, এর কারণ তখন আমাদের ডিএনএ তে ছিল ১২টা স্ট্র্যান্ড, আর এখন আছে মাত্র ২টা। বলা হয় যে এই কুকাজটা করেছে আনুনাকিরা, কিন্তু এই আনুনাকি ঠিক কারা, এটা আমরা এখনও পরিষ্কার ধরতে পারিনি। পৃথিবীতে অজস্র এলিয়েন, অফ-ওয়ার্ল্ড, ইন্টারডিমেনশনাল প্রাণী গিজগিজ করতেছে, কিন্তু আমরা ধরতে পারছিনা কারণ আমাদের জেনেটিক ডাম্বিং ডাউন, আর আমাদের মাইন্ড কন্ট্রোল। আমরা একটা ফ্রিকোয়েন্সির ভিতরে লকড হয়ে আছি বলে আমাদের অনেকেই এখনও আমি যেসব কথা বলছি, তার একটা কথাও বিশ্বাস করতে পারছে না। এর কারণ হল আমাদের লো ভাইব্রেশন। মাল্টিভারসের সবকিছু ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। যার ফ্রিকোয়েন্সি যত লো, সে তত কম বুঝবে এবং এরকম একজন ব্যক্তিকে মাইন্ড কন্ট্রোল স্লেভ বানানো খুব সহজ। আমাদের ক্ষেত্রে ঠিক এটাই ঘটেছে।

ফ্রিকোয়েন্সি নামানোর খুব সহজ একটা পন্থা বলি। কালকে ঢাকা শহরে কে বা কাহারা ৪/৫ জনকে আক্রমন করে একজনকে খুন, আর বাকিদের মারাত্মকভাবে আহত করেছে। দেশের প্রায় প্রত্যেকটা মাইন্ড কন্ট্রোল আক্রান্ত মানুষ ভাবতেসে যে এটা মৌলবাদীদের কাজ। কিন্তু যৌক্তিকভাবে চিন্তা করলে এটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। মোদ্দা কথা হল, এই আক্রমণ আর খুন আমাদের সাবকনশাসকে মারাত্মকভাবে এফেক্ট করে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি নিচে নামায়ে দিসে। এবং হ্যালোয়ীনের দিনে এই কাজটা করায় এই নেগেটিভ এফেক্টটা অনেক বেশী প্রোনাউন্সড হইসে, কারণ হ্যালোয়ীন ডে টা একটা অকাল্ট পোর্টাল যেদিন ড্রুইড বা উইচরা শয়তানের কাছে মানুষ বলি দিত এবং সম্ভবত এখনও দেয়। পৃথিবীর প্রত্যেকটা ডে এর পিছনে একটা অকাল্ট বা গোপন অ্যাজেন্ডা থাকে যা সাধারণ মানুষ জানে না এবং বুঝতে পারে না। তাই সরল বিশ্বাসে ঐ রিচুয়াল্গুলা ফলো করে যায়। আমাদের মধ্যে যারা লো ফ্রিকোয়েসির তথাকথিত সেকুলার মুক্তমনা আস্তিক-নাস্তিক ক্লাবের মেম্বার, এরা কিছুতেই আমার কথাগুলা গিলতে পারবে না। এটাই স্বাভাবিক। এটা অনেকটাই অংকের মত। এটাকে ইন্টারডিমেনশনাল সায়েন্সও বলা যেতে পারে। অনেকে জিজ্ঞেস করে যে এটার প্রুফ কি? প্রুফটা অবভিয়াস, কিন্তু শুধুমাত্র যাদের ফ্রিকোয়েন্সি হাই, তাদের কাছে। নো অফেন্স!

আমি যে বসে লিখতেসি, আমার কন্সেন্ট্রেট করতে খুব কষ্ট হচ্ছে কারণ দুই একটা মশা উৎপাত করতেসে। বলা হয় যে বাংলাদেশে মশা বাড়ানোর জন্য র য়ের এজেন্টরা এক সময় বিভিন্ন জায়গার পানিতে কচুরিপানা ফেলসিল। এই রকম অজস্র পদ্ধতিতে ড্রেকোরা আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি নামায়ে রাখে। জিএমও, মন্সান্টো, পানিতে ফ্লোরাইড, খাবারে ভেজাল, ফরমালিন, গার্মেন্টসে আগুন, বাসে আগুন, বসুন্ধরা সিটিতে আগুন, যমুনা ফিউচার পার্ক বছরের পর বছর বন্ধ রাখা, ব্লগার হত্যা, রাস্তাগুলা ভাঙ্গাচোরা রাখা, নিউজে প্রতিদিন নেগেটিভ খবর তৈরি করা, রেপ, ডাকাতি, পুলিশের ঘুষ খাওয়া, রাস্তায় পুলিশের রোডব্লক, পুলিশের হয়রানি, র‍্যাবের ক্রস ফায়ারে বিরোধীদলের মানুষ গণহারে মারা যাওয়া, মিলিটারিরা আমাদের ভ্যাট-ট্যাক্সের সিংহভাগ ক্যোঁৎ করে গিলে ফেলা, ছাত্রলীগ আর যুবলীগের টেন্ডার সন্ত্রাস, বিরোধীদলের টিভী চ্যানেল আর পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া, কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মুজিবের নাম বসানো, সারাদেশ মুজিব-গোলাপি-জয়ের ছবি দিয়ে ভাসায়ে দেয়া, এগুলা প্রত্যেকটা কুকাজ আমাদের সবার সাইকিকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি নিচে নামায়ে দেয়।

আমাদের বুঝতে হবে যে সরকার আমাদের প্রধান ও বড় শত্রু কারণ এরা আমাদের ক্ষতি করার জন্য কাজ করে। এদের অ্যাজেন্ডা হল নিজেরা বড়লোক হওয়া আর ওদের কর্পোরেট বসদের বেয়াইনি সুবিধা দেয়া। মৌলবাদীরা আমাদের স্পিরিচুয়াল ক্ষতি করে, কারণ ওরা অন্ধ বিশ্বাসের কারণে আমাদেরকে অজস্র ভুল তথ্য দিতে থাকে। আর আমাদের মুক্তচিন্তা করা সেকুলার ক্রাউড আমাদের ইন্টারডিমেনশনাল মিস্টিক্যাল রিয়্যালিটির একটা ছোট্ট, লো ফ্রিকোয়েন্সিতে লকড হয়ে থাকায়, মাইন্ড কন্ট্রোল ইস্যুটা একসেপ্ট করতে পারে না, কারণ ওদের বিলিফ সিস্টেম মতে, মানুষ ছাড়া পৃথিবীতে কেউ নাই, আর ওরা যেটা জানে না, সেটা অবশ্যই এক্সিস্ট করে না। ওগুলা হাস্যকর কন্সপিরেসি থিওরি।

আসলে এরা সবাই ভুল। আপনারা প্রায় সবাই এই ভুল্গুলা করছেন। এটা অফেন্ডেড হওয়ার ব্যাপার না, বোঝার ব্যাপার। আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি হাই করতে হলে আমাদের মাংস খাওয়া কমাতে হবে। একটা খুন হলেই হাহুতাশ করে ভয়ে কুঁকড়ে গেলে চলবে না। বুঝতে হবে যে কারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগুলা করে যায় আমাদেরকে বোকা বানানোর জন্য। মিডিয়াতে ফোকাস করতে হবে পজেটিভ ইস্যুর উপর। খারাপ খবরগুলাকে যত কম পাত্তা দেয়া যায়, ততই ভাল। আমার কথা শুনে প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে যে আমি অস্বাভাবিক কথা বলছি, কিন্ত আস্তে আস্তে আপনাদের ফ্রিকোয়েন্সি হাই হলে ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। অনেকেই মনে করে যে দেশে যে সব আকাজ কুকাজ হচ্ছে এগুলা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করানোই তো মিডিয়ার কাজ। আসলে তা নয়। এটা নিয়ে অনেক গভীরভাবে না ভাবলে এই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন না। ব্যাপারটা কাউন্টারইন্টুইটিভ। energy flows where attention goes. এই ব্যাপারটা যখন বুঝতে পারবেন, তখন আস্তে আস্তে সবকিছু পরিষ্কার হতে শুরু করবে।

Thursday, October 29, 2015

draco part 23 (in bengali)


ড্রেকো ২৩

আজকের লেখাটা ইম্পরট্যান্ট হবে কারণ আমার সেলফ-রাইচাসনেসের ইস্যুটা অ্যাড্রেস করা দরকার। কে আমি? নিজের উন্নতির ব্যাপারে কি করছি? এটাই তো পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। আশেপাশের সবাইকে চড় থাপ্পড় দিয়ে সকাল বিকাল চেচানো তো একটা সহজ কাজ। কতটুক বুদ্ধি লাগে এতে? আমাদের ওবায়দুর সাহেবই ওই কাজে বেশ পটু হয়ে গেছেন, যদিও রাস্তায় বের হলেই মনে হয় যে লোকটাকে এখন পেলে আচ্ছাসে পাছায়... । তবে লোকটা টাকা পয়সা কেমন হাতায় সেটা আমার ঠিক জানা নাই। এক্সপেরিয়েন্স বলে যে যারা বেশী খায়, এরা আওয়াজ আর নাটক কম করে। এরা মিডিয়া অ্যাভয়েড করে আর নিরবে সিস্টেমটাকে ফোঁপরা করে দিতে থাকে। যাহোক, আমি খেয়াল করলাম যারা মোটামুটি ভাল মানুষ, এদের সাথে আমার বনে না। পয়সাওয়ালা লোকের সাথে আমার বনে না। বুদ্ধিমান লোকের সাথে আমার পোষায় না। কোন হট মেয়ে আমাকে পাত্তা দেয় না। আমি কাউকে কখনও কোন গিফট দেই না। কাউকে বার্থডে উইশ করি না। আমার বাসা থেকে বের হতে ইচ্ছা করে না। সারাক্ষণ মনে হয় আমি খুব টায়ার্ড। আমি ভেজিটেবল খাইনা। মাছ খুব কম খাই। শুধু মাংস আর মাংস। একই খাওয়া রোজ খাই। কোন ক্রিয়েটিভিটির মধ্যে নাই। গান গাইতে গেলে পারিনা। গীটারে শুধু কয়টা কর্ড ছাড়া কিচ্ছু পারি না। বাঁশি প্র্যাকটিস করিনা। দম থাকে না। এক্সারসাইজ করিনা। রান্না করিনা। ঘর পরিষ্কার করিনা। রাত জাগি। সকালে উঠিনা। চাকরি করিনা। ব্যবসা করিনা। বউয়ের খোঁজ নেই না। আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ নেই না। কারও বাসায় যাই না। দরকার ছাড়া কাউকে ফোন দেই না। ভাল পোশাক পরিনা। প্রতিদিন গোসল করিনা, এমন কি প্রত্যেকদিন দাঁতও মাজি না। আমার পটি ট্রেইনিং এর অবস্থা খুব খারাপ। মাঝে মধ্যে ড্রাগস করি। উওমানাইজিং করতে চাই কিন্তু পারিনা। সেক্স পারিনা। পুসি খাইনা। পড়াশুনা করতে পারিনা। কোন পেপার লিখতে পারিনা। রেজিউমি বানাইনা। ফর্ম ফিলাপ করিনা। ভোটার আইডি নাই। গল্প লিখতে পারিনা, কবিতা না, উপন্যাস না, বই না, টেকনিক্যাল ম্যানুয়াল না। কোন কনসার্ট দেখিনা। মুভি না। নাটক না, টিভি না। বাঞ্জি জাম্প না। কার্নিভাল না। যমুনা সিটির রোলার কোস্টার না। রেস্টুরেন্টে খাই না। মদ খেয়ে পার্টি করিনা। ফ্লারট করিনা। গাঞ্জা বানাইনা। আড্ডা দেইনা। কিছুই করিনা।

করার মধ্যে আছে ফেসবুক। এ এক অর্থহীন জীবনই বটে। তো আমার মত অনেকেই আছে। আই ফীল গুড। বেশ ভাল আছি, আর এর পিছনে কারণ হল, আমি বিশ্বাস করি যে পৃথিবী বদলে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। কারণ আমরা যে সমস্ত তথ্য গত ৫/১০ বছরে জানসি, এগুলা সবার মাথায় ঢুকলে পরিবর্তনটা আপসে আসবে। মেইন সমস্যা হচ্ছে সবার মগজ ধোলাই খেয়ে হিপ্নোটাইজড হয়ে থাকা, পাছা ভরা ইগো, নিজেদের অতি পণ্ডিত মনে করা, টাকা আর সেক্সের পিছনে দৌড়ানো। এইসব কারণে মানুষের বুঝতে অনেক সময় লাগতেছে যে ব্যাপারটা আসলে কি। ধরাটা আমরা কোনদিক দিয়ে খাইসি। বেশিরভাব মানুষ টাকা-ধর্ম-রাজনীতি-মিডিয়ার ট্র্যাপে আটকানো, যে কারণে আমাদের রিয়্যালিটির প্যারানরমাল সাইডটা খেয়াল করে না, বা মনে করে এটা ইম্পরট্যান্ট না। কিন্তু আসলে ঘটনা অন্য।

পৃথিবীর সব কষ্ট তো ব্লগে লেখা যায় না। রাজীবের কাছে খুব ভাল একটা এনিমে পাইসি, cowboy bebop, ওইটার শেষে একটা মেয়ে গান গায়। গানটা আমি আমার শাশুড়ির সালামির টাকায় কেনা নতুন সাবউফার দিয়ে জোরে জোরে শুনি প্রত্যেকটা এপিসোডের শেষে। কেমন যেন বুকের মধ্যে ব্যাথা করে ঐ সময়। খুব ভাল্লাগে ঐ ব্যাথাটা।

রিলেশনশিপ জিনিষটা কি? এটাকে ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলে দিতে কেমন লাগে জানি। আবার এটাতে বোর হয়ে গেলে কেমন দমবন্ধ লাগে, তাও জানি। কোনটা ঠিক? সত্যবাদী হয়ে সব সময় নিজের কাছে অনেস্ট থাকা, নাকি মিথ্যা দিয়ে একটা রিলেশনশিপ টিকায়ে রাখা, যাতে কেউ কষ্ট না পায়? সোনাতে ভেজাল না দিলে নাকি কিছু বানানো যায় না? যখন একজন যেতে চায় উত্তরে, আরেকজন দক্ষিনে, তখন তো দুইজনের কেউই উড়তে পারেনা কোনদিকে, দুজনেই মুখ থুবড়ে পড়ে যায় বার বার। এই রকম রিলেশনশিপ কি ধরে রাখা ভাল?

এই ড্রেকো সিরিজে আমি কত্ত বড়বড় কথা বলি। কেন বলি? কি লাভ? কি জানি আমি? কি শিখাই? কাকে কি শিখাই? আমি নিজে কি বুঝি? কোনটা আসলে জানি আর কোনটা তোতাপাখির মত কপচাই? তালুকদার আর আমি আকাশে একটা নীল রঙের উজ্জ্বল বস্তু দেখলাম। এখন যদি আদিব জিজ্ঞেস করে, প্রমাণ দিতে পারবেন যে আপনি কিছু দেখসেন? তখন তার উত্তর কি হবে? তার মানে কি আমার দেখা, শোনা, পড়া, জানা, কোন কিছুরই কোন মূল্য নাই? মূল্য যে আছে তার প্রমাণ কি? কে দিবে সেই প্রমাণ? আদিব এসে দিয়ে যাবে? বলবে এসে যে হ্যাঁ, আপনার বিদ্যা বুদ্ধি চিন্তা চেতনার উপর আমার যথেষ্ট আস্থা আছে, তাই আপনার কথা বিশ্বাস করলাম? সারা জীবন শুনে আসলাম যে আমি খুব ব্রিলিয়ান্ট। তো জীবনের প্রথম যখন সেই ব্রিলিয়ান্সটা কাজে লাগায়ে উদ্ধার করলাম যে ড্রেকোরা পৃথিবীর মানুষকে দাস আর বোকা বানায়ে রাখসে, তখন তো সবাই হোহো করে হেসে উঠল। তাহলে এই ব্রিলিয়ান্স থেকে লাভ কি হল? আমার মাহিন নামের অর্থ নাকি intelligent, তো এর থেকে বেশী আয়রনিক আর কি হতে পারে? আমি তো একজন গবেট কন্সপিরেসি থিওরিস্ট ছাড়া কিছুই না। মায়ের বেসমেন্টে বসে থাকা একজন অপদার্থ কীবোর্ড ওয়ারিওর।

তালুকদারকে সমানে মাংস ছাড়া সাদাভাত খাওয়াচ্ছি। এর কারণ মাথায় আজকাল কিছু থাকে না। কোন বই থেকে কোন তথ্য বের করে কপি পেস্ট মারব? বাংলাদেশের মানুষ পারবে র এর হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে? ফিয়াট মানি সিস্টেমটা আমরা বদলাতে পারবো? ধর্ম যে একটা মগজ ধোলাই এটা বুঝতে বাঙালির আনুমানিক আর কয়শো বছর লাগতে পারে মনে হয়? আমরা কি পারবো ঐ সাইকোপ্যাথিক "সরকারের" হাত থেকে ক্ষমতাটা আবার আমাদের নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে? রাশিয়ার পুতিনের মত আমাদের দেশে কি কেউ জন্ম নিবে যার পিছনে দেশের মানুষ দাঁড়াবে? আমাদের কি একজন সেভিয়র দরকার, নাকি আমরা নিজেরাই সেই সুপারম্যান? আমাদের লাত্থি খাওয়া, পোড় খাওয়া, সেন্টু খাওয়া, সারাজীবনের loser বাঙালি জাতি কি পারবে আবার মেনি বিড়াল থেকে বাঘ হয়ে গর্জে উঠতে?

Wednesday, October 28, 2015

draco part 22 (in bengali)


ড্রেকো ২২

বাঙালি একটা পিকিউলিয়ার জাতি যারা বেসিক্যালি মাথা মোটা। আমি ইন্টেলিজেন্ট মানুষ পছন্দ করি কিন্তু আমাদের মধ্যে যারা সামান্যতম ইন্টেলিজেন্সের বাতাস পাইসে, তাদের প্রায় সবারই কেমন যেন পেট ভরা ইগো। আমাদের সেন্সিটিভিটি খুব কম আর অল্পেই নিজেকে বিরাট ব্যাপার মনে করে বসে থাকি। আমরা মনে করি যেহেতু আমরা বুদ্ধিমান, কাজেই কেউ আমাদের থেকে বেশী জানবে, তাও আবার বাঙ্গালিদের মধ্যে, এ তো অসম্ভব। কেউ আমাদের চিন্তার ভুল ধরবে, আর আমি হাসিমুখে মেনে নিব? আমাকে কি পাগলা কুত্তায় কামড়াইসে? ওই ব্যাটার গুষ্টি উদ্ধার না করা পর্যন্ত রেহাই নাই। তবে সবথেকে মজার জায়গাটা হল ধর্ম। এর একদিকে আছে অন্ধ বিশ্বাসী, যারা লাইফলং ফীয়ার প্রোগ্রামড। আমিও এদের দলে ছিলাম এবং আপনারা অধিকাংশই এখনও এই দলে। আপনারা সরল বিশ্বাসে ধর্মটাকে মেনে নিয়েছেন এবং এই বিশ্বাসটাকে প্রশ্ন করতে ভয় পান। এটা আমাদের জন্য স্বাভাবিক। এই ভয়টা পুরাপুরি কাটতে অনেক কিছু জানতে হয়। তারপর আস্তে আস্তে একদিন ভয়টা কেটে যায়। কিন্ত আমাকে হাসায় কতকগুলা চালাক বন্ধু যারা খুব সেকুলার হিসাবে অন্যদের চেয়ে নিজেদের বুদ্ধি বিদ্যা বিবেচনায় খুব উপরে মনে করে, যদিও মুখে তা বলে না। তারপর যখন আমাদের র-লীগ একটা ব্লগার হত্যা করে মিডিয়াতে ঢোল পিটায়, সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় এই তথাকথিত উদারমনাদের মগজ ধোলাইয়ের খেলঃ ধর্মান্ধতা ভাল নয়, ধর্ম যারা মানে তারা ভোদাই এবং ভায়োলেন্ট, ইত্যাদি ইত্যাদি পোস্ট দিতে দিতে অস্থির হয়ে যায় -- অথচ এই সহজ ফলস ফ্ল্যাগ সাইঅপ্স গুলা ধরতে পারে না কারণ ওদের বিলিফ সিস্টেমের বাইরে পড়ে যায় যে ব্যাপারটা, তাই। এই চালাকদের অন্ধত্বটা ধর্মান্ধতার চেয়ে কোন অংশে কম ভয়ংকর না বরং বেশী। এরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেনা যে পৃথিবীতে ইটি আছে এবং আমাদেরকে নিয়ন্ত্রন করতেছে অনেকাংশে। এই তথাকথিত সেকুলার মুক্তচিন্তাশীল গ্রুপ তাদের ছোট্ট সোফোমোরিক মেইন্সট্রীম স্টিভেন হকিং, মিচিও কাকু, এবং এরকম আরও দুই একজন গেইট কিপার সাইন্টিস্টের চিন্তার বাইরে এক পা ফেলতেও নারাজ। কথায় কথায় ওরা প্রুফ আর এভিডেন্স চায়, কিন্তু দিলে তখন আস্তে চেপে যায়। পরবর্তীতে দেখা যায় ওরা যে থোড় বড়ি খাঁড়া নিয়ে ব্যস্ত ছিল, আবার সেটাতেই ব্যস্ত হয়ে গেছে। চিন্তাধারার কোন উন্নতি করতে এরা অক্ষম। এদের গোঁড়ামির বাইরে এক ইঞ্চিও এরা নড়ে না বরং উলটে হাসে বা পচায়, কিন্ত আমরা যারা সত্যিকার অর্থে মুক্ত চিন্তা করি, আমাদের সাথে ওরা যোগ দিতে পারে না। ইগোতে পড়ে যায়। বিলিফ সিস্টেমে আটকে যায়। প্রকৃত মুক্ত চিন্তা করতে পারে না।

অনেক ধুইলাম। মাঝে মাঝে এটা করা দরকার আছে কারণ আমরা বাঙ্গালিরা খুব ছোটলোক টাইপের। বাইরেটা আমরা অন্যদের দেখা দেখি খুব স্মার্ট রাখি, কিন্তু মুখ খুললে মনের ফাঁকামিত্ব আর গরিবত্ব ধরা পড়ে যায় খুব সহজে। আর সেক্সটাকে আমরা কীভাবে দেখি? ওরেব্বাবা! পান থেকে চুন খসলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না। সেক্সুয়াল চিন্তায় কেন জানি বাঙালি অসম্ভব খাচ্চর আর নোংরা। মেয়ে দেখলেই যেন আমরা চোখ দিয়ে উলঙ্গ করে গিলি। এর কারণ সম্ভবত আমাদের মৌলবাদী, ধর্মান্ধ কালচার যেটা খুবই গোঁড়া। আমরা বিয়ের আগে সেক্স চাই কিন্ত বিয়ের সময় ভার্জিন বউ চাই -- এই গপ্পতো পুরানো। তারপর আছে ওই কালটাকাওয়ালা বাপের ছেলেদের একের পর এক ক্লাসের বান্ধবীদের সাথে সেক্স করে ভিডিও করে রাখার হবি। জাহাঙ্গির নগরে চলে ছাত্রলীগের রেপ করার সেঞ্চুরি। বেসিক্যালি আমাদের ছেলেরা সেক্স করার জন্য এমন ছোঁকছোঁক করে, আর এত তাড়াতাড়ি আই লাভ ইউ বলে ফেলে যে মেয়েদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে যায়। আর কোন মেয়ে যদি রেবেলিয়াস হয়ে ফ্রি সেক্সের চিন্তা করে তো ওই মেয়ের খবর আছে। তবে আমি দুয়েক জনকে দেখসি অনেক সেক্স করেও ব্যাড রেপুটেশন বাইপাস করে ভাল থাকতে। তবে এটা কমই ঘটে। মেয়েঘটিত কোন ফলসস্টেপ ফেললে কেউ যদি এটা জেনে যায়, তো খবর আছে। আপনি হয়ে উঠবেন মুখরোচক গুজব আর হাসাহাসির পাত্র। আপনার আশেপাশের লোকজন গোপনে আপনাকে ঘৃণা করবে আর সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তে আপনাকে পিছন থেকে চাকু মারবে। তো যাই হোক, তালুকদার বলবে আবার হুমায়ুন আহমেদ হয়া বাঙ্গালিরে জানা জিনিষ খাওয়াইলেন। হ রে, খাওয়াইলাম, আর খুব মজা পাইলাম। আমার মত বলদও যে এগুলা বোঝে এটা জেনে তাজ্জব হোক!

