Sunday, February 11, 2018

an article on corruption in bangladesh (blog in bengali)


source: https://bishyoubangladesh.wordpress.com/2017/05/15/শ্বেতপত্র-২০১৬/

শ্বেতপত্র- ২০১৬

ASIDE POSTED ON  UPDATED ON 

১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রনেতা দল আওয়ামী লীগ স্বয়ং সংসদীয় পদ্ধতির স্থলে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ এর মাধ্যমে একদলীয় রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। এই অভ্যুত্থানের সাত মাসের মধ্যেই, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, এক সামরিক অভ্যুথানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সারাদেশে সামরিক আইন জারি করা হয় এবং প্রায় সাড়ে তিন বছর যাবত সংবিধান স্থগিত থাকে।
সামরিক শাসনের এই বছরগুলিতে শাসকগণ সামরিক আইন আদেশ বলে কয়েক দফা সংবিধান সংশোধন করে সরকার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধন করেন। এই অবস্থায় বহুদল ব্যবস্থাও পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। এই পরিবর্তন সমূহ ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচিত দ্বিতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমদিত হয় এবং এপ্রিল মাসে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩০শে মে এক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান (জিয়া) শহিদ হন। সংবিধান অনুযায়ী নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাত্তারের কার্যভার গ্রহণের চার মাসের মধ্যে, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পুনরায় এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। দ্বিতীয়বারের মতো সংবিধান স্থগিত ও সামরিক শাসন জারি করা হয়। এরশাদ তার শাসনকে বৈধ করার লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে গণভোট এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করেন। ১৯৮৬ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদ কর্তৃক এরশাদের সামরিক শাসন আমলের কার্যকলাপ অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক ভাবে সচেতন গোষ্ঠী সমূহ এরশাদ সরকারের বৈধতা মেনে নেয় নি এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে এক রক্তক্ষয়ী গন-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।১
অতঃপর, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বি এন পি সরকার গঠন করে।  ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি সরকার বিগত এরশাদ সরকারের শাসনামলে সংগঠিত দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্বন্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেন।
একই সালের ১৩ আগস্ট তারিখে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় (আওয়ামী লীগ) নেত্রী শেখ হাসিনাও বি এন পি সরকার কর্তৃক দেশ ও বিদেশ থেকে গত ৩০ এপ্রিল ‘৯১ পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বমোট নগদ টাকা, ত্রান সামগ্রী প্রাপ্তি এবং ঐ সবের বিলি বণ্টনের ব্যাপারে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবী জানিয়েছেন।
কিন্তু যেমনই ক্ষমতাসীন বি এন পি সরকার কর্তৃক এরশাদীয় আমলের, তেমনই প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রীর দাবীতে বি এন পি আমলের দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্বন্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবীতে এক ধরনের সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। উভয় ক্ষেত্রেই একটি খণ্ডিত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাওয়া যায় অথবা বলা যায় উভয়টার কোনটাতেই স্বাধীনতা অর্জন ও গনতন্ত্রের উত্তরণের পর সাধারণ জনগনের চিন্তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটে নাই।
ক্ষমতাসীন বি এন পি সরকার এরশাদ আমলের সকল দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্বন্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে যে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তা হল এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের আগে এদেশে কখনো কোন দুর্নীতি হয় নি। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেত্রীর দাবীতে শুধুমাত্র বি এন পি সরকারের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচরণের প্রবনতাই স্পষ্ট হয়ে উঠে এবং তাতে বি এন পি’র ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বেকার কোন সরকার এর আমলের দুর্নীতি বা অনিয়ম সম্বন্ধেই কোন অভিযোগ নেই।
প্রকৃতপক্ষে, উভয়ের দাবী ও কার্যক্রমের মধ্যেই একটি সুকঠিন অথচ বৃহত্তর বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং উভয় দলের মধ্যেই সতর্কতা ও সাবধানতা লক্ষ্য করা যায়; অনেকটা “কেঁচো খুরতে সাপ না বেড়িয়ে পরে” এই মনোভাব। তাদের বর্তমান দাবী ও কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা কি প্রমাণ করতে চান যে, স্বাধীনতা যুদ্ধ-পরবর্তী সরকার সমূহ ছিল সবরকম দুর্নীতি ও অনিয়মের ঊর্ধ্বে? অথবা জনগনের কাছে ঐ সকল সরকারের জবাবদিহিতার কোন প্রয়োজন নেই?
বাস্তবে, ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশ কখনোই দুর্নীতি মুক্ত ছিল না এবং প্রথম থেকেই দুর্নীতিবাজদের দল-নিরপেক্ষভাবে শাস্তির বিধান না থাকাতে, সম্পূর্ণ দেশই দুর্নীতিবাজদের হাতে চলে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী সরকারের আমলে বাংলাদেশে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং দেশকে তলাহীন ঝুড়ি হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করে।

দেখা যাক, গন মাধ্যমে প্রকাশিত বর্তমান (২০১৬ইং পর্যন্ত) আওয়ামী সরকারের আমলের কর্মকাণ্ড কি চিত্র প্রকাশ করেঃ