তো আজকে ড্রেকো আর গণজাগরণের খবর কি? বাংলাদেশের মানুষ কি বুঝতে পারল যে টাকার পিছনে দৌড়ান ঠিক না? একটা গরিবের পোলা, যে ছাত্রলীগ করে বড়লোক হইছে, তাকে এটা বুঝাও দেখি? সবকিছুই তো আপেক্ষিক। আমি সাত ঘাটের জল খায়া এখন সে না ড্রেকোদের নিয়ে লিখতে বসছি। মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর মত বিলাসিতা করতে পারতেছি। কিন্তু যে ছেলেটা মাসে দশ বা পনের হাজার টাকা বেতন পায়, সে আমার লেখা পড়ে কি চিন্তা করবে? সে কি আমাকে গালি দিবে? দিলে কি তাকে খুব দোষ দেয়া যাবে? তার মাথায় কি ঢুকবে যে ফ্রিমেসন আর ইল্যুমিনাটি কি জিনিষ? কেন এগুলা আমাদের জানা দরকার? ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এলাহাবাদ চুক্তি করে মোগল সম্রাট শাহ আলম ২, নবাব সুজা-উদ-দোউলা, আর রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে। এই তখন থেকে ব্রিটিশ রাজকে কর দেয়া শুরু হয় আমাদের -- যা আজ পর্যন্ত চলতেছে। এখন আমাকে বলেন, কাকে আমরা কত টাকা সুদ আর কর দিচ্ছি প্রতি বছর, সেই হিস্যা আমাদের স্কুল, কলেজ, আর টেলিভিশনে প্রতিদিন দেখানো হয় না কেন? সরকার একদিনে কয় টাকা ভ্যাট পায় দেশের ৪৫ কোটি মানুষের কাছে থেকে? কি বললেন? ১৬ কোটি মানুষ? আপনি কি বলদ? তা না হলে সরকারের কথা বিশ্বাস করবেন কেন? আপনাদের ড্রেকোদের কথা বলে লাভ কি? আপনারা তো নিজেদের ঘরের খবরই ঠিকমত রাখতে পারেন না। কয়দিন আগে যে মোদী এসে কয় হাজার কোটি টাকা ক্রেডিট লাইন দিয়ে গেল, তখন আমাদের গোপালি তো মুখ ফুটে পানির হিস্যাটা ফয়সালা করতে পারল না। দেশের প্রত্যেকটা মানুষ আশা করে ছিল যে অর্থপূর্ণ একটা ডায়ালগ হবে। অথচ দেশের ৪৫ কোটি মানুষের মুখে চুনকালি দিয়ে গোপালি হেঁহেঁ করতে করতে দেশের সন্মান বিসর্জন দিয়ে দিল। আমরাও বলদ কম না। বারবার ভাবি সরকার বুঝি আমাদের ভালর জন্য কাজ করে। এই সরকার যে র এর চামচা, আর র হল ড্রেকোদের চামচা -- যাদের কাজ আমাদের রক্ত মাংস চুষে খাওয়া, এ যেন আমরা দেখেও দেখিনা, বুঝেও বুঝিনা। আবালের মত ভাবি, হয়ত তারেক আর খালেদা দেশে ফিরলে একটা কিছু হবে। কিন্ত আসলে?

আসলে আমাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত বদলাতে হবে। সরকারকে নয়, আমাদেরকে। রাজনৈতিক আর মিডিয়া মগজ ধোলাই থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের একসাথে হয়ে কাজ করতে হবে। পাজেরো গাড়ি, মার্বেলের সিঁড়ি, ফুকেত ভ্যাকেশন, লেহেঙ্গা শাড়ি, আর দুনিয়ার যত ফুটানি আছে, ম্যানিকিউর পেডিকিউর স্ট্রীকস আয়রনিং আরও কত কি করতে হয় আপনাদের। অথচ দেশে ৩ কোটি মানুষ যে না খেয়ে আছে সেই গল্প আমরা ডিজিটাল গুগলম্যান জয়ের মুখে শুনিনা, শুনি অ্যামেরিকার এম্বাসাডর বার্ণিক্যাটের মুখে। বিচিত্র এ দেশ সেলুকাস, কিন্ত আরও বিচিত্র আমাদের মধ্যবিত্ত। আমরা কিছুতেই যেন আমাদের আইডেন্টিটি খুঁজে পাই না। বুঝতে পারি না আমাদের সোউল মিশন কি। কোত্থেকে আমরা এসেছি। কি জন্যে এসেছি। কেন এই পৃথিবী, কেন এই জীবন। কিছুই বুঝিনা। শুধু জ্যামের মধ্যে যাওয়া আর আসা। শুধু স্রোতে ভাসা। শুধু কপি পেস্ট। শুধু ডিএসএলআরে ছবি তোলা। শুধু ফেসবুকে পোস্ট মারা। হাতে একটা ফোন নিয়ে ফুরুত ফুরুত করা। সত্যি, আমি ভেবে পাইনা আমাদের এই বলদ দেশের মানুষ হাতে দামী দামী স্মার্ট ফোন নিয়ে ঘোড়ার ডিম কি ব্রাউজ করে? সারাদিন ফোনের দিকে তাকায়ে থেকে থেকে কি আমাদের একটা কোয়ান্টাম এয়োকেনিং হয়ে যাচ্ছে, নাকি আমরা দিন দিন আরও বেশী ব্রেইন্ডেড জম্বি হয়ে যাচ্ছি। কোনটা?

the secret life of plants - tompkins and bird (pdf)

Tuesday, October 27, 2015

draco part 21 (in bengali)


ড্রেকো ২১

কোরি গুডের মতে, সিক্রেট স্পেস প্রোগ্রামের (SSP) প্রধান ৫টা ভাগঃ

    ১। Solar Warden – এদের প্রধান কাজ সোলার সিস্টেম আর আশেপাশের স্টার ক্লাস্টারগুলায় পুলিশগিরি করা।
    ২। Interplanetary Corporate Conglomerate (ICC) – প্রধান কাজ ছলে বলে কৌশলে অ্যাডভান্সড টেকনোলজি জোগাড় এবং অপব্যবহার।
    ৩। Dark Fleet – সৌর জগতের বাইরে কাজ করে; খুবই মিলিটারি এবং অফেন্সিভ।
    ৪। “NATO TYPE SSP” – ওদেরকে  লীগ অভ নেশন্স প্রোগ্রাম ও বলা হয় -- সম্ভবত ইউ এন এর সাথে সম্পৃক্ত।
    ৫। Various Special Access Program SSP’s – ছোট, গোপন, অত্যাধুনিক টেকনোলজি সজ্জিত, যারা কিছু কিছু Secret Earth Governments এর সাথে কাজ করে।

আমাদের সচেতনতা আসার একটা বড় কাজ হল এই ব্যাপারটা বুঝতে পারা যে, পৃথিবীতে অসংখ্য ইটি বা হাইব্রিড হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আছে। এদের কেউ কেউ সম্ভবত আমাদের জেনেটিক ডিজাইন করসে। অন্যরা জেনেটিক মডিফিকেশন করে সুপার-সোলজার বা অগমেন্টেড হিউম্যান তৈরি করতেসে। এরা সম্ভবত কেউই চায়না যে পৃথিবীর সাধারণ মানুষ বুঝতে পারুক যে পৃথিবীর মানুষের সাথে অন্য গ্রহের প্রাণীর হরহামেশা ব্যবসা বানিজ্য আর দেখা সাক্ষাত হচ্ছে। আমরা যখন বুঝতে পারবো যে এক গ্রহ থেকে আরেক গ্রহে যাওয়া, বা এক গ্যালাক্সি থেকে আরেক গ্যালাক্সিতে যাওয়া কতটা সহজ, তখন কি আর বলদের মতন বসে বসে আস্তিক-নাস্তিক নিয়ে ফিলসফি কপচাবো, নাকি সেলফি তুলে তুলে ফেসবুকে দিয়ে বলব, ওরে ওরে, আমাকে দ্যাখ, আমি কি দারুন ব্যাপার করলাম আজ অফিস যাওয়ার পথে!

সবকিছুর একটা সময় বেসময় আছে। ২০১২ সাল থেকে পৃথিবীতে একটা কোয়ান্টাম লীপ শুরু হইসে যেটা ২০১৭ এর দিকে একটা পর্যায়ে পৌঁছাবে। এগুলাকে বলে ডিমেনশনাল পোর্টাল। এই সময়ে একটা প্রজাতি খুব দ্রুত উন্নতি লাভ করে। আমাদের বুঝতে হবে যে আমাদেরকে ড্রেকোরা ভোদাই বানায়ে রাখসে, এবং এই বলদ স্ট্যাটাস থেকে বের হতে হলে আমাদের সবাই মিলে একটা যুদ্ধ করতে হবে আমাদের স্বাধীনতার জন্য। আর এই স্বাধীনতা পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে র-লীগের খপ্পরে পড়ার মত অর্থহীন স্বাধীনতা নয়। এই মুহূর্তে বাঙালি স্বাধীনতা বলতে যা বোঝে, এটা বেসিক্যালি একটা ঘোড়ার ডিম। এখানে ক্রিমিনালরা দিনে দিনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে, মানুষকে ঠকায়ে, খুন করে, জালিয়াতি জোচ্চুরি করে গদিতে যাচ্ছে, মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে, মানুষ মেরে ফেলে নির্বিকারে মিডিয়াতে মন্ত্রী পুলিশ দিয়ে মিথ্যা বলাচ্ছে, নির্দোষী ব্যক্তিদের দোষ দিচ্ছে -- এরকম স্বেচ্ছাচারী স্বাধীনতা থাকার চেয়ে না থাকা অনেক ভাল।

আজকে সবাই জানে যে অ্যামেরিকাতে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করসে ওদের বুশ সরকার। এর অর্থ কি? কেন ওই রকম একটা উন্নত দেশের সরকার এই কাজ করবে? এর উত্তরটা কি আপনারা চিন্তা করে দেখসেন? আমি বলে দিচ্ছি। এর কারণ হল, ওই দেশের যে গণতান্ত্রিক সরকার টেলিভিশনে দেখানো হয়, ওটা একটা দুধভাত সরকার। ওই  দেশের কোন প্রেসিডেন্টই ভোট দিয়ে নির্বাচিত হয় না, আমাদের দেশের মতই। অ্যামেরিকা চালায় ফ্রিমেসনরা। পুরা অ্যামেরিকার ফেডারেশনটা একটা প্রাইভেট ব্যবসা। ওদের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, যারা ডলার প্রিন্ট করে, ওটাও একটা প্রাইভেট ব্যাংক। অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টের উপরে ওদের ২৮টার মত সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স লেভেল আছে যেগুলা টপ সিক্রেট থেকে অনেক উপরে। সবচেয়ে উপরের দিকে ম্যাজিক, ম্যাজেস্টিক, বা কজমিক ক্লিয়ারেন্স আছে যাদের, তারা ইটিদের সাথে কাজ করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ওবামা টীন এজ থাকাকালে মঙ্গল গ্রহে মিশনে গেছেন বলে অনেকে দাবী করেন। মজার ব্যাপার হল, বুশের দাদা ছিলেন একজন জার্মান, যিনি নিকোলা তেসলার ল্যাবে স্পট বয়ের কাজ করার নামে বিভিন্ন স্পায়িং আর চুরি চামারি করতেন। পরবর্তীতে তেসলার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়ে উনাকে দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে বিভিন্ন অ্যাডভান্সড টেকনোলজি তৈরি করায়ে নেয়া হয়, যেগুলা পৃথিবীর মানুষের কাছে থেকে লুকানো।

আস্তে আস্তে আপনাদের বুঝতে পারা উচিৎ যে আমাদের স্বাধীনতাটা ছিল ইন্দিরার একটা চাল। মুজিব ছিল ওর চামচা, যে নিজের স্বার্থে কাজ করেছে, দেশের স্বার্থে নয়। দেশের স্বার্থে কাজ করেছেন মউলানা ভাসানি, সোহরাওয়ারদী, শের-এ-বাংলা, জিয়াউর রহমান, এঁরা। বাকি সব কাঙ্গাল। আওয়ামী লীগ হল র এর প্রিয় দল -- এরা ক্ষমতায় আসলে দেশের যত বাটপাড় আর চালবাজ আছে সবার চোখ চকচক করতে থাকে লোভে। ড্রেকোরাও ঠিক এরকম দলই পছন্দ করে। এই জন্যই তো কেউ এদেরকে সরাইতে পারতেছে না, বিএনপি ধ্বংসপ্রাপ্ত, আর জামাত দৌড়ের উপর। কিন্তু মুশকিল হল যে, অন্য সরকার আসলেও তো তেমন কোন পরিবর্তন হয়না। এই পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের প্রত্যেকের সার্ভিস-টু-সেলফ থেকে সার্ভিস-টু-আদারস মোডে যেতে হবে। এটাকে বলে নিজের আগে অন্যকে প্রাধান্য দেয়া। কিন্তু এটা শুধু লোক দেখানো ভাবে করলে হবে না। সত্যি সত্যি মীন করতে হবে। বলা বাহুল্য, এই পরিবর্তন একদিনে হবে না, কিন্তু কাউকে না কাউকে এটা কোন এক সময় শুরু করতে হবেই। এছাড়া আর কোন উপায় নাই।

লেখার মাঝখানে হঠাত আঞ্জির ফোন আসলো -- দুইটা ছবি পাঠাইসি, দ্যাখতো ওগুলা কি? ছবিগুলা দেখলাম। এরকম জিনিষ আমি অনেকবার দেখসি। সম্ভবত ইউএফও। ব্লগে শেয়ার দিয়ে দিচ্ছি।

ps: নির্ঝর ফোন করে জানালো এগুলা ফানুস। বৌদ্ধ মন্দিরে পূজা হচ্ছে। মাঝে মাঝে সবাই আমরা ধরা খাই। কিন্ত তাতে সবকিছু অশুদ্ধ হয়ে যায় না মনে হয়।



Friday, October 23, 2015

russian books from my childhood (pdf)

এই বইগুলা আমার ছোটবেলাকে ডিফাইন করেছে
    
 
download 1.                      download 2.                      download 3.
   

           download 4.                                                                      download 5.



Thursday, October 22, 2015

draco part 20 (in bengali)


ড্রেকো ২০

চয়ন যে আমাকে পারসনাল হাইজিনের উপর লেকচার দিল কয়দিন আগে, ওইটা গা জ্বালাইন্না হইলেও ঠিকই আছে, আমি জন্মের খাইশটা। দাঁত মাজা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে বের করলাম যে সকালে গরম চা খাইলে দাঁত না মাজলেও চলে। কোন কিছুই বেশী রুটিন মাফিক করাটা মনে হয় ঠিক না। তবে আমার ইন্টুইশন বলে যে ওই একই লেকচার চয়নকেও কোন বিদেশী কোন এক কালে দিসিল। ও যে ক্লাস ফাইভে থাকতে ব্রেকড্যান্স দিত -- দ্যাট ডেফাইনস হিম। বাপের সম্পত্তি তো অনেকেই পায়, কিন্তু বাংলাদেশের মত আজব দেশে ওর মত কিকঅ্যাস আন্ত্রোপ্রেনুর কিন্তু কমই আছে। যাক গিয়ে, তালুকদারের সাথে কথা হল ইনভেন্টরি ইস্যুটা নিয়ে। ও চায় আমার লেখাগুলা খুব ইনফরমেটিভ হোক, যাতে মানুষজন এই লেখা পড়ে ওদের ইনভেন্টরি বাড়াতে পারে। অনেক কিছু জানা যাবে। কথা ঠিক, কিন্তু আমি আবার ফ্রিস্টাইল থাকতে পছন্দ করি। এইজন্যই হয়ত জেবনটা গোল্লায় গেল। আস্তে আস্তে আমি হুমায়ুন আহমেদে মরফ করে যাচ্ছি। লেখার মান পড়া শুরু করল বলে। আসলে একটা সত্যি কথা বলি -- অনেক বছর ধরে অনেককে অনেক কিছুই বলসি। যে বোঝে, সে অল্পেই বোঝে, আর যে বোঝেনা, সে কিছুতেই বোঝেনা। এখন পর্যন্ত ফেসবুকে আমার পাঠক সংখ্যা ২০ এর মত। আমার স্ট্যান্ডার্ডে এটা খারাপ না। ঘটনা হল আমাদের প্রত্যেকের একটা হাম্বল কনফিডেন্স থাকা দরকার যে আমার ক্যাপাসিটিটা কেমন পর্যায়ের। আমার মত বহু ঘাটের পানি খাওয়া যারা, তারা হাল্কা পাতলা কিছু না কিছু বুঝে যে কার দৌড় কদ্দুর যায়। উজবুকদের সাথে সময় নষ্ট করার বয়স কি আর আছে? কিন্তু এইটা হল খাস বাঙালি টাইপের ইগোটিস্টিকাল কথা। এইখানে আমার লেখার পিছনে যে খুব ক্লিয়ারকাট একটা এজেন্ডা আছে সেটা শুরুতেই বলসি। এজেন্ডাটা আবার বলি -- পৃথিবীর মানুষকে আরটিফিশিয়ালি বানাইসে কিছু ইটি। এরা আগে আমাদের কাস্টোডিয়ান ছিল, কিন্তু পরে ওদের হাত বদল হইছে, এবং আল্টিমেটলি ড্রেকো রেপ্টিলিয়ান প্রজাতির কিছু ইটি পৃথিবীতে এসে আমাদেরকে কলোনাইজ করে। কিন্তু এই কলোনাইজেশনটা খুব সারেপ্টিশাস -- গোপনে করা, যেন পৃথিবীর সাধারণ মানুষ বুঝতে না পারে যে কি হচ্ছে। এই ড্রেকোদের একটা গ্রুপ ১৩টা ব্লাডলাইনকে টারগেট করে যারা ক্ষমতা আর সম্পদের দিক দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্যামিলি। আপনারা যদি রথসচাইল্ড, খাজার, আর জেজুইটদের ইতিহাস খুব গভীরভাবে পড়েন (মেইন্সট্রীমের পাঠ্যবই না, ওগুলা সব মগজ ধোলাই), তাহলে আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন যে এরা আসলে কারা এবং কি চায়। ওরা হচ্ছে এক ধরণের ড্রেকো হাইব্রিড যারা মানুষের শরীরটাকে টেক ওভার করে নিতে পারে। ওই বডিটা যখন বুড়া হয়ে যায়, তখন ওরা ওটা ফেলে দিয়ে অন্য একটা বডিতে ওদের সোউল এবং মেমরি ট্র্যান্সফার করতে পারে। এই ব্যাপারে জানতে হলে জর্জ গ্রীন নামে একজন ইল্যুমিনাটি ইনসাইডারের ভিডিও দেখতে পারেন। কোন কোন ক্ষেত্রে ওরা আগের বডিটাকে ক্লোন করে ওইটাতে ট্র্যান্সফার হতে পারে। তো আমার এজেন্ডাটা হল, আমাদের দেশে যত সমস্যা নিয়ে আমরা জর্জরিত, এর প্রত্যেকটার পিছনে আছে ড্রেকোদের গভীর হাত। কাজেই, আমরা যদি আমাদের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সিরিয়াস হই, তাহলে ড্রেকোদের সম্পর্কে জানাটা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বুঝতেই পারছেন এখানে একটা ঝামেলা আছে, যেটার নাম মগজ ধোলাই। এই মগজ ধোলাইটাও ড্রেকোরাই আমাদের দিচ্ছে যাতে আমরা কিছুতেই বুঝতে না পারি যে ওরা আছে এবং রিলেন্টলেসলি আমাদেরকে দিয়ে ওদের দাসত্ব করাচ্ছে, অথচ আমরা ব্যাপারটা বুঝতে পর্যন্ত পারছি না। এরকম একটা সিরিয়াস অ্যালেগেশন নিশ্চয়ই কেউ ঠাট্টা করে করবে না।

বাংলাদেশটা কন্ট্রোল করে ড্রেকোরা। র মোসাদ এমআই৬ সিআইএ ইত্যাদি সব ড্রেকোদের মুঠার মধ্যে। ওরা আমাদের সরকারকে গদিতে বসায় আর যারা ক্ষমতায় যায়, তারা উঠতে বসতে ওদের হুকুম মেনে চলে। এখানে একটা ইন্টারেস্টিং জিনিষ বলি। তালুকদারের ধারণা ড্রেকোরা বাংলাদেশের মত ছিঁচকে জায়গায় আসে না, ওদের পাপেট র ফ দিয়ে কাজ চালায়। কিন্তু এই কয়দিন আগে আঞ্জি একটা রেপ্টিলিয়ান দেখসে স্বচক্ষে। তালুকদার তো গজগজ করে, হ এত লোক থাকতে অরই চোখে পড়ল টাইপের বাঙালি ডায়ালগ। কিন্তু আঞ্জির ডেসক্রিপশন একদম কাঁটায় কাঁটায় ছিল। আর ওর জীনদের সম্পর্কে বেশ ভাল ধারণা আছে। ছোটবেলায় ওকে জীনেরা ধরে নিয়ে গিয়ে ওদের কাছে কিছুদিন রাখসিল। তখন ও দেখসে যে ওরা কাপড় পরে না। এইটা নিয়ে আবার লাগল তালুকদারের সাথে -- এর আগে তো কোনদিন কারও কাছে শুনিনাই যে ওরা কাপড় চোপড় পরে না। এটসেটরা এটসেটরা। এখন আপনারা কি বলবেন? আঞ্জি একটু অ্যাটেনশন পাওয়ার চেষ্টা করতেছে, তাই না? আমি কিন্তু তা বলব না। ওকে বেনিফিট অফ ডাউট দিব।

ইনভেন্টরির বিষয়টা নিয়ে আজকে রাজীবদের সাথেও আলাপ করলাম। রাজীবের মতে আমি নাইন্টিজে দেশে না থাকায় আমার দেশজ পলিটিক্স বোঝার মধ্যে একটা গ্যাপ হয়ে গেছে। আর আরিফ বলল, শুধু এককভাবে আওয়ামীলীগকে দোষ দেয়াটা ফেয়ার না। আমি ওদের কথা শুনি। রাজীব বলল, উনি এখন কিছু বলবে না, কিন্তু পরে ফেসবুকে লিখে পচাবে। আসলে কি তাই? একদমই না। ওদের কথা যখন শুনি, তখন আমি গৎবাঁধা কিছু কমন সেন্সিকাল এলিমেন্ট দেখি -- যেগুলা দেশের প্রায় সবাই বিশ্বাস করে আর বলে। কিন্তু আমি কখনও কাউকে বলতে শুনিনি যে আওয়ামীলীগ রএর পাপেট রেজিম। আমিই সেই ব্যাক্তি যে বলে যাচ্ছি যে ব্লগার হত্যা রএর সাইঅপ্স। ধর্মতান্ত্রিক যে খুনগুলা হয়, এগুলা বেশিরভাগ রএর করা। যুদ্ধাপরাধীর বিচার একটা র সাইঅপ্স। বুদ্ধিজীবী হত্যা রএর সাইঅপ্স। রাজাকারের কনসেপ্টটা রএর আবিষ্কার এবং এটা একটা মগজ ধোলাই। আসল ঘটনা বাঙালি যা মনে করে তা নয়। কিন্তু এইটাই তো সমস্যা -- তালুকদার আমাকে সকাল বিকাল শিখায় যে বাঙালি প্রয়োজনে কল্লা নামায়ে দিবে কিন্ত সে যে বেকুব এটা স্বীকার করবে না। পৃথিবীর সর্বনিকৃষ্ট গর্দভ জাতি হওয়া সত্ত্বেও কিন্ত আমাদের চেতনার দণ্ড সবার খাঁড়া আর টনটনা। আজ পর্যন্ত একজন বাঙ্গালিও কিন্ত আমি পাইনি যে স্বীকার করে, যে ভাই আপনে ঠিকই কইসেন, আমরা সবাই আসলেই তো চরম মগজ ধোলাই খাওয়া পাবলিক। এই ব্যাপারটা থেকে নিজেদেরকে বের করে আনতে হবে। আমাদের সবার অনেক বেশী পড়াশুনা করতে হবে। মেইন্সট্রীম মিডিয়া থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। আমাদের যে দা-কুমড়া নিয়ে ধাবড় দেয়া রাজনৈতিক সিনেমা -- ওইটা তো দুই কুকুরের ঝগড়া করার মত -- পিছন থেকে র পাছাতে দেয় একটা লাঠির বাড়ি, কিন্তু কুকুর সেটা বুঝতে পারে না। ও ভাবে ওই কুকুরটাই ওকে মারতেছে, তখন আরও ঝগড়া করে। আপনেরা মাইন্ড খাইয়েন না। কথাটা আমি খুব ভুল বলি নাই মনে হয়।

আমার আশেপাশে যারা আছে, মোটামুটি ইটি, ইলুমিনাটি, ফ্রিমেসন, ফেডারাল রিজার্ভ, ব্যাংকিং ফ্রড, ব্রেকঅ্যাওয়ে সিভিলাইজেশন, ইনার আর্থ, ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে গেছে। এর মানে তাদের ইনভেন্টরি বৃদ্ধি পাইসে, কিন্তু ওই পর্যন্তই। যেটা ঘটা বাকি আছে, সেটা হল একটা ইন্টারনাল অ্যালকেমিক্যাল ট্রান্সফরমেশন। এটা যার ঘটবে, তার আচার আচরণ বদলে যাবে। তার ওয়ার্ল্ডভিউ বদলে যাবে। সে আগে যা যা করতো, এখনও ঠিক তাই তাই করবে না। তার তৃতীয় নয়ন খুলে যাবে, এবং সে নিজেই বুঝবে পারবে কোথায় কোথায় সবাই ধরা খাচ্ছে। সে তখন আর মিডিয়াতে আজকে কে রেপড হল, কাল কে গাড়ি চাপা পড়ল, কোন আস্তিক কোন নাস্তিককে কি বলল, এইসব খুচরা ফাঁপরের ঘোড়ার ডিম নিয়ে সারাক্ষণ মাথাটাকে ব্যস্ত করে রাখবে না। কারণ সে বুঝতে পারবে যে তাকে ব্যস্ত রাখাই আমাদের সরকার আর তাদের ড্রেকো মালিকদের কাজ। সে তখন সময় ব্যয় করবে ড্রেকোরা কীভাবে আমাদেরকে বলদ বানায়ে রাখসে, সেটার পিছনে। আস্তে আস্তে সে পরিস্কার দেখতে পাবে পৃথিবীর সম্পূর্ণ অন্য এক চেহারা। তখন আর তাকে বেশী কিছু বলে দিতে হবে না, সে নিজেই বুঝতে পারবে কেন পৃথিবীতে এত সমস্যা, আর এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে হলে কি করতে হবে।

Tuesday, October 20, 2015

draco part 19 (in bengali)


ড্রেকো ১৯

 তালুকদার যখন আমাকে বলল যে মগজ ধোলাই ভিডিও করার সময় নাকি আমার চোখ মুখ জ্বলজ্বল করে, আর এটা একটা ইগোর লক্ষণ, তখন ভাবলাম আজকে ওকে ছাই দিয়ে ধরব। মিরাজ আদিব অভিজিৎ -- এদেরকে নিয়ে আমি যা খুশি তাই বলি কারণ আই লাভ দেম। আমি ওদের মেধা, রাইটিং স্টাইল, অরিজিনালিটি, ট্যালেন্ট, ইত্যাদি অ্যাপ্রিশিয়েট করি। কিন্তু প্রব্লেমটা হল, ওরা যেসব সাবজেক্ট নিয়ে ডীল করে, আর যে অ্যাংগেল থেকে রিয়ালিটিটাকে দেখে, সেটা খুব মেইন্সট্রীম, যেটার সমস্যা হল যে ওদের লেখা যারা পড়বে, এবং যত বেশী পড়বে, তত ডাম্ব হতে থাকবে। এর কারণ হল, ওদের লেখার মধ্যে বেশ ভাল একটা উইট থাকে, বুদ্ধিমত্তা থাকে, যে কারণে মানুষ পড়তে আকৃষ্ট হয়। কিন্তু এই বুদ্ধিমত্তা আমার মতে খুব empty বা faux -- জাস্ট একটা চালাক সেন্সেশন, এটা হুমায়ুন আহমেদ বা হানিজ সংকেতেরই আরেকটা ভার্শন। রেশমি মিঠাইয়ের মত খেতে বেশ মজা কিন্তু পেট ভরেনা, আর বেশী খেলে গা গুলাবে। সরি, আমি মানে কাউকে অপমান করতে চাইনা, কারণ আমি জানি অপমানিত হইতে কেমন লাগে। কিন্তু আমার এই বলার পিছনে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে, যেটা ওরা না বুঝলেও, আপনারা কেউ কেউ হয়ত বুঝবেন। তালুকদার আজকে আমাকে গাড়লো যে ড্রেকো ১৮ র তেহারিতে মাংস কম হইসে আর সাদাভাত বেশী পড়সে। আকাশ দিয়ে প্লেন যায় দেখি, হুমায়ুন আহমেদ ও নাকি লেখে আকাশ দিয়ে প্লেন যায় দেখি -- যা দেখি ওইটাই। শ্যালশ্যালা মাল। তবে আমার পারস্পেক্টিভটা ভিন্ন। আমি ওকে বলি সেন্সেশন থেকে বের হয়ে আসতে। সারাক্ষণ মজার মজার খবর দিলে ব্যাপারটা মজা সর্বস্ব হয়ে যায়, যে রোগটা মিরাজদেরও আছে। আমার মতে এরকম লেখা দায়িত্বহীন রোমান্টিসিজম, যেটা নিয়ে ওরা নিজেরা খুব খুশি। ওদেরকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে ভরে দিবে, বলবে, আমার চ্যাটের খুশি। আপনার ভাল্লাগে না, আপনি পইড়েন না। শেষ। সোফোমোরিক যুক্তি হিসাবে ঠিকই আছে।

কিন্তু সোশাল কনশাস্নেসের দিক দিয়ে দেখলে ঘোড়ার আন্ডা। জাস্ট মোর অভ দ্য সেইম ওল্ড। তালুকদারকে আমি ইনভেন্টরি ব্যাপারটা বুঝালাম। এই কন্সেপ্টটা ডন হোয়ানের। ধরেন আপনার একটা সাধারণ জ্ঞানের পরিধি আছে, এখন আমি আপনাকে ইটি, ইল্যুমিনাটি, আর ব্যাংকিং ফ্রড সম্পর্কে কিছু ধারণা দিলাম, যে বিষয়ে আপনি আগে জানতেন না। এখন যেটা হল যে আপনারা যা জানেন, সেই ইনভেন্টরিতে কিছু নতুন আইটেম যোগ হল, আর কিছু নয়। এই বিষয়ে কোথাও কোন আলাপ হলে এখন আপনিও দুই এক কথা বলতে পারবেন। আমাদের মেইন্সট্রীম ইন্টেলেকচুয়ালরা এই কাজটাই করে থাকে। তারা আমাদের ইনভেন্টরি বাড়ায়, আর ওইটা নিয়ে লেখক এবং পাঠক, দুই পক্ষই খুব খুশি থাকে। ঝামেলা এখানেই। কারণ ঠিক এই কাজটাকেই আমরা বলি ফীডিং দ্য মেট্রিক্স। মোর ইন্টারনাল ডায়ালগ। মোর ক্র্যাপোলা ইন ইয়োর হেড টু ডীল উইথ। এতে আমাদের এনার্জি, আর স্টোরেজ এরিয়া, দুইটাই লস হচ্ছে। কিন্তু লাভ তেমন কিছু হচ্ছে না, কারণ আমাদের যে ম্যাসিভ ব্রেইনওয়াশ, সারা জীবন যে অজস্র মিথ্যা আমাদেরকে গুলে গুলে খাওয়ানো হইসে, সেগুলার একটাও তো সাফ হচ্ছে না। যেসব প্রচণ্ড জরুরি তথ্য আমাদের কাছে থেকে লুকায়ে রাখা হইসে, সেগুলার একটাও তো জানা হচ্ছে না। কাজেই আমাদের যে মনখাঁচা, ওই খাঁচার তালা ভিতর থেকে বন্ধই থেকে যাচ্ছে। মুক্তির কোন সম্ভাবনা ওই রাস্তায় অন্তত নাই। এইবার কি একটু বোঝা গেসে আমি কি বলতে চাচ্ছি, তালুকদার?

ড্রেকো নিয়ে বলার পিছনে একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে যে এই ব্যাপারগুলা আপনাদের কাছে এতই অজানা, এতই নতুন, অথচ এত বেশী তথ্য আমার কাছে আছে, এবং শুধু ড্রেকোর বিষয়ে না, আরও শতশত বিষয়ে, যে আপনারা অবাক হয়ে ভাববেন যে এটা কীভাবে সম্ভব? কে এই ব্যাক্তি? এইসব তথ্য সে পাচ্ছে কোথায়? সত্যি সত্যি আপনাদের জায়গায় আমি হলে খুব তাজ্জব হয়ে যেতাম আমার এইসব লেখা পড়লে। যাহোক, জোকস এসাইড, আজকে একদিনে দুই পর্ব লেখার একটা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হল। তাই তেহারির বদলে আঞ্জির ভাগ্যে পড়ল সাদাভাত আর পাতলা ডাইল। মাইন্ড কোরো না তোমরা, ওকে?

draco part 18 (in bengali)


ড্রেকো ১৮

বিশ্বাস করেন আর না করেন -- আমাদের এই চোরা সরকার আর থাকবে না -- বলেন এইটা চান কিনা। যদি চান তো কন, আর না চাইলে বুইঝেন। আর খালি আওয়ামীলীগ না, কোন চোরামিই আর থাকবে না। এইটা কি আপনারা চান? বুইজ্ঝা কইয়েন।

এয়ারপোর্টে গেছলাম আজকে। কাউকে ছেড়ে যাওয়ার সময় আমরা খুব কাঁদি, কিন্তু কাছে থাকতে এপ্রিশিয়েট করিনা অতটা। আমরা কি সেন্সিটিভ জাতি? একজন আরেকজনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলা লক্ষ করি? কেউ যদি হঠাত পরিচয়ে বেশী কাছে ঘেঁষতে চায় -- তখন থাকে থামালে সেকি আহত হয়ে দূরে সরে যায়? আমরা কি হেলথি বাউন্ডারি বুঝি? কেউ ভাল ব্যবহার করলে তাকে বেকুব মনে করে ঘাড়ে চেপে যাই? আমরা গিরাইম্মা না শহুরে? সাহসী না ভীতু? দেশপ্রেমী না ভণ্ড? বুদ্ধিমান নাকি বেকুব? গান টান ছেড়ে দিয়ে এসির মধ্যে ভিআইপি রোডে গাড়িতে ঘুরতে ভালই লাগে যদি ট্রাফিকটা একটু মডারেট থাকে। কিন্তু যাই বলেন, এই ধ্বজভঙ্গ ঢাকা শহরটা আমি অ্যাকসেপ্ট করতে পারিনা। বাসগুলা কেমন ভাঙ্গা; বিল্ডিংগুলা ধ্যারধ্যারা; রাস্তায় কোন গাছপালা নাই, চরম নোংরা; ধুলায় ধূসরিত চারপাশ; রিকশা ড্রাইভারগুলা কুথে কুথে চালাচ্ছে পিঠ ব্যাকা করে;অথচ ছুটছে সবাই যেন সবকিছু ঠিকঠাক। আসলে তো এই ভগ্নস্তূপে কোনকিছুই ঠিকঠাক নাই। প্রত্যেকটা মানুষ একেকটা ধান্দায় ছুটে বেড়াচ্ছে। কেউ ঠকছে, কেউ ঠকাচ্ছে।

এয়ারপোর্টে একটা বোবা পোর্টার ট্রলিটা শুধু ঢোকার দরজাটা পার করে দিয়ে ১০০ টাকা নিল, কিন্তু সুটকেস গুলা নামায়ে কনভেয়ার বেল্টে পর্যন্ত উঠায়ে না দিয়ে চলে গেল। ভারি ব্যাগগুলা আমরাই টানাটানি করলাম। তিনজনের ঢুকতে টিকেট লাগলো ৯০০, তাও শুধু ওই দরজাটা পার হওয়ার জন্য। কফির দাম মাত্র ৩০, পরে বারবি-ডল সাইজের কাপ দেখে বুঝলাম, ওহ ঠিকই আছে, সবকিছুই সামঞ্জস্যপূর্ণ। গাড়ি পার্ক করতে ১০০ কিন্তু পার্কিং লটটা চাঁদের পিঠ; প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ টাকা কামাই হচ্ছে, তার একটা টাকাও মেইন্টেন্যান্সে ব্যয় হয় না। দেশে যে ম্যানেজারগুলা কাজ করে, এদের বোধহয় শুধু স্যালারিটা কালেক্ট করতেই অনেক পরিশ্রম হয়ে যায়, কাজ করার আর সময় থাকেনা। বাথ্রুমে গিয়ে দেখি মোটামুটি পরিস্কার কিন্তু উৎকট গন্ধ। পৃথিবীর আর সব দেশ যা পারে, শুধু আমরাই সেটা পারিনা কেন? কেউ কখনও ব্যাপারটা ভেবে দেখসেন? কেন আমরা এত্ত স্পেশাল?

উপরের প্যারাদুটা কালকে লেখা। মনটা একটু বেসামাল ছিল বিভিন্ন কারণে। আমার চ্যানেলে ইন্টারফিয়ারেন্স থাকায় আর লিখিনি। আজকে ব্যাক টু রিয়ালিটি; মিস্ত্রি চরাচ্ছি সকাল থেকে। বিল দিতে যেয়ে ব্যাঙ্কের লাইন দেখে আর দাঁড়াইনি। প্রত্যেকদিন এইরকম রাস্তা পর্যন্ত লাইন হয় কিন্তু ওই টাকার বস্তা বেতন পাওয়া ম্যানেজারদের এইটুকু কমন সেন্স নাই যে কাস্টোমার সারভিস বলে একটা ব্যাপার পৃথিবীতে আছে। একজন টেলার দিয়ে একটা ব্যাংক চালানো ইজ রিয়ালি এ ক্রাইম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষজন দাঁড়ায়ে থাকে, আর ঐদিকে চেয়ারের উপরে একটা তোয়ালে ফেলে বিগ বসেরা সারাদিন কোথায় কাটায় কে জানে? এই ধরেন অভ্রর কথাই ধরি -- যে সফটওয়্যার দিয়ে বাংলা টাইপ করি। এটাকে আরও ১০০ গুন উন্নত করা সম্ভব। c তে চ হয় না, ch তে চ হয়, এটা কি ওদের প্রোগ্রামাররা জানে না? নতুন ভার্শনে এগুলা ঠিক হয়না কেন?

তো শুরুতে যে মাল নিয়ে বললাম, আপনারা কি চান দেশের দুর্নীতি না থাকুক? অনেকেই তো এটা চান না। আমাদের প্রিয় ড্রেকোরা এটা চায় না, কারণ দুর্নীতি না থাকলে ওদের আপারহ্যান্ডটা তো আর থাকবে না কারণ আমাদের বেইস বা লোয়ার ইন্সটিঙ্কটগুলা কাজে লাগায়েই তো ওরা আমাদেরকে ধরা খাওয়ায়। আমাদের ইসলামিক সংগঠনের পোলাগুলা কি সারাদিন পর্ণ দেখে? আমার বউ আবার একটু বাচ্চাদের মত, ইয়াব্বড় বড় ব্রেস্ট নিয়ে ওড়না ছাড়াই ঢাকার রাস্তাঘাট চরে বেড়ায় রাত একটা দেড়টা পর্যন্ত। লোকজন চমকে চমকে তাকায় ওর পোশাক আশাক দেখে। আমি দেখেও দেখিনা, মনে মনে হাসি। ওকে মাঝে মাঝে বলি সঙ্গে একটা শাল ফাল রাখতে, জাস্ট ইন কেস। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আসলে অনেক কিছুই করা যায়। আমাদের পাছে লোকে কিছু বলে -- ওই পুরানা রোগটা সারা বড্ড দরকার। এনিওয়ে, পাবলিক আর প্রাইভেট ভার্সিটির পোলাপানরা কি পর্ণ কম দেখে? এচ্ছি, হেন্তাই, এগুলা কি আপনারা জানেন? ক্যান্ডি ক্রাশ, জিটিএ, এনএফএস, এগুলা অবশ্য পুরানা হয়ে গেছে, এখনকার নেটওয়ার্ক গেমগুলার নাম আমি জানিনা, শুধু জানি যে গেম অ্যাডিকশন ইজ এ মাল্টি-বিলিয়ন ডলার বিজনেস। অ্যাপল, আইপ্যাড, ট্যাব, প্লে-স্টেশন, এগুলা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শুধু গেম খেলার জন্য বেসিক্যালি। আমাদের অ্যাক্টিভিজম, আর গ্যালাক্টিক ডিস্ক্লোজার নিয়ে মাথা ঘামাবার সময় কই ইয়ং জেনারেশনের? বাবারা দেশের মানুষের রক্ত চুষে কাড়ি কাড়ি টাকা কামাচ্ছে, আর পোলাপান ফুর্তিসে গেম খেলতেছে আর সেলফি তুলে বেড়াচ্ছে। বউরা ছেলেমেয়েদের স্কুলে ফুলে দিতে গিয়ে শাড়ি গহনার কম্পিটিশন দিচ্ছে। স্কুলের বাচ্চাদের শোফারওয়ালা গাড়ির ভিড়ে পাড়ার রাস্তায় জ্যাম লেগে যাচ্ছে। দুর্নীতি না থাকলে কি হবে এদের? কীভাবে আপনারা ফুটানি মারবেন আর সন্ধ্যায় মাল খেয়ে পার্টি করবেন?