গত ৭ বছরে বাংলাদেশ থেকে টাকা লুট হয়েছে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। এই লুট হওয়া টাকার বড় একটা অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। এ নিয়ে কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক।
  • কেবল ২০১১ সালের শেয়ার মার্কেট থেকে লুট হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, পথে বসেছে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী। এগুলো করেছে আওয়ামী লীগ সরকারের কর্তা ব্যক্তি-কাম-ব্যবসায়ীরা, যার একজন বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রি। এই মন্ত্রি-
  • এক হাজার কোটি টাকার রাস্তার প্রজেক্ট বানিয়ে ফেলেছেন ১৮ হাজার কোটি টাকা।
  • লুটপাট করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের খরচ বাড়ানো হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা।
  • চার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু এখন ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
  • ৪) বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রকাশ পায়, রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে (গুলিস্তান- যাত্রাবাড়ী- ফ্লাইওভার) ২,৩৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতির খবর। ফ্লাইওভার নির্মাণের সাথে ডিসিসির কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও পাচ অর্থবছরে এই বিপুল পরিমান টাকা ব্যয় দেখান হয়েছে।
  • ডিসিসির এই ‘ভৌতিক’ ব্যয় সংক্রান্ত অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুদ সোবহানকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দুদক সুত্র ‘বাংলা মেইল’ কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
  • দুদকে আসা অভিযোগে বলা আছে, ফ্লাইওভার নির্মাণে বিনিয়োগের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের। তারপরও, পাচ অর্থবছরে এই বিপুল পরিমান টাকা ব্যয় দেখান হয়েছে। যদিও এ ব্যয়ের কোন তথ্য-প্রমান সংস্থাটির কাছে নেই। কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে, সে হিসেবও নেই তাদের কাছে। সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগে নির্মিত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফ্লাইওভারের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বিল্ড ওন অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (বি ও ও টি) পদ্ধতিতে এ প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় ছাড়া সিটি করপোরেশনের আর কোনো বিনিয়োগ নেই।
  • সেখানে ওই ফ্লাইওভার নির্মাণে ঢাকা সিটি করপোরেশন ২০০৯ অর্থ বছরে ব্যয় দেখায় ১০০ কোটি ও ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩৩৫ কোটি টাকা। আর বিভক্ত হওয়ার পর ডি এস সি সি ২০১১-১২ অর্থবছরে এ প্রকল্পে ব্যয় দেখায় ৭০০ কোটি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬০০ কোটি টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে  পাঁচ অর্থবছরে এ ফ্লাইওভার নির্মাণে সিটি করপোরেশনের ব্যয় দেখানো হয় ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।
  • প্রকল্পের তথ্যের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা আছে, গুলিস্তান- যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের মূল সুপার স্ট্রাকচার ও র‌্যাম্প নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৮১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে সড়ক নির্মাণে ২১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, টোল প্লাজা, টোল ব্যবস্থা ও লাইটিং খাতে ১০৫ কোটি ৩৭ লাখ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে ১৪৮ কোটি ৭৯ লাখ, পরিবেশগত প্রশমন (মিটিগেশন) খাতে ৫৫ কোটি ৮০ লাখ, ট্রাফিক ডাইভারশনে ২০ কোটি ও পরিসেবা সংযোগ লাইন স্থানান্তরে ২৪ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের পুরোটাই বহন করছে ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেলহাসা-একম এন্ড এসোসিয়েট লিমিটেড। নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পর ২০১০ সালের জুলাইয়ে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বেলহাসা- একম।
  • অভিযোগে আরো বলা আছে, এ ফ্লাইওভারের সংশোধিত ব্যয় ২ হাজার ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের ব্যয় ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা যুক্ত হলে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়াবে ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ফ্লাইওভারের কিলোমিটার প্রতি ব্যয় দাঁড়াবে ৪৪৪ কোটি টাকার বেশি। আর সিটি করপোরেশনের ব্যয় বাদ দিলে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় দাঁড়ায় ২১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা রাজধানীর অন্যান্য ফ্লাইওভারের চেয়ে দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি।
  • অথচ রাজউকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা। ফ্লাইওভারটি নির্মাণে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় হয়েছে ৯০ কোটি টাকা। আর মিরপুর- বিমানবন্দর সড়ক ফ্লাইওভারের কিলোমিটার প্রতি ব্যয় ১০৫ কোটি টাকা। আবার ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মগবাজার- মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ হিসাবে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় দাঁড়ায় ৯৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।২
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক পদস্থ কর্মকর্তা বাংলামেইলকে বলেন, ‘মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণে বিনিয়োগের সঙ্গে ডিসিসি বর্তমানে ডিএসসিসির কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্বেও বিভিন্ন অর্থবছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে দুদকে একটি অভিযোগ আসে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ডিসিসির বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম অনুসন্ধানে নিয়োজিত থাকা প্রাতিষ্ঠানিক টিম বিলুপ্ত হওয়ায়, ওই টিমের পরবর্তীতে অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সোবহানকে ও তদারকি করার জন্য দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন।’