যখন ঢাকার রাস্তায় বের হই আর দেশের মানুষের আচার আচরণ দেখি -- তখন শুধু ব্রেইন্ডেড জমবি ছাড়া কিছু দেখিনা। পরিবর্তন আনার কোন সম্ভাবনা দেখি না। সবাই একটা ঘোরের মধ্যে দিকবিদিক দিশাহারা হয়ে ছুটছে যার যার মত। সবকিছু খুব অর্থহীন আর হোপলেস মনে হয়। ঠিক এইসময় আম্মা কোত্থেকে এসে অ্যামেরিকান অ্যালাম্নি এ্যাসোসিয়েশনের লাইফ মেম্বার বুকলেটে পুরানো একটা ছবি দেখে বলা শুরু করল আমার একটা স্যুট বানানো দরকার। এটা সে অনেকদিন ধরেই বলে যাচ্ছে। কেন বলেন তো? শোনেন, দুই ডজনের বেশী স্যুট, দুইটা গাড়ি, আর একগাদা জিনিষপত্র আমার বোনের বেইসমেন্টে ফেলে আসছি, যে জন্যে দুলাভাই আমার উপর খাপ্পা। এটা বলে আমি প্রায়ই ফুটানি করি, তবে এগুলা খুব হাস্যকর জিনিষ।

আজকে আমি যে কথাটা বলে শেষ করতে চাই, সেটা হল, আপনারা বিশ্বাস করেন আর না করেন, পৃথিবীতে একটা চরম পরিবর্তন আসবে খুব শিগগিরই, আর খুব দ্রুত গতিতে। আমাদের ড্রেকো বন্ধুদের পৃথিবী থেকে প্রত্যাগমনের সময় হয়ে গেছে। এর কারণ হল আমাদের অ্যালাইজ -- প্লিয়েডিয়ান, অ্যান্ড্রোমিডান, আর্কটুরিয়ান, সিরিয়ান, প্রসিয়ান, ইত্যাদি ইটিগ্রুপ আমাদেরকে সাহায্য করতেছে। ইরানের মেহেরান কেশি নামের একজন বিজ্ঞানী গতকাল বা পরশু পৃথিবীর সব দেশের নেতানেত্রীদের উদ্দেশে একটা সেমিনার করে বলেছেন যে উনি তাঁর প্লাজমা টেকনোলজি, যেটা দিয়ে ফ্রী এনার্জি উৎপাদন করা যায়, সেটা সবাইকে গিফট করবেন যাতে পৃথিবীতে আর দারিদ্র্য বলে কিছু না থাকে। এই চেষ্টা উনি আগেও করেছেন কিন্তু পৃথিবীর মানুষ সবাই মাইন্ড কন্ট্রোলড জম্বি স্লেভ বলে কেউ উনার কথা পাত্তা দেয়নি। কোন মেইন্সট্রীম মিডিয়া খবরগুলা কাভার করেনি। আমরা যারা কনশাস এবং জাগ্রত, তারা আশা করছি যে এইবার অন্তত আপনারা ব্যাপারটার মর্ম বুঝতে পেরে ওটাকে ফলো আপ করবেন। আমরা আমাদের দাসত্ব থেকে মুক্তি পাব কিনা তা নির্ভর করতেছে আপনাদের উপর -- মিরাজ আদিব অভিজিৎ, এরা কি ওদের ইগোটা একটু কন্ট্রোল করে, আমাদের কথা শুনে একটু গা ঝাড়া দিয়ে অর্থপূর্ণ কিছু করার চেষ্টা করবে? নাকি ওই থোড় বড়ি খাঁড়া ঘোড়ার ডিম সাব্জেক্ট নিয়ে ব্যস্ত থেকে ওদের ওই এজেন্ট স্মিথ গেইটকীপারের চাকরিতেই বহাল থাকবে জীবন যতদিন আছে? ডিসিশন আপনাদের।

Sunday, October 18, 2015

draco part 17 (in bengali)

ড্রেকো ১৭

হাতির ঝিলে তার ছেঁড়া গিটারেই লালন ধরলাম নির্ঝরের উৎসাহে। টিউন হয়না ঠিকমত, গলা ফাটা, সারগাম করিনা কয়েক যুগ, এটাই রক এন রোল। ফুটপাথে শুয়ে ছ্যাঁচড়ানো একটা ফকীরও এসে একটু থামল। ওকে দেখে আমি গানে ঢোকার চেষ্টা করলাম। এইসব বাংলাদেশের দুখী লোক নিয়ে গপ্প, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে কেমন কেমন লাগা, এই মাল পাবলিক খুব খায়। রন, আমার ভাতিজা, অসাধারন লেখে, কিন্তু লেখেনা সিরিয়াসলি। কথা বললেই ওর গলা দিয়ে কাব্য ঝরে, অথচ বড়লোক বাপের একমাত্র পোলা। ওর আবার দুঃখ কিসের? জেনেটিক কিছু ব্যাপার আছে। আমি এইসব দিক দিয়ে কাঠখোট্টা। সবাই বলে আমির খান খুব ভাল অ্যাক্টিং করে, কই? অতি অভিনয় লাগে আমার। হিন্দি মুভির রাজ্যটাই একটা গ্র্যান্ড থেফট অটো এর মত -- সব মুভমেন্টই একটু আন্ন্যাচারাল, একটু অদ্ভুত। বাস্তবের সাথে মিল খোঁজা অবান্তর। তবে আজকাল আবার ওরা অ্যামেরিকান ফিল্মের মত অন্যরকম মুভিও বানায়। জেনারালি স্পিকিং, হিন্দি ফিল্ম দেখতে হলে নিজের ইন্টেলেক্ট আর কমন সেন্স অফ করে রেখে দেখতে হয়। খুব বোকা কতকগুলা লোকজন খুব অতিরঞ্জিত কিছু নাটক করবে, আর ঠান্ডা মাথায় এটাকেই খুব স্বাভাবিক মনে করে দেখে যেতে হবে।

সত্যি বলতে, আমারও একটা ডিএসএলআর এর লোভ। এইজন্যই মনে হয় হাতি ঘোড়া লতা পাতার ছবি তোলা পোলাপানদের পচাই। এত্ত দামী ক্যামেরা দিয়ে পোলাপান এগুলা কি ছবি তোলে? কেন তোলে? কি চায়? ক্যামেরা আছে, তাই তুললাম? এইটাই তো একটা মজা। আমি সালা রাত ৩টা পর্যন্ত মশা মারা র‍্যাকেট ঘুরাই আর অলিভার স্টোনের পোলা শান স্টোনের ইন্টারভিউ দেখি কেরির সাথে। শানের নিজেরি একটা প্ল্যাটফর্ম আছে buzzsaw, ওখানে ও অন্যদের ইন্টারভিউ নেয়। ছেলের মাথা ভাল। কোন প্রশ্নের গৎবাঁধা উত্তর দেয় না। সবকিছুতে নিজস্ব একটা মাত্রা অ্যাড করে। এদের কথাবার্তা হচ্ছিল হলিউড নিয়ে -- ওখানে যে যেসব সেটানিক ইল্যুমিনাটি ব্যাপার স্যাপার হয়। হলিউড আর ডিজনি, দুইটাই শয়তানের আখড়া। বাংলাদেশের মানুষ অবশ্য এখনও সেটানিজম সম্পর্কে ভাল জানে না। আমেরিকা যারা চালায়, মানে ড্রেকোরা আর ওদের হাইব্রিড হিউম্যান মিনিয়নরা -- এই চামচাগুলা শয়তানের পুজা করে। শুধু আমেরিকাতেই কয়েক মিলিয়ন সেটানিস্ট আছে। এরা মানুষ বলি দেয়, রক্ত খায়, মাংস খায়, ইন্সেসচুয়াল সেক্স করে, বন্ডেজ, সেডো মেসোকিজম, হোমোসেক্সুয়ালিটি, এগুলা ওদের জন্য বাধ্যতামূলক। বুশ, ব্লেয়ার, ক্লিন্টন, হিলারি, চেইনি, কিসিঞ্জার, র‍্যামস্ফেল্ড, এরা মোটামুটি সবার পরিচিত। এরা একটা শ্যাডো গভর্নমেন্টের মেম্বার যারা অ্যামেরিকার গভর্নমেন্টকে চালায়। ড্রেকো পরিচালিত এই শ্যাডো গভর্নমেন্টটা আসলে পৃথিবী কন্ট্রোল করে। কিন্তু স্টুয়ারট সোয়ারডলো এর মত কিছু ব্যাক্তির মতে এদের অ্যান্টি-পার্টি হল গিয়ে নাৎসি ৪র্থ রাইখ। এরা এখন অ্যান্টার্কটিকায় ওদের আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি থেকে সবকিছু কন্ট্রোল করে।

বাংলাদেশের মানুষের মাথায় মাল থাকলে সকাল বিকাল জিএমও নিয়ে লিখত। ইন্ডিয়াতে তো অনেক চাষি আত্মহত্যা করসে, উপায় না দেখে। কিন্তু আমাদের সমস্যা তো আসলে অন্য জায়গায়। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে লিখি, কিন্তু কোন পরিবর্তন আনতে পারিনা। এর কারণ সবাই জানে -- কোন সমস্যা যখন নিচু লেভেলে সমাধান হয় না, তখন সেটা এস্কালেট করতে হয় উপরের লেভেলে। সাধারন কোর্ট থেকে কেস চলে যায় সুপ্রিম কোর্টে। এটাই পৃথিবীর নিয়ম। কিন্তু আমাদের সমস্যা তো সুপ্রিম কোর্টেই -- সবচেয়ে উপরে যে মাথারা বসে আছে, এরা তো র আর ড্রেকোদের পাপেট। এরাইতো সবথেকে বেশী দুর্নীতিবাজ। সেক্ষেত্রে এস্কালেট করে কারও কোন লাভ হচ্ছে না। তাই সবকিছু সমাধান হচ্ছে নিচু লেভেলে, ঘুষ আর বন্দুকের বিনিময়ে। আর ড্রেকোরাও ঠিক এটাই চায়। এইজন্যই তো আওয়ামীলীগ, র, র‍্যাব, পুলিশ, মিলিটারি, ছাত্রলীগ, এরা সব একদলে। এই ব্যাপারটা একদিনে ঘটেনি। আপনারা যে বছরের পর বছর হিন্দি ফিল্ম, ক্রিকেট খেলা, আর সেলফি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন, ওই সময় র তো বসে থাকেনি। ওরা ঘুণপোকার মত আমাদের সিস্টেমটাকে খেয়ে গেছে। ভুয়া ইলেকশন করে পাবলিকের ভোট ছাড়াই লীগকে গদিতে বসাইছে। মিডলেভেলের আর্মি অফিসারগুলাকে মেরে ফেলে আর্মির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিসে। র‍্যাবের আবিষ্কারও করসে র আর এমআই৬। ওদের ইউনিফর্ম ডিজাইনও রয়ের করা কারণ ইন্ডিয়াতে একই রকম পোশাকের স্পেশাল ফোরস আছে, যদ্দুর জানি। এগুলা কোনটাই জনগণের সুবিধার্থে করা নয়। শুধুমাত্র আমাদের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে আমাদের দাসত্ব আরও পোক্ত করার জন্য এইসব দুরভিসন্ধি।

আদিব, মেহেদি, এরা আমাদের মৌলবাদী দল্গুলার বিরুদ্ধে লেখে। একদিন একটা লিস্ট দেখলাম ২০-২৫টা ইসলামিক দলের নাম আছে ওটাতে। এই লিস্ট কে বানাবে র ছাড়া? হিজবুত-তাহরি, আন্সারুল্লাহ, ওলামালীগ, এগুলা র ছাড়া আর কে বানাবে? সিআইএ এমআই৬ মোসাদ আর র -- এদেরই ব্রেইনচাইল্ড এইসব ভুয়া সো কল্ড টেররিস্ট গ্রুপ। এরা বাংলাদেশের ডালভাত খাওয়া পোলাপান যারা বুঝতে পারসে কোন দুই নম্বরি না করলে এই দেশে বাইচা থাকা সম্ভব না। এদের মাথায় কি আছে মগজ ধোলাই ছাড়া? আপনি যে আমার এই লেখা পড়তেছেন, আপনার মাথায় কি আছে? ওদের চেয়ে আপনি কোন বিষয়ে বেশী জানেন? আপনিও তো ওই একই পত্রিকা পড়েন, ওই একই টেলিভিশন দেখেন। ও যা জানে, আপনিও তাই জানেন। শুধু হয়ত আপনার দেখার ফিল্টার আর ওর দেখার ফিল্টারের রঙটা এদিক সেদিক, যদি সেইটুকুও হয়ে থাকে। আপনার বাপের টাকা পয়সা বেশী তাই আপনি প্রাইভেট ইউনিতে পড়েন। ওই বেচারারা তো সাধারণ স্কুলের বেতন দিতে পারেনি। তাই আপনাদের ফুটানি দেখে যদি ওদের একটু চোখ টাটায়, এটা কি খুব বড় দোষ? আর প্রাইভেটে পড়ে আপনার তো তেমন কিছু উপকার হয়নি -- কিছু টেকনিকাল বই পড়ে আপনি হইসেন একজন স্কিল্ড স্লেভ। আপনি কি নিজে চিন্তা করতে পারেন বলে মনে করেন? আপনার প্রত্যেকটা চিন্তা যে টাভিস্টক ইন্সটিটিউট কন্ট্রোল করে এ ব্যাপারে আপনার ধারণা কতটুকু?

আমাদের দেশ চালাচ্ছে অযোগ্য লোকেরা। এটা কোন এক্সিডেন্ট বা কোইন্সিডেন্স না। ঠিক এভাবেই ড্রেকোরা আমাদের চালায়। ওদের সিলেক্ট করে দেয়া লোকেরাই গদিতে বসে আছে। আর এই লজ্জা পুরাটাই আমাদের কারণ দেশের ৪৫ কোটি মানুষ, ১০ হাজার র এজেন্টের বুদ্ধির সাথে পারি না। আমরা অত্যন্ত বোকা একটা জাতি। এটা যতদিন স্বীকার না করবেন, যতদিন না বুঝতে পারবেন যে আপনি নিজেও মগজ ধোলাই প্রাপ্ত, অজ্ঞ, মূর্খ, অপ্রয়োজনীয় চিন্তায় মগ্ন, একজন মাইন্ড কন্ট্রোলড স্লেভ -- ততদিন আমাকে কোন সমাধানের কথা জিজ্ঞেস করবেন না প্লীজ।

Saturday, October 17, 2015

draco part 16 (in bengali)

ড্রেকো ১৬

তালুকদার খুব ক্ষেপসে ওর বসকে আমি নাদান বলায়। হিরক রাজার দেশে ছবিটা যখন দেখসি, যারপরনাই মজা পাইসি, কিন্তু ঘণ্টাটাও বুঝিনি। সত্যজিৎ রায় কিন্তু ইলুমিনাটির লোগো দাজ্জালের এক চোখ -- ওটা পর্যন্ত ওই সেচ্ছাচারী রাজার পিছনে দেয়ালে এঁকে দিসলেন। মেট্রিক্স আর আভাটার এই ছবি দুইটা প্রথমবার দেখেও কিছুই বুঝিনি যে কি বুঝাতে চাচ্ছে ওরা। অনেক বাঙালির মতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইংলিশ রোম্যান্টিক ছবি হল টাইটানিক -- কিন্তু ওই ছবিটা আসলে একটা চরম মগজ ধোলাই কারণ রথসচাইল্ড ব্যাংকাররা অলিম্পিক নামে একটা পুরানো জাহাজকে কার্পেটে মুড়ে টাইটানিক সাজায়ে ইচ্ছা করে ডুবায়ে এক ঢিলে ১০০ পাখি মেরে, ইনস্যুরেন্স ফ্রডসহ ওদের শত্রুপক্ষের ব্যবসায়ীদের মেরে, পরের বছর ১৯১৩ সালে অ্যামেরিকায় ফেডারাল রিজার্ভ ব্যাংকটা খুলে পৃথিবীতে ব্যাংকিং ফ্রডের যে নবজুগের সূচনা করে -- সেই দাসত্ব থেকে আমরা এখনও বের হতে পারিনি -- এবং তার কারণ হল আমাদের প্রত্যেকের চরম মগজ ধোলাই -- কারণ আমরা প্রত্যেকে একেকজন নাদান গর্দভ মগজ ধোলাই খাওয়া হিপ্নোটাইজড দাস -- যাদের পৃথিবী কীভাবে চলে এবং কারা কীভাবে এই রাজ্য চালায় তার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোন ধারণা নাই। খুব উদ্ধত একটা মন্তব্য করলাম, তাইনা? আসলে তা নয়। কারণ এটাই প্রকৃত সত্য। আপনারা আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন।

গতকাল রাতে অ্যারন ম্যাক্কলাম নামে একজন অ্যামেরিকান ব্ল্যাক অপ্স এজেন্টের একটা পুরানো ইন্টারভিউ দেখছিলাম। আমি আপনাদেরকে কি বুঝাতে চাচ্ছি এটা বুঝতে হলে আসলে আপনাদের প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে, যাহোক, কেরি ক্যাসিডি এবং তার সাংবাদিক ট্রেডমার্ক প্রজেক্ট ক্যামেলট সম্পর্কে আপনাদের জানা বাঞ্ছনীয়। তার প্রধান ও একমাত্র কাজ হল ইন্টেলিজেন্সের হুইসল-ব্লোয়ারদের তথ্যগুলা ভিডিও করে নেটে ফ্রী বিতরন করা। ইন ফ্যাক্ট, আমার জাগরণের যাত্রা শুরু হইসে প্রজেক্ট ক্যামেলট দিয়েই। ওদের শতশত ভিডিওর প্রায় সবগুলাই দেখসি আমি। এরপরে শুরু করসি বিভিন্ন ব্লগ পড়া। আস্তে আস্তে বুঝতে পারসি মিস-ইনফরমেশন আর ডিস-ইনফরমেশন কি জিনিষ। মানুষকে বোকা বানানোর জন্য অজস্র মিথ্যা ইনফরমেশন ভরা ওয়েবসাইট তৈরি করে সিআইএ এবং ওদের সিস্টার সংগঠনগুলা। এটা বুঝতে পেরে তখন শুরু করলাম বই পড়া। যেখানে যত পিডিএফ পাইসি, ঘন্টার পর ঘণ্টা ব্যয় হয়ে গেসে কোন কোন বই খুঁজে বের করতে। আমার তো কোন ক্রেডিট কার্ড নাই, কাজেই বই কেনাটা আমার জন্য কোন অপশন ছিল না। নেটে যত সেমিনার, ওয়েবিনার, পডক্যাস্ট, রেডিও ইন্টার্ভিউ, স্কাইপ ইন্টার্ভিউ, অডিও-ভিডিও, যা পাইসি গিলে ফেলসি, আর ওইসব লোকজনের কাছে থেকেই বইয়ের রেকমেন্ডেশনগুলা পাইসি। আবার একটা বইয়ের ভিতরে অন্য বইয়ের রেফারেন্স থাকে, তখন ওই বইগুলাও খুঁজে বের করসি। এভাবেই চলসে আমার পিএইচডি রিসার্চ। তবে এই পরিশ্রমের কোন ডিগ্রি কেউ দেয়নি। মেন্টাল আর স্পিরিচুয়াল স্যাটিস্ফ্যাকশনটাই আমার রিওয়ার্ড।

নিজের কথা অনেকটা বলে ফেললাম, কিন্তু এটা জানা বোধহয় দরকার ছিল, কারণ একজন মানুষ যখন স্রোতের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে কথা বলে, তখন তার সেই স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটার শক্তিটা কোত্থেকে আসছে এটা বোঝাটা ইম্পরট্যান্ট। আমাদের শিক্ষা ধর্ম কালচার বানিজ্য চিন্তা ও কর্ম -- সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে ইটি ও তাদের মানব চামচারা। যান আমাদের মোল্লাদের গিয়ে এটা বোঝান! হাঃ! মজার ব্যাপার হল আমাদের মোল্লা আর নাস্তিক আদিবের মধ্যে তফাৎটা কি? আদিব লন্ডনে বসে বসে ইসলামবিদ্বেষী কথা বলতে বলতে তসলিমা নাসরিনের বন্ধু হয়ে গিয়ে র-এর হিটলিস্টের তিন নম্বর পজিশনে চলে গেল, কিন্তু ও কি ওই মোল্লাদের চাইতে কোন কিছু বেশী বোঝে? এক ফোঁটাও না -- এটা আমার হাম্বল ওপিনিয়ন। হি ইজ ওনলি ফীডিং দ্য মেট্রিক্স -- নাথিং মোর। সবাই মিলে আমাকে একদিন ধরবে, জানি, কর্মফল থেকে কারও রেহাই নাই, এইজন্যই তো খুব সাবধানে কথা বলি। যা বলি অনেক ভাবনা চিন্তা করে বলি -- যাতে এফেক্টটা ম্যাক্সিমাইজড হয়। কারণ, ইংরাজিতে দুর্বল একটা জাতিকে জাগানো খুব কঠিন যখন সমস্ত তথ্য ইংরাজিতে লভ্য, বাংলায় নয়।

এখানে আরেকটা তথ্য না দিলে মানুষকে ঠকানো হবে সেটা হল অরূপ সাগর সাল্লু আর আরিফের সাথে আমার বছর পাঁচেকের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ। এরা ঢাকা শহরে আমার চেনা সবথেকে বড় সাইজের স্টকারদের কয়েকজন। এদের কাছে থেকে আমি এত কিছু শিখসি যে সমীহ করা ছাড়া উপায় নাই। স্টকার শব্দটা এখানে আমি টোল্টেক মিনিঙ্গে ব্যবহার করতেসি যা বুঝতে হলে আপনাদের কার্লোস ক্যাস্টানেডা এবং ডন হোয়ান সম্পর্কে খুব ভাল আইডিয়া থাকতে হবে। ডন হোয়ানের শিক্ষাগুলা স্টাডি করাতে আমার সারাজীবনের যে বিলিফ সিস্টেমটা ছিল, ওটা গুঁড়া গুঁড়া হয়ে, আবার নতুন করে জোড়া লাগসে। এখন আমি বুঝতে পারি যে, ওই প্রসেসটা দিয়ে যাওয়ার কারণেই কিন্তু আমি পরবর্তীতে এক্সোপলিটিক্সের অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য সত্যগুলাকে সহজে হজম করতে পারসি -- যেটা আপনাদের অনেকের জন্যই খুব কঠিন বা প্রায় অসম্ভব।

অ্যারন ম্যাক্কলামের কথা আরেকটু বলে শেষ করব। ও রেপ্টিলিয়ান, গ্রে, আর্কটুরিয়ান, আর সিরিয়ান -- এই চারটা ইটি গ্রুপের কথা বলে। ও মিডল-আর্থের কথা বলে যেটাকে আমি বলেছি ইনার আর্থ। ও হচ্ছে গিয়ে একজন ব্ল্যাক অপ্স কম্যান্ডার যে পৃথিবীতে এবং অন্যান্য গ্রহে শতশত মিশন করেছে যেখানে ইটিরা ইনভল্ভড ছিল। ও একজন হিউম্যান-ডলফিন হাইব্রিড যে যতক্ষণ ইচ্ছা পানির নিচে থাকতে পারে আর ওর কোন শীত বা গরম লাগে না। ইন্টার্ভিউতে ও প্রজেক্ট সীগেইট নামে একটা ইন্টার-ডিমেনশনাল পোর্টালের কথা বলে যেটা সমুদ্রের নিচে অবস্থিত। এই পোর্টালটা অ্যারনের মতে পৃথিবীতে অবস্থিত সবচেয়ে বড় বা শক্তিশালী পোর্টাল যেটা দিয়ে অন্য গ্রহ গ্যালাক্সি বা টাইমে যাওয়া যায়। ও নিজে ওই পোর্টাল দিয়ে বেশ কয়েকবার যাতায়াত করসে। পৃথিবীতে এই সব সুপারএডভান্সড টেকনোলজি কন্ট্রোল করে ইটি আর অ্যামেরিকা ইংল্যান্ড ফ্রান্স ইতালি জার্মানি রাশিয়া ইত্যাদি দেশের ম্যাজেস্টিক বা কসমিক সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়া অ্যাবাভ টপ সিক্রেট স্পেশাল এক্সেস হাইলি ট্রেইন্ড এজেন্টরা -- যাদেরকে মিশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর মাথা থেকে মেমরি মুছে দেয়া হয়। শুনতে রূপকথার মত লাগলেও, আমাদের এই ব্রেইনওয়াশ মেট্রিক্সেই একটা কথা আমরা অহরহ বলিঃ ট্রুথ ইজ স্ট্রেইঞ্জার দ্যান ফিকশন। আর আমাদের ক্ষেত্রে, ইট ইজ মাচ মাচ স্ট্রেইঞ্জার।

Friday, October 16, 2015

draco part 15 (in bengali)

ড্রেকো ১৫

আমার এই লেখা এক ধরণের আক্রমণ, যা থেকে আমার আত্মীয়, বন্ধু, শত্রু, কেউ রেহাই পায়না। আমি দাবী করতেসি যে আমি একজন আন-হিপ্নোটাইজড, ব্রেইনওয়াশ-ডিটক্সড, মেট্রিক্স থেকে আনপ্লাগড, জাগ্রত এবং সচেতন ব্যক্তি। এই সচেতনতা নুহু ভাই, মিরাজ, আদিব, অভিজিত, মেহেদি, ব্রাত্য রাইসু, আহমেদ ছফা, রন ইশতিয়াক (আমার ভাতিজা), নোম চমস্কি, অরুন্ধতী রয়, ইত্যাদি যেকোনো মেইনস্ট্রীম ইন্টেলেকচুয়াল থেকে আলাদা। এর কারণ সমস্ত মেইনস্ট্রীম কনসেপ্টগুলাকে আমরা মিথ্যা মনে করি। অজস্র মিথ্যা মিলায়ে মিশায়ে তৈরি করা হইসে একটা মাইন্ড মেট্রিক্স যেটাকে বাংলায় আমি বলি মনখাঁচা। এই খাঁচা ভিতর থেকে তালা দেওয়া। অর্থাৎ, আমরা চাইলে এই খাঁচা খুলে বের হতে পারবো, কিন্তু সেই চেষ্টাটাই করিনা, কারণ আমরা বুঝতেই পারিনি এখনও যে আমরা বন্দী। যে দাস বুঝতেই পারেনা যে সে একজন দাস, সে পালাবার চেষ্টা করেনা। এই দাস হল শ্রেষ্ঠ দাস। আমরাই সেই শ্রেষ্ঠ দাস। আর আমার এই লেখা এই দাসত্ব থেকে নিজেদের মুক্ত করার একটা ছোট্ট প্রচেষ্টামাত্র।

সচেতনতা আসার একটা পূর্বশর্ত হল এই ব্যাপারটা বুঝতে পারা যে আমরা সবাই যা কিছু জানি আর বিশ্বাস করি, সব ভুল। এটার পিছনে কারণ হল যে আমাদেরকে খুব সিস্টেম্যাটিকভাবে ছোটবেলা থেকে অজস্র ভুল ধারণা দিয়ে দিয়ে একটা মিথ্যার রাজ্যে ঢুকানো হয়, যেটা একটা স্বপ্নের রাজ্য। এই স্বপ্নের মধ্যে আটকা পড়ে আমাদের কাছে মনে হয় যে টাকা-পয়সা, ধর্মকর্ম, রাজনীতি, সেক্স, গাড়িবাড়ি, জমিজমা, শাড়ি গহনা, সোশাল স্ট্যাটাস, দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া, ইত্যাদি খুব জরুরি। তাই আমরা চারপাশে তাকায়ে দেখতে থাকি যে কোন পথে গেলে আমার জন্য টাকা কামানো সবথেকে সহজ। যার মেধা ভাল, সে চলে যায় কর্পোরেট লাইফে। বিরাট বেতন, দামী গাড়ি, ক্রেডিট লাইন, স্টক মার্কেটে ইনভেস্টমেন্ট, উইকেন্ড পার্টি, ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে একজন হিপস্টার হয়ে যায়। যারা পড়ালেখায় ধরা খাওয়া, এরা তখন বুদ্ধি খাটাতে থাকে অন্য রাস্তায় গিয়ে কিভাবে ওই কর্পোরেট চালাকদের উপর টেক্কা মারা যায়। এরা চলে যায় দুই নম্বরিতে -- রাজনীতি, সরকারি চাকরি, ব্যাংক লোণ, পুলিশ, জনগণের টাকা মেরে খাওয়া, ইত্যাদি। অতি বুদ্ধিমানরা ঢুকে যায় আইন, ডাক্তারি, এঞ্জিনিয়ারিং, ইত্যাদি লাইনে। যারা শারিরিক পরিশ্রম করতে পারে ওরা যায় টেনশনবিহীন মিলিটারি লাইনে। এভাবেই শুরু হয়ে যায় আমাদের দাসত্বের জীবন।

উপরে যাদের নাম দিয়েছি এদের প্রত্যেকের বুঝতে হবে কোন একদিন যে ওরা কিছুই ঠিকভাবে জানেনা বা বোঝেনা। এটা ওদের জন্য চরম কঠিন একটা বিষয় কারণ ওরা সবাই নিজেদেরকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান আর নলেজেবল মনে করে। যে কোন ডিবেটে এরা সাধারণত জেতে এবং প্রায়শই শেষ কথাটা এরাই বলে সব ব্যাপারে, যে কারণে এদের একটা অদম্য ইগো থাকে যেটা ভেঙ্গে বের হওয়া খুব কঠিন। এই অতি বুদ্ধিমান স্মার্ট লোকগুলা হল মেট্রিক্স ছবিটার এজেন্ট স্মিথের মত গেইটকিপারস -- এদের কাজ হল মেট্রিক্সটাকে অক্ষত রাখা এবং কেউ এটা থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া। আমার বা নিও এর মত কেউ যখন মেট্রিক্স থেকে বের হয়ে যায়, তখন মেট্রিক্সের ভিতরে হিপ্নোটাইজড হয়ে থাকা প্রত্যেকটা অসচেতন মানুষ হয়ে যায় একেকজন পটেনশিয়াল এজেন্ট স্মিথ -- এরা তখন আমাদের সঙ্গে শত্রুর মত আচরণ করতে থাকে এবং আমাদের কোন কথা পাত্তা দেয় না, বা কেউ যদি পাত্তা দেয়া শুরু করে, সাথে সাথে গিয়ে তাকে সাইজ করে ফেলে -- ড্যামেজ কন্ট্রোল করার জন্য।

ছোটবেলা থেকে আমাদের শিক্ষা, ধর্ম, কালচার, মিডিয়া, ইত্যাদির মাধ্যমে যা কিছু শিখানো হয় সবকিছু হল একধরণের মাইন্ড কন্ট্রোল বা মগজ ধোলাই। এর ৯৫% থেকে ৯৯% ভাগই মিথ্যা। আপনি হয়ত ভাবছেন, এটা সম্ভব না, কিন্তু আসলে ব্যাপারটা সম্ভব এবং সত্যি, যেটা আপনারা আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন, একদিনে নয়। আমাদের দেশের যে অসাধারন দুর্নীতি, এর পিছনে কারণটা খুব সহজ অথচ কেউ কখনও এটা নিয়ে চিন্তা করেনা বা অর্থপূর্ণ কোন বক্তব্য রাখে না। আমাদের উপার্জনের সিংহভাগ সরকার, কাস্টমস, কর্পোরেশন, ব্যাংকিং, ইত্যাদির মাধ্যমে চুরি হয়ে যায়। পুরা টাকাটাই বিভিন্ন রাস্তায় দেশের বাইরে চলে যায় আর এই ব্যবস্থাটা দেখাশুনা করার দায়িত্বে যারা থাকে, তাদেরকে আমরা সরকার বলি। সরকারের প্রধান কাজ হল দেশের টাকা যত বেশী সম্ভব বিদেশে পাচার করে দেয়া। এইকাজে যারা সহায়তা করে, তাদেরকে ঢালাওভাবে পুরস্কৃত করা হয়। আমরা যে নাকে মুখে ১৫% ভ্যাট দেই, এর একটা টাকাও আমাদের কোন কাজে লাগে না। আপনারা যে ফ্লাইওভারএর কথা বলে বিগলিতভাবে আওয়ামীলীগের পিঠ চাপড়াতে থাকেন, ওটা যৎসামান্য -- তাও সম্ভবত ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে লোন নেয়া যেটার সুদের ভার আপনার আর আপনার ছেলেমেয়েদের ঘাড়েই পড়বে। নিশ্চিন্ত থাকেন।

মোদ্দা কথা, পৃথিবীটা যে সিস্টেমে চলে বলে আপনারা মনে করেন, তার পুরাটাই ভুল। পৃথিবী সেভাবে চলে না। শুরুতে যাদের নাম নিয়েছি ওরা অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করে, তাহলে আপনার মতে আমাদের সমাধানটা কি? এর উত্তরে আমি বলব, সমাধান পরে, আগে আপনারা প্রব্লেমটা বোঝার চেষ্টা করেন। এখনও প্রব্লেমের ৩% আপনারা বুঝে উঠতে পারেননি -- কারণ এখনও আপনারা এজেন্ট স্মিথের মত আচরণ করে যাচ্ছেন। আগে নিজেকে জাগান। দুই একজনকে দেখি তারা খুব ফ্রাস্ট্রেটেড যে আশেপাশের কাউকে জাগাতে পারছে না। কিন্তু তাদের নিজেদের অবস্থান দেখে আবার আমার হাসি পায়। এখানে ভাববেন না যে আমি নিজেকে একধরণের সবজান্তা ভেবে বসে আছি -- সেটা করলে তো হাস্যকর হয়ে যাবে। আমার কিছু সচেতন বন্ধুর সাথে আমার অহরহ টোকাটুকি হয় যে কে ঠিক কে ভুল। আমরা একটা ওয়ার্কিং হাইপোথিসিস নিয়ে কাজ করি যেটা হামেশা বদলায়, কিন্তু এটা কোন দুর্বলতা না, বরং এটাই আমাদের শক্তি। মেট্রিক্স থেকে বের হতে হলে অনেকগুলা স্তর পার করতে হয়। একেকটা স্তর পার হলে নিজেকে খুব পণ্ডিত মনে হয় কিছুদিন, কিন্তু পরে দেখা যায়, ব্যাপার আসলে অন্য। আস্তে আস্তে পরের স্তরটা চোখে পড়তে থাকে। ডেভেলপমেন্টটা এইজন্য হয় ধীরে ধীরে। কনফিডেন্সটা আস্তে আস্তে বাড়ে। কাজেই আমি বলব যে সচেতনতা আমার পর্যায়ে আসতে অনেকেরই সময় লাগবে, কারণ আমি কাজ শুরু করসি অনেক আগে। কিন্তু তার মানে এই না যে আমি চিরতরে সবার উপরে থাকব। আমার এই মুহূর্তের যে সামান্য অগ্রগতি তা নিয়ে বেশী গাগা হয়ে গেলে ধরা খাব।

Wednesday, October 14, 2015

the art & practice of caballa magic - ophiel (pdf)

draco part 14 (in bengali)

ড্রেকো ১৪

ছোটবেলাতে যেসব আত্মীয় স্বজনকে অনেক কাছে পেয়েছি, বিভিন্ন অর্থনৈতিক আর সাংসারিক কারণে তারা আস্তে আস্তে দূরে সরে গেছে। একবার আমি দ্যুম করে ঢাকায় এসে ঘুরে গেলাম। তখন চাচারা জিজ্ঞাসা করল, দাদার সাথে দেখা করনি? আমি তখন বলসিলাম যে আমার প্ল্যান ছিল না। এটা যে আমার কত বড় অপরাধ হইসে তা বুঝতে বোধহয় আমার আরও ২০ বছর লাগসে। আমার চাচারা সেই সময় থেকে আমাকে আদর করা বন্ধ করে দিসে যেটা আমি এখন বুঝতে পারি। আব্বার করা বিভিন্ন বাড়িগুলা চাচারা কিনে নিয়ে গেসে। আর আম্মার সাইডে ভুয়া দলিল করে নানা-নানির সব সম্পত্তি মামারা আর কাজিনরা ভাগ বাঁটওয়ারা করে নিসে। এটাই তো আসল দুনিয়া, তাইনা? আজকাল আমি সারাদিন পিসির সামনে বসে থাকি তাই আমাদের বুয়া ভাবে আমি বোধহয় একটা অপদার্থ বলদ। আঞ্জি আমাকে বলে একদিন বাসে উঠাবে যাতে আমি বুঝতে পারি বাংলাদেশের জীবনযাত্রা কেমন! আজকাল সবাই বলে অ্যাল-বিএনপি সমান সমান, হাওয়া ভবনে নাকি তারেক রহমানরা অ্যালের মতই দুর্নীতি করসিল -- কি জানি,হয়ত ওরা কয়েকজন একাই সব খেতে গিয়ে ধরা খেয়ে গেসে। এইদিক দিয়ে অ্যাল আবার ঠিক আছে -- সবাইকে দিয়ে থুয়ে দুর্নীতি করে, আর এইজন্যই মনে হয় এরা এত পপুলার একটা দল। কিন্তু র‍্যাব যখন তারেকের কোমর দুই-তিন জায়গায় ভেঙ্গে দিল আর বাবরের মত একটা আমেরিকান হিপস্টার বয়কে রাতারাতি হেরোয়িনখোর ধ্বজ অথর্ব চেহারা বানায়ে দিল -- তখন খুব খারাপ লাগসিল, যদিও ওকে আমার মোটেও কখনও ভাল লাগত না।

এখন আর কেউ জিয়ার কথা বলতে সাহস পায় না। প্রত্যেকদিন সে যে তার মন্ত্রী পরিষদ নিয়ে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শনে যেত, তখন জিয়া হাঁটত আর অন্যরা দৌড়াতো হাঁসফাঁস করতে করতে -- এই জিনিষ বহুবার টিভিতে দেখসি এটা মনে আছে। এখন এইসব কথা বলা মানে বিএনপির একটা সিল নিজের পিঠে মারা -- সে আর বলতে। সিলের খ্যাতা পুড়ি, আমার যা ভাল্লাগে তা কমুই। নীলফামারীতে জিয়া খালটা দেখে আসছি। আমাদের আসাদুজ্জামান সাহেবের এরিয়াটা তো বেশ সুজলা সুফলা হয়ে আছে ওই খালের বদৌলতে। কিন্তু যেটা আমি কিছুতেই ভেবে পাইনা, তা হল, এই খাল খননের বুদ্ধিটা জিয়ার মাথায় কিভাবে আসলো? কে তাকে সার্ক সম্মেলন করার বুদ্ধি দিল? বাংলাদেশের মত দেশে, যেখানে আমাদের কথায় কথায় জাত যায়, সেখানে সে নির্বিকারে কোদাল মেরে নিজে খাল কাটলো, নিজেই গাছ পুঁতল। বৃক্ষরোপন কর্মসূচী তো অ্যামেরিকানরা শিখল এই সেদিন। জিয়ার মাথায় এইসব আইডিয়া সেই সময় কে ঢুকাল? তারেকের কথা বলি, ও তো বগুড়া শহরের চেহারা পালটে দিল আর যাদের জমিজমা বাড়িঘর গেসে, তারা সবাই মোটামুটি ক্ষতিপূরণ পাইসে। বগুড়ার লোক আমি যদ্দুর জানি তারেকের কাজে সন্তুষ্ট। যদিও শুধু নিজের এলাকার উন্নতি করা একটা বিশ্রী ব্যাপার -- তবু কিছু কাজ তো হইসিল আর বগুড়ার লোকেরা এখনও তার সুফল পাচ্ছে।

আমার জানামতে, এরশাদকে যে বাংলাদেশের হাইওয়ে করার জন্য বাহবা দেয়া হয় তার সব কয়টার কাজ শুরু করে গেসে জিয়া। এরশাদ জিয়াকে মেরে গদিতে বসে ওর ক্রেডিটগুলা আরামে নিজের পাতে নিয়ে গেসে। যাই হোক এরশাদের কথা বলে সময় নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু বিএনপি ধ্বংসের পিছনে আমি আওয়ামীলীগ দেখি না, দেখি র। যদিও ডার্টিওয়ার্কগুলা লীগই করে, কিন্তু মাস্টারমাইন্ডটা লীগ না, এটা বোঝা যায়। লীগকে চালায় র -- আর র কে চালায় ড্রেকোরা -- ড্রেকোদের চালায় আর্টিফিশিয়াল ব্ল্যাক গু এআই -- আর ওই এআই চালায় কারা? সেই প্রশ্নের উত্তরও একদিন বের হবে।

একটা গিয়ার শিফট করি। বাংলাদেশে সবাই ধর্মান্ধ না। শুধু বিপদে পড়লে তখন আর আল্লাকে ডাকা ছাড়া উপায় থাকে না -- এই ঝামেলা না থাকলে অনেকেই আমাদের কথা শুনত। আমারও একজন ইমাজিনারি ফ্রেন্ড আছে যে আমাকে নিরাপত্তা দেয়। কখনও খুব বাজে লাগলে আমি তার সাথে মনে মনে যোগাযোগ করি। ওখান থেকে শক্তি নেই। কিন্ত আজকাল আমার মন ভাল থাকে বেশীর ভাগ সময়। নক অন উড! মাথা শান্ত থাকে। কোন কিছু নিয়ে টেনশন করি না আর। আগে মোটেও এরকম ছিলাম না। কিছুটা হলেও নিজেকে বদলাতে পারসি। এখন দাবী করে বলতে পারি যে নিজের অবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে দোযখের আগুনে পোড়ার যে ভয়টা একদম পিচ্চিকাল থেকে আমাদের মাথায় ঢুকান হয়, ওইটা কাটতে কিন্তু সময় লাগে। আমি বেশ কয়েকজনকে দেখসি যারা বিভিন্ন কন্সপিরেসি নিয়ে প্রচুর পড়ে, কিন্তু ভিতরের ভয়টা কাটাতে পারে না বলে, সব পড়াশুনাকে ইসলামিকভাবে ফিট করার চেষ্টা করে। সবকিছুকে ওরা কোরান দিয়ে ব্যাখ্যা করে বা ইসলামিকভাবে বিশ্লেষণ করে দেয়। এতে ঝামেলা যেটা হয়, তা হল, গোড়ার মগজ ধোলাইটা থেকেই যায়, এবং এরকম একজন ব্যক্তিকে সহজে আবার কাত করে দেয়া যায় কারণ সে কোন সলিড আন্ডারস্ট্যান্ডিঙের উপরে দাঁড়ান নাই।

এখানে আমার মন্তব্য হচ্ছে, ঈশ্বরে বিশ্বাস আর ধর্মবিশ্বাস, দুইটা দুই জিনিষ। আমার মতে ঈশ্বরে বিশ্বাসটা ভাল, আর ধর্মবিশ্বাসটা খারাপ। প্রথমটা আমাদের কাজে আসে, পরেরটা আমাদের ক্ষতি করে। এখানে বলে রাখা ভাল, যে আমাদের ঈশ্বর, যাকে আমরা সোর্স বলি, প্রাইম ক্রিয়েটর বা ওয়াননেস বলি, সে খুবই অ্যাবস্ট্রাক্ট একটা আইডিয়া -- সোর্স কখনও কাউকে নামাজ পড়তে বলবে না। যখনই আমরা দেখি যে কেউ আমাদেরকে একটা কাজ বারবার করতে বলছে্‌ তখনি বুঝতে হবে যে এটা আমাদেরকে অভ্যাস করানো হচ্ছে। এটাকে ম্যাগ্নেটাইজ করার সাথে তুলনা করা যায়। বারবার ঘষে ঘষে একটা লোহাকে চুম্বক বানানো -- এটাই হল মগজ ধোলাই। কারণ এই মানব-চুম্বক এখন বিভিন্ন কাজে লাগান যাবে -- কিন্ত আমাদের সুবিধার্থে না, অন্য কারও সুবিধার্থে। যখন কেউ এই ব্যাপারটা পরিস্কার বুঝতে পারে, তখনই তার টনক নড়ে যায়, আর এরপর থেকে তার ভয়টা আস্তে আস্তে কাটতে থাকে, এবং একদিন সে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু এই কাজটা কাউকে দিয়ে জোর করে ঠেলে করাতে গেলে যে হিতে বিপরীত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

উপরের প্যারাটা লিখেই শেষ করতে গিয়ে মনে হল আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল। আমাকে নির্ঝর থেকে শুরু করে জেসি পর্যন্ত সবাই বলসে যে, আপনার এইসব কথা বাঙালি হজম করতে পারবে না। খুব আস্তে আস্তে ওদের বুঝাতে হবে। যে কারণে অন্য কেউ আমার মত এভাবে মনের কথা লিখে ফেলেনা কখনও। সত্যি বলতে আমার অত ধৈর্য নাই, আর আমি মনে করি আমরা যথেষ্ট কালচারালি ম্যাচিউর একটা জাতি। একজন বলা শুরু করলে আরও অনেকেই এটার রেশ ধরে আরও অনেক কিছু বলবে। কিন্তু সবাইকে বলে রাখি, ধর্মবিশ্বাসটা আমাদের বাঙালির স্পিরিচুয়ালিটির ফাউন্ডেশন। আমি রেকমেন্ড করবো না যে কেউ আমার দুই একটা কথাতে কনভিন্সড হয়ে ওটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিক। সবকিছু ঠাণ্ডা মাথায় বুঝে করবেন। হুজুগে বাঙালির মত ফাল পেড়ে কিছু করতে গেলে ধরা খাওয়ার চান্সটাই বেশী।

Tuesday, October 13, 2015

draco part 13 (in bengali)