  • পৃথিবীর মধ্যে সরবোচ্চ খরচে রাস্তা নির্মাণ করে আওয়ামী লীগ সরকার; প্রতি কিলোমিটার ৯৫ কোটি টাকায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ ব্যয় ১০ কোটি টাকা। আর চীনে তা গড়ে ১৩ কোটি টাকা। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা ৫৩ কিলোমিটার চার লেন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হবে প্রায় ৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে। ফলে মহাসড়ক নির্মাণ ব্যয়ে বিশ্বে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। এ ছাড়া রংপুর-হাটিকুমরুল মহাসড়কের ১৫৭ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১৭৫ কোটি টাকা, কিলোমিটার প্রতি ব্যয় পড়ছে ৫২ কোটি ৭ লাখ টাকা। আর ঢাকা-সিলেট ২২৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২,৬৬৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ৫৬ কোটি ৪ লাখ টাকা। সারা দেশে মোট ১৭৫২ কিলোমিটার ৪ লেইন করা হচ্ছে। উচ্চ খরচ হলেও কাজের অতি নিম্নমান চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে নতুন রাস্তা ৬ মাসের মধ্যে ভেঙ্গে গেছে।
  • ৩৩ হাজার কোটি টাকার স্যাটেলাইট প্রকল্প এখন ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকায়।
  • চট্টগ্রামে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে সুরঙ্গ নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। যেখানে ভারতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ ১২০০ কোটি টাকা, সেখানে বাংলাদেশের ব্যয় ২৫০০ কোটি টাকা!
  • রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল দুর্নীতি : বর্তমান সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে সরকারি খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।  রেন্টাল পাওয়ারে বছরে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ভুর্তকি দিয়ে লুটপাট করা হয়েছে ৯০ হাজার কোটি টাকা। বিশেষ কারনে, এসব দুর্নীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, আইন করে বন্ধ করা হয়েছে।
  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর আদায় হবে না এমন খেলাপী ঋণের পরিমান ৬৭ হাজার কোটি টাকা (ডিসেম্বর ২০১৫ইং  হিসাব), যার একটা বড় অংশ দুর্নীতি।
  • হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে  সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক থেকে। হলমার্ক নিয়েছে ৪০০০ কোটি টাকা, ডেসটিনি পাবলিকের কাছ থেকে ৫০০০ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ লুট করেছে ২৫০০ কোটি টাকা, এইমওয়ে নিয়েছে ২০০০ কোটি টাকা সহ বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানী জনগনের টাকা লুট করেছে কয়েক হাজার কোটি টাকা।
  • পেট্রো বাংলা থেকে উধাও ২২০০০ কোটি টাকা।
  • আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য হেজিং পদ্ধতিতে ঋণ এনে ১৯ মিলিয়ন ডলার রাষ্ট্রের ক্ষতি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটা অংশ কমিশন হিসাবে দুর্নীতিবাজদের পকেটে।
  • তিতাস গ্যাসের লুটপাটের খবর- ৪ বছরে তিন হাজার কোটি টাকা লুট।
  • এই প্রথমবারের মতো ২০১৪- ১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের লোকসান হয়েছে ৪ হাজার ১৫১ কোটি টাকা, যার মধ্যে নিট লোকসান ২,৬২২ কোটি টাকা।
  • খোদ বিশ্ব ব্যাঙ্কের ৪ প্রকল্পে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি ধরে ১৪০ কোটি টাকার ফান্ড প্রত্যাহার।
  • আওয়ামী সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের সামিট গ্রুপ থেকে পিডিবি গতবছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুত কিনেছে ৬৭৭.৮০ টাকায়।  আর পিডিবি বিতরণ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে পাবলিকের কাছে বিক্রি করছে ৬ থেকে ১০ টাকা দরে। বাকী সবটা হলো রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি। সমস্ত রেন্টাল পাওয়ার দেয়া হয়েছে আওয়ামীলীগের লোকদের।
  • স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো, স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসঙ্খ্যা খাত কর্মসূচী (এইচপিএনএসডিপি),  ৫৭ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা। মারাত্মক দুর্নীতি কবলিত এ খাত নিয়ে ব্যাপক আপত্তি উঠেছে।
  • ২২ হাজার কোটি টাকায় মেট্রোরেল, এবং ৯০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পছন্দের ফার্মকে কাজ দেয়া ও নানা দুর্নীতির কথা পত্রিকায় এসেছে।
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ভূয়া এলসি খুলে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে অন্ততঃ ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকাই রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর।
  • টিআইবি‘র দাবী,  রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বড় দুর্নীতি হয়েছে।
  • আওয়ামী লীগাররা ৫ বছরে সুইস ব্যাঙ্কে অবৈধ জমা বাড়িয়েছে অফিসিয়ালি ৩২১৩ কোটি টাকা।
  •  বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৫০০০ কোটি টাকা রিজার্ভ চুরির চেষ্টা হয়- ৮’শ কোটি টাকা নিয়ে পগার পার। দেশবাসী আরও জানতে চায় কেন দেশের আইটি সেক্টরকে অবহেলা করে বিদেশী লোক বা আইটি গ্রুপের হাতে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড তুলে দেয়া হয়?  দেশে তৈরি হওয়া সফটওয়্যারের সমপর্যায়ের সফটওয়্যার কেন বিদেশ থেকে বেশি দামে কেনা হচ্ছে? তা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়? 
    পিসিনিউজ২৪.কম ২৩ এপ্রিল ২০১৬, ড. তুহিন মালিক তার ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, অর্থমন্ত্রীকে কেন বলতে হয়েছিল, “ছয়জন লোকের হাতের ছাপ ও বায়োমেট্রিকস নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে আছে। নিয়ম হলো, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়—এভাবে ষষ্ঠ ব্যক্তি পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্লেটে হাত রাখার পর লেনদেনের আদেশ কার্যকর হবে।“
    তাহলে কি, এই ছয়টা হাতের ছাপ বাংলাদেশ ব্যাংকের কারো নয়?  যে ছয়জনের হাতের ছাপ ও বায়োমেট্রিকস নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে আছে তারা কি বাইরের কেউ? তাহলে এখন সরকারকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে, রাজকোষ কাদের হাতের ছাপে নিয়ন্ত্রিত? 