ড্রেকো ১৩

বুয়েটে আমার এক দোস্ত আর আমি, দুজনেই একই মেয়ের প্রেমে পড়সিলাম, তবে যা মনে হয়, মেয়েটা আমাকে বেশী পছন্দ করতো। আমরা মাঝে মধ্যে একজন আরেকজনকে চিঠি দিতাম, কিন্তু প্রেম নিবেদন ব্যাপারটা ঠিক ধরতে পারিনাই; আবুল ছিলাম। পরে আমি চলে যাই নিউ ইয়র্কে। এর মধ্যে আবার ওর এক বান্ধবী আমার প্রেমে পড়ে যায়। পরে ওর ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদে পড়ে আমরা বিয়ে করি, কিন্তু সেটা টেকেনি। এই কারণে অবশ্য আমার বুয়েটের অনেক বন্ধুই এখনও আমাকে ক্ষমা করতে পারেনি। বাঙ্গালিরা বড্ড বেশী জাজমেন্টাল। আমার এই গল্পটা এখানে লেখার কারণে আমার এখনকার রিলেশনশিপে ঝামেলা হলে আশ্চর্য হবোনা। কারণ আমি জানি আমার পরিচিত অনেকেই আমার লেখা গোপনে পড়ে এবং কোনভাবে এগুলাকে কাজে লাগানোর ধান্দায় থাকে। যেমন আমার এক আপন দুলাভাই, আমার ধারনা আমার ব্যাংক থেকে সমস্ত টাকা চুরি হয়ে যাওয়ার পিছনে সে দায়ী। সে আমার বউকে আমার সাথে ডিভোর্স করানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করসে। সে আমার বোনের সাথে কুকুরের অধম ব্যবহার করে। আমার বোন ভীতু মানুষ। আমি অ্যামেরিকায় আর থাকি না বলে সে ডিভোর্স দিতে সাহস পায়না। সাপোর্ট দেয়ার যে কেউ নাই। দুলাভাই সাহেবও এটা বুঝে তাকে গাড়তে থাকে। এভাবেই চলে আমাদের বাঙালি জীবন।

একজন এভারেজ বাঙালির চিন্তাভাবনা সাধারণত যে জগতে বিচরণ করে, আর আমি এই গল্পে যা বুঝাতে চাচ্ছি, এই দুটার মধ্যে একটা অগাধ দূরত্ব আছে। আশাকরি আপনারা বুঝবেন যে এটা কোন পণ্ডিতি জাহির করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা না। মিরাজের কথা বলি -- সে প্রতিদিন প্রচুর লেখে, হাজার হাজার ছবি তোলে, গান গায়, পার্টি দেয়, শত শত মানুষের খোঁজ খবর রাখে, তার ক্যাডেট কলেজের প্রোগ্রামের দায়িত্ব নেয়, একজন প্রাক্তন অ্যাথলেট, লাভারবয়, পেইন্টার, ডাক্তার, অ্যাডমিন, কলামিস্ট, ঢাকা শহরের একজন ডাকসাইটে হিপস্টার যাকে কালচারালী আমার কাছাকাছি ধরা যায়। ওর মধ্যে যেটা মিসিং, সেটা হল সোরসারী -- টোল্টেক সমনিস্টিক স্টকিং-ড্রিমিং, আর ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজার। ও নিজেকে সবার উপরে ভেবে অভ্যস্ত, এই জন্য আমি কি জিনিষ তা ধরতে পারেনা -- আর আমার মত কুরিয়ার লেভেলের স্টকাররা ঠিক এটাই চায়। এখানে আমার জোকটা ধরতে হলে আপনাদের ক্যাস্টানেডা পড়া থাকতে হবে। আমরা আবার কাফকা-ক্যামু থেকে শুরু করে, নিতশে-স্পিনোজা-বিটোভেন-গিন্সবারগ-কুঁদেরা-কুরেশি-রুশদি কিছুই বাদ দেইনি যে কারণে ওই হিন্দি সাইডটাতে উইক হয়ে গেছি। এইজন্য এভারেজ বাঙালির সাথে আমাদের কিছু তফাৎ। কিন্তু আলুভর্তা আর ডাল্ভাত কি জিনিষ, তা বুঝতে বোধহয় অ্যামেরিকা চষে আসার দরকার হয় না।

এবার বলি নুহু ভাইয়ের কথা। সে আমার চেয়ে বয়সে ছোট, কিন্ত তাকে আমি ভাই বলি। এর কারণ হল তার ব্যক্তিত্ব। সে তার হৃদয় দিয়ে সবকিছু অনুভব করে। এই নষ্ট হয়ে যাওয়া বেশ্যা দেশটাকে সে আমূল বদলে দেয়ার কাজ করে যাচ্ছে। সে সবাইকে খুব ভালবাসে, আর তাই সবার অকর্মণ্যতা তাকে বড্ড দুঃখ দেয়। আমি যখন তাকে ড্রেকোদের কথা বলি, সে মন দিয়ে শোনে, কিন্তু বুঝতে পারেনা যে এটা জেনে তার কি লাভ। সে চায় আমরা সবাই সংবিধানটা বুঝি। তবেইনা আমরা পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবো। আমি অবশ্য তার সাথে একমত নই। যেমন অ্যামেরিকার পুলিশ আইন যথেষ্ট ভাল জানে, কিন্তু তারপরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রচণ্ডভাবে। ছাত্রলীগ কি বোঝে না ওরা ক্রাইম করতেসে? কাউকে চাপাতি দিয়ে কোবানো বা গুলি করা যে অন্যায় এটাকি ওরা জানে না? তারপরও উপরের লেভেল থেকে ওদেরকে অস্ত্রশস্ত্র দেয়া হয়। যে যত ক্যাম্পাস দখলে রাখতে পারে তার ক্ষমতা তত বেশী। সংবিধানে তো ভাই এই বিষয়ে কিছু বলা নাই।

আমাদের তালুকদারের কথায় আসি। ওতো চাপাতি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ক্যাডার ছিল। কোপ খাওয়া আর দেওয়া দুইটাতেই বেশ অভিজ্ঞ। তারপরে সুযোগ বুঝে একদিন ওকে দেওয়া হল পিস্তল। ওরা বুঝছিল এই ছেলের বিচির সাইজ বড়। কিন্তু বিধি বাম -- ওর ব্রেনের সাইজও যে একটু বড়, সেটা ওর সিনিয়রদের ব্রেনে কুলায় নাই। আস্তে করে বের হয়ে গেল ছেলেটা। হয়ে গেল নিরীহ সাংবাদিক। এখন মেয়েরা ওর সেলফিতে লাইক মারে আর ইনবক্সে খুঁজতে থাকে, তালুকদার ভাই, আপনি কই? ও তখন বসে আছে আমার সঙ্গে হাতির ঝিল -- দুইজনে মিলে তাকায়ে আছি আকাশের দিকে -- নীল রঙের একটা ইউএফও এর অবতরণ দেখতেসি।

এরকম গল্পতো কতই লেখা যায়। লাভ কি? দুই একজন বাহবা দিবে? এইসব খুচরা ফাঁপরে কোনোদিনই স্যাটিস্ফাইড হতে পারিনি। আমাদের উদ্দেশ্য হল আস্ত ব্যাংকিং সেক্টরটাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া। এটা যে একদিনে হবে না, তা বলাই বাহুল্য, কিন্তু এই কাজটা পারতে হলে আমাদের সবার একসাথে কাজ করতে হবে। একটা খুব ভাল উদাহরণ আমাদের ছেলেমেয়েরাই কয়দিন আগে দেখালো আমাদের -- শিক্ষাতে কোন ভ্যাট চলবে না। সবাই মিলে একসাথে দাঁড়ায়ে বলল "না" -- আওয়ামীলীগের বাপের সাধ্য নাই কিছু করে। ব্যাপারটা কিন্তু এতটাই সহজ যদি আমরা বুঝতে পারি যে কি করতে হবে। যদি আমরা একমত হতে পারি। আমাদের সংসদ, সংবিধান, কিচ্ছু মানার দরকার নাই। এইটাই আমাদের ক্ষমতা। এইটাই আমাদের জনবল। এটাকে দমায়ে রাখার জন্যই তো এত মগজ ধোলাই এত বিভাজন এত নাটক! কাজেই আমাদের একজন আরেকজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনাটা খুব জরুরি।

কেন আমি নিজের ঢাক নিজেই বারবার পিটাই? কারণ আমার মত এক্সপেরিয়েন্সের একজন মানুষ যখন বলে যে রেপ্টিলিয়ান নামে কিছু প্রাণী মানুষ খায় -- তখন আপনাদের সেটা সিরিয়াসলি নেয়া উচিত। কিন্তু তার বদলে আপনারা নিজেদের অত্যন্ত পণ্ডিত মনে করে আমাকে ছাগু আখ্যা দিয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। যখন আমি জাকারিয়া সিচিন বা লয়েড পাইএর রেফারেন্স দিয়ে বলি যে মানুষের জেনেটিক ডিজাইন করেছে ২২টা ইটি গ্রুপ, তখন আপনাদের বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখা উচিৎ। আমাদের ধর্মগুলার সোর্স কি ঈশ্বর, নাকি মাটির নিচে বাস করা কতকগুলা অতি-উন্নত মানুষ? এই বিষয়গুলা প্রমাণসহ যাচাই করার সময় কিন্তু অনেক আগেই হয়ে গেছে।

আমাদের বাঙ্গালিদের একটা বদ অভ্যাস পশ্চিমা বিশ্বের দিকে হাঁ করে তাকায়ে থাকা আর ওরা যা করে ওটা ১০০ বছর পরে কপি করে সেলেব্রিটি হয়ে যাওয়া। ন্যাক্কারজনক!

আর একটা কথা বলে আজকে শেষ করবো, আমরা যদি আজকে থেকে আমাদের মিডিয়া একদম ফলো না করি আর কোনদিন -- কিচ্ছু হবে না। কারও কোন ক্ষতি হবে না, বরং প্রচণ্ড লাভ হবে। দেশে যে সব অঘটন ঘটছে, তার বেশীর ভাগই ঘটাচ্ছে সরকার নিজে। পুলিশ চাইলে ৭ দিনে সমস্ত ক্রাইম বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তাহলে ঘুষ খাবে কে? দেশে কি নুহু ভাইয়ের মত ভাল লোক নাই? অবশ্যই আছে, কিন্তু ওই ব্যক্তিটাই যদি ক্ষমতা পায়, তখন কি সে ড্রেকোদের বিরুদ্ধে যাওয়ার মত সাহস নিয়ে চলতে পারবে? যাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে সে জানেই না? সে কি র-এর ব্ল্যাকমেইল ঠেকাতে পারবে? সেকি সিআইএ আর মোসাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস রাখবে? কিসের ভিত্তিতে সে এটা পারবে? কে তাকে বাঁচাবে? বাংলাদেশের সেলফি তোলা আর হিমু রোমান্টিসিজমের হীনমন্যতায় ভোগা ধর্মান্ধ সেন্টু বাঙালি তখন পারবে তার পিছনে দাঁড়াতে?

Monday, October 12, 2015

draco part 12 (in bengali)

ড্রেকো ১২

কঠিন বিস্টি গেল। গায়া-সোফিয়া মন ঠান্ডা করে দিল তবে আমাদের অপদার্থ মন্ত্রনালয়গুলার কারণে সবখানে পানি জমবে। ঢাকার কমিশনারগুলাকে যদি বাইন্দা পিটান যাইত, বা ঢাকার মসৃণ রাস্তায় নাক খত দেয়ান যেত, আহ কি আরামটাই না পেতাম! কয়দিন আগে না মেয়র ইলেকশন নামে একটা ফাইজলামি হল? যথারীতি ড্রেকো-র পার্টি লুটপাট করে প্যাঁদানি দিয়ে আওয়ামী সমর্থিত পুতুলদের গদিতে বসায়ে দিল। আমার পরিচিত কিছু লোকজন ভোটকেন্দ্রে কাজ করসিল কিন্তু টুঁ শব্দ করে বলল না যে আওয়ামীলীগ চরম গুণ্ডামি করতেসে। শুধু ফেসবুকের প্রাইভেট মেসেজে এসে ভয়ে ভয়ে বলে, আরে ভাই সবই তো দেখসি, কিন্ত বলা যাবে না। এরকম নগ্ন কাপুরুষতা দেখলে মনটা খুব দমে যায়। ও একা তো না, প্রত্যেকটা মানুষ এরকম -- সত্যি কথা বলার সৎসাহস একটা লোকেরও নাই। দুই একজন যারা বলে তাদের কথা কেউ শোনেনা, বা শুনলে মার খেয়ে যায়, বা ফেসবুক একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপির লোক হলে ভুয়া কেসে ফেঁসে যায়। নির্ঝর আমাকে বলে, ভাই বিএনপিএর অবস্থাও আমি জানি, র এর এজেন্ট ভরা ওগোর মধ্যে। দেশের সব বড় পোস্টগুলাতে র এর লোক বসানো। raw কে উলটা করলে হয় war --ভুলেও ভাববেননা যে এটা একটা কোইন্সিডেন্স। ড্রেকোরা খুব মজা পায় এই ধরণের ছোট ছোট চালাকি করে। ওরা সবখানে ওদের ক্লু (clue) রেখে যায়, আর চিন্তা করে মজা পায়, দেখি কতদিনে এই বলদেরা আমাদের ক্লুগুলা ধরতে পারে!

বাংলাদেশে এরশাদ আর আমেরিকায় ট্রাম্প হল গিয়ে ফিফথ কলাম। আমাদের আছে আল বিএনপি ইসলামি সোশালিস্ট -- এর মধ্যে তারেকের মেরুদণ্ড আর বড় ব্যবসাগুলাকে ধ্বংস করে দেয়ায় বিএনপি মোটামুটি সাইজ। ইসলামি দলগুলা কন্ট্রোল করে সৌদি-জায়নিস্টরা -- ওদের ফোকাস এই মুহূর্তে অন্যদিকে কারণ যা আন্দাজ করা যায়, ড্রেকো বসেরা দৌড়ের উপর আছে। একদিকে পুটিন শক্ত মার দিচ্ছে জায়নিস্ট আইসিসকে, আরেকদিকে গ্যালাক্টিক ডিস্ক্লোজার খুব জোরে শোরে হচ্ছে -- সবাই জেনে গেছে যে আমাদের মাটির নিচে অনেকগুলা সভ্যতা আছে; ডীপ স্পেসে আমাদের কয়েকটা ব্রেকএওয়ে সিভিলাইজেশন আছে যাদের স্পেস ট্র্যাভেল, টাইম ট্র্যাভেল থেকে শুরু করে আরও অনেক অসাধারন টেকনোলজি আছে। আমরা বুঝে গেছি যে ভ্যাটিকান শুধু যে আমাদের সমস্ত সম্পত্তির মালিক, তাইই নয়, ওরা আমাদের সবার আত্মারও মালিক। আমাদের সবার সোউল ওরা ওউন করে। ভ্যাটিকান সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান নাই বললেই চলে। ভ্যাটিকানের জেজুইটরা হল পৃথিবীর সবথেকে ভয়ংকর শক্তি। এমআই৬, সিআইএ, এনএসএ, মোসাদ, ইত্যাদি এদের তৈরি করা। ধারণা করা হয় যে ব্ল্যাক গু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ঘাঁটিটা ভ্যাটিকানের নিচেই লুকানো। তবে এ ব্যাপারটা খুব বেশী লোক কনফার্ম করেনি এখনও।

আমাদের ডিস্ক্লোজারের দুইটা বড় দিক হল ব্যাংকিং আর ফার্মা -- দুইটাই বিশাল বড় স্ক্যাম। অ্যামেরিকার ফেডারাল রিজার্ভ আর বিস (ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটলমেন্টস) হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুইটা জালিয়াতির জায়গা। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অরগানাইজেশনের কাজ হল গরীব দেশগুলা যেন চিরতরে গরীব থাকে তার ব্যবস্থা করা। আমাকে সবাই জিজ্ঞাসা করে, তাহলে সমাধানটা কি? সমাধানটা আমি বলে দিচ্ছি, প্লিজ একটু খেয়াল করে শোনেনঃ আপনার-আমার জানার পরিধি বাড়াতে হবে ১০০ গুন। আমার উচ্চশিক্ষিত বন্ধুরা যারা প্রতিদিন রাম-শাম-যদু-মধু লিখে বাহবা কুড়াচ্ছেন, এদের একটু নড়ন চড়ন হওয়া বাঞ্ছনীয়। আপনারা কি জানেন যে ক্যান্সার কোন ব্যাধি না, এটা একটা ব্যবসা? এর চিকিৎসাটা লুকায়ে রাখা হয়েছে যাতে ব্যবসাটা রমরমা চলে। শুধু ক্যান্সার না, প্রত্যেকটা রোগের ক্ষেত্রেই এই চালাকিটা করা হচ্ছে। ওষুধ খেয়ে কোন রোগই আর সারে না। হাল্কা প্রশমিত হয়। যতক্ষণ ওষুধ খাবেন, ঠিক ততক্ষন ভাল থাকবেন। আর সঠিক চিকিৎসা পেতে চাইলে বিদেশে যেয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হবে। কাজেই, সবকিছুর সমাধান হল গিয়ে জনগণকে শিক্ষিত করা। জনগণের বুঝতে হবে যে ড্রেকোদের মত কিছু ভয়ংকর চিড়িয়া গোপনে আমাদের সাথে ফাইজলামি করে যাচ্ছে -- আর আমরা এতই বলদ যে ব্যাপারটা বুঝতেই পারছিনা। কেউ বুঝাতে আসলে হেঁসে গড়াগড়ি দিয়ে তাদেরকে পচানি দিয়ে থামায়ে দিচ্ছি। এই অবস্থা চলতে থাকলে কোন সমাধান পাওয়া যাবে না।

সমাধান হল, আমাদের সাংবাদিক আর রিপোর্টারদের অন্য গ্রহের প্রাণীদের দিকে ফোকাস করা। অন্য গ্রহের প্রাণীরা কেন পৃথিবীতে এসে আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে, এটা বোঝা খুব জরুরি। ওদের কি খেয়েদেয়ে কোন কাজ নাই? ওরা কি চায় আমাদের কাছে? কি বলতে চায়? ব্যাপারটা কি? ইন্ডিগোরা তো স্পষ্ট বলছে আমাদের যে ওরা অন্য স্টারসিস্টেম থেকে এসেছে আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য। কি সাহায্য? কেন আমাদের ওদের সাহায্য লাগবে? আমাদের কি সমস্যা যে অন্য গ্রহের প্রাণীর সাহায্য লাগবে? এই প্রশ্নগুলা কে করবে? শুধু আমেরিকানরা? আর আমরা সকাল বিকাল শাহ্রুখ আর সালমানের নাচ দেখে যাবো? কেন আমরা এরকম বলদের মত আচরণ করবো? কেন নির্ঝর একটা ভাল খবর দিলে ৫টা সেলফি দেয়? ৮টা নায়িকা নিয়ে ফাজলেমি করতে হয় শুধু মানুষের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য? আমাদের আইকিউ এত নিচে কেমনে নামলো? কেন আমরা ইংরাজিতে একটা আর্টিকেল পড়তে পারিনা? কেন আমাদের সবার কথাবার্তা বালখিল্য ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের মত? তাহলে এত লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রাইভেট ইউনিতে পড়ে কি লাভ? আমাদের বুদ্ধি আর চিন্তার যদি কোন সম্প্রসার না ঘটবে?

আমাদের প্রশ্ন করা শিখতে হবে। কোন রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সাংসদ, বা পুলিশ দেখলে আমরা ভয়ে আর বিনয়ে এত গদগদ হয়ে যাই কেন? বাংলাদেশে প্রত্যেকটা জিনিষের দাম অ্যামেরিকার থেকে বেশী। কেন? কারণ র-আওামি সরকার একটা অপদার্থ চোরা সরকার। হাসিনা বাহিনি দেশে রাস্তাঘাট বানাতে যে পরিমাণ টাকা চুরি করতেছে, সেটা রাস্তা বানানোর খরচের দশগুন -- কিন্তু দোষী হবে কে? দোষী হব আমি, আবার কে? কারণ ওই যে, লীগের বিরুদ্ধে কথা বলসি! দেশের লোকের এমন একটা ভাব যে লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার সোল এজেন্ট যেন শুধু বিএনপি। কেন রে ভাই? আমি আপনি কি সব তেলাপোকা?