  • বাংলাদেশের পুলিশ, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, ইঞ্জিনিয়ার সহ বিভিন্ন প্রোজেক্টের অফিসারদের প্রত্যেকের শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। দুদকের সদ্য বিদায়ী কমিশনার শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সম্পদের পরিমান ৮০০ কোটি টাকার মতন। সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল (যিনি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন) মামলা তোলার কন্ট্রাক্ট নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন।
  • বঙ্গোপসাগরে ৩টি গ্যাস ব্লক লীজ দেয়া হয় বিনা টেন্ডারে।
  • প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের কমিশন বা অংশ না দিয়ে কোনো বড় ব্যবসা, কনস্ট্রাকশন, প্রজেক্ট বা টেন্ডার পাওয়া যায় না, এটা আজ ওপেন সিক্রেট । নানান সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পায়- দেশের ভিওআইপি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনা, বন্দর, বিমান কেনা, স্যাটেলাইট, টেলিফোন কোম্পানী, ব্যাংক, বীমা, টেলি যোগাযোগ, পদ্মাসেতু সহ বড় বড় কন্সট্রাকশন, ব্যবসা ও কন্ট্রাক্ট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার কমিশন জমা হয়েছে আমেরিকা, লন্ডন, কানাডা, সুইস ব্যাংক ও বেলারুশে।
  • অবৈধ ভিওআইপি দিয়ে বাংলাদেশে যত কল আপ বা ডাউন হয়, প্রতি মিনিট কলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে দিতে হয় এক ইউ এস সেন্ট। সে হিসাবে ভিওআইপি থেকে অবৈধ উপার্জন হয় কমপক্ষে ২৬৭৫ কোটি টাকা।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রির বিশেষ সহকারী হাসান মাহমুদ ডলার ভর্তি স্যুটকেস নিয়ে সুইস ব্যাঙ্কে গিয়েছে বহুবার।
  • প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা, মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর সই করা চেকের মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জন করেছে ১০৭ কোটি ইউ এস ডলার।
  • প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যগনের ৩৫ মিলিয়ন ইউ এস ডলার পদ্মা সেতুর কন্সাল্টেন্সি বাবদ অর্জন করা নিয়ে বিশ্ব ব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
  • খবরে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রী পুত্রের আমেরিকার এক একাউন্টেই আছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বা ২৫০০ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আরো একাউন্ট আছে বলেও, দাবী করে। এ পর্যন্ত সে ১৭ দফা নগদ ডলার নিয়ে ঢুকেছে যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো চেকপোষ্ট দিয়ে, পাসপোর্ট চেক করলেই পাওয়া যাবে। একবারেই ধরা পড়েছে ৯ লাখ নগদ ডলার ইউএস এয়ারপোর্ট কাস্টমসের কাছে। সেবার বাংলাদেশ এম্বেসী মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু ডলার বাজেয়াপ্ত হয়।
  • গত বছরের শেষ দিকে ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জি এফ আই) রিপোর্টের হিসাবে ২০০৪-১৩ অর্থাৎ দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৪ লাখ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ২০১৩ সালেই পাচার হয়েছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা।


বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংগঠিত দুর্নীতির আরও কিছু উদাহরণঃ


১৮ জুন ২০১৫, উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত ঠিকানা’য় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে অধিকাংশ ব্যবসায়ী গ্রুপের মালিকরাই হরিলুট চালিয়ে একের পর এক ব্যাংক ফাঁকা করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। ওই টাকা নেয়ার ব্যাপারে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে এমডি, চেয়ারম্যান, পরিচালনা পরিষদ সহায়তা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে সহায়তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা। তবে, সব ব্যাংক অন্যায় ও অনিয়ম করলে তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা যাদের-তারাও ম্যানেজ হয়েই আছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ। আবুল খায়ের গ্রুপ নিয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। আর এস আলম কেবল ইনল্যান্ড বিল পার্চেজ করেই নিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য ঋণও নিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের ব্যাপারে সরকারের প্রভাবশালীদের আশীর্বাদ ও সহযোগিতা রয়েছে বলেই কেউ কিছুই বলছে না। তারা টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সব অনিয়মের কথা জানলেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আবুল খায়ের গ্রুপ নিয়ে গেছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হিসাব মতে, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মহা কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে। এক ব্যাংক থেকে টাকা অন্য ব্যাংকে নেয়া হয়েছে। ঋণ নেয়া ব্যাংকের টাকা কাগজে-কলমে লেনদেন করে পরিশোধ দেখানো হলেও আবার ওই টাকা নতুন করে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের মূল টাকা চলে গেছে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত গ্রুপ এস আলমের হাতে।
ওই টাকা নেয়া হয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে। এর মধ্যে জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক রয়েছে।
এস আলম গ্রুপ আর নিজেরা টাকা বিনিয়োগ করছে না। তারা শুধু এক শাখা থেকে টাকা অন্য শাখায় ও এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে লেনদেন করছে। আর বিভিন্ন ব্যাংকে ইনল্যান্ড বিল পারচেজ করে টাকা বের করে নিচ্ছে। এই ক্ষেত্রে তারা জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এমডি, ডিএমডি, জিএম, ডিজিএমসহ সবাই সহযোগিতা করছেন। এ জন্য তারা মসোহারা পেয়েছিলেন। কেউ কেউ এখনো পাচ্ছেন। এস আলম গ্রুপ এর অধীনে রয়েছে ৩৩টি কোম্পানি।
মে, ২০১৬, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বাজেট রিপোর্টিং বিষয়ক এক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, গত ২০১৩ সালে দেশ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার তথা প্রায় ৭০ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যে টাকা দিয়ে তখনকার হিসাবে তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভবপর ছিল। সাবেক গভর্নর বলেছেন, দেশের অনেকের সঙ্গে বিদেশের দুষ্টচক্র টাকা পাচারে জড়িত!
২৪ জুলাই, ২০১৬, ‘গ্লোবাল সিটিজেনস ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট সামিট-২০১৬’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘দরিদ্রদের জন্য কর্মসূচি টিআর ও কাবিখা-র বরাদ্দের ৮০ শতাংশই চুরি হয়ে যায়। ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলে ১৫০ কোটি টাকা যায় এমপির পকেটে। বাকি ১৫০ কোটি টাকার সিংহভাগ যায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে। আমরা চোখ বন্ধ করে এই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি।’
২৪ আগস্ট ২০১৬, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিনা) কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয় গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।
এসআরএসডি প্রকল্পের গবেষণা ক্রয়, প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, নিম্নমানের এয়ারকুলার বেশি দামে কেনা, জমি কেনার সময় বেশি মূল্য পরিশোধ, কনসালট্যান্ট নিয়োগ না করেই খরচ দেখানো, ভ্রমণ ভাতা, গাড়ি কেনা এবং বরাদ্দে অনিয়ম, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ, পরিচালক নিয়োগ, আগাম বিল ভাউচার পরিশোধ, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, জমি অধিগ্রহণে আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করে কৃষি মন্ত্রণালয়।
গত ৩০ মে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা-২ অধিশাখার উপসচিব মো. দাউদুল ইসলামের কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বরাবর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিও দেওয়া হয়। নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় পরে গত ২৮ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে তাগিদপত্র পাঠানো হয়। এর পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি বিনার বর্তমান মহাপরিচালক ড. শমসের আলী। ফলে প্রতিবেদনে অভিযুক্ত সাবেক মহাপরিচালক আবদুস সাত্তার, কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম রাজু, ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর কবির জুয়েলের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ থাকলেও এখনো তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালক আবদুস সাত্তার অবসরে যাওয়ার দুই দিন আগে এই প্রকল্পের জন্য পৌনে দুই কোটি টাকার বদলে প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পের গবেষণা ও যন্ত্রপাতি কেনার সময়ও তিনি বাজেটের চেয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একইভাবে এসআরএসডি প্রকল্পের জন্য মোটরগাড়ি কেনায় অনিয়ম, খাগড়াছড়ি উপকেন্দ্রে জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম করেন সাবেক মহাপরিচালক। খাগড়াছড়িতে জমি অধিগ্রহণের জন্য পাঁচ কোটি টাকা বাজেট থাকলেও তিনি অবৈধভাবে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন।
তদন্ত কমিটি কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য ড. হাবিবুর হরমান, ড. রফিকুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম রাজু, ড. মোফাজ্জল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল ও ড. সাত্তারকে দায়ী করে। এঁরা যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন এবং সবাই বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট এবং ভূ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।১০
০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসাপতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্যাপক অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও অত্যধিক অস্বাভাবিক মূল্যে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মে বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটি। গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশ করে।
জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কোতোয়ালি আসনের সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর হাতে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা: আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এবং সদস্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ডা: ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কোনো বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করা হয়। বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি এমআরআই (বিটিআই-.০৩৫, এমআরআই সিস্টেম) ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে। কিন্তু ওই মেশিনের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (বিএএসডিএ অব চায়না) দাম চেয়েছে তিন লাখ ৫০ হাজার ডলার বা দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা। এএসএল থেকে কেনা কালার ডপলার চারটি, হিটাচি কালার ডপলার ২ডি অলোকা (মডেল এফ-৩১) জাপান প্রতিটি ৬৫ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে। কিন্তু ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠানের দেশী এজেন্টের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোটেশনে ওই আইটেমের প্রতিটির মূল্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সিভিল সার্জন অফিসের এই ক্রয়ে ২০০৮ সালের পিপিআর অনুসরণ না করে বর্তমান বাজার মূল্যের অস্বাভাবিক বেশি মূল্যে পণ্যগুলো ক্রয় করা হয়েছে, যাতে অস্বচ্ছতার বিষয়টি স্পষ্ট।
তদন্ত কমিটির সদস্য ডা: ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী একটি আকারের যন্ত্র তুলে ধরে বলেন, এটি ব্লাড ওয়ার্মার। ১৫ হাজার টাকার যন্ত্রটি কেনা হয়েছে ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকায়।১১
৩১ জুলাই, ২০১৬- ফারাক্কার বাধ খুলে দেয়ার কারনে, দেশব্যাপী বন্যা হয়। পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে বন্যার্ত মানুষের মাঝে হাহাকার শুরু হয়েছে। বন্যার প্রভাবে বহুজন জন মারা গেছে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত বন্যায় আক্রান্ত এলাকা ১৬টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মাঝেই গতকাল শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দাবি করেছেন ‘ত্রাণের অভাব নেই’।
তবে ওই মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য-পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেই পাওয়া গেল ত্রাণের নামে বন্যার্ত মানুষের সঙ্গে একরকম তামাশাজনক চিত্র। মন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে এখন পর্যন্ত জিআর তহবিল থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ছাড় করা হলেও জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে মাত্র তিন কোটি সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা এখন পর্যন্ত মোট ক্ষতিগ্রস্ত তিন লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৬টি পরিবারের মধ্যে ভাগ করে দিলে পরিবারপ্রতি পাবে মাত্র ৭৮ টাকা ১৪ পয়সা হারে। আর সরকারি তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবে মোট ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬১৫ জন মানুষের মাথাপিছু ভাগে পড়বে মাত্র ২০ টাকা ৮৩ পয়সা হারে।১২