সল্যুশনটা আবার বলিঃ সল্যুশনটা এখনও পাওয়া যায়নি। তার কারণ হল, আপানারা কেউ সেটা খুঁজছেন না। আপনারা ভাবছেন অন্য গ্রহের প্রাণী এসে সল্যুশনটা আমাদেরকে চামচ দিয়ে খাওায়ে দিয়ে যাবে। আমরা প্রত্যেকে গর্দভের মত আচরণ করছি আর একজন আরেকজনকে দোষ দিয়ে যাচ্ছি। নিজেদেরকে আমরা অতিরিক্ত শক্তিহীন আর বুদ্ধিহীন ভাবি। সবাইকে দেখি কেমন যেন মরা। আরেকদল আছে বিনা কাজে সেলফি মেরেই খুশি। এই দুই দলই আবাল। ফেসবুকে বাল-ছাল মিমি আর ওয়াইজ কোট মারা বন্ধ করেন প্লিজ। একটু পড়াশুনা করেন। একটু চিন্তা করেন। একটু বুঝার চেষ্টা করেন কার কথাটা দামী, আর কে ঘোড়ারডিম।  ধন্যবাদ।

Sunday, October 11, 2015

draco part 11 (in bengali)

ড্রেকো ১১

জানিনা আজকে কোন গ্যালাক্টিক এনার্জি ব্লাস্ট ছিল কিনা, সারাদিন মেজাজটা বেশ চড়ে ছিল। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের মানুষকে কোন কিছু বলেই কোন লাভ নাই। এরা ওই শাড়ি গহনা মোবাইল মান্না দে হুমায়ুন আহমেদ আর হানিফ সংকেত পাইলেই খুশি। জমিজমা গাড়িবাড়ি কাচ্চাবাচ্চা খাওয়াদাওয়া বকরবকর। আর্থসোউল যারা, তাদের জন্য এটাই ঠিক আছে, কারণ তারা হাজার হাজার লাইফ ধরে এটাই করে আসছে। কিন্তু আমার মত যারা অন্য স্টারসিস্টেম থেকে আসা, যেমন আমি সম্ভবত আর্কটুরিয়ান, তাদের জন্য পৃথিবীর জীবনটা খুব বিরক্তিকর আর বোরিং। ইন্ডিগোরা তো অনেকেই ওদের পাস্ট লাইফ মনে রাখতে বা মনে করতে পারে, ওদের জন্য পৃথিবীতে খাপ খাওয়ানো আরও কঠিন। তাই বলে ভাববেন না যে কেউ কারও চেয়ে উপরে; আমরা বিভিন্নজন ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন লেভেলে থাকলেও, আল্টিমেটলি, সবাই সমান, এবং আমাদের থেকে অনেক অনেক উন্নত ইটিরাও আমাদের বলে যে একদিন আমরাও ওদের মত হব বা আরও বেশী উন্নত হব। কিন্তু সেই উন্নতি করতে হলে আমাদের কিছু কিছু জিনিষ বুঝতে হবে প্রথমে -- যেমন ধর্ম -- এটা সম্পূর্ণ ভুয়া একটা জিনিষ যেটা ড্রেকো বা আনুনাকিরা আমাদের উপরে চাপায়ে দিসে -- যাতে আমাদের স্পিরিচুয়াল উন্নতি না হয় বা খুব কম হয়। এখন একজন এভারেজ বাঙালি তো সহজে এটা মেনে নিতে পারবে না, কারণ তাকে সারা জীবন বলা হইসে আল্লাহর ভয়ে কুঁকড়ে থাকতে। কেন বলা হইসে, এবং কে এই আল্লাহ? অনেকে মনে করে আল্লাহ হয়ত একজন রেপ্টিলিয়ান, আনুনাকি, বা এলহিম টাইপের কোন "ফলেন এঞ্জেল" যাকে অনেকেই ইয়াহওয়ে নামে জানে -- যে একজন কুখ্যাত ভেঞ্জফুল গড নামে পরিচিত। কোনটা সত্যি বা মিথ্যা আমি আসলে প্রমাণ করতে পারবো না, তবে সত্যটা প্রকাশিত হতে আর খুব বেশীদিন সময় লাগবে না। আমাদের ক্লাস ফাইভের ইসলামিয়াৎ বইতে যে গল্পটা আমরা সবাই অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করে বসে আছি, আসল ঘটনা অতটা সরল না। ইসলাম বিস্তারের পিছনে ভ্যাটিকানের ড্রেকোদের অনেক হাত ছিল কারণ ওরা ইসলামকে কাজে লাগায়ে খ্রিসচিয়ানিটি আর জুডাইজমকে অনেক বাঁশ দিসে।

আমাদের মাল্টিভারসটা হল গিয়ে মাল্টিডিমেনশনাল। এর অর্থ, একটা রেডিওতে যেমন মাল্টি-চ্যানেল থাকে, যেগুলা সঠিক ফ্রিকোয়েন্সিতে ডায়াল করলে ধরা যায়, ঠিক সেরকম, আমাদের তৃতীয়মাত্রিক রিয়ালিটিটাও একটা চ্যানেল মাত্র। এরকম আরও অসংখ্য চ্যানেল আছে যেগুলা অন্য ফ্রিকোয়েন্সিতে বিরাজ করছে। আমরা যদি ফ্রিকোয়েন্সি বদলাতে পারি, তাহলে অন্য ডিমেনশনে যেতে পারবো। যারা খুব বেশী উন্নত ইটি, ওরা ওদের কনশাস্নেস দিয়ে ইন্টারডিমেনশনাল ট্র্যাভেল করতে পারে, আর ড্রেকোদের মত যারা তুলনামুলকভাবে কম উন্নত, তারা টেকনোলজি ব্যবহার করে অন্য ডিমেনশনে যেতে পারে। আমি যে প্রোজেক্ট রেইনবো বা ফিলাডেলফিয়া এক্সপেরিমেন্টের কথা বলসি এর আগে, ওটা ছিল একটা ইন্টারডিমেনশনাল পোর্টাল টেকনোলজি, অর্থাৎ আমাদের ইলুমিনাটি কাবালের ইন্টারডিমেনশনাল ট্র্যাভেল করার অ্যাবিলিটি আছে। CERN টেকনোলজিটাও এধরনের কাজে ব্যবহার করা হয় বলে মনে করা হয়। তবে CERN কে বলা হয় বিলিফ সিস্টেম টেকনোলজি -- এটার সাথে সম্ভবত ব্ল্যাক গু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের একটা কানেকশন আছে, যেটার কথা আরেকদিন বলসি। এই এআই টা আমাদেরকে ধর্মভীরু বানানোর একটা মাইন্ড কন্ট্রোল টেকনোলজি। যারা এইসব বিষয়ে কখনও কিছু পড়েনি, তাদের আমার এইসব কথা শুনে সম্ভবত মনে হবে যে আমি একটা বদ্ধ পাগল। কিন্তু আসলে আমরা সবাই একটা প্রচন্ড গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার, যেটার কমপ্লেক্সিটি আমাদের কমন সেন্সের অনেক অনেক বাইরে। আমার নিজের কনশাস্নেস্টাকে এইখানে আনতে অনেক অনেক পড়াশুনা করতে হইসে, এটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু শুধুমাত্র পড়াশুনা দিয়ে যে এটা করা সম্ভব, তাও আমি মনে করি না। এখানে একসাথে অনেকগুলা ফ্যাক্টর কাজ করতে হইসে। এখন আমি স্পষ্ট বুঝি যে আমি একটা দলের সদস্য, যারা সবাই এই ডিমেনশনে আসছি একটা মিশন নিয়ে। এটা না হলে, আমি গত ৫/৭ বছর ধরে যা করে যাচ্ছি, এটা করা সম্ভব হত না।

যাদের ফ্রিকোয়েন্সি তুলনামুলকভাবে হাই, তারা আমার কথাগুলা পড়ে এফেক্টেড হবেন। আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ যদি আমার লেখা পড়তে মজা পান, তাহলে বুঝবেন যে সাবকনশাস লেভেলে আপনি এক্টিভেটেড হওয়া শুরু করসেন। আপনার একটা এনারজেটিক ট্র্যান্সমিউটেশন শুরু হয়ে গেসে। সম্ভবত খুব শিগগিরই আপনি এক্টিভেটেড হয়ে যাবেন। যাদের ফ্রিকোয়েন্সি লো, তারা আমার লেখা সম্ভবত পড়তেই পারবে না, বা পড়লেও, তেমন কোন আগ্রহ বোধ করবে না। ওদের কাছে আমার সব কথা আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে মনে হবে। কিন্তু আসলে, প্রত্যেকটা গ্রহের বিভিন্ন ডিমেনশনে অজস্র মানুষ আর ইটি আছে। শুধু আমরাই ওদের থেকে বিচ্ছিন্ন। শুধু আমরাই কারও কথা জানিনা বলে ভাবি যে পুরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমরা ছাড়া বুঝি আর কেউ নাই। কিন্তু এটা যে কত বড় একটা মগজ ধোলাই, সেটা যেদিন কোন রকম সন্দেহ ছাড়া বুঝতে পারবো, সেদিন নিশ্চয়ই তাজ্জব হয়ে যাবো।

এখন একটা কথা বলে আজকের মত শেষ করবো, সেটা হল, আপনারা কেউ কেউ হয়ত ভাবছেন, সবই তো বুঝলাম, কিন্তু প্রমাণ কোথায়? এখানে বলা দরকার যে পশ্চিমা বিশ্বে কিন্তু অল্টারনেটিভ মিডিয়া দিন দিন পপুলার হচ্ছে আর শতশত রেডিও টিভি ইন্টারনেট শো প্রতিদিন হচ্ছে যা সম্পর্কে আপনাদের কোন ধারণা থাকার কথা না। কিন্তু আমার জানার আপডেটগুলাতো আমি ওখান থেকেই পাচ্ছি। তাহলে আপনাদের কি মনে হয় যে কোন প্রমাণ ছাড়াই এতগুলা হাইলি ইন্টেলিজেন্ট (আমার মত বা আরও অনেক বেশী!) মানুষ টাকা পয়সা ক্যারিয়ারের মায়া ছেড়ে বেকুবের মত এইসব অপকর্ম করে যাচ্ছে? মোটেই তা নয়। ঘটনাটা আসলে উলটা -- যার ফ্রিকোয়েন্সি যত হাই, সে তত তাড়াতাড়ি ব্যাপারটা ক্যাচ করতে পারছে। এতে আবার আপনারা কেউ অফেন্ডেড হবেন না কিন্তু! আমাদের ধর্ম শিক্ষা ব্যাংকিং সরকার মিডিয়া, এর সবগুলা মিলে তৈরি করা হইসে একটা মনখাঁচা। এই মনখাঁচার ভিতরে আমরা সবাই আটকা পড়ে জীবনটাকে একভাবে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই ব্যাপারটা একদিনে ঘটেনি, হাজার হাজার বছর ধরে আস্তে আস্তে আমাদেরকে বানানো হইসে। কাজেই, এই খাঁচা ভেঙ্গে বের হতে আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। পরিবর্তনটা আসবে আস্তে আস্তে। খুব ধিরে ধিরে আপনারা বুঝতে পারবেন ঘটনা আসলে অন্য। আমরা সবাই মিলে এতদিন যা ভেবে এসেছি, রহস্য তার থেকে অনেক অনেক বেশী জটিল!

Friday, October 9, 2015

draco part 10 (in bengali)

ড্রেকো ১০

রাজীবদের সাথে বেইলিতে অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম। ও আমার গুটিকয় মানুষের একজন যারা আমার লেখা নিয়ে ভালমন্দ কিছু বলে। ওর মতে রাজনীতিতে আমার বোঝার কিছু গ্যাপ আছে; যে ওই গ্যাপটা দেখতে পায়, তার কাছে মনে হবে যে, যে লোকের এইখানে বোঝার মধ্যে ঘাপলা আছে, তার ওই ইটি-ইউফো বিষয়েও ঘাপলা থাকবে।  ও আমাকে বোঝাতে চাইল যে শুধু আওয়ামীলীগ না, অন্যান্য দল্গুলাতেও অনেক ঝামেলা আর দুর্নীতি আছে। তো আমি আর ওকে কিছু বলিনি, কিন্তু এই ব্যাপারটা তো বলাই বাহুল্য। এইটুক না বোঝার মত বলদ মনে হয় আমাকে? চিন্তার বিষয়। এখানে বলে রাখি, আমার আম্মা গত কয়েক বছর নিয়মিত তৃতীয় মাত্রা দেখে আসছে এবং সে কট্টর বিএনপি। সে বাংলাদেশের কোন পক্ষ কোন বিষয়ে কি যুক্তি দেয় সব জানে। আমি অবশ্য এগুলা নিয়ে আম্মার সাথে আলাপ করিনা। আমার চোখে এই টকশোগুলা থোড় বড়ি খাঁড়া মগজ ধোলাই মাত্র। এগুলা দেখে আগামি ১০০ বছরেও কারও কোন উন্নতি হবে না। শুধু দেশের মানুষকে অবান্তর কথার রাজ্যে ডুবায়ে রাখার একটা ফাঁদ। তো আমি যুদ্ধাপরাধী আর রাজাকারদের নিয়ে কিছু নিরেট অজ্ঞ মন্তব্য করতে চাই যা শুনলে কিছু লোকের মাথায় আগুন ধরে যাবে। আর এই লোকগুলার উদ্দেশ্যেই আমার এই মন্তব্য। আমার পরিচিতজনদের মধ্যে কারও কারও আব্বা বা খুব কাছের মানুষ যুদ্ধের সময়ে মারা গেছে, এবং এদের কারও কারও ধারণা যে এই হত্যার জন্য দায়ী হল গিয়ে রাজাকাররা। এই মানুষগুলা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়টাকে মনে প্রানে সাপোর্ট দেয় -- যে কারণে এটা যে একটা র-আওামিলীগ সাইঅপ্স, এটা বুঝতে পারেনা। কিন্তু আমার পয়েন্টটা আরেক জায়গায় -- সেটা হল, পুরা রাজাকার বিষয়টাই একটা র সাইঅপ্স। কিছু কিছু লোক ওই যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানকে সাপোর্ট দিয়েছিল, এবং এই তাঁবেদারি করতে গিয়ে এরা হয়তবা কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের ধরায়েও দিয়েছিল। এখানে একটা বিষয়ে মানুষের পরিস্কার থাকা উচিৎ যে মুজিব বারবার বলে গেছে সেই সময়ে যে সে অটোনমি চায়, কিন্তু সেপারেট স্টেট চায় না। ইউটিউবে ভিডিও আছে যেখানে মুজিবকে স্পষ্টভাবে এই কথা বলতে দেখা যায়। তাহলে সেপারেট স্টেট কে চেয়েছিল তা বলাই বাহুল্যঃ নেমলি, ইন্দিরা গান্ধী। বাংলাদেশের সাধারন মানুষের আসলে সভ্রেইন স্টেট চাওয়ার মত মাল মাথায় সেই সময় ছিল না। যেটা ছিল, সেটা হল বুক ভর্তি দুঃখ আর হাহাকার কারণ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ছিবড়া করে যাওয়া বিভক্ত ভারতবর্ষে ইন্দিরাই ছিল একমাত্র গোবরে পদ্মফুল যার মাথা ড্রেকোদের ক্ষুরধার বুদ্ধির সাথে পাল্লা দিতে পারসিল। এখানে বলা বাহুল্য যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটা ড্রেকো অরগানাইজেশন যারা এখন বিল্ডারবারগার, সিএফআর, ট্রাইল্যাটারাল কমিশন, কমিটি অফ ৩০০, ইত্যাদি নামে পরিচিত। তবে ইন্দিরাকে পর্যবেক্ষণ করলে মনে হয় ওও ড্রেকো রক্ত। এ ব্যাপারে আরও রিসার্চ করলে বোঝা যাবে এটা ঠিক কিনা।

পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স সেই সময় রয়ের কাছে ছিল ছেলের হাতের মোয়া। ১৩ দিনে আমাদের স্বাধীনতা এনে দেয়ার মত ফীট কিন্তু একমাত্র ড্রেকোদের পক্ষেই সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষ ড্রেকোদের সম্পর্কে কিছুই জানেনা দেখে, খুব গবেট লেভেলে সবকিছু চিন্তা করে, আর রয়ের ঘাগু জটিল রাজনৈতিক প্যাঁচের পও ধরতে পারেনা ইভেন আজকের দুনিয়াতেও! আজকেও বাংলাদেশের ৯৯% মানুষের ধারণা যে ব্লগার হত্যাগুলা করছে আমাদের মৌলবাদীরা -- কারণ ড্রেকো ফলসফ্ল্যাগ আর সাইঅপ্স কি জিনিষ, তা মনে হয় আমার আগে কেউ বাংলাতে আজ পর্যন্ত লেখেনি। অ্যাটলিস্ট আমি দেখিনি। আমি অবশ্য দেশের মগজ ধোলাই মিডিয়া পড়িনা। কেউ এ বিষয়ে লিখে থাকলে তাকে কুদোস জানাই। যাইহোক, রাজাকার ইস্যুটা আমার মতে একটা র সাইঅপ্স -- ঠিক যেভাবে মোসাদ-সিআইএ মিলে আইসিস, তালেবান, আল কায়েদা, আন্সারুল্লা ইত্যাদি বানাইসে, রাজাকার ইস্যুটাও রয়ের ম্যানুফ্যাকচার করা। আমি আগেই বলসি যে আমি একটা নিরেট অজ্ঞ মন্তব্য করবো, আর এটাই সেটা। আমি চাই মানুষ ব্যাপারটা চিন্তা করে দেখুক। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী হত্যা করে পাকিস্তানের তো কোন লাভ নাই, কিন্তু রয়ের ১০০% লাভ আছে। এখনও তো বাংলাদেশ রই চালাচ্ছে, আইএসআই নয়। কাজেই আমাদের দেশে যদি কোন সত্যিকার মাথা থেকে থাকে যারা আওয়ামীলীগের কাছে বিক্রি হয়ে যায়নি, তাদের উচিৎ আবার গোড়া থেকে শুরু করা। আর আওয়ামীলীগের মত চরম বেয়াইনি একটা দল, যারা ভুয়া ভোটে গদিতে চড়সে, ওদের তো কোন লেজিটিমেসি শুরু থেকেই নাই। ওরা মাইরের উপরে ওষুধ নাই বলে শুরু করসে বিএনপি প্যাঁদানো। এখন বিএনপি কই? আমি যে ওদের বিরুদ্ধে কিছু বলব, ওরা থাকলে না বলব। আর আওয়ামীলীগের মত একটা ভয়াবহ দুর্নীতিবাজ রেজিমের ছায়াতলে যে কারও সুবিচার হবে না, এটা বুঝতে কি লাগে?

এটা বলাই বাহুল্য যে আমার "এক্সপারটিজ" হল এক্সোপলিটিক্স, বাংলাদেশের রাজনীতি নয়। কিন্তু একটার সাথে যে আরেকটা চরমভাবে লিঙ্কড -- এই বুদ্ধিটা বাঙালির এখনও গজায়নি -- আর এটা গজায়ে দেয়াটাই আমার বর্তমান মিশন। পৃথিবীর মানুষের মধ্যে মিশে আছে কিছু মানুষরূপী চিজ -- ব্যাপারটা শুনতে হাস্যকর হয়ত বা, কিন্তু এই চিজেরা আমাদের যে ক্ষতি করে যাচ্ছে, সেটা হৃদয়বিদারক। কাজেই আপনাদের যার যার ইগো সামাল দিয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করা বাঞ্ছনীয়।

Thursday, October 8, 2015

draco part 9 (in bengali)

ড্রেকো ৯

একটু পরে বাসায় লোকজন আসবে, গান হবে, মাল খাওয়া হবে। (দিদিভাই, প্লিজ আম্মাকে এই আপডেটটা দিও না)। বহুদিন পরে এরকম কিছু হচ্ছে। ইদানিং বাসায় বসে এই ড্রেকো সিরিজ লেখা ছাড়া আর কিছুই করা হয় না। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি, আবার গিটার বাজাবো, গান কম্পোজ করবো, কিন্তু হয় না। ফেসবুকে সারাদিন কেটে যায়। বিশ্রী রাটটা থেকে বের হতে পারিনা। তাই লাইটওয়ার্কিং করে নিজেকে সান্ত্বনা দেই, যে একটা কিছু প্রডাক্টিভ কাজ করতেসি। কিন্তু সত্যি বলতে বাপ্পীর সকাল বিকাল বিভিন্ন কনসার্টে তোলা ছবি দেখতে দেখতে মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা তেজপাতাই হয়ে গেল। একটা বাঙ্গালিকেও তো জমবি স্টেট থেকে টেনে বের করতে পারলাম না। শুধু এদের চালাক চালাক আর বোকা বোকা কথাই শুনে গেলাম। যাহোক, আজকে শুরু করবো হায়ার-ডিমেনশনাল বিইংদের নিয়ে। যুগে যুগে মানুষ অন্য ডিমেনশনের প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ করে আসছে, কিন্তু কোন একটা অজ্ঞাত কারণে আমরা ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নেই না। খাওয়া ঘুম সেক্স আর টাকা পাইলেই খুশি। ইদানিং যার বাসাতেই যাই, দেখি যে সবাই খুব পশ এলাকায় থাকে। এলিভেটর এপার্টমেন্ট, নিচে গাড়ির সমাহার, দারওয়ান ফোন করে পারমিশন নিয়ে তার পরে ঢুকতে হয়। পুরা বাসায় থাকে দামি টাইলস। বাথরুমে দামি ফিটিংস, বাথটাব। ডাইনিঙে মার্বেলের টেবিল। ঘরে ঘরে বারান্দা, রান্নাঘরে ক্যাবিনেট, দুই দরজার ফ্রিজ, হোম থিয়েটার আর বিশাল টিভি -- এগুলা এখন স্ট্যান্ডার্ড। এরপর আছে বোতলের কালেকশন, প্লেনের টিকেট, বিদেশে সেকেন্ড হোম, হজ, উমরা, ইত্যাদি। ছেলেমেয়েদের কলেজের খরচ ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা জন প্রতি। আমার কাছে মনে হয় যে মানুষ আমার থেকে অনেক বেশী বুদ্ধিমান। এত টাকা কামাচ্ছে। আমার পাড়ার বন্ধু রাজু, শেরে বাংলার নাতি, ও এখন জয়ের দোস্ত, একটা পাওারপ্ল্যান্টের আংশিক মালিক। ও অবশ্য ব্রাউন নোজিং ব্যাপারটাকে ট্যালেন্টের পর্যায়ে নিয়ে গেসে। তাতে কি, লিভিং লারজ অ্যান্ড হ্যাভিং এ গুড টাইম।

বলতে চাইলাম কি, আর গেলাম কোথায়! আসলে মাথার উপর অন্য চাপ থাকলে এরকম হবেই। যাহোক, বিষয়টা হল, আমাদের বেসিক চাহিদাগুলা মিটাতে কিন্তু একটা মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিরও একগাদা টাকা কামাতে হয় আজকাল। একটা স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট না থাকলে চলে? একটা ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ঘাস লতাপাতার ছবি তুলে ফেসবুকে তো দিতে হবে, নাকি? নাহলে জীবনের মর্ম কোথায়? এই জন্যই কি কারও আমার এইসব ড্রেকো-ফেকো নিয়ে বাল-ছাল শোনার সময় নাই? এইসব কন্সপিরেসি থিওরি পড়ে তো আর পেট ভরবে না। সেজন্যে পড়াশুনা নিয়ে কত কসরত না করে যাচ্ছে আজকের ছেলেমেয়েরা। একটা দামী স্কুলের সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। একটা সরকারি দুই টাকা বেতনের চাকরি নিতে লাগে ১০ লাখ টাকা ঘুষ। এরশাদের আমল থেকে শুরু হইসে ব্যাঙ্কের টাকা মেরে মার্চেন্ট হয়ে যাওয়ার কাহিনি। আর ব্যাংকগুলা নিজেরা কিভাবে মানুষের রক্ত চুষে যাচ্ছে তা দেখার সুযোগ কোথায়? চলছে মেট্রিক্স, মেট্রিক্সের গতিতে।