বাড়ছে বৈষম্য


ঢাকা, ২০ জুন, ২০১৬- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, প্রতি বছরই দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে। মহাজোট সরকারের গত ৭ বছরে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৫ হাজার। গড়ে প্রতি বছর কোটিপতি বেড়েছে ১০ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি।তবে এটা শুধু বৈধ বা রেকর্ডেড কোটিপতির সংখ্যা। আন্-রেকর্ডেড বা অবৈধ কোটিপতির সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৬৯ জন। (২০০৯-২০১৫) বছরে অর্থাৎ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৬১ জনে। অর্থাৎ এই সাত বছরে কোটি বেড়েছে ৭৪ হাজার ৯৯২ জন।
চলতি বছরের শুরুতে (২৫ জানুয়ারি, ২০১৬) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিগত ৫ বছরে (ডিসেম্বর ২০১১–সেপ্টেম্বর ২০১৫) দেশে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবধারীর একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন। এই পরিসংখ্যানে কোটি টাকা আমানতকারী ও কোটি টাকা ঋণগ্রহীতার সম্মিলিত সংখ্যা প্রকাশ করেন তিনি। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ জন। সে হিসাবে তিন মাসে দেশে মোট কোটিপতি বেড়েছে ৫ হাজার ৯৬ জন।
কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৫৪ হাজার ২২২ জন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীর জোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ২০ হাজার ৭৭০ জন।
২০১০ সালে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৯২ জন।১৩
তার সাথে, পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠছে কানাডার বেগম নগর, মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম, নিউইয়র্কের সচিবপাড়া। গত দুদশকে বাংলাদেশের লুট আর দুর্নীতির অর্থ বিশ্বের বহু প্রান্তে জমা হচ্ছে: সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, মালয়েশিয়া, লন্ডন, টরন্টো, নিউইয়র্ক…। ‘ওয়ার্ল্ড আল্ট্রাওয়েলথ রিপোর্ট’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা রিপোর্ট দেখাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে সম্পদ পাচারের পরিমাণ প্রতিবছরই গুণিতক হারে বাড়ছে। ধনী দেশগুলোর ব্যাংকসহ অর্থকরী খাতের রমরমা অবস্থার পেছনে গরীব মানুষদের দেশগুলোর লুটেরা ধনীদের গায়েব করা এই সম্পদের ভূমিকা অনেক। এই সম্পদের উৎস, যাত্রাপথ ও গন্তব্য অনুসন্ধান করলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রকৃত চেহারা বোঝা যাবে। বাংলাদেশে কেনো বছরের পর বছর গার্মেন্টস শ্রমিকেরা ঈদের সময়ও বেতন ভাতার দাবিতে রাস্তায় থাকতে বাধ্য হন, কেনো দেশের ব্যাংক উজাড় করে খেলাফী ঋণ বাড়তে থাকে, কেনো বিশাল বাজেটের ভয়ংকর প্রকল্পের ব্যয় শুধু বাড়তেই থাকে, কেনো দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি হতে থাকে একের পর এক, কেনো সর্বজনের সম্পদ দখলের উন্মাদনা দিনে দিনে বাড়তে থাকে ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যাবে এই বৈশ্বিক জালের মধ্যে।১৪

জনপ্রতিনিধিদের আয় ও ব্যায়ের হিসাব

২৪.০৬.২০১৬, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী রুপকল্প- ২০২১ বলা হয়েছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আয়ের হিসাব প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি ‘দ্য রিয়েল পলিটিক্স অব বাংলাদেশঃ দি ইন সাইড স্টোরি অব লোকাল পাওয়ার ব্রোকারস’ নামের একটি গবেষণামূলক পুস্তিকায় সংসদ সদস্যদের আয়ের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। পুস্তিকাটি প্রকাশ করে সুইজারল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস ও সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) যৌথভাবে। সেখানে দেখানো হয়েছে ৬ বছরের কম সময়ের ব্যবধানে সংসদ সদস্যদের (এমপি) আয় বেড়েছে ৩২৪ শতাংশ। নির্বাচনের আগে একজন এমপির বার্ষিক গড় আয় ছিল ২৩ লাখ টাকা। বর্তমানে এমপিদের বার্ষিক গড় আয় ১ কোটি টাকা, যা একজন সাধারন মানুষের আয়ের প্রায় শতগুণ। সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জমা দেয়া আয় বিবরণীর ভিত্তিতে এ পুস্তকটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা।
পুস্তিকাটিতে দেখানো হয়, ২০০৮ সালে নির্বাচিত এমপিদের মাথাপিছু বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালের শেষে এ আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ছয় বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে সংসদ সদস্যদের আয় বেড়েছে ৩২৪ শতাংশ। তবে, ২০০৮ ও ২০১৩ এ দুই বছরই বার্ষিক আয়ের পরিমাণ শূন্য দেখিয়েছেন ২৩ জন এমপি। পর্যালোচনায় এদের আয় শূন্য ধরেই পুস্তিকাটি তৈরি করা হয়েছে। তবে যেসব এমপি পুননির্বাচিত হয়েছেন তাদের আয় বেড়েছে ৩৫৫ শতাংশ। ২০১৩ সালের শেষে পুননির্বাচিত এমপিদের গড় বার্ষিক আয় ছিল ১ কোটি ছয় লাখ টাকা। অন্যদিকে, নব নির্বাচিত এমপিদের গড় বার্ষিক আয় ৯২ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে পুনঃ ও নির্বাচিত উভয় ভাগেরই গড় আয়ের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত এমপিদের আয় বেড়েছে ২৯২ শতাংশ। 
অন্যান্য আয়ের ক্ষেত্রে এমপিদের জমি বেড়েছে, ১০ শতাংশ। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে এমপিদের জমি ছিল, গড়ে ৭ দশমিক ৫ একর। ৬ বছর পর তাদের জমি হয়েছে গড়ে ১ একর। স্বর্ণ ছিল ২০০৮ সালে ৩৭ ভরি। ৬ বছর পর তাদের স্বর্ণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে গড়ে ৪৪ ভরি। কোন কোন এমপির ১১৪৪ ভরি স্বর্ণও রয়েছে। ২০০৮ সালে এমপিদের আর্থিক সম্পদ (ব্যাংক ব্যালেন্স, শেয়ার ইত্যাদি) ছিল গড়ে ৮৬ মিলিয়ন টাকা (১০ লক্ষে ১ মিলিয়ন), ৬ বছর পর এমপিদের সম্পদ হয়েছে ২২৫ মিলিয়ন টাকার। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য, আমিনুর রহমান বলেন, এমপিদের নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া আয় বিবরনি নিয়ে রাজস্ব বোর্ড এক সময় কাজ শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে তা আর অগ্রসর হয়নি। তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৭০৬ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। যারা আয় অনুযায়ী ট্যাক্স দিচ্ছেন না।১৫


চাপা পরে যাচ্ছে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা


সময়ের সঙ্গে আড়ালে চলে যাচ্ছে অনেক চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা; অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। একটা বড় ধরনের অঘটন ঘটার পর সরকার দেখায়, ঝাঁপিয়ে পড়ে তদন্ত করছে। সময়ের পালাবদলে এক সময় তা গতি হারায় বা হারানোর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে ঘটে যায় আরেক ঘটনা। কিন্তু রহস্য আর উন্মোচিত হয় না; আড়ালে চলে যায় । গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া কযেকটি ঘটনার তদন্তের গতি-প্রকৃতির ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে মিলেছে এমনই তথ্য। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হৈচৈ বা আলোচনা চলার সময় কিছুদিন ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। এক পর্যায়ে দেখা দেয় সেই চিরাচরিত ঢিলেমি। আর বেশিরভাগ ঘটনার কূল-কিনারা করতে না পারায় তদন্ত সংশি-ষ্টদের অদক্ষতাও প্রকট হয়ে ওঠে।
আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না আওয়ামী লীগ সরকারের। ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক কেলেঙ্কারির পর খোদ রিজার্ভে ঘটে গেছে ডিজিটাল লুণ্ঠন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম শেয়ারবাজার কলঙ্কিত হয়। ২০১০ সালে আবার ব্যাপকভাবে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ঘটে। ঋণ নীতিমালা ভঙ্গ করে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ও পরিচালকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংক লোপাট শুরু হয়। পুঁজিবাজার ও এর বিনিয়োগকারীদের সর্বস্বান্ত করার পর লুটেরাদের দৃষ্টি পড়ে ব্যাংকিং খাতের ওপর। এরপর হয় ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি। সর্বশেষ রিজার্ভ লোপাট।
বিভিন্ন ব্যাংকের আমানত ডাকাতি : ২০১০-১১ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক কর্মকান্ডের ওপর সিএজি নিরীক্ষা পরিচালনা করে। তাদের রিপোর্টে শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংকে বড় ধরনের ২২টি অনিয়মের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে ৬৬৩ কোটি টাকা জড়িত। রাষ্ট্রায়ত্ত আরেক ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকে ২৪টি ঘটনার মাধ্যমে ৭১৩ কোটি টাকা আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে। এ বছর ওই দুটি ব্যাংক হিসাবের ওপর পৃথক দুটি অডিট রিপোর্ট তৈরি করেছে সিএসজি। এছাড়া জনতা, রূপালী, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি ব্যাংকসহ সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সবগুলো ব্যাংকে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ ৭৯৬ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণের বিধিমালা ভঙ্গ করায় বেসিক ব্যাংকের ১৬৭ কোটি টাকা আটক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি বিভিন্ন সময়ে ইউসিবিএলের বসুন্ধরা শাখা থেকে ৭১ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে ১ কোটি টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে ৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। আর সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করে সোনালী ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেয় হলমার্ক গ্রুপ। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে ৪৫০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ধরা পড়েছে। অডিট বিভাগের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কতিপয় ব্যবসায়ী বিভিন্ন কৌশলে ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকে জালিয়াতি : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হিসাবে থাকলেও বাস্তবে কার্যকর নেই প্রায় এক লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের অবলোপনকৃত ঋণের (রাইট-অফ) পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৪ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে সরকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সম্প্রতি ঋণ পুনর্গঠন সুবিধার নামে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এরপরই আছে জনতা ব্যাংক প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। অন্যান্য ব্যাংক মিলিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের বর্তমানে প্রায় ২৫ ভাগই খেলাপি- যা মোট ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবলোপন করা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা।
হলমার্ক কেলেঙ্কারি : অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলমার্ক কেলেঙ্কারি। কতিপয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও পরিচালকের যোগসাজশে হলমার্ক সোনালী ব্যাংক রূপসীবাংলা হোটেল শাখা থেকে প্রায় ৪ হাজারকোটি টাকা বেআইনি ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করে। সেখানেও ক্ষমতাসীন দলের কিছু লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। অর্থমন্ত্রী তখন অত্যন্ত অযাচিতভাবেই বলেন, ৪ হাজার কোটি টাকা কিছুই নয়।
বিমানের দুর্নীতি : বিগত চার বছরে নানা দুর্নীতি, লুটপাট দলীয়করণ অব্যবস্থাপনার কারণে ১৩শ’ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে বিমান।১৬