ইসলামের ফেরেস্তা, জিন, ব্লাভাটস্কির অ্যাসেন্ডেড মাস্টার্স, বিলি মায়ারের প্লিয়েডিয়ান্স, ফ্রিমেসনদের ডিমন কনজুরিং ইভোকিং, উইচক্রাফট, এগুলা সবই কিন্তু অন্য ডিমেনশনের প্রাণীদের সাথে ইন্টার‍্যাকশনের ঘটনা। ডলোরেস ক্যানন নামে একজন রিগ্রেশন হিপ্নোটিস্ট ছিলেন যিনি হিপ্নোসিসের মাধ্যমে ইটিদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন। উনি বেশ কয়েকটা বই লিখে সম্প্রতি মারা গেছেন। ইউটিউবে উনার অনেক ভিডিও আছে। উনি সিআইএর সাথে কাজ করতেন ওদের এলিয়েন অ্যাবডাকশন কেসগুলা নিয়ে। কয়েক হাজার কেস হ্যান্ডল করার পরে উনি আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করেন যে ইটিরা আসলে কি করতে চাচ্ছে। ওরা চাচ্ছে আমাদের এই অর্থহীন দাসত্বের জীবন থেকে মুক্ত করতে। কিন্তু এই কথা আপনি আমার অনেক বিদেশী বন্ধুদের সামনে বললে ওরা আপনার সাথে একমত হবে না। ওরা বলবে যে কোন "সেভিয়র রেস" আসলে নাই। আমাদের সাথে যারা কম্যুনিকেট করে, এরা সবাই নেগেটিভ আর এদের আল্টেরিয়র মোটিভ আছে। আর যারা ভাল, তারা আমাদের থেকে দূরে থাকে কারণ মাল্টিভারসে একটা অনুন্নত বিশ্বকে উন্নত বিশ্বের বিইংসরা ইন্টারফিয়ার করার নিয়ম নাই। কিন্তু ডলোরেস বা আমার মতে, এটা ভুল ধারণা। আসলে আমাদেরকে অনেক উন্নত প্রাণীরাই খুব সাটল্ভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। নেগেটিভ আর পজেটিভ ইটির মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নেগেটিভরা ইউনিভারসাল ল গুলা মানে না, আর পজেটিভরা ওগুলা মেনে চলে। তবে বলা হয়, কিছু কিছু রেইস এতই উন্নত যে এদের এজেন্ডা আমরা কিছুই বুঝতে পারিনা।

সন্ধ্যা প্রায় হয়ে গেল, আমার গেস্টরা আসা শুরু করবে। টেনশনে আর মশার কামড়ে এখন আর কিছু মাথায় আসছে না। আপাতত এইটুকুই থাকুক। কালকে আবার হবে।

Wednesday, October 7, 2015

draco part 8 (in bengali)

ড্রেকো ৮

পৃথিবীটা এখন যে সিস্টেমে চলছে, বিশেষ করে আমাদের টাকা আর ইকোনোমি, এটা একটা ভয়াবহ দাসপ্রথা, যেটা কিভাবে আমাদের রক্ত চুষে খায় তা বেশির ভাগ বাঙালি এখনও ধরতে পারেনি। চরম দুর্নীতি আর র-এর নিয়ন্ত্রনের কারণে আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিলিটারি আর রাজনীতিবিদ মিলে যে ডিসিশন মেকিংটা হয়, সেখানেই আমাদের সব এনার্জির লাভের ভাগ টিয়ায় খেয়ে ফেলে। র সিআইএ মোসাদ এমআই৬ জেজুইট আর জায়োনিস্টদের যে এত লাফালাফি আর গোপন কর্মকাণ্ড, তার সবকিছুই মূলত এই জায়গাটাকে ইনফ্লুয়েন্স করার জন্য। এই কারণেই আমাদের দেশে কোন শক্তিশালী লীডার বেঁচে থাকতে পারেনা। পুটিনের মত শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব আমাদের দেশে তৈরি হওয়াই অসম্ভব কারণ পুটিনের সমস্ত বুদ্ধিমত্তার পিছনে আছে একটা শক্তিশালী ইন্টেলিজেন্স, আর তার পিছনে একটা বুদ্ধিমান আর শিক্ষিত জাতি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি বেশ কয়েকজন রাশানের সাথে কাজ করেছি, এরা প্রত্যেকে এভারেজ অ্যামেরিকানদের থেকে অনেক বেশী স্কিল্ড আর্ ইন্টেলিজেন্ট। মজার ব্যাপার, রাশানদের একটা গোঁয়ার টাইপের ক্রুডনেস থাকে যেটার সাথে বাঙ্গালিদের খুব মিল। আমরা অনেকটা এক রকম, শুধু ওদের রিসোর্সটা আমাদের নাই। এটি&টিতে আমার এক দোস্ত ওর নিজের গাড়ির এক্সেল নিজেই বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে একাই খুলে ফেলত। ডিমিট্রি ছিল একজন কন্ট্রাক্ট প্রোগ্রামার, যে সকাল দশটার দিকে আমার কিউবে চলে আসত সারাদিনের কাজ শেষ করে। জেপিমরগানে ছিল লিও -- একমাত্র ব্যক্তি যে পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের উল্টা ঝাড়ার সাহস রাখত আর কাউকে ছেড়ে কথা বলত না, যেখানে আমরা এভারেজ আইটি গাইজ নিজেদেরকে সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন ভাবতাম, আর খুব নার্ভাস থাকতাম।

আমাদের যে ইসলাম ধর্ম, এটা নিয়ে ক্রিটিসাইজ করা নাজায়েজ, কিন্তু ঝামেলা এইখানেই। ইসলাম এবং অন্যান্য এব্রাহামিক ধর্মগুলার সমস্যাটা কোথায় আর কত বড়, এটা যতদিন আমরা বুঝতে না পারবো, ততদিন আমাদের দাসত্ব চলবে। কাউকে না কাউকে কোনভাবে কোন একসময় এই বুলেটটা বাইট করতেই হবে। তো এখানে আমি একটা ব্যাপার বুঝায়ে বলি যা ৯৯.৯৯% বাঙালি কোনদিন শোনেনি বলে আমি মনে করি। সেটা হল, স্টারসীড শব্দটা হয়ত আপনারা শুনে বা পড়ে থাকবেন, কিন্তু এর অর্থ সম্ভবত আপনারা জানেন না। স্টারসীডের অনেক ভ্যারিয়েশন আছে, যেমন ইন্ডিগো, ক্রিস্টাল, রেইনবো, ইত্যাদি। মূলত, এই সোউলগুলা উপরের ডাইমেনশন থেকে অবতরণ করে আমাদের তৃতীয় ডাইমেনশনে ইনকারনেট করেছে আমাদেরকে দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করার জন্য। আমাদের মূল সমস্যা হল যে আমরা যে ড্রেকো আর আর্কনদের দাস, এটা আমরা কিছুতেই ধরতে পারছিনা। যে কারণে আমাদের অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর হচ্ছে, কিন্তু আমরা যেন পানিতে ডোবানো ব্যাঙ -- পানির মধ্যে আস্তে আস্তে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু ব্যাপারটা টেরই পাচ্ছিনা। দিব্যি ফুর্তিসে সেলফি তুলতেছি আর কতকগুলা মিডিয়া সাইঅপ্স মগজ ধোলাই নিয়ে দিন রাত বাকোয়াজ করে নিজেদের খুব বুদ্ধিমান ভাবতেছি। আমাদের কারও কোন নিজস্ব চিন্তাশক্তি যেন আর অবশিষ্ট নাই। আমরা হাঁ করে মিডিয়ার দিকে তাকায়ে থাকি যেন মাছ ধরতেছি -- কোন একটা ছাগল মন্ত্রী কোন ফালতু মন্তব্য করলে, বা কোন আকাম করলে তাই নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা আর সেন্স অফ হিউমার দেখে নিজেই গাগা হয়ে যাচ্ছি।

স্টারসীডরা গডকে বলে সোর্স। কিন্তু গড আর সোর্সের মধ্যে বিশাল তফাৎ। ইসলামের আল্লাহ যেমন মানুষের বিচার করে মানুষকে বেহেস্ত বা দোজখে পাঠায়, সোর্স এরকম কিছুই করে না। সোর্স ইজ অল এবাউট লাভ। ভালবাসা দিয়ে সোর্স সবকিছু সৃষ্টি করেছে। সে সবাইকে ভালবাসে। কেউ কোন খারাপ কাজ করলে মৃত্যুর পর যখন সে উপরের ডাইমেনশনে ফিরে যায়, তখন সে নিজেই খুব অনুশোচনা বোধ করে, আর সেই কারণে সে আবার আরেকটা জীবনে ফেরত আসে যেখানে সে আগের জীবনে যে ভুলটা করেছিল, সেই একই ভুলটা তার সাথে করা হয়। এতে তার আগের জীবনের অপকর্মটা কাটাকাটি হয়ে যায়। ইসলামে যে দোজখ বেহেস্তের কথা বলা হয়, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। চমকে উঠলেন, তাই না? কিন্তু আসলে এই ব্যাপারটা আমার আবিষ্কার নয়, পৃথিবীতে কয়েক লাখ স্টারসীড আছে যারা সবাই এই ব্যাপারটা জানে। হিন্দুরা এটা জানে। আমাদের ড্রেকো কাবাল আর ফ্রিমেসনরা এটা জানে। এবং আরেকটা মজার বিষয় হল, পৃথিবীর সব মানুষই আসলে স্টারসীড -- কিন্তু সবাই এখনও এক্টিভেটেড না। আর এই এক্টিভেটেড না হওয়ার পিছনের কারণটা হল প্রচন্ড মগজ ধোলাই। সারা জীবন আমাদেরকে শিখানো হয়েছে দিন হল রাত, আর রাত হল দিন। এইজন্য যখন আমার মত কেউ প্রথমবারের মত আপনাদেরকে সত্যটা বলবে, আপনাদের প্রথম রিয়াকশন হবে -- ওইটারে বাইন্দা পিডা। এটাই স্বাভাবিক।

তাই রাগ করবেন না। আমাকে বলতে দেন। এটাই তো বাক স্বাধীনতা। আমরা সবাইই উপরের ডাইমেনশন থেকে অবতরন করে পৃথিবীতে এসেছি, তাই আমরা সবাই অবতার বা আভাটার। ওই সিনেমাটাতে যে কনশাস্নেস ট্র্যান্সফার টেকনোলজিটা দেখায়, ওই একই রকম টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা এখানে চলে ফিরে বেড়াচ্ছি, কিন্তু আমাদের একটা "হায়ার সেলফ" উপরের ডাইমেনশন থেকে আমাদেরকে গাইড করে যাচ্ছে। এই জন্যই আমরা সবাইকে মেডিটেশন বা ধ্যান করতে বলি, কারণ সেটা করলে আমাদের প্রতিদিনের যে মগজ ধোলাই, সেটা একটু হলেও পাতলা হয়, আর তখন আমরা আমাদের হায়ার-সেলফের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের কি করণীয় এটা বুঝে নিতে পারি। ইসলামে যে নামাজ পড়া, এটা আসলে আমাদের হায়ার সেলফের সাথে যোগাযোগই, কিন্তু আমাদের টারমিনলজিগুলা খুব ডিস্টরটেড। ইসলামের মূল শিক্ষাটা আসল জায়গা থেকে সরে একটা ভুল শিক্ষায় চলে গেছে বলে আমি মনে করি। এই ডিস্টরশনটা প্রত্যেকটা ধর্মেই আমাদের ড্রেকোরা খুব বুদ্ধি করে ঢুকাইছে।

আমি যদি বলি যে আল্লাহ আর সোর্স একই জিনিষ, সেক্ষেত্রে যেটা বোঝা দরকার তা হল, সোর্স আমাদেরকে দিয়েছে ফ্রি-উইল -- আমরা যা খুশি তাই করতে পারি, সোর্স কোন ইন্টারফিয়ার করে না। পৃথিবীতে যা ঘটে সবকিছু আমাদের ইচ্ছার মাধ্যমে ঘটে আর এই জন্যই আমরা যতক্ষণ নিজেদেরকে না বদলাতে পারবো, ততক্ষন আমাদের অবস্থার কোন উন্নতি হবে না। আর আমাদের প্রত্যেকের ক্ষমতা অসীম। এটা বোঝা খুব জরুরি কারণ এটা না বুঝলে আপনার মনে হবে যে ড্রেকোদের জাল কেটে বের হওয়ার ক্ষমতা বুঝি আমাদের নাই বা কোনদিনই হবে না। এটা আসলে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যেদিন আমরা যথেষ্ট পরিমাণ মানুষ আমাদের নিজেদের ক্ষমতার ব্যাপ্তিটা বুঝতে পারবো, সেইদিন ওই ড্রেকোরা আর পালানোর রাস্তা খুঁজে পাবে না।

Tuesday, October 6, 2015

draco part 7 (in bengali)

ড্রেকো ৭

আমার মত যারা ড্রেকো বা আর্কনদের এক্সপোজ করে দিচ্ছে তারা প্রচন্ডভাবে সাইকিক আক্রমণের শিকার হয়। এটা আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল জানে নির্ঝর আর ফক্রুদ্দিন ভাই। যারা এই ব্যাপারগুলা নিজে ভোগ করেনি তাদেরকে বললে বিশ্বাস করতে চাইবে না, বলবে এগুলা কোইন্সিডেন্স। আসলে পৃথিবীতে কাকতালীয় ঘটনা আদৌ ঘটে না বলে আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি -- কারণ প্রত্যেকটা ঘটনার পিছনে কারা কিভাবে এবং কেন কাজ করছে এটা একবার বুঝে ফেললে দুই দুই চার মিলানো বেশী কঠিন না। আপনাদের আশেপাশে তাকালেই দেখবেন যে অসংখ্য মানুষ প্রায় প্রতিদিন মিডিয়াতে কিছু খুন, যুদ্ধ, নেগেটিভ ঘটনা বা সাইঅপ্স নিয়ে নিজস্ব থিওরি দিয়ে যাচ্ছে। এদের বেশ বড় সাইজের একটা ফলোইং বা ফ্যানবেস থাকে যারা বিষয়গুলা নিয়ে হাবিজাবি যা খুশি কমেন্ট করে যায়। সব মিলায়ে একটা ব্রেইনডেড কমুনিটি তৈরি হয়ে যায়, যার সদস্যরা নিজেদেরকে বেশ বুদ্ধিমান এবং জ্ঞানী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ভাবতে থাকে। এখানে আমি বা আপনি যদি হঠাত ওদের ওই কাল্টের বাইরে কিছু বুঝাতে যান তাহলে নিজের সন্মানটা হাতে নিয়ে দৌড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিয়ে না গেলে বিপদে পড়বেন। ফিলিংসটা অনেকটা মেন্টাল গ্যাং রেপের মত। যারা এই কালচারে অভ্যস্ত, তাদেরকে নতুন কোন তথ্য বা আইডিয়া দেয়া প্রায় অসম্ভব। এরা সবকিছু জানে বা বোঝে বলে মনে করে বলে, ওদের রিয়ালিটি বাবলের বাইরে কোন কথা বললে আপনাকে কন্সপিরেসি থিওরিস্ট বলে অপমান করে চুপ করায়ে দিবে। অথবা আপনার কথার সত্যতার প্রমান চাইবে কিন্তু ওই প্রমানটা যদি আপনি ২/৩ বাক্যে দিতে না পারেন, তাহলে পচানি খেয়ে চুপ হয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন! ওরা আপনাদেরকে সোফোমোরিক লজিক দিয়ে আক্রমন করবে এবং আপনার প্রমান দেয়ার প্রচেষ্টাকে খুব সারফেস লেভেল থেকে এক্সট্রিম প্রেজুডিসের সাথে বাতিল করে দিবে কোন সিরিয়াস স্টাডি না করেই।

বাপরে! অনেক বললাম, ভাইব তো প্রায় নিচে নেমে গেল! কাজের কথায় আসি। সত্যি সত্যি কি এলিয়েন আছে? জ্বি আছে, আর শুধু তাই না, আপনি আমি, আমরা সবাই একেকজন হাইব্রিড এলিয়েন। মানে? কিভাবে? কারণ হল, আমরা সবাই বিভিন্ন স্টার-সিস্টেম থেকে এখানে এসেছি। আমাদের হোমো স্যাপিয়েন্সের যে ডিএনএ, এটার ডিজাইন করেছে কিছু এল্ডার গ্যালাক্টিক রেইস বা জাতি। এটার প্রমান যদি চান, তাহলে আপনাদের বিভিন্ন জেনেটিস্টের গবেষণা নিয়ে পড়তে হবে। এখানে প্রথমে আমি যার নাম রেকমেন্ড করব উনি হলেন লয়েড পাই (lloyd pye)। আর এখানে এলেন লয়েডের একটা আর্টিকেল লিঙ্ক দিচ্ছিঃ http://www.esolibris.com/articles/alternative_history/ancient_genetic_engineering.php।  আমি বলছিনা যে দুই একটা লিঙ্ক ব্যাপারটা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট, কিন্তু কিছু পড়াশুনা করে দেখতে ক্ষতি কি? কোরি গুড ছদ্মনামে যে লোকটা দাবী করছে যে সে সিক্রেট স্পেস প্রোগ্রামে ২০ বছর কাজ করেছে, সে বেশ কয়েকটা মিটিঙের কথা বলছে যেখানে ২২টা রেইস দাবী করছে যে আমাদের জেনেটিক্সে ওদের কন্ট্রিবিউশন বা অবদান আছে। এখানে একটা প্রশ্ন দাঁড়ায় যে ড্রেকোরা কোরিকে কেন পাবলিক মিডিয়াতে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে? নিয়ম অনুযায়ী ওকে ওদের মেরে ফেলা বা গুম করা বা যে কোনভাবে চুপ করায়ে দেয়ার কথা। কিন্তু মজাটা এইখানেই। আমরা যারা গত ৫, ৭, ১০ বছর ধরে গোপন তথ্য শেয়ার করে যাচ্ছি, এই ব্যাপারটা ড্রেকোরা আগে থেকে আন্দাজ করতে পারেনি, কারণ পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ তো এতদিন চরম ভোদাই ছিল, ঠিক আমাদের বাঙ্গালিদের মতই। হঠাৎ করে এতজন একসাথে জেগে উঠলাম কিভাবে? এটা কোন জাদুমন্ত্রে হয়নি। ইটিরা আমাদের সাহায্য করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। কোরির মত যারা হুইসল-ব্লোওিং করছে তাদের অনেকেরই অতিমাত্রিক বা সাইকিক কিছু নিরাপত্তা আছে।

এখন আবার একটু বাঙালি স্টাইলে বাত করি। আমি প্রথম প্যারাগ্রাফে যে ব্রেইনডেড কাল্টের বর্ণনা দিয়েছি, তাদের সাথে আমাদের কথার একটা বিরাট অমিল আছে। আমাদের অধিকাংশ মানুষ হল গিয়ে টকিং হেডস -- এরা যে কোন বিষয় পেলে কথা বলতে পছন্দ করে। কন্টিনিউয়াস বকবক করাটাই এদের আনন্দ। কথা বলার পিছনে তেমন কোন উদ্দেশ্য থাকে না, শুধু বাকোয়াজ করতে পারলেই খুশি। আমরা আবার এই দলে পড়ি না। আমরা কথা কম বলতেই ভালবাসি, আর যখন বলি, তখন চিন্তা ভাবনা করে বলি যাতে আমাদের কথা শুনে মানুষের সময় নষ্ট না হয়। এটা ভুল ঠিকের বিষয় না, যে যেরকম। কিন্তু আমার এটা বলার উদ্দেশ্য হল, আমি চাই যে আপনারা আমাদের কথাগুলাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। এর কারণ, আমাদের ধর্ম, কালচার, শিক্ষাব্যবস্থা, মিডিয়া, কর্মক্ষেত্র, এর প্রত্যেকটা জায়গায় তো প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করি, কিন্তু এই আলোচনা আমাদের মগজ ধোলাইটাকে আরও শক্তপোক্ত করে। আর আমার এই লেখার উদ্দেশ্য তো ওই জায়গা থেকে আপনাদের চিন্তাধারাটা সরায়ে আনা। আপনাদেরকে বুঝতে সাহায্য করা যে আপনারা ছোটবেলা থেকে যা যা শিখে এসেছেন তার বেশির ভাগই ভুল এবং মিথ্যা -- এবং এর কারণ হল আমাদের সবাইকে চরমভাবে বেকুব বানায়ে রাখার একটা ষড়যন্ত্র আছে যেটা এত গভীর আর কমপ্লেক্স যে সারা জীবন আপনি যতগুলা স্পাই থ্রিলার আর সায়েন্স ফিকশন পড়েছেন, তার সবগুলা একত্র করলেও আমাদের রিয়ালিটির ধারে কাছে আসবে না। এই বিষয়টার তাৎপর্য বুঝতে কিন্তু আপনাদের কিছুটা সময় লাগবে। এটা একদিনে হুট করে হবে না।

আজকের লেখাটা একটু খাপছাড়া হল। এখন টাইম ট্র্যাভেল নিয়ে একটু বলে আজকের মত শেষ করে দিব। ৪২, ৪৩ সালের দিকে প্রজেক্ট রেইনবো নামে একটা অ্যামেরিকান সিক্রেট মিশনে আইনস্টাইন আর তেসলা দুইজনই কাজ করেছিলেন। এক্সপেরিমেন্টটা ছিল যুদ্ধ জাহাজকে অদৃশ্য বানানোর একটা প্রচেষ্টা। এখানে বলে রাখা ভাল, এই দুইজন বিজ্ঞানীই ইটিদের সাথে কম্যুনিকেট করতেন বলে মনে করা হয়। এই প্রোজেক্টটার পিছনে আমাদের আদরের ড্রেকোদের একটা আল্টেরিয়র মোটিভ ছিল যেটা ওই বিজ্ঞানিরা তখন পরিস্কার বুঝতে পারেননি বলে মনে করা হয়। যাই হোক এক্সপেরিমেন্টটা শুধু যে সফল হয় তাইই না, জাহাজটা অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথে ১৯৪৩ থেকে ১৯৮৩ সালে টেলিপোর্টেড হয়ে যায়। অর্থাৎ, এসেনশিয়ালি, জাহাজটা টাইম ট্র্যাভেল করে ৪০ বছর ভবিষ্যতে চলে যায়। এইখান থেকেই আমাদের টাইম ট্র্যাভেলের যাত্রা শুরু বলে মনে করা হয়। এই টেকনোলজিটাকে বলা হয় স্পেস-টাইম পোর্টাল। আমাদের ব্রেকঅ্যাওয়ে সিভিলাইজেশনগুলা এই ধরণের টেকনোলজিরই আরও উন্নত ভার্শন ব্যবহার করে থাকে। আমরা আশা করছি যে আপনারা যখন বুঝতে পারবেন যে আমাদের প্রত্যেকটা কথা সত্যি, তখন আমাদের কালেক্টিভ কনশাস্নেসে একটা কোয়ান্টাম জাম্প হবে, যেটার কারণে একটা ম্যাসিভ গ্যালাক্টিক ডিসক্লোজার ইভেন্ট ঘটবে -- এবং তারপরে আমাদের জীবনধারা আমূল বদলে যাবে। এটাকে কোন পাইপ ড্রীম মনে করলে ভুল করবেন। এটা আসলে একটা কোয়ান্টাম অ্যাসেনশন বা অ্যাওয়েকেনিং যেটা নিয়ে সারা পৃথিবীর মানুষ আর ইটিরা কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই আপনারা ব্যাপারটা বুঝে আমাদের সাথে কাজ করা শুরু করুন, কারণ তাহলে পরিবর্তনটা খুব দ্রুত আসবে।