পরিশেষঃ

শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা রপ্তানি যোগ্য উৎপাদনের কোন অবকাঠামো তৈরি না করে  চুরি করার বিশেষ সুবিধার কারনে রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার ইত্যাদি নির্মাণ এবং শুধু বাছাই করা কিছু কোম্পানির লাভের জন্য ডিজিটালাইজেশনকে উন্নতির মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে ২০১৫ সালে ভারতের স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলাদেশের উপর দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য হয়ে পরে। আর জনগন বাহ বাহ করে গাইতে থাকে, “দেশের তো অনেক উন্নতি হচ্ছে….”। অন্যদিকে দেশে শিক্ষিত- অশিক্ষিত বেকার, ভিখারি, দারিদ্রতা প্রসূত অপরাধীদের সংখ্যা এবং তার সাথে পাল্লা দিয়ে রাজনীতিক পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাজার কোটিপতিদের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। যদিও দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই নব্য ভুঁইফোঁড় কোটিপতিদের সংখ্যা অতি নগন্য, তাদের হাতেই পুঞ্জিভুত হচ্ছে দেশের সকল অর্থ- সম্পদ।
অনেকেরই দাবী, রিজার্ভ চুরি সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংগঠিত দুর্নীতি বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ হয় না কেন? জনগনের কি এই সত্য জানার অধিকার নেই? মালয়েশিয়ায় অনেকের সেকেন্ড হোম কেন? কেন কানাডার একটি জায়গার নাম আজ বেগমগঞ্জ? কারা আজ সিঙ্গাপুর, কানাডা, লন্ডন, ইউএসেতে সম্পদ গড়েছেন? এর কি তদন্ত সম্ভব নয়? সংসদে কি এসব নিয়ে আলোচনা হতে পারে না? বিরোধীদলের কি কোন ভুমিকা নেই, নাকি তারাও এরূপ মাফিয়া চক্র লালন করে?
তাই, যে সরকারের আমলেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি সংগঠিত হোক না কেন, অভিযুক্ত ব্যাক্তি বা ব্যাক্তি বর্গকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা উচিত সর্বাগ্রে। এটা দেশবাসীর ন্যায্য দাবী। শুধু তাই নয়, দেশ ও জাতির স্বার্থে স্বাধীনতা যুদ্ধ- পরবর্তী সময়কাল থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে এদেশে যতভাবে, যতরূপে দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ একটি সমীক্ষা আজ গনতন্ত্রের উত্তরণের পর দেশবাসীর ঐতিহাসিক দাবী। ইতিহাসের পাতা উল্টালে এই দাবীর সপক্ষে অনেক নজির পাওয়া যাবে। আইন ও বিচারের দৃষ্টিতে সকল অপরাধীরই একই পরিচয়। সে অপরাধী সমাজের বা রাজনৈতিক অঙ্গনের যে কোন মহল বা স্তরেই থাক না কেন।
তাই জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত রাখার জন্য একদিকে বর্তমানের দুর্নীতিবাজদেরকে, অন্যদিকে, তাদের পথ প্রদর্শক, পূর্বসূরি যারা আজও ধরা পরেনি, মুখোশ পালটিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে এমনকি ক্ষমতাসীন সরকারি দলে নতুন করে অবস্থান নিয়ে আরও নতুন কৌশলে লুটপাট করছে।  সর্বশেষ সংযোগ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুরি ও দুর্নীতি। তাই, অতীতের সকল দুর্নীতি ও দুষ্কর্মের হোতাদেরও আজ চিহ্নিত করে বিচার করা প্রয়োজন।  সে কাজ যতই কঠিন বা দুরূহ হোক না কেন। তা না হলে দেশের সংবিধানে উল্লেখিত দেশবাসীর মৌলিক অধিকারের অবমাননা করা হবে এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী দেশ প্রেমিকদের সাথে করা হবে বিশ্বাসঘাতকতা।  আজ, সকলেরই উচিত তাদের আজ চিহ্নিত করে জনগনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবী তোলা।
একই সাথে, আওয়ামী লীগ ও বি এন পি নেতৃত্বের চিন্তায় ও কাজে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সঙ্কল্প আজ দেশবাসী দেখতে চায়, কোন খণ্ডিত চিন্তা বা কথা নয়। তাই তাদের দাবীতে স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর সময়কাল থেকে অদ্যাবধি সকল বিদেশী সাহায্যের পরিমাণ সম্বন্ধে ও ঐ সকল সাহায্য বিতরণে কারচুপিতে অভিযুক্ত ব্যাক্তি বা ব্যাক্তি বর্গকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং সকল সরকারের আমলেরই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি সম্বন্ধে “শ্বেতপত্র” প্রকাশের প্রস্তাবই হতো পূর্ণাঙ্গ ও অধিকতর যুক্তিযুক্ত। শুধু তাই নয়, একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে সকলকে সাথে নিয়ে যুগোপযোগী সংস্কার আন্দোলনের মতো পদক্ষেপ নেয়াও তাদের পক্ষে আজ আশু প্রয়োজনীয় কর্তব্য। এটাই আজ যুগের দাবী।
তা না হলে, যতই ভিক্ষার দান আসুক না কেন, আধুনিক দাসত্বের অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দী পোশাক শিল্প কারিগর বা শ্রমিকগন মাথার ঘাম পায়ে ফেলুক না কেন অথবা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্স আসুক না কেন, বাংলাদেশ চিরদিনই তলাহীন ঝুরি থেকে যাবে।
যতদিন পর্যন্ত সরকার, বিরোধীদল সকলের নিকট ব্যাক্তি, দলের তুলনায় জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য না পাবে, ততদিন পর্যন্ত লুটপাট চলতেই থাকবে। জাতীয় আয় ব্যায় সম্মন্ধে স্বচ্ছতা এবং জনগনের নিকট জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া বন্ধ করার কথা ভাবাই যায়না। এ ক্ষেত্রে দেশ প্রেমিক নিঃস্বার্থ, আপোষহীন, সমাজসেবী, বুদ্ধিজিবি, রাজনৈতিক তথা সকল স্তরের ব্যাক্তিগনকেই এগিয়ে আসতে হবে। সাধারন জনগন উপযুক্ত সময়েই অবশ্যই তাদের সাথে যোগ দিবে।

তথ্যসূত্রঃ


  •  ড. আবুল ফজল হক, বংলাদেশের রাজনীতিঃ সংঘাত ও পরিবর্তন
  •  http://www.deshebideshe.com/news/
  •  http://www.amaderbudhbar.com/2016/07/27/
  •  http://mybangla24.com/jugantor_online_newspaper.php
  •  http://www.jugantor.com/online/economics/2016/07/31/20714
  •  http://www.pcnews24.com/details.php?id=24784
  •  http://www.iportbd.com/details.php?id=29731
  •  http://www.jugantor.com/online/economics/2016/0/27/14319#sthash.t9mJkbeL.dpuf
  •  http://www.desh-bd.net/newsdetail/detail/200/229916
  •  http://www.ntvbd.com/bangladesh/72933/
  •  *****
  •  http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2016/07/31/387505
  •  http://www.deshebideshe.com/news/details/77405
  •  আনু মোহাম্মদ
  •  http://www.amadershomoy.biz/beta/2016/06/24/626084/#.V-qkK7NuHDe
  •  http://www.amaderbudhbar.com/2016/07/27